‘জাগো সম্ভাবনায়, জাগো কবিতায়’

জাতীয় কবিতা উৎসব
14উত্তরণ প্রতিবেদন : ‘জাগো সম্ভাবনায়, জাগো কবিতায়’ স্লোগানকে ধারণ করে দেশি-বিদেশি কবিদের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে ২৯তম জাতীয় কবিতা উৎসব-২০১৫। উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কবি সৈয়দ শামসুল হক। গত ১ ফেব্রুয়ারি সকালে জাতীয় সংগীত, একুশের গান, উৎসব সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কবিতা উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এবারের কবিতা উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে প্রয়াত প্রফেসর জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী ও শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীকে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সংলগ্ন হাকিম চত্বরে জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজিত এই উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। শুরুতে উৎসবে আসা কবিরা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও শিল্পী কামরুল হাসানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাহান্নর ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উৎসব প্রাঙ্গণে এসে জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা।
বক্তারা বলেন, হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে অগ্নিদগ্ধ অসহায় মানুষের করুণ মুখগুলো স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে হত্যাকারীর থাবা সর্বগ্রাসী হয়ে উঠছে। সভা-সমাবেশ-আদালত-জ্ঞানপীঠ থেকে শুরু করে কবিতার মঞ্চÑ কোনো জায়গাই আজ নিরাপদ নয়। ‘এই অশুভ শক্তির উৎসমুখ চিরতরে রুদ্ধ হোক’ পুনরায় এ আহ্বান জানাই। এ মুুহূর্তে সরকার যদি এই অসহায় মানুষের পাশে না দাঁড়ায়, তা হলে পরাস্ত হবে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম থেকে শুরু করে স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের সকল প্রগতিশীল চেতনা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সম্প্রতি রাজনৈতিক সহিংসতার কথা উল্লেখ করে সৈয়দ শামসুল হক বলেন, দেশকে ধ্বংসের একটা বিপর্যয় চলছে। এ থেকে আমরা কী করে মুক্তি পেতে পারি তা ভাববার এখন সময় এসেছে। মানুষকে প্রতিরোধ রচনা করতে হবে। রাজনীতির নামে মানুষ পুড়িয়ে মারা এবং যে অগ্নিকা- আমরা দেখছি তা কেবল দেশকে হত্যা করার জন্য।
উৎসবে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন পরিষদের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য মুহম্মদ নূরুল হুদা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর সভাতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেনÑ সাধারণ সম্পাদক কবি আসলাম সানী, আহ্বায়কের বক্তব্য রাখেন মুহাম্মদ সামাদ। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন কবি কাজী রোজী। উদ্বোধনী পর্বের পর শুরু হয় আমন্ত্রিত অতিথি কবিদের কবিতা পাঠ ও আলোচনা পর্ব। এ পর্বে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে কবিতা পাঠ করেন ভারতীয় কবি আশিস সান্যাল, মৃণাল বসু চৌধুরী, বীথি চট্টোপাধ্যায়, অমৃত মাইতি, সুবোধ সরকার, আলোচনা করেন সমালোচক শংকরলাল ভট্টাচার্য, গান শোনান ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য। এ ছাড়া বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, সুইডেন থেকে আসা কবিরাও তাদের কবিতা পড়ে শোনান। এভাবে ৬টি পর্বে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় কবিতা পাঠের প্রথম দিন।
দ্বিতীয় দিন সকাল ১০টায় বোরহানউদ্দীন খান জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে ‘নতুন কবিতা : যুগান্তের আহ্বান’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় পর্বে ছিল ‘বাংলাদেশের কবিতা : ভাবরূপের পালাবদল’ বিষয়ক সেমিনার। এ পর্বে সভাপতিত্ব করেন নূহ-উল-আলম লেনিন। এরপর ছিলÑ কবিতা পাঠ, ৫ম পর্ব, ৬ষ্ঠ পর্ব, ৭ম পর্ব ও পুরস্কার বিতরণ। এরপর কবিতা পাঠ ৮ম পর্ব, ৯ম পর্ব। রাতে কবিতা আর গানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় জাতীয় কবিতা উৎসব-২০১৫। জাতীয় কবিতা উৎসবে কবি ড. আবদুস সামাদকে সভাপতি ও কবি তারিক সুজাতকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠিত হয়।

Category:

Leave a Reply