জনগণের কল্যাণই আমাদের লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী

uttaranউত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ জনগণের কল্যাণের জন্যই রাজনীতি করে, ভোটের জন্য নয়। ভোট দেয়া-না দেয়া জনগণের অধিকার। মানুষের সেবা করাটাই আমাদের কাজ। ক্ষমতা আমাদের কাছে কোনো ভোগবিলাসের বস্তু নয়। ক্ষমতা হচ্ছে দায়িত্ব পালন। কাজেই এ দায়িত্বটাই পালন করতে চাই। জাতির পিতা সেই শিক্ষাই দিয়েছেন। আমি সবসময় এটা মনে রাখি, আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। কাজেই জনগণের সেবা করাটাই হচ্ছে আমার প্রথম কর্তব্য। আজীবন মানুষের সেবা করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
গত ২৯ আগস্ট গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গোপালগঞ্জে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং গোপালগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী আট জেলার ২০ উপজেলায় কমিউনিটি ভিশন সেন্টার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসেবা করব, জনগণকে একটু সুখ শান্তি দেব, তাদের রোগে চিকিৎসা দেব, তাদের একটু উন্নত জীবন দেব, তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবÑ এটা তো রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আমাদের অঙ্গীকার। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারেনি, ক্ষমতায় আসলো বিএনপি-জামাত জোট। কি অদ্ভুত চরিত্র বিএনপি-জামাত জোট ২০০১ সালের পর ক্ষমতায় এসেই এই হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল। শুধু এই একটা অজুহাতে যে এই ক্লিনিকে যারা কাজ করবে এবং যারা স্বাস্থ্যসেবা পাবে, তারা সব নৌকায় ভোট দেবে। তাই তারা সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি মানুষের মৌলিক অধিকার। এ জন্যই জাতির পিতা স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে প্রতিগ্রামে অন্তত ১০ শয্যার একটি করে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে এই স্বাস্থ্যসেবা আধুনিকায়নের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এই কমিউনিটি ভিশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর আওতায় হতদরিদ্র রোগীদের চক্ষু চিকিৎসার জন্য ২০ কোটি টাকার একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠনেরও ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই টাকা থেকে যে লাভ আসবে তা দিয়ে সারাদেশের দরিদ্র জনগণের চোখের চিকিৎসা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের চোখে ছানি পড়া, গ্লুকোমা, ডায়াবেটিক চক্ষু রোগী, রেটিনোপ্যাথি, কিশোর চক্ষু রোগ, চোখের আঘাতসহ অন্যান্য চক্ষু রোগ শনাক্ত করা এবং এর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেয়া হবে এসব সেন্টারে। এরপর আরও উন্নত সেবার জন্য তারা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবে। এ-সময় প্রধানমন্ত্রী চক্ষু রোগে আক্রান্তদের সচেতনতা ও চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী চক্ষু চিকিৎসকসহ এ সেবায় জড়িতদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ছোটবেলা থেকেই পড়ে এসেছি অন্ধজনে দাও আলো। এর চেয়ে মহৎ কাজ আর কিছু হতে পারে না। একজন মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবে, সে তার আপনজনকে দেখবে, এই সুন্দর পৃথিবীকে দেখবে, এটা অনেক বড় মানবতার কাজ।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি সবসময় মনে রাখি যে আমার বাবা দেশ স্বাধীন করে গেছেন। কাজেই জনগণের সেবা করাটাই আমার প্রথম কর্তব্য। মানুষের সেবা করাটাকে আমি কর্তব্য হিসেবে নেই। নতুন নতুন যেসব হাসপাতাল হচ্ছে সেগুলোতে অভিজ্ঞ ডাক্তার এবং নার্স আছে। তারা ভালো মানের সেবা দিতে পারছে। হাসপাতালের পাশাপাশি আরও ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞ নার্স তৈরির কাজ চলছে। দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য এখন বিদেশ থেকে নার্স এবং ডাক্তারদের ট্রেনিং দিয়ে আনা হচ্ছে। প্রতি জেলা-উপজেলায় আরও মানসম্মত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাসেবায় আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। অনেক ডাক্তার-নার্সকে বিদেশ থেকে ট্রেনিং দিয়ে এনেছি। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মানও বেড়েছে। চোখ, গলা, নাক ও কানসহ দেহের প্রতি অঙ্গের বিষয়ে দেশে বিশেষজ্ঞ হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। এ-সময় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর কাছে দোয়া চান যেন, আগামী দিনে দেশের মানুষের সেবা করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ২০ উপজেলার কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি, প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নুরুল হক এবং ভারতের মুম্বাইয়ের অরবিন্দ চক্ষু হাসপাতালের চেয়ারম্যান আর.ডি. রবীন্দ্রান, গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট গোপালগঞ্জ থেকে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
গণভবনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান অনুষ্ঠানে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় অন্ধত্ব নিবারণ কর্মসূচির আওতায় গ্রাম বাংলার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ন্যাশনাল আই কেয়ার যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এর অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জে এই চক্ষু হাসপাতাল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং ২০ উপজেলায় কমিউনিটি ভিশন সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। অরবিন্দ আই কেয়ার সিস্টেম ভারত থেকে সরবরাহকৃত আধুনিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে কমিউনিটি ভিশন সেন্টারগুলোতে চক্ষু চিকিৎসা পাবে জনগণ। কমিউনিটি ভিশন সেন্টার স্থাপিত ২০ উপজেলা হচ্ছেÑ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, কোটালিপাড়া, কাশিয়ানী এবং মকসুদপুর, বাগেরহাটের ফকিরহাট, নড়াইলের লোহাগড়া ও কালিয়া, মোল্লারহাট, চিতলমারি, রামপাল, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, সদরপুর, আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারি, খুলনার রূপসা, দিঘলিয়া, তেরোখাদা, মাদারীপুরের রাজৈর, পিরোজপুরের নাজিরপুর ও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ।

Category:

Leave a Reply