জাতীয় জাদুঘরে জামদানি মেলা

Posted on by 0 comment

জামদানির নামকরণ করা হয়Ñ জলপাড়, কলমিলতা, চন্দ্রপাড়, ঝুমকা, জুঁইবুটি, ময়ূরকণ্ঠী, কাউয়ার ঠ্যাঙপাড়, তেরছা, বাঘনলি, আবার কোনোটার নাম করা হয়েছেÑ পান্না-হাজরা, দুবলাজাল, বুটিজাল, জালার, কলারফানা, আদারফানা।

58উত্তরণ ডেস্ক: মসলিন বিলুপ্তির পর এই বাংলার প্রধান শিল্প হয় জামদানি। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৭৫৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসনের অবসান হলে হারিয়ে যায় সেই সময়ের ঐতিহাসিক শিল্প মসলিন। তখন ব্রিটিশরা মসলিন কারিগরদের বৃদ্ধাঙ্গুলি কেটে দেন। যাতে তারা আর এই শিল্পের প্রসার ঘটাতে না পারে। সে সময় এই শিল্পের কারিগররা মসলিন বুনন ছেড়ে কৃষিকাজে যুক্ত হন। এভাবেই ধ্বংস হয়ে যায় হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্য মসলিন। তখন থেকে মসলিনের অনুপস্থিতিতে জামদানি হয়ে ওঠে এই বাংলার প্রধান শিল্প।
এই শিল্পও আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত। তবে অনেকে এই শিল্পকে ভালোবেসে এখনও আগলে রেখেছেন। তারা হাজারও কষ্টের মাঝে বুননে একেকটি জামদানিতে তুলে ধরছেন একেক কাহিনি। এসব কাহিনির নামও দেওয়া হয়েছে। যেমন কোনো জামদানির নামকরণ করা হয়Ñ জলপাড়, কলমিলতা, চন্দ্রপাড়, ঝুমকা, জুঁইবুটি, ময়ূরকণ্ঠী, কাউয়ার ঠ্যাঙপাড়, তেরছা, বাঘনলি, আবার কোনোটার নাম করা হয়েছেÑ পান্না-হাজরা, দুবলাজাল, বুটিজাল, জালার, কলারফানা, আদারফানা। আরও আছেÑ সাবুরগা, বলিহার, শাপলাফুল, আঙুরলতা, ময়ূরপ্যাঁচপাড়। এমন সব বাহারি আর নজরকাড়া জামদানি এখন আর খুব একটা চোখে পড়ে না। নানা রঙের হরেক রকমের শাড়ি-পোশাকের ভিড়ে অজপাড়া-গাঁয়ের সেই ঐতিহ্যবাহী জামদানি দেখা ও কেনার সুযোগ করে দিয়েছে জাতীয় জাদুঘর এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।
তাদের যৌথ আয়োজনে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গত ১৩ জুন জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টাশালী প্রদর্শনালয়ে শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী জামদানি প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি। এ সময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শুষেণ চন্দ্র দাশ। সভাপতিত্ব করেন বিসিকের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক ইফতেখারুল ইসলাম খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী।
আমির হোসেন আমু বলেন, দেশের জামদানি শিল্পকে ঐতিহ্যবাহী মসলিনের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সরকার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো ইউনিয়নের নোয়াপাড়াতে বিসিকের মাধ্যমে ২০ একর জমির ওপর দৃষ্টিনন্দন জামদানি শিল্পনগরী ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করেছে। জামদানি শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা ও কারুশিল্পীদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। সম্ভাবনাময় জামদানি শিল্পের বিকাশ ও বাস্তবায়নে বিসিককে আরও তৎপর হতে হবে বলে জানান তিনি। বরাদ্দকৃত সব প্লটেই যাতে গুণগতমানের জামদানি শিল্প স্থাপিত হয় সে বিষয়ে বিসিকের নজরদারি ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়াতে হবে। এ সময় তিনি জামদানি কারুশিল্পী ছাড়া অন্য কেউ প্লট বরাদ্দ নিয়ে থাকলে তা বাতিল করে দ্রুত প্রকৃত জামদানি কারুশিল্পীদের মধ্যে বরাদ্দ প্রদানের জন্য বিসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
সম্প্রতি ‘জামদানি শিল্পের সমস্যা ও এর সমাধানে করণীয়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে ১৬টি সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা দ্রুত প্রণয়ণের আহ্বান জানান তিনি।
জামদানি শাড়ি ও বস্ত্র প্রস্তুতকারী ২৬টি প্রতিষ্ঠান প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। নিপুণ কারুকার্য ও বাহারি নকশার জামদানি শাড়ি ছাড়াও প্রদর্শনীতে আছেÑ থ্রি-পিস, টু-পিস, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, রুমাল, ওড়না, টেবিল ক্লথ ও অন্যান্য পণ্যসামগ্রী।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের শান্তি সমাবেশ
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া জঙ্গি ও উগ্রবাদের ধারাবাহিকতায় গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধ্বংসের অপচেষ্টা হয়েছে। তাই গত ১ জুলাই জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ দিবস ঘোষণা করতে হবে।
হলি আর্টিজানে নিহতদের স্মরণে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত শান্তি-সমাবেশে এসব কথা বলেন সংস্কৃতিকর্মী ও বিশিষ্টজনরা। গত ১ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত সমাবেশের প্রতিপাদ্য ছিলÑ ‘জঙ্গিবাদ রুখে দাঁড়ায় বিশ্বমানবের রক্তধারা’।
প্রধান অতিথির বক্ত্যব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি বলেন, হলি আর্টিজানের জঙ্গি হামলার মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক শক্তি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা রুখে দিতে চেয়েছিল। তবে তারা সফল হয়নি। দেশ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। জঙ্গিবাদ থেকে ফিরিয়ে আনতে মনোজাগতিক পরিবর্তনের ব্যাপারে বেশি গুরত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ১ জুলাই জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষিত হলে সারাদেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনা চর্চার পথ বিকাশ লাভ করবে। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে চিরতরে মুছে দিতে সরকার, জনগণ ও সামাজিক শক্তিগুলোকে সমন্বিত কর্মসূচির মাধ্যমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার বলেন, তরুণদের বিপথগামিতা ঠেকাতে পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী করতে হবে। সেদিন ফারাজের মতো তরুণ বন্ধুদের জন্য বীরের বেশে জীবন দিয়েছেন। তিনি তরুণদের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবেন।
নাট্যজন মামুনুর রশীদ বলেন, আজকের এ দিনেও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর জোরাল কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে না। তাদের প্রতিবাদে নগর প্রকম্পিত হওয়ার কথা থাকলেও সেটি নেই।
অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান বলেন, সংস্কৃতি সত্য ও সুন্দরের পক্ষে। এ শান্তি সমাবেশ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের শক্তির সম্মিলন। হলি আর্টিজানের জঙ্গিরা এই শক্তির কাছে পরাজিত হয়ে ভবিষ্যতে আর সুযোগ পাবে না।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, ধর্মের নামে সারাবিশ্বে নিরীহ মানুষদের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। ’৭১ সালেও এদেশে ইসলামের নামে মুসলিম নিধন হয়েছিল। অথচ ধর্মের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। এ জন্য শিক্ষা ও সংস্কৃতির আলোকে মানুষকে জাগ্রত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেন, বাংলাদেশকে বন্ধুহীন করতে বিদেশিদের ওপর সেদিন হামলা হয়েছিল। সরকারের জিরো টলারেন্সে জঙ্গিরা সফল হয়নি। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মনুষত্বের জাগরণ ঘটিয়ে সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
জোটের সাবেক সভাপতি নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল আহসান খান, অভিনেতা আতাউর রহমান ও মহিলা পরিষদের সীমা মোসলেম। স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন কবি আসাদ চৌধুরী, তারিক সুজাত। এ ছাড়া সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ অনেকে অনুষ্ঠানে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশের শুরুতে হলি আর্টিজানে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সবশেষে মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে সমাবেশ শেষ হয়।

আব্বাস কিয়ারোস্তামি
আব্বাস কিয়ারোস্তামি এমন একটি নাম, যিনি নান্দনিকতা ও সৃজনশীলতার প্রশ্নে বরাবরই আপসহীন। তার চলচ্চিত্রে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন দর্শক। তিনি চান, ছবি দেখে দর্শক চিন্তা করবে এবং চলচ্চিত্রের ভেতরে প্রবেশ করবে। শেষমেশ নিজেরাই ব্যাখ্যা দাঁড় করাবে। তাই আব্বাসের চলচ্চিত্রগুলো রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্পের মতো ‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ’ ধরনের। আব্বাস কিয়ারোস্তামির নেতৃত্বেই ইরানি চলচ্চিত্রাঙ্গন পাল্টে গেছে। বিশ্ব চলচ্চিত্রে ইরানি চলচ্চিত্রকে প্রভাবশালী ও স্বতন্ত্র অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ঘর ছেড়েছেন আব্বাস। চিত্রকলার প্রবেশিকা পরীক্ষায় ফেল করে যোগ দেন ট্রাফিক পুলিশের চাকরিতে। কিছুদিন পর আবার পরীক্ষা দিয়ে চিত্রকলায় উত্তীর্ণ হন। যোগ দেন বিজ্ঞাপনী সংস্থায়। ১৯৬০-৬৯ এর মধ্যে তিনি ৫০টিরও বেশি বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ করেন। বিজ্ঞাপনচিত্র বানাতে বানাতেই ক্যামেরার সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে তার। আরও বড় কিছু করার চিন্তা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত বানিয়ে ফেললেন জীবনের প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ব্রেড অ্যান্ড অ্যালেই’। এরপর তার ধ্যান-জ্ঞান সবকিছুই ছিল চলচ্চিত্রে। হোক তা স্বল্পদৈর্ঘ্য, পূর্ণদৈর্ঘ্য কিংবা প্রামাণ্যচিত্র। আব্বাসের চলচ্চিত্রের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তিনি অপেশাদার অভিনেতাদের নিয়ে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেনÑ পেশাদার অভিনেতা মানেই খারাপ কিছু তা আমি মনে করি না। তবে অপেশাদার অভিনেতা ব্যবহারের সুবিধা হলো, ছবিতে তারাই আমার চিত্রনাট্য ঠিক করে দেয়। আমি যেটা লিখি তা যদি তারা মুখে না-ই আনতে পারে বা ঠিক ভাবে বলতে না পারে তা হলে আমি ধরেই নিই, আমি যা লিখেছি তা ভুল। সাথে সাথে আমি চিত্রনাট্যে পরিবর্তন আনি। আব্বাস পরিচালিত সর্বশেষ ছবি ‘সার্টিফাইড কপি’ মুক্তি পায় গত বছর। এতে অভিনয় করে জুলিয়েট বিনোশি গত বছর কান উৎসবে সেরা অভিনেত্রী শাখায় পুরস্কার পান। আব্বাস এখন ‘দ্য এন্ড’ নামে একটি ছবি তৈরি করছেন। ছবি বানানোর পাশাপাশি আব্বাস কাজ করেছেন চিত্রকর, ইলাস্ট্রেটর, আলোকচিত্রী, ভিডিও সম্পাদক হিসেবে। সাহিত্যিক আর কবি হিসেবেও নিজ দেশে তার সুনাম আছে। আর চলচ্চিত্রকার হিসেবে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘প্রিক্স রবার্তো রসোলিনি’ (১৯৯২), ‘ফ্রান্সিস ত্রুফো অ্যাওয়ার্ড’ (১৯৯৩), ‘পিয়ার পাওলো প্যাসোলিনি অ্যাওয়ার্ড’ (১৯৯৫), ইউনেস্কোর ‘ফ্রেডরিকো ফেলেনি গোল্ড মেডেল’ (১৯৯৭), গ্রিসের ‘গোল্ডেন আলেকজান্ডার অ্যাওয়ার্ড’ (১৯৯৯), ‘আকিরা কুরোসাওয়া অ্যাওয়ার্ড’ (২০০০), কলকাতা আন্তর্জাতিক ফিল্ম উৎসবের ‘ওয়ার্ল্ড’স গ্রেট মাস্টার্স’ (২০০৭), ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভেলের ‘গ্লোরি টু দ্য ফিল্মমেকার অ্যাওয়ার্ড’ (২০০৮) ইত্যাদি। এ ছাড়া ২০০৫ সালে দ্য ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট থেকে অর্জন করেন ফেলোশিপ। কিয়ারোস্তামি নির্মিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলোÑ ‘ক্লোজআপ’ (১৯৯০), ‘থ্রু দ্য অলিভ ট্রিজ’ (১৯৯৫) ‘টেস্ট অব চেরি’ (১৯৯৭), ‘দ্য উইন্ড উইল ক্যারি আস’ (১৯৯৯), ‘এবিসি আফ্রিকা’ (২০০১), ‘টিকেটস’ (২০০৫), ‘চাকান অন সিনেমা’ (২০০৭) প্রভৃতি। ‘ফাইভ’ (২০০৩) আব্বাস নির্মিত খুবই বিখ্যাত একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। আব্বাস কিয়ারোস্তামি ১৯৪০ সালের আজকের দিনে (২২ জুন) ইরানের তেহরানে জন্মগ্রহণ করেন।
নাজমুল হুদা বাচ্চু
প্রবীণ অভিনেতা নাজমুল হুদা বাচ্চু আর নেই। গত ৫ জুলাই ভোর ৪টা ২০ মিনিটে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যা রেখে গেছেন। তার স্ত্রী লিনা নাজমুল জানান, ঈদের দুদিন আগে পর্যন্ত নাজমুল হুদা বাচ্চু শুটিং করেছেন। ১ জুলাই শুটিং থেকে রাজধানীর ইন্দিরা রোডের মারিচা অ্যাপার্টমেন্টে নিজ ফ্ল্যাটে ফেরার পর জ্বর হয় তার। একই সাথে রক্তচাপ মাত্রাতিরিক্ত কমে যায়। ঈদের দিন দুপুরে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৪ জুলাই বাচ্চুর হার্টে সমস্যা ধরা পড়ে। ৫ জুলাই বাদ জোহর গুলশানের আজাদ মসজিদে নাজমুল হুদা বাচ্চুর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বনানী কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে। নাটক-বিজ্ঞাপন ছাড়াও জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র বিভিন্ন পর্বে নিয়মিত ছিলেন নাজমুল হুদা বাচ্চু। প্রবীণ এ অভিনেতার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছেÑ ‘অজ্ঞাতনামা’, ‘রানওয়ে’, ‘চন্দ্রগ্রহণ’, ‘ডাক্তার বাড়ী’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’, ‘দরিয়া পাড়ের দৌলতী’, ‘সারেং বৌ’। প্রবীণ অভিনেতা নাজমুল হুদা বাচ্চু পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা।

Category:

Leave a Reply