তারেক জিয়ার ফাঁসি চায় আইভি পরিবার

11-6-2018 5-51-01 PMআরিফ সোহেল: ঘটনাপ্রবাহের পূর্বাপর
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশ চলছে। মাইক হাতে সভাপতির ভাষণ দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা। সারাদেশে জঙ্গিদের বোমা হামলা এবং গোপালগঞ্জে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশের ২০ মিনিটের বক্তৃতা শেষে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়ে বঙ্গবন্ধু-কন্যা মঞ্চ থেকে নিচে নেমে আসতে থাকেন। ঠিক সেই সময়ই শুরু হয় মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা। মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে বিস্ফোরিত হয় ১১টি শক্তিশালী গ্রেনেড। গ্রেনেডের বিকট শব্দ আর ধোঁয়ায় অন্ধাকারে নিমজ্জিত পুরো এলাকা। চারদিকে গগনবিদারী চিৎকার। থরে থরে পড়ে থাকা লাশের মিছিল। হাত-পা বিচ্ছিন্ন নেতা-কর্মীদের আহাজারি। আর ট্রাকের ওপর মঞ্চে মানববর্মের কল্যাণে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন শেখ হাসিনা। ওই হামলায় মূলত টার্গেট ছিল আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনাসহ মূল নেতৃবৃন্দকে হত্যা করা। আওয়ামী লীগের নাম-নিশানা মুছে ফেলার এই হীন চক্রান্তে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও, গুরুতর আহত হন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী আইভি রহমানসহ অনেকেই। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ১২ জন। পরবর্তীতে এই হামলার শিকার মহিলাবিষয়ক সভানেত্রী আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের আরও ১২ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারান। এই নারকীয় হত্যাকা-ে আহত হন শত শত নেতাকর্মী, অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করেন। সেদিনের সেই দুঃসহ স্মৃতি আর শরীরে গ্রেনেডের স্পিøন্টারের যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছেন অনেকেই।

১৪ বছর পর রায়…
গত ১০ অক্টোবর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারের রায় ঘোষণা করেন বিজ্ঞ আদালত। বিচারের অপেক্ষায় নিহত-আহতদের পরিবারের সদস্যদের কেটেছে ১৪ বছর। গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন আদালত। মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদ-াদেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আরও ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। অথচ এই নারকীয় ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকার ‘জজ মিয়া’ নাটকের অবতারণা করেছিল।
রায়ের আগে এবং পরে প্রতিক্রিয়া
এই রায়ে শতভাগ খুশি হতে পারেনি আইভি রহমানের পরিবার। তারেক রহমানের ফাঁসি চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে রিভিউ করার প্রক্রিয়া চলছে। পরিবার থেকে বলা হয়েছে, ‘এ বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার মহানায়ক তারেক রহমানের ফাঁসির আদেশ হয়নি। তাই আমরা অসন্তোষ প্রকাশ করছি। উচ্চ আদালতের মাধ্যমে খুনি তারেক রহমানের ফাঁসি কার্যকরের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি এবং কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন এমপি বলেছেন, ‘বিচারের অপেক্ষায় কেটেছে অনেক বছর। মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর বিচার দেখতে ১৪টি বছর ধরে অপেক্ষা করছি আমরা। এই ব্যথা আর যন্ত্রণা নিয়ে আমাদের বাবা মারা গেছেন। আসামিদের বিচার হয়েছে, তবে পুরোপুরি বিচার পাইনি। আমরা বিষয়টি আদালতের ওপরই ছেড়ে দিয়েছি। সত্যিকারের অপরাধীদের প্রকৃত বিচার হলেই আমার মা-বাবা কবরে শান্তি পাবেন এবং আমরাও খুশি হব।’
নাজমুল হাসান পাপন এমপি আরও বলেন, এই মামলার প্রধান আসামি তারেক জিয়ার ফাঁসির রায় হওয়া উচিত ছিল। যেহেতু মুফতি হান্নান নিজেই স্বীকারোক্তি দিয়েছে, অপারেশন চালানোর আগে তারেক রহমানের অনুমতি চেয়েছিল। এই হামলার প্রথম টার্গেট ছিলেন শেখ হাসিনা। এই ভয়াবহ হত্যাকা-ের নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক জিয়া। এক প্রশ্নের উত্তরে নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ‘এই মামলার অনেকেই পলাতক রয়েছে। তারা কেউ কেউ বিদেশে অবস্থান করছে। আইনের মাধ্যমে তাদের বিদেশ থেকে দেশে এনে বিচারিক কার্য সম্পাদন করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।’ উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন এই মামলা পরিচালিত হয়েছে। এই ন্যক্কারজনক মামলায় দোষীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ২২৫ জন ও আসামিপক্ষের ১২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এতে সময় লাগে ১১৯ কার্যদিবস।

Category:

Leave a Reply