ডিজিটাল বাংলাদেশের ডিজিটাইজেশনে নতুন সেবা ‘ডাক টাকা’

Posted on by 0 comment

28তন্ময় আহমেদ: বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আর্থিক লেনদেনের জন্য নানা ধরনের পদ্ধতি চালু আছে। বাংলাদেশেও চলছে বিভিন্ন কার্যক্রম। এরই অংশ হিসেবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আর্থিক লেনদেনের সুবিধার জন্য ‘ডাক টাকা’ নামে নতুন সেবা কার্যক্রম শুরু করেছে ডাক বিভাগ।
১১ ডিসেম্বর ২০১৭, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ‘ডাক টাকা’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আর্থিক লেনদেনে এই ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার বাংলাদেশকে অনেকদূর এগিয়ে নেবে। মোবাইল অর্থনৈতিক সেবা গুরুত্বপূর্ণ এবং চূড়ান্ত পর্যায়ের সেবা, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে।
মূলত ব্যাংকিং খাতের বাইরে থাকা ৩ কোটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক লেনদেনের ডিজিটাল সেবা দেওয়ার জন্য ‘ডাক টাকা’র সেবা চালু করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
মাত্র ২ টাকা জমা রেখে সরাসরি অ্যাপ বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই অ্যাকাউন্ট খুলে যে কেউ ডাক টাকা সেবা পেতে পারবেন। পোস্ট অফিসগুলো এই সেবা পেতে সহযোগিতা করবে। ডি-মানি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিনা খরচে ‘ডাক টাকা’ হিসাব খোলা যাবে। ডাকঘরের পোস্টাল ক্যাশ কার্ড কিনে এই হিসাবে ক্যাশ ইন (টাকা জমা দেওয়া, পাঠানো) এবং ক্যাশ আউট (টাকা ওঠানো) করা যাবে।
ব্যাংক হিসাব ছাড়াই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কেনাকাটার একটি সরকারি সেবাই হচ্ছে ‘ডাক টাকা’। এই সেবার সুবিধা পেতে ডাকঘরে গিয়ে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ২ টাকা দিয়ে প্রথমে একটি হিসাব খুলতে হবে। তারপরে ডাকঘরের পোস্টাল ক্যাশ কার্ড দিয়ে মোবাইলের সেই হিসাবে টাকা রিচার্জ বা অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করতে হবে। এরপর প্রয়োজনে কেনাকাটা করে দাম মেটানোর সময় এনএফসি (নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন) ব্যবহার করে বা কিউআর (কুইক রেসপন্স) কোডের ওপর মোবাইল ফোনটি ধরলেই পেমেন্ট করা হয়ে যাবে। মোবাইল ফোনটিই তখন হয়ে যাবে ডিজিটাল ওয়ালেট।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সারাদেশে ডাক বিভাগের ৮ হাজারের বেশি ডাকঘর রয়েছে উল্লেখ করে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, প্রত্যেক গ্রাম ও ইউনিয়নে ব্যাংকের শাখা নেই; কিন্তু সেখানকার জনগণের হাতে কীভাবে ডিজিটাইজড টাকা পৌঁছবে? তাই আমরা ঠিক করলাম ডাকঘরকে ডিজিটালি ব্যবহার করা হবে, যাতে তারা সেখানে টাকা লেনদেন করতে পারে।
ডাক বিভাগের এই ডিজিটাল অর্থনৈতিক প্লাটফর্মের সফটওয়্যার সম্পর্কে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি আমাদের প্রথম পদক্ষেপ এবং আমি আশা করি এটা সফল হবে এবং যত বেশি মানুষ এটা ব্যবহার করবে তত বেশি সেবা পাবে।
সজীব ওয়াজেদ জয় আরও বলেন, দেশের গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের জীবনমান উন্নয়নে দেশের প্রতিটি ডাকঘরে ব্যাংকিং সিস্টেম চালু করা হলো। এই ডাক টাকা ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহজ, দ্রুত ও বৈধ পথে টাকা সংগ্রহ এবং লেনদেন করতে পারবেন গ্রামের মানুষরা।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ডাক টাকা নামে ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে লেনদেন ও কেনাকাটাসহ সব ধরনের আর্থিক সেবা পাওয়া যাবে। ডাক বিভাগের সাথে ডিমানি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।
২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ডাক বিভাগকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটালের আওতায় আনার পরিকল্পনার রয়েছে সরকারের। ২০১৮ সালের মধ্যে ৩ কোটি মানুষকে ‘ডাক টাকা’র মাধ্যমে ব্যাংকিংসেবা প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

যশোরে বিশ্বমানের আইটি পার্ক
২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোরে বিশ্বমানের আইটি পার্ক নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে ২০১৪ সালের ২৫ এপ্রিল যশোরের বেজপাড়া শংকরপুর এলাকায় ২ লাখ ৩২ হাজার বর্গফুট জায়গার ওপর ৩০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই আইটি পার্কের নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজ শুরুর তিন বছরের মাথায় ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় নিজ বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পার্কটি উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী নবীন উদ্যোক্তাদের সাথে কথা বলেন। তিনি এই পার্কে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে দেশকে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার উপযুক্ত সফটওয়্যার তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক উদ্বোধনের মাধ্যমে মেধাভিত্তিক অর্থনীতির দ্বার উন্মোচিত হলো। দেশে আরও এমন ২৮টি হাইটেক পার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। এসব পার্কে আইসিটি পণ্য উৎপাদিত হবে; যা রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে দেশ। বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপরেখা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। সত্যি সত্যিই বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে।
পার্কটিতে মূলত সফটওয়্যার উন্নয়ন, ফ্রিল্যান্সিং/আউটসোর্সিং, কল সেন্টার, তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ হবে। এর মাধ্যমে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অন্য দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। পার্ক চালুর প্রথম দিকেই কর্মসংস্থান হবে এ অঞ্চলের ১২ হাজার মানুষের।
আন্তর্জাতিক মানসম্মত এই টেকনোলজি পার্কে রয়েছে ভূমিকম্প প্রতিরোধক কম্পোজিট (স্টিল ও কংক্রিট) কাঠামোতে নির্মিত একটি ১৫ তলা এমটিবি (মাল্টি ট্যানেন্ট বিল্ডিং) ও একটি পাঁচ তারকা মানের ১২ তলা ডরমেটরি (আবাসিক) ভবন। এছাড়াও কনভেনশন সেন্টারের সাথে আন্ডারগ্রাউন্ডে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
১৫ তলাবিশিষ্ট মূল ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে ১৪ হাজার বর্গফুট করে জায়গা রয়েছে। এছাড়া বিদেশি উদ্যোক্তাদের চাহিদা বিবেচনা করে আবাসন ভবনটির ১১ তলার পুরো ফ্লোরটিতে আন্তর্জাতিকমানের জিমনেশিয়াম গড়ে তোলা হয়েছে। উভয় ভবনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ৩৩ কেভিএ বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, ২০০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর এবং ফাইবার অপটিক ইন্টারনেট কানেক্টিভিটির ব্যবস্থা রয়েছে। ন্যাশনাল ডাটা সেন্টারের ব্যাকআপ রাখার জন্য স্থাপন করা হয়েছে ডিজাস্টার রিকভারি ডাটা সেন্টার।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রপ্তানি আয় ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য পূরণে এই পার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ সময়ে আইটি খাতে অন্তত ২০ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭ : ‘রেডি ফর টুমোরো’
বাংলাদেশে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড আয়োজিত হচ্ছে ২০১২ সাল থেকে। তার আগে এই প্রদর্শনী ছিল আইসিটি ওয়ার্ল্ড শিরোনামে। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড নামে শুরুর পরে প্রতিবছরই এই আয়োজনের জৌলুস বেড়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৬-৯ ডিসেম্বর ২০১৭, চার দিনব্যাপী রাজধানীর বঙ্গবন্ধু ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে পঞ্চমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়ে গেল তথ্যপ্রযুক্তির মহাযজ্ঞ ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭’। এবারের ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭’-এর প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘রেডি ফর টুমোরো’ বা ‘আগামীর জন্য প্রস্তুত হও’।
৬ ডিসেম্বর চার দিনব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তির সবচেয়ে বড় আয়োজন ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, দেশের মেধাবী তরুণ প্রজন্ম তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে শামিল করার স্বপ্ন সার্থক করবে।
সুন্দর আগামীর জন্য তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলছি। কাজেই সমগ্র বিশ্ব এখন তাদের হাতের মুঠোয় এবং আমি আশা করি এই তরুণরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে জাতির জনকের উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে সার্থক করবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশজুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে ২৮টি হাইটেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক। এর মধ্যে ঢাকার কারওয়ান বাজার ও যশোরে সফটওয়্যার পার্কের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ১২টি বেসরকারি সফটওয়্যার পার্কও গড়ে উঠেছে। এসব পার্কে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করার জন্য ১০ বছরের আয়কর মওকুফ ও শতভাগ রিপেট্রিয়েশনসহ বিবিধ সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মূলত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে, তথ্য-প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান এবং এই খাতের সাফল্যগুলো তুলে ধরতে প্রতিবছর ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক এই মহাযজ্ঞে সারাবিশ্ব থেকে বিশেষজ্ঞ বক্তা, উদ্যোক্তা, প্রযুক্তির আদর্শ ব্যক্তিত্বরা সরাসরি বিভিন্ন পর্বে অংশ নেন। বিশ্বখ্যাত পণ্য নির্মাতা ও উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নিয়ে তাদের আপডেট পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করে। গত কয়েক বছর ধরে রাজধানীতে শীতের মৌসুম শুরুর প্রথম দিকেই এ আসর বসে। দেশের প্রযুক্তিপ্রেমীরাও রীতিমতো আসরের অপেক্ষায় থাকেন।
এছাড়া এবারের এই ইভেন্টের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পে আলোড়ন সৃষ্টি করা মানব-শ্রেণির রোবট সোফিয়ার আগমন।
উদ্বোধনী ভাষণ শেষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট সোফিয়ার সাথে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্ভাষণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তাকে জিজ্ঞাসা করেন, আমাকে কীভাবে চেন তুমি? জবাবে বিশ্বের প্রথম সামাজিক রোবট বলে, আমি আপনার সম্পর্কে অনেক লেখা পড়েছি। আমি এও জানি, আপনি বাংলাদেশের মহান নেতা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মেয়ে। আপনাকে মাদার অব হিউম্যানিটি বলা হয়ে থাকে। আপনিই ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। আপনার নাতনীর নামও আমার মতন, ‘সোফিয়া’।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সফটওয়্যার রপ্তানির পালে হাওয়া লেগেছে। পরিসংখ্যানও তাই বলে। আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানিয়েছেন, বর্তমানে সফটওয়্যার রপ্তানি হচ্ছে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার। গত বছর যার পরিমাণ ছিল ৭০০ মিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস) সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে সফটওয়্যার রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ২৯ লাখ ডলার। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। ২০১০-১১ অর্থবছরে ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে সফটওয়্যার রপ্তানি দাঁড়ায় সাড়ে ৪ কোটি ডলারে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে সফটওয়্যার রপ্তানি থেকে আয় প্রথমবারের মতো ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ডলার অতিক্রম করে। ওই অর্থবছরে মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এই আয় বেড়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১২ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার ডলার ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রায় ১৩ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এই খাত থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হয়।
সেবার হাতকে শক্তিশালী করতে চালু
হয়েছে ডিজিটাল সেবা ‘৯৯৯’
প্রত্যেক মানুষের জীবনে যে কোনো সময় বিপদ আসতে পারে। কারণ বিপদ কখনও জানান দিয়ে আসে না। এই বিপদের মুহূর্তে মাত্র একটি সাহায্যের হাত প্রত্যেকের জীবন বদলে দিতে পারে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমরা যেমন আস্তে আস্তে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছি, আমাদের সেই সাহায্যের হাতটিও আজ ডিজিটাল হয়ে এসেছে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সরকার এমন একটি সেবা চালু করেছে। যার নাম ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস ‘৯৯৯’।
১২ ডিসেম্বর ২০১৭, রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পুলিশি সেবার জন্য ‘৯৯৯’ নম্বরের ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
আপাতত ৩টি জরুরি সেবা দেওয়া হবে এই ৯৯৯ সেন্টারের মাধ্যমে। যে কোনো মোবাইল ও ল্যান্ডফোন থেকে সম্পূর্ণ টোল-ফ্রি কল করে বাংলাদেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে এই সেবা নেওয়া যাবে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা।
এই সার্ভিস আমাদের জীবনে ডিজিটাল সাহায্যের হাত হিসেবে কাজ করবে। কারও কোনো এক মুহূর্তে পুলিশের সাহায্য প্রয়োজন? এই সেবার মাধ্যমে সাথে সাথে পুলিশের সাহায্য পাওয়া যাবে। এছাড়া কেউ অসুস্থ বা কারও মুমূর্ষু অবস্থায় হয়তো সাহায্য প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ‘৯৯৯’-এ ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়া যাবে। কিংবা কোনো দুর্ঘটনা হয়েছে, দ্রুত দমকল বাহিনী প্রয়োজন? সেক্ষেত্রেও দমকল বাহিনীকে কল করা যাবে এই ‘৯৯৯’ সেবার মাধ্যমে।
১২ ডিসেম্বর উদ্বোধনের পর প্রথম পাঁচ দিনে ‘৯৯৯’-এ কল করে সেবা পেয়েছেন ১৫ হাজার মানুষ। পালাক্রমে পুলিশের মোট ১২৮ সদস্য এই কাজে সহায়তা করেছেন।
মূলত প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলাদেশ পুলিশ এই সেবা শুরু করেছে। ডিজিকন টেকনোলজিস লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান এই তথ্যপ্রযুক্তিতে সহায়তা দিচ্ছে। আগামী দুবছর এক্ষেত্রে সহায়তা দেবে তারা।
আপাতত আবদুল গনি রোডে অবস্থিত পুলিশের কমান্ড কন্ট্রোল সেন্টার থেকে এই সেবা পরিচালিত হচ্ছে। এই সেবা কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (আইসিটি) এই প্রক্রিয়ায় সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন।
ইতোপূর্বে ২০১৫ সাল থেকে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে সীমিত আকারে ২০১৬ সালের শেষ পর্যন্ত ৯৯৯ সেবা চালু ছিল। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমটি চলে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে। সেখানে প্রায় ২৭ লাখ কল আসে। এর মধ্যে ৩৬ হাজার কল পুলিশকে জানানো হলে ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। জরুরি প্রয়োজনে যারা সেবা চেয়েছেন, তাদের ৯০ শতাংশ সেবা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

Category:

Leave a Reply