তিস্তা ও স্থলসীমান্ত চুক্তি সমাধানের আশ্বাস

Posted on by 0 comment

দিল্লিতে রাষ্ট্রপতির উষ্ণ অভ্যর্থনা

31উত্তরণ ডেস্ক : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তিস্তা ও স্থলসীমান্ত চুক্তি সমস্যা সমাধানে তার সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে তার সরকার অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত ১৯ ডিসেম্বর দিল্লিতে বাংলাদেশের সফররত রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে এ কথা জানান। আবদুল হামিদকে মোদি আরও বলেছেন, তিনি যত দ্রুত সম্ভব ঢাকা সফরের পরিকল্পনা নিয়েছেন। আধা ঘণ্টার এ বৈঠককালে আবদুল হামিদ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও তার ‘গুজরাট মডেল’-এর প্রশংসা করে বলেন, তার নেতৃত্বে সারা ভারতের তরুণ প্রজন্ম একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলবে।
১৮ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় বেলা পৌনে ১টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। সেখানে  ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিকে সিংহ ও ভারতে বাংলাদেশের হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী তাকে স্বাগত জানান। সেখান থেকে রাষ্ট্রপতিকে ভারতীয় রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ‘রাষ্ট্রপতি ভবনে’ নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে তিনি সেখানে অবস্থান করেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সকাল পৌনে ১১টায় ঢাকাস্থ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎকালে মোদি আরো বলেন, বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা জোরদারে ভারত প্রস্তুত রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের নজিরবিহীন সমর্থন ও সহায়তার কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এতদঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে। এ প্রসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামো ও পর্যটনের উন্নয়নসহ যোগাযোগ প্রচেষ্টা হতে হবে উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নয়ন। নিউইয়র্কে এবং কাঠমান্ডুতে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে মোদি বলেন, তারা সফল আলোচনা করেছেন। সফরের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি সেখানে পৌঁছালে রাজঘাট সমাধি কমিটির সম্পাদক রজনীশ কুমার তাকে অভ্যর্থনা জানান। সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতির দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেন। ভারত সফরকালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারী, লোকসভা স্পিকার সুমিত্রা মহাজন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও রাজ্যসভার বিরোধীদলীয় নেতা গোলাম নবী আজাদ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
প্রায় তিন দশকের মধ্যে প্রথম বাংলাদেশি রাষ্ট্রপতি হিসেবে ভারত সফরে গিয়ে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মো. আবদুল হামিদ। সর্বশেষ ১৯৮৬ সালের জুলাই মাসে তখনকার রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ভারত সফর করেন। এরপর দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশের আর কোনো রাষ্ট্রপতি ভারত সফরে যাননি। ২৩ ডিসেম্বর সফরের শেষ দিন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। দুপুরে রাষ্ট্রপতি ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে বীরভূম জেলার বোলপুর যান। রাষ্ট্রপতি ‘রবীনমষু ভবনে’ পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান বিশ্বভারতীয় কালচার অ্যান্ড কালচারাল রিলেশন ডিরেক্টর ও রবীন্দ্র ভবনের অধ্যক্ষ তপতী মুখোপাধ্যায়। পরে রাষ্ট্রপতিকে জাদুঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রপতিকে বিশ্বকবির ব্যবহার করা জিনিস এবং ছবি দেখানো হয়। এ ছাড়াও তিনি আগ্রা, জয়পুর ও কলকাতার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেন। ছয় দিনের ভারত সফর শেষে গত ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

Category:

Leave a Reply