দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়

Posted on by 0 comment
4-9-2019 7-08-53 PM

শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্স

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বে একটি রোল মডেল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বহুমুখী ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার ফলে দুই দেশের সম্পর্ক বিশ্ববাসীর সামনে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’ গত ১১ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৪টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় মোদি বলেন, দুই দেশের সোনালি অধ্যায়ের জন্য কাজ করতে পেরে গর্বিত।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গত এক দশকে উভয় দেশের মধ্যে বিভিন্ন প্রথাগত খাত, যেমনÑ নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জলবায়ু ও পরিবেশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, জনযোগাযোগ এবং স্বাস্থ্যে সহযোগিতা প্রভূত পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নতুন ও অপ্রচলিত খাত, যেমনÑ ব্লু ইকোনমি ও মেরিটাইম, পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, মহাকাশ গবেষণা, ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রপ্তানি, সাইবার সিকিউরিটি প্রভৃতি খাতে উভয় দেশ সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করেছে।
এদিন ভিডিও কনফারেন্সে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি যে ৪টি প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন, সেগুলো হলোÑ ভারত থেকে দোতলা বাস, একতলা এসি ও নন-এসি বাস ও ট্রাক আমদানি, ভারতীয় আর্থিক অনুদানে জামালপুর, শেরপুর, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, ভারতীয় অনুদানে পিরোজপুরের ভা-ারিয়ায় ১১টি পানি শোধনাগার স্থাপন এবং সার্কভুক্ত দেশে ভারতের ন্যাশনাল নলেজ নেটওয়ার্ক (এনকেএন) সম্প্রসারণের আওতায় বাংলাদেশে এই নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নয়াদিল্লিতে তার কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগদান করেন। ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীরা একসঙ্গে সুইচ চেপে প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। পরে ৪টি প্রকল্পের ওপরই অনুষ্ঠানে ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের প্রতি ‘শূন্য সহনশীলতা’র নীতি পোষণ করে এবং কোনো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে কখনই বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় দেওয়া হবে না। দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের এ অঞ্চল এবং এর বাইরে সন্ত্রাসবাদ দূর করতে আমরা বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী এ সময় গত মাসে কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
টানা তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর এটিই শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রথম ভিডিও কনফারেন্স। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে আমাদের বিজয় ঘোষণার পরপরই আমাকে এবং আমার দলকে অভিনন্দন জানানোর জন্য আপনাকে আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় ৬০০ বাস (৩০০ দোতলা বাস, ২০০ একতলা এসি বাস ও ১০০ একতলা নন-এসি বাস), ৫০০ ট্রাক (৩৫০টি ১৬ টন ও ১৫০টি ১০ টন ট্রাক) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে। আশা করি, এর ফলে বাংলাদেশের যাত্রী-সাধারণের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবে এবং মহাসড়কগুলোর যানজট খানিকটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসবে।
অন্যান্য প্রকল্পের জন্যও নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ভবিষ্যতে দুই দেশের যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের আরও বহু প্রকল্পের সাফল্যজনক সমাপ্তি উদযাপনের আশা প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনা এ সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার ও জনগণের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।
আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, বাংলাদেশের উন্নতি ভারতের জন্য সব সময়ই একটি আনন্দের বিষয়। সেইসঙ্গে আমাদের জন্য তা প্রেরণারও উৎস। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য বিশাল লক্ষ্য স্থির করেছেন। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তোলা ও ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলায় তার রূপকল্পকে বাস্তব রূপ দিতে সহায়তা করা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।’
মোদি বলেন, গত পাঁচ বছরে একসঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়ের জন্য কাজ করতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। আমার পুরো বিশ্বাস রয়েছে, আগামী পাঁচ বছর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় আসীন হবে।
মোদি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার এটি ষষ্ঠ ভিডিও কনফারেন্স। এতটা সরলতার সঙ্গে এতবার দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে যোগাযোগ সাধন নিজে থেকেই বলে দিচ্ছে দুই দেশের সম্পর্ক কতটা গভীর ও মজবুত।
ভিডিও কনফারেন্সের সময় গণভবনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও ড. মসিউর রহমান, এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য এমপি, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এমপি, ইউজিসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাস।
অন্যদিকে, নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কার্যালয়ে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে ভারতে সফররত সংসদ সদস্যরা।

Category:

Leave a Reply