টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

Posted on by 0 comment

PddMউত্তরণ প্রতিবেদন: দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। আমন্ত্রিত রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদসহ ৮ হাজার দেশি-বিদেশি অতিথির উপস্থিতিতে গত ৩০ মে সন্ধ্যা ৭টায় নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে মোদি ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান ছাড়াও ৮ হাজার অতিথি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় মেয়াদের মন্ত্রিসভায় বেশ কিছু নতুন মুখ ঠাঁই পেয়েছেন। নির্বাচনে বিজেপির বিশাল জয়ের পর এ দিন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। এর কিছুক্ষণ আগেই নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তার একটি তালিকা অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। রাষ্ট্রপতি ভবনে উপস্থিত হওয়ার আগে বিকাল ৫টায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে হাজির হন। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ তাদের মোদির বাসভবনে আমন্ত্রণ জানান। ২৩ মে ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর দ্বিতীয় মেয়াদে এনডিএ জোট সরকারের মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত করতে ২৮ মে দীর্ঘ বৈঠক করেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদি। শপথ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান সরকারের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের গণমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগের সরকারের বেশিরভাগ মন্ত্রী নতুন মেয়াদে নিজ নিজ পদে বহাল থাকবেন। তবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মন্ত্রিসভায় নতুন একজন যোগ দিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে বিজেপির অন্যতম সেরা চমক এ রাজ্যেই। একই সঙ্গে বিজেপির নতুন জায়গা করে নেওয়া উড়িষ্যা ও উত্তর-পূর্বের মতো অঞ্চলগুলো থেকে প্রতিনিধি সংযোজন হবে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র এবং জেটলি সত্যিই না থাকলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে রদবদল আসতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভার কিছু পরিবর্তন মূলত আনা হবে জোটের কয়েকজনকে জায়গা করে দেওয়ার জন্য; যেমনÑ নিতিশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড এবং আকেলি দল রয়েছে এ তালিকায়। বিহারে বিজেপির শক্তিশালী মিত্র নিতিশ কুমার ওই রাজ্যে দলটিকে বিরাট বিজয় অর্জন করতে ভূমিকা রাখেন। সেই অধিকারে তিনি মন্ত্রিসভায় দুটো পদ চেয়েছেন।
শপথ গ্রহণকে সামনে রেখে নরেন্দ্র মোদি ৩০ মে সকালে মহাত্মা গান্ধী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। নয়াদিল্লি ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালেও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
এবারের শপথ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদসহ প্রতিবেশী দেশের সরকারপ্রধান ও দেশ-বিদেশের বিশিষ্টজনসহ রেকর্ড ৮ হাজার অতিথির যোগ দেন। কংগ্রেসপ্রধান রাহুল গান্ধী, ইউপিএ’র চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী এবং নয়াদিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়ালও শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রথমে থাকার কথা বললেও নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগ এনে শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেননি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

মোদির নতুন মন্ত্রিসভা
নরেন্দ্র মোদি Ñ প্রধানমন্ত্রী, সংস্থাপন, জনস্বার্থ ও অবসর, আণবিক শক্তি দফতর ও মহাকাশ দফতর; প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ; নীতিন গড়করি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী; ডিভি সদানন্দ গৌড়া সার ও রাসায়নিক; নির্মলা সীতারমন অর্থমন্ত্রী ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী; রামবিলাস পাসোয়ান ক্রেতা সুরক্ষা, খাদ্য ও গণবণ্টন; নরেন্দ্র সিং তোমর কৃষি ও কৃষক কল্যাণ, গ্রাম উন্নয়ন ও পঞ্চায়েতি রাজ; রবি শঙ্কর প্রসাদ আইন ও বিচার বিষয়ক, যোগাযোগ, ইলেক্ট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি; হারসিমরাত কাউর বাদল খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প; থাওয়ার চাঁদ গেহলত সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন; ড. এস জয়শঙ্কর পররাষ্ট্রমন্ত্রী; রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক; অর্জুন মুন্ডু আদিবাসী; স্মৃতি ইরানি নারী ও শিশু কল্যাণ ও বস্ত্র, ডা. হর্ষবর্ধন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ভূ-বিজ্ঞান বিষয়ক; প্রকাশ জাভাদেকর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য ও সম্প্রচার; পিযুষ গয়াল শিল্প ও বাণিজ্য এবং রেলমন্ত্রী; ধর্মেন্দ্র প্রধান পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ইস্পাত; মুখতার আব্বাস নাকভি সংখ্যালঘু; প্রহ্লাদ জোশি পার্লামেন্ট, কয়লা ও খনি; ড. মহেন্দ্র নাথ পান্ডে দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা; অরবিন্দ গুপত সাওয়ান্ত ভারি শিল্প ও সরকারি উদ্যোগ; গিরিরাজ সিং প্রাণিসম্পদ, দুগ্ধ ও মৎস্য; গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত জলবিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রীর (স্বতন্ত্র দায়িত্ব) দায়িত্ব পেয়েছেন ৯ জন। শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সন্তোষ কুমার গাংওয়ার; পরিসংখ্যান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী রাও ইন্দ্রজিৎ; আয়ুর্বেদ, যোগ ব্যায়াম ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা, ইউনানী, সিদ্ধ ও হোমিওপ্যাথি (এওয়াইইউএসএইচ) বিষয়ক এবং প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী শ্রীপদ নায়েক; উত্তর-পূর্ব অঞ্চল উন্নয়ন বিষয়ক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংস্থাপন, জনস্বার্থ ও অবসর, আণবিক শক্তি ও মহাকাশ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডা. জিতেন্দ্র সিং; যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজিজু; সংস্কৃতি ও পর্যটন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল; বিদ্যুৎ, নতুন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রাজ কুমার সিং; গৃহায়ন ও শহর বিষয়ক, বেসামরিক বিমান চলাচল, শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী হারদ্বীপ সিং পুরি এবং জাহাজ চলাচল এবং রাসায়নিক সার বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মনসুখ এল মান্দাভিয়া।
এছাড়া আরও ২৪ জনকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেনÑ ইস্পাত বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফাগনসিং কুলাস্তে; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অশ্বিনী কুমার কুবে; পার্লামেন্ট বিষয়ক ও ভারী শিল্প ও সরকারি প্রকল্প বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল; সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জেনারেল (অব.) ভি কে সিং; সামাজিক ন্যায়বিচার ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কৃষাণ পাল; ক্রেতা সুরক্ষা, খাদ্য ও গণবণ্টন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দানভি রাওসাহেব দাদারাও; স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি; কৃষি ও কৃষক কল্যাণ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পার্শ্বোত্তম রুপালা; সামাজিক ন্যায়বিচার ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রামদাস আদাওয়ালে; গ্রাম উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী নিরঞ্জন জ্যোতি; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়; প্রাণিসম্পদ, দুগ্ধ ও মৎস্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সঞ্জীব কুমার বালিয়ান; মানবসম্পদ উন্নয়ন, যোগাযোগ, ইলেক্ট্রনিক্স ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ধত্রে সঞ্জয় শ্যামরাও; অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ সিং ঠাকুর; রেলওয়ে প্রতিমন্ত্রী অঙ্গাদি সুরেশ চান্নাবাসাপ্পা; স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রায়; জলবিদ্যুৎ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রত্তন লাল কাটারিয়া; পররাষ্ট্র ও পার্লামেন্ট্রারি অ্যাফেয়ার্স প্রতিমন্ত্রী ভি মুরালিধরন; আদিবাসী বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রেণুকা সিং সারুতা; বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী সোম প্রকাশ; খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রামেশ্বও তেলি; ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, প্রাণিসম্পদ, দুগ্ধ ও মৎস্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রতাপ চন্দ্র সারাঙ্গি; কৃষি ও কৃষক কল্যাণ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কৈলাশ চৌধুরী এবং মহিলা ও শিশু কল্যাণ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী।

আবদুল হামিদ-নরেন্দ্র মোদি বৈঠক
দুই উদযাপনে অংশীদার হতে চায় ভারত
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপনে অংশীদার হতে চায় ভারত। গত ৩১ মে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে এক বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে ওই আয়োজনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ-সময় তিস্তার পানি বণ্টন ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও তারা আলোচনা করেন। মোদি বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে দিল্লির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে এই সাক্ষাতে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় মোদিকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন এসব তথ্য জানান। মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ২৯ মে ভারতে যান রাষ্ট্রপতি হামিদ।
জয়নাল আবেদিন জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপনে দুই দেশ যৌথ উদ্যোগ নিলে তা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব পাবে বলে মত প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রেও তা ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মের শত বছর পূর্ণ হবে। ঠিক পরের বছর ২৬ মার্চ বাংলাদেশ উদযাপন করবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।
রাষ্ট্রপতি হামিদ আশা প্রকাশ করেন, ভারতের জনগণ মোদির প্রতি যে আস্থা রেখেছে, সেই প্রত্যাশা তিনি পূরণ করতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তরফ থেকেও মোদিকে শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরেরও আমন্ত্রণ জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি থাকায় প্রধানমন্ত্রী নিজে আসতে পারেননি। তবে তিনি এবং বাংলাদেশের জনগণ ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তাকে স্পর্শ করেছে। দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে এবং সেজন্য দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টিও এদিন আলোচনায় আসে। বাংলাদেশের জনগণ যে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে গভীরভাবে আগ্রহী, সে-কথা রাষ্ট্রপতি বৈঠকে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তিস্তা বাংলাদেশের জনগণের লাইফলাইন। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, মোদির নতুন সরকারের অধীনে আগামী পাঁচ বছরে দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান হবে।
বৈঠকে মোদি বলেন, তিস্তাসহ দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টনের বিষয়টির সমাধান হওয়া উচিত বলে ভারত মনে করে। সেজন্য যৌথ নদী কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ সমস্যা শুধু বাংলাদেশের একার নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য নিরাপত্তা হুমকি। এ সমস্যা সমাধানে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে ভারত এ সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারতও মনে করে এটা বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়। এর সুষ্ঠু সমাধানের জন্য ভারত সব সময় আন্তর্জাতিক ফোরামে সোচ্চার থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের এই সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গত পাঁচ বছরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে নিরাপত্তা, জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন, সংস্কৃতি, জনগণের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ, ব্লু ইকোনমিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন আবদুল হামিদ।

Category:

Leave a Reply