তিন মোড়লে বন্দী ক্রিকেট নান্দনিকতা

Posted on by 0 comment

ক্রিকেট বলতেই হাতেগোনা কয়েকটি দেশ। কিন্তু সেখানেও মোড়লগিরি ক্রিকেটে নাভিশ্বাস তুলছে। ক্রিকেট তিন মোড়ল অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও ইংল্যান্ডের কাছে চোখ-মুখ বাঁধা পড়ে প্রতিনিয়ত হারাচ্ছে তার নান্দনিকতা ও জৌলুস। অথচ আইসিসি ‘মন্ত্রতত্ত্ব’ বাতিল করেছে অনেক আগেই। মাঠে বসে ক্রিকেটে যারা প্রাণ উজাড় করছেন নিজের অর্থ ও সময়; তারাও হাঁপিয়ে উঠছেন বনেদিপনায়। কারণ মাঠের খেলার চেয়েও মোড়লরা অতিব্যস্ত টেবিলের খেলায়। ক্রিকেটের নিয়ন্তা আইসিসিও তাদের কাছে জিম্মি; তাদের তাঁবেদার। অনেকটা হুকুমের দাস। মোড়লরা যেভাবে চায়- অনেক সময় মাঠে ঘটেও তাই। ফলে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান-শ্রীলংকা-দক্ষিণ আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ডের মতো দেশের ক্রিকেট। আইসিসির তিন ‘শক্তিধর’ দেশের প্রস্তাবই
যেন ক্রিকেটের সব প্রস্তাব।

PMf আরিফ সোহেল: ঘটনা পুরনো। ২০১৪ সালের কথা। আইসিসির সভায় টেস্ট ক্রিকেটকে ‘আকর্ষণীয়’ করার নামে প্রস্তাব করেছিল নতুন এক পদ্ধতির। টেস্ট ক্রিকেটে স্থায়ী প্রথম ১০টি দল টেস্ট খেলতে পারে। মোড়লদের প্রস্তাবিত পদ্ধতি ছিল  টপ-৮ সরাসরি খেলবে টেস্ট ক্রিকেট। আইনটা দ্বি-স্তরবিশিষ্ট টেস্ট ক্রিকেট। র‌্যাংকিংয়ের ৯ ও ১০ নম্বর দলকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে খেলার কথা বলা হয়েছিল। এই ‘আশঙ্কা’ নিয়ে তোলপাড় ছিল ক্রিকেটের দেশে দেশে। প্রকারান্তরে ৮টি দল নিয়ে খেলার কথা বলে বাংলাদেশের মতো ক্রিকেট-পাগল জাতিকে ‘টেস্ট’ আঙ্গিনার সাবলিল সৌরভের বাইরে রাখার ফন্দি-ফিকির করেছিল। ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ যখন অবস্থান ক্রমাগত দৃঢ় করছিল, ঠিক তখনই সংস্কারের নামে ক্রিকেটের তিন মোড়লের এই অদ্ভুত প্রস্তাবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চক্রান্তের স্বীকারে পরিণত হতে হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার মতো দেশ ওই দ্বিচারিত প্রস্তাব মেনে নেয়নি। তাতেই রক্ষা। অবশ্য তিন মোড়ল ছড়ি ঘুরাতে অন্য একটি নিয়মকে উসকে দিয়েছিল সেই সময়ে। বলেছিলÑ বড় দেশ চাইলে ছোট দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির মতো সিরিজ আয়োজন করতে পারবে। দেখানো হয়েছিল আর্থিকভাবে লাভবান হবার অসমৃণ পথও। অর্থাৎ আয় বাড়ার সঙ্গে বড় দলের সঙ্গে খেলার টোপঘোরা কৌশলও বাতলে দিয়েছিল আইসিসি। কিন্তু প্রতিবাদের মুখে আইসিসি সেসব প্রস্তাব পুরোপুরি কার্যকর করতে পারেনি। যেখানে বাংলাদেশও প্রতিবাদের সারথি হয়েছিল। তিন মোড়লদের বিপক্ষে এ অবস্থান নিলেও ক্রিকেট কিন্তু তাদের গ-ির বাইরে আসতে পারেনি। যার সর্বশেষ প্রমাণ ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আম্পায়ার ধর্মসেনার অভিনব সিদ্ধান্ত; তা আবারও চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে। অনেকেই সরাসরি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেনÑ এবারের বিশ্বকাপে তিন মোড়লের অভ্যন্তরীণ কু-সন্ধি হয়েছিল। যার ফলে ঘুরে-ফিরে; সব সমীকরণ ছাপিয়ে তিন মোড়লই সেমিফাইনালে উঠেছিল। তারা মোড়লত্ব টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে নিজেদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হেরেছে; উল্টোভাবে প্রয়োজনে জিতেছে। কীভাবে করেছে তা বোকা ক্রিকেট-অবুঝ সমর্থকও লজ্জা পেয়েছে। কীভাবে ভারত ইংল্যান্ডের কাছে গ্রুপ পর্বে হেরেছে কিংবা অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ম্যাচের ছকগুলো চোখের সামনে ভাসিয়ে নিনÑ আর বলার প্রয়োজন হয় না।
২০১৪ সালে আইসিসির সভায় সংবিধানে সংশোধনী আনা হয়েছিল। গঠনতন্ত্রে আইসিসির হৃৎপি- বলে বিবেচিত এ দুই কমিটিতে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড স্থায়ী সদস্যপদ পেয়েছিল। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতকে মূল ক্ষমতাধর করা হয়েছিল। এদের অপসারণের সুযোগ ছিল না। ফলে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার এই তিন সদস্যই নিতে পারত। এটিই ক্রিকেট দুনিয়ায় ‘বিগ থ্রি’ বা ‘তিন মোড়ল’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এছাড়া সভায় আরও যে গুরুত্বপূর্ণ যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছেÑ স্বাধীন চেয়ারম্যান নীতি। এখন থেকে সদস্য বোর্ডের সভাপতি থেকে কেউ আইসিসির চেয়ারম্যান হতে পারবেন না। ২০১৫ সালের নভেম্বরে এ বিষয়টি নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন শশাঙ্ক। উদাহরণ হিসেবে বলেছিলেনÑ ভারতীয় বোর্ডের প্রধান যদি একই সঙ্গে আইসিসি চেয়ারম্যানও হয়, এতে নিরপেক্ষভাবে তার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব হবে না। ভারতীয় বোর্ডের প্রধান ভারতের স্বার্থই তো দেখবেন। ২০১৪ সালে এই কমিটির অংশীদার এন শ্রীনিবাসন, ওয়ালি এডয়ার্ডস ও জাইলস ক্লার্ক (তিনজন যথাক্রমে বিসিসিআই, সিএ ও ইসিবি প্রধান) মিলে আইসিসির রাজস্বনীতিতে বিতর্কিত সংশোধনী এনেছিলেন।
২০১৬ সালে ২০১৪ সালের গৃহীত ‘মোড়লগিরি’র সংশোধন করে আইসিসি। নির্বাহী এবং অর্থ-বাণিজ্য সংক্রান্ত আইসিসির সবচেয়ে ক্ষমতাধর এ দুই কমিটি থেকেও তিন প্রধানের স্থায়ী সদস্যপদ প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীকালে জুনে অনুষ্ঠিত আইসিসির সভায় বোর্ডের সভায় গোপন ব্যালট ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয় আইসিসির নতুন চেয়ারম্যান। দুবছর মেয়াদি আইসিসির নতুন চেয়ারম্যান কোনো বোর্ডের কোনো ধরনের পদে থাকতে পারবেন না। আবার চাইলেও সবাই এই পদে নির্বাচনও করতে পারবেন না। মনোনয়নের যোগ্যতা হিসেবে আইসিসির বোর্ড পরিচালক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, পাশাপাশি পূর্ণ সদস্য ১০ দেশের কমপক্ষে দুটির সমর্থন থাকতে হবে। আইসিসিতে তিন প্রধানের ‘খবরদারি’র যে সুযোগ তৈরি হয়েছে ২০১৪-এর সংশোধনীতে, সেটি দূর করে ২০১৬ সালে। কিন্তু নিয়ম রহিত হলেও ক্রিকেটে এখনও তিন মোড়লে সাম্রাজ্যই অধিষ্ঠিত।
পাশাপাশি ওয়ান ডে বা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে ঘিরে ন্যক্কারজনক কর্পোরেট বাণিজ্য শুরু হয়েছে। বনেদি ক্রিকেট বোর্ডগুলো লাখো ডলারের ফায়দা লুটতে বাজিকরদের অনাবিল সুযোগ করে দিচ্ছে। ফলে উন্মাদনা আর ম্যাচ ফিক্সিং (পাতানো খেলা), যা ক্রিকেটকে ক্রমাগত কলুষিত করছে। জুয়া আর ম্যাচ ফিক্সিং শুধু ক্রিকেটকেই আঘাত করছে এমনটাও নয়, তাতে বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষের ক্রিকেটীয় ভালোবাসা ও আবেগ। আর ক্রিকেটাররা ক্রমেই পরিণত হচ্ছেন টাকার পুতুলে, যাদের নিজের মতপ্রকাশের ওপরেও শর্ত আরোপ করে কর্পোরেট কোম্পানি আর কর্পোরেট ক্রিকেট বোর্ড। এলিট ক্রিকেট বোর্ডসমূহ নিজেদের এই বনেদি প্রস্তাবনায় তাদের উচ্চাভিলাষ আর বাণিজ্যের চিন্তাটাকেই তুলে ধরেছে। এই বনেদি তত্ত্ব আর কর্পোরেট প্রভাবে ক্রমেই নিষ্প্রভ হচ্ছে নান্দনিক ক্রিকেটের জৌলুস, যার ভাগশেষ কর্পোরেট ক্রিকেট! যেখানেও সত্যসিদ্ধভাবে তিন মোড়লের ভূমিকা থাকছে অনিবার্যভাবেই। সামান্য টাকার লোভে যেখানে দেশি বোর্ড বিক্রি হয়ে যায়; সেখানে আইসিসিকে দোষ দিয়ে আর কী লাভ। এটা তো জানা কথা, আইসিসির বর্তমান আয়ের সিংহভাগই আসে এই তিন মোড়ল দেশÑ অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও ইংল্যান্ড থেকে।
প্রাণের টানে ক্রিকেটের টানে ক্রিকেটকে তিন মোড়লের খপ্পর থেকে বাঁচাতে বারবার সোচ্চার হয়েছে নিরেট সমর্থকরা। সেখানে বাংলাদেশও বাদ যায়নি। লাল-সবুজের পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন, প্লে-কার্ড নিয়ে কয়েক হাজার ক্রিকেটপ্রেমীরা মানববন্ধন করে তিন মোড়লের আধিপত্য বিনাশে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করেছে। ২০১৭ সালের ২-৪ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে তিন দিনব্যাপী সভা শেষে আইসিসি জানিয়েছিল ‘বিগ-থ্রি’ নীতি বাতিল করে নতুন একটি সুষম অর্থনৈতিক বণ্টন পদ্ধতিতে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইসিসির সংবিধানে কিছু সংশোধনী এনে তা পাস করা হয়েছে। ওই বছরই এপ্রিলে আইসিসির পরবর্তী সভায় আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড পূর্ণ সদস্য করা হয়েছে। আর ২০১৯ সালে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড প্রধান এহসান মানিকে আইসিসির অর্থ-বাণিজ্য কমিটির প্রধান করার মধ্য দিয়ে তিন মোড়লের ক্ষমতা কিছুটা কমানোর স্বপ্ন-জাগানিয়া পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা হয়েছিল। কারণ অর্থ-বাণিজ্য কমিটিই আইসিসির বিভিন্ন ইভেন্টের বাজেট প্রণয়ন ছাড়াও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থ বণ্টনের দায়িত্ব পালন করে। উল্লেখ্য, গত ১০ বছর ধরে এই তিন দেশের বাইরে মাত্র একজন কর্মকর্তা নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের সাবেক প্রধান অ্যালান আইজ্যাক (২০১১-১২) অর্থ-বাণিজ্য কমিটিতে ছিলেন। তবে শীর্ষপদে মোড়লদের বাইরে কেউ বসতে পারেন নি। পিসিবি প্রধান এহসান মানি ১৭ বছর পর এই পদে ফিরলেন। কিন্তু তা খেলার মাঠে-অভ্যন্তরে কখনোই প্রমাণিত হয়নি। তা ছিল কাগুজে। অনেকে ধারণা করেছিল এর মধ্য দিয়ে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড তিন মোড়লের দীর্ঘ এক দশকের শাসনের ক্ষমতা কমবে। বরং মোড়লভুক্ত দেশের সঙ্গে অন্য দেশের খেলা মানেই আম্পায়ার, থার্ড আম্পায়ারÑ সবাই বনেদি দলের প্রতি অনুকম্পায় আগুয়ান সদস্য। ছোটদের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত দিতে তাদের আইনও বাধে না।
PMf2দীর্ঘ পথপরিক্রমায় হয়তো কিছুটা ছন্দপতন ঘটেছে মোড়লদের। তারপরও বিশ্ব ক্রিকেটে চলছে ‘তিন মোড়লের’ প্রাধান্য। আর সে-কারণেই নানা সমীকরণ অভ্যন্তরীণ ‘খেলা’ শেষে ক্রিকেটের তিন সম্পদশালী দেশ ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছানোটা কোনো বিস্ময়কর ঘটনা ছিল না। এবারের টুর্নামেন্টের সম্প্রচার থেকে ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ড আয় করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। ২০১৬-২৩ সম্প্রচার চুক্তির আওতায় ২০১৯ ও ২০১৩ বিশ্বকাপ হচ্ছে মূল ইভেন্ট। সেখান থেকে অর্জিত অর্থ থেকে ৯৩টি সহযোগী বা জুনিয়র ক্রিকেট দেশ আইসিসি থেকে পাবে মাত্র ১৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড। অথচ ভারত একাই পাবে ৩২০ মিলিয়ন পাউন্ড। এর বাইরেও বিগ থ্রি’র আলাদাভাবে রয়েছে ঘরোয়া টুর্নামেন্টের সম্প্রচারের লোভনীয় চুক্তি। অন্যদিকে দলগত আয় কম থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশগুলোকে তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে ধুঁকতে হচ্ছে। তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে খেলোয়াড়দের সরে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সাফল্যের কারণে এসব খেলোয়াড়রা টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজির দিকেই ঝুঁকে পড়ছেন।
ক্রিকেট মানেই প্রথমত ভারত। তারপরও উঠে আসে অস্ট্রেলিয়ার নাম। আর প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতলেও ইংল্যান্ডের ক্রিকেট আধিপত্য শুরু থেকেই। যেখানে বাংলাদেশ-শ্রীলংকা-পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশগুলো বরাবরই অপাঙ্তেয়ই থেকে যায়। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের জয়কে অনেকেই স্রেফ আম্পায়ারের মহাকারচুপি হিসেবেই দেখেছেন। এবারও ফাইনালসহ অনেক ম্যাচেই বিস্ময়কর সব সিদ্ধান্ত গেছে মোড়লদের পক্ষে। লজ্জার মাথা খেয়ে আম্পায়াররা বড়দের পক্ষে আঙ্গুল তুলেছেন।
মোদ্দা কথা, মোড়লরা বাংলাদেশের মতো অনেক দেশের উন্নতি সহ্য করতে পারছে না। পাশাপাশি ক্রিকেটকে আরও কী করে পুরোপুরি বাণিজ্যনির্ভর করে ফেলা যায়, তা নিয়েও মোড়লদের মাথা হরদম ঘুরছে। কারণ ক্রিকেট বর্তমানে কেবল খেলার মাঝে আটকে নেই, এটি এখন একটি বড় বাণিজ্যের বিজ্ঞাপন। যেখানে একজন ক্রিকেটারও পণ্যের বিজ্ঞাপন করছেন। কখনও নিজেও পণ্যে পরিণত হচ্ছেন। বিজ্ঞাপনে বিজ্ঞাপিত হচ্ছে পুরো দলও। ফলে তিন মোড়লদের কাছে ক্রিকেট তার নান্দনিকতার আকর্ষণ হারাচ্ছে প্রতিক্ষণ। বাঙালিদের কাছে ক্রিকেট মানেই আবেগের কথারেণু। যাদের রক্তে ক্রিকেট, তারা বরাবরই তিন মোড়লের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। এবার বিশ্বকাপ চলাকালেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রকাশ করে বুঝিয়ে দিয়েছে। তাদের একজন অনিন্দ্য আরিফ তার স্ট্যাটাসে ফাইনাল ম্যাচের পর লিখেছেনÑ ‘এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা আর মানা যায় না। এবার লড়াই হোক মোড়লগিরির বিপক্ষে। নিপাত যাক বনেদি ক্রিকেটের চক্রান্ত। জয় হোক বিশুদ্ধ ক্রিকেটের।’ আমাদের কথাও তাই।

Category:

Leave a Reply