জনগণকে দেয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করব

2-6-2019 8-20-31 PM

সোহরাওয়ার্দীর বিজয় মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

উত্তরণ প্রতিবেদন: ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উত্তাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষসহ দলমত নির্বিশেষে পুরো দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি বলেন, আসুন, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশের মানুষ আমাদের প্রতি যে আস্থা-বিশ্বাস রেখেছে, প্রয়োজনে নিজের জীবন দিয়ে হলেও জনগণের সেই আস্থা-বিশ্বাসের মর্যাদা আমরা রক্ষা করব। বুকের রক্ত দিয়ে হলেও জনগণের ভোটের মর্যাদা রক্ষা করব।
টানা তৃতীয়বারসহ চতুর্থবারের মতো ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারও দেশ সেবার সুযোগ দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে দেশের জনগণ সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। বিজয় পাওয়া যত কঠিন, সেটি রক্ষা করে জনগণের সেবা করা আরও কঠিন। সেই কঠিন কাজটিই আমাদের করতে হবে। দেশের জনগণ রায় দিয়েছে শান্তি ও উন্নয়নের স্বপক্ষে। অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রার জন্য রায় দিয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে জনগণ রায় দিয়েছে।
একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয়োৎসব উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেনÑ জনগণ ভোট দিয়েছে, তাদের সেই ভোটের সম্মান যাতে থাকে সেটি অবশ্যই আমরা মাথায় রেখে সার্বিকভাবে সুষম উন্নয়ন করে যাব। নির্বাচিত প্রতিনিধি যারা তাদের এটা মনে রাখতে হবে। দেশের মানুষের আকাক্সক্ষা পূরণ করা আমাদের কর্তব্য। বিজয় পাওয়া যত কঠিন, সেটি রক্ষা করে জনগণের জন্য কাজ করা আরও কঠিন। সেই কঠিন কাজের দায়িত্ব পেয়েছি, তা পালন করতে হবে। জনগণের ভোটের সম্মান যেন থাকে সেটা আমাদের নির্বাচিতদের মনে রাখতে হবে। আমরা সুষম উন্নয়ন করে যাব, জনগণের স্বার্থে কাজ করে যাব। আমাদের ওয়াদা, বাংলাদেশকে আমরা ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত করব। জনগণকে দেয়া আমাদের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তরুণদের জন্য সুন্দর বাংলাদেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ, আধুনিক বাংলাদেশ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে দেশ গড়তে জনগণ রায় দিয়েছে। মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দেশ গড়ে তোলার রায় দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা যে অঙ্গীকার করেছি সেই অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার পক্ষে রায় দিয়েছে দেশের মানুষ। দেশের মানুষ আমাদের ভোট দিয়ে যে আস্থা-বিশ্বাস রেখেছে, যে কোনো মূল্যের বিনিময়ে প্রয়োজনে নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও সেই মর্যাদা আমরা রক্ষা করব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। যে কোনো ত্যাগের বিনিময়ে হলেও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সেই সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবই।
এর আগে বেলা আড়াইটার দিকে এ বিজয়ের সমাবেশ শুরু হয়। শুরুতেই পবিত্র কোরান তেলাওয়াত, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের বিজয়োৎবের বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখেন দলটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, তোফায়েল আহমেদ এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, মোহাম্মদ নাসিম এমপি, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মির্জা আজম এমপি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান এমপি, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, তাঁতি লীগের খগেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ ও ছাত্রলীগের সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে অভিনন্দনপত্র পাঠ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা অভিনন্দনপত্রটি শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেন। পুরো সমাবেশ পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি এবং উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। এ সময় মূলমঞ্চে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ এবং উপদেষ্টা পরিষদের অধিকাংশ নেতাই উপস্থিত ছিলেন।
বেলা আড়াইটায় বিজয় উৎসবের সময় নির্ধারণ থাকলেও সকাল ১০টা থেকেই উৎসবস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মানুষের ঢল নামতে শুরু করে। সকাল থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে জনস্রোত নামে। বেলা ১২টার মধ্যেই জনসভাস্থলসহ চারদিক লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। রাজধানীর প্রতিটি অলিগলি থেকে বাদ্য-বাজনার তালে তালে নেচে-গেয়ে বিজয়োৎসবে মাতোয়ারা হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক আসতে থাকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। নির্বাচনী প্রতীক নৌকা, জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে এবং কণ্ঠে ‘জয় বাংলা’ সেøাগানের সঙ্গে ঢাকঢোলের বাদ্যে মুখর হয়ে আসা লাখো মানুষকে দুপুরে গানে গানে মাতিয়ে রাখেন দেশের জনপ্রিয় শিল্পীরা।
বেলা আড়াইটায় বিজয় সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর আগেই পুরো উদ্যান ছাপিয়ে জনস্রোত শাহবাগ থেকে টিএসসি, দোয়েল চত্বর, মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট মাজার, কাঁটাবন, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালসহ আশপাশে এলাকাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাপিয়ে চতুর্দিক প্রায় এক বর্গকিলোমিটার জনসমুদ্রে রূপ নেয়। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নৌকার পক্ষে যেমন গণজোয়ার উঠেছিল তেমনি গণজোয়ারের সৃষ্টি হয়েছিল আওয়ামী লীগের বিজয়োৎসবের সমাবেশে।
বেলা ৩টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে এবং পেছনের ব্যানারে সাজানো দলের এবারের ইশতেহারের মলাটের রঙে সুদৃশ্য ও নান্দনিক সুবিশাল মঞ্চে উপস্থিত হন তখন ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনের অনেক ঘটনার সাক্ষী ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। বৈঠাসহ ছোট-বড় ৪০টির বেশি নৌকা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত ফেস্টুনে বর্ণাঢ্য সাজে সাজানো হয়েছিল সমাবেশের মাঠ।
নির্বাচনের আগে এবং বিজয়ের পরে চার শিল্পী যখন গানটি শুরু করেন, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীসহ তখন জনসমুদ্র থেকেও ‘জয় বাংলা, জিতবে আবার নৌকা, জয় বাংলা, জিতল আবার নৌকা’ গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলালে পুরো উদ্যান প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক গানের তালে তালে নেচে-গেয়ে পুরো সমাবেশকে মাতিয়ে তোলেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনসহ পুলিশ-বিজিবি, আনসারসহ সকল সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি ভোটার ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীদেরও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। নিশ্চয়ই একটা কথা উপলব্ধি করেছে, ঐক্যবদ্ধ শক্তি সব সময় বিজয় অর্জন করে, এ নির্বাচনে তা প্রমাণ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় সকল রাজনৈতিক দলকে অংশগ্রহণ করে নির্বাচনকে অর্থবহ করায় ধন্যবাদ জানান। তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জয়-পরাজয় স্বাভাবিক ব্যাপার। যখন দায়িত্ব পেয়েছি জনগণের সেবা করার, দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য আমাদের সরকার সুষমভাবে কাজ করে যাবে। প্রত্যেকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবে। রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে। আর দেশের প্রতিটি নাগরিক আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সকলের তরে, সকলের জন্য আমরা কাজ করব। তিনি বলেন, বিপুল বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে। তাই বর্তমান সরকার সবার জন্য কাজ করবে। সেখানে কোনো দলমত দেখা হবে না। যারা ভোট দিয়েছেন বা যারা ভোট দেননি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাইÑ আওয়ামী লীগ সবার জন্য কাজ করবে। উন্নয়নের জন্য কাজ করবে, রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। মা-বোন, নারীদের, তরুণ প্রজন্মকে যারা প্রথম ভোট দিয়েছে, কামার, কুমার, জেলে, কৃষক, শ্রমিক, মজুর সর্বস্তরের মানুষকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আপনারা নৌকা মার্কার পক্ষে রায় দিয়ে আমাদের সুযোগ দিয়েছেন আপনাদের সেবার করার। জনগণের এ রায় অন্ধকার থেকে আলোর পথের যাত্রার রায়। আমরা জনগণের কাছে যে অঙ্গীকার করেছি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। যে কোনো ত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
দেশকে সম্পূর্ণ দারিদ্র্যমুক্ত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করে টানা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসা শেখ হাসিনা বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আমাদের এটাই মূল লক্ষ্য যে, আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। একটি উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলব। যেখানে দেশের সকল মানুষের সহযোগিতা চাই। ছাত্র-শিক্ষকসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে আহ্বান জানাই, আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের বর্তমানকে উৎসর্গ করি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। যাতে তারা একটি উন্নত ও সুন্দর সমাজ পায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন যেমন বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এবং যেন বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে পারে, সেভাবেই আমরা আমাদের দেশকে গড়ে তুলতে চাই। সে জন্য যা যা করার দরকার করব। প্রতিটি গ্রামের মানুষ শহরের সকল নাগরিক সুবিধা পাবে। তৃণমূলে মানুষের জীবন উন্নত করব। শিক্ষার আলো প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় হবে, প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।
পঁচাত্তরে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ছয় বছর নিজের নির্বাসিত জীবনযাপন এবং দেশে ফিরে মানুষের গণতান্ত্রিক ও ভোট-ভাতের অধিকার আদায়ে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের কথা তুলে ধরতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত হয়ে বাংলাদেশ তা উদযাপন করবে ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ সেটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে দেশ থেকে যেমন দুর্নীতি দূর করতে হবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদমুক্ত দেশ করতে হবে, যেখানে মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এদেশের মাটিতে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, মাদকের কোনো স্থান হবে না।
দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যে অঙ্গীকার করেছি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমি আমার জীবন উৎসর্গ করেছি এদেশের মানুষের জন্য। স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েও এদেশকে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছি। আমার জীবনে ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়ার নেই। কী পেলাম বা না পেলাম সেটি বড় কথা নয়, দেশের মানুষকে কতটুকু দিতে পারলাম সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় কথা। তাই বাংলাদেশের একটি মানুষও ক্ষুধার্ত থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না। সবাই চিকিৎসা পাবে, তরুণরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা, লক্ষ্য। দেশের জনগণ ও তরুণ প্রজন্ম আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করব। আরও আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
কবি সুকান্তের কবিতার পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শেষ করেন। বলেন, ‘তবু যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমিÑ নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’

Category:

Leave a Reply