তীরন্দাজরা উড়ালেন লাল-সবুজের পতাকা

57আরিফ সোহেল: আসরের সূচনা হয়েছিল ২৭ জানুয়ারি। ১৫ দেশের তীরন্দাজরা নিশানা খুঁজতে ব্যস্ত। এ যেন অভিনব এক মিলনমেলা। উড়ছে ১৫ দেশের জাতীয় পতাকা। যেখানে সবাই সমান।
কিন্তু পদক নির্ধারণী শেষ দিনে পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে উড়ছে শুধুই লাল-সবুজের পতাকা। উৎসবে উদ্বেলিত বাংলাদেশের আরচাররা। গ্যালারিতে উচ্ছ্বসিত দর্শক। গত ৩০ জানুয়ারি আরচারির ইতিহাসে দিনটি ছিল গৌরবময় একদিন। প্রথমবারের মতো আয়োজিত ইসলামি সলিডারিটি আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ৯টি স্বর্ণের মধ্যে ৬টি জিতেছেন বাংলাদেশের আরচাররা। দলগত সব ইভেন্টে স্বর্ণ জয়ের পাশাপাশি রিকার্ভ মহিলা এককে স্বর্ণজয়ী ক্রীড়াবিদ হীরা মণি।
শেষ দিনে শুরুতেই পতাকা উড়িয়েছেন বাংলাদেশের নারী আরচার হীরা মণি। তিনি মেয়েদের রিকার্ভ এককে আজারবাইজানের রামোজানোভা ইয়ালাগুলকে ৬-৪ সেট পয়েন্টে হারিয়ে স্বর্ণ উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশকে।
মহিলা রিকার্ভ দলগত বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশের শ্যামল রায়, বিউটি রায় ও রাদিয়া আক্তার শাপলা ৬-২ সেট পয়েন্টে নেপালকে হারিয়েছেন। পুরুষ রিকার্ভ দলগত বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশের রুমান সানা, সানোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ তামিমুল ইসলাম ৬-২ সেট পয়েন্টে ভুটানকে উড়িয়ে দিয়েছেন।
রিকার্ভ মিশ্র দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের রুমান সানা ও বিউটি রায় ৬-২ সেট পয়েন্টে ভুটানের কিনলি টি সিরিং ও কারমাকে হারিয়েছেন সহজেই। পুরুষ কম্পাউন্ড দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের আবুল কাশেম, নাজমুল হুদা ও মিলন মোল্লা ২১৪-২০৭ পয়েন্টে মালয়েশিয়া আরচারি দলকে পরাজিত করেছেন।
কম্পাউন্ড মিশ্র দলগত ফাইনালে ইরাকের আল-দাঘমান এশাক ও ফাতিমাহ আল মাসহাদানীকে ১৪৯-১৪১ পয়েন্টে হারিয়ে আসরের শেষ ইভেন্টে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছেন বাংলাদেশের আবুল কাশেম মামুন ও সুস্মিতা বনিক।
সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এমপি। উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক সলিডারিটি স্পোর্টস ফেডারেশনের জেনারেল ডাইরেক্টর খালিদ বিন আল শায়েখ, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, আরচারি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি এম শোয়েব চৌধুরী, আনিসুর রহমান দিপু ও সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল।
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইসলামি সলিডারিটি আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপ। ১৭টি দেশ অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান এবং ইরান নাম প্রত্যাহার করায় ১৫টি দেশ আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। মুসলিম কমিউনিটি বেসড টুর্নামেন্ট হলেও, আসরের জলুস বাড়াতে অংশ নিয়েছে নেপাল ও ভুটান। চমক হিসেবে অংশ নিয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া।

Category:

Leave a Reply