দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত দেশবাসী হুঁশিয়ার

Posted on by 0 comment

জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মতো জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। ‘স্বল্পোন্নত’ দেশের সীমা পেরিয়ে দেশ এখন ‘উন্নয়নশীল’-এর কাতারে। মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের চেহারাই পাল্টে যাবে। আগামী পাঁচ বছর আমাদের জাতীয় জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পাঁচ বছরের মধ্যে পদ্মাসেতু চালু হবে। ঢাকায় মেট্রোরেল, পায়রা সমুদ্র বন্দর, মংলাসহ একাধিক বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র, চট্টগ্রাম কর্ণফুলির তলদেশ দিয়ে সুড়ঙ্গ পথ (টানেল) এবং গভীর সমুদ্র বন্দর প্রভৃতি চালু হলে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় তার ইতিবাচক প্রভাব, বাংলাদেশকে ‘উন্নয়নশীল’ হতে ‘উন্নত’ দেশের সোপানে পৌঁছে দেবে। আশা করা যায়, ২০৩০ সালে মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়িত হবে। বাংলাদেশ দারিদ্র্যমুক্ত হবে।
এসব সম্ভাবনা কোনো তত্ত্বকথা বা অনুমাননির্ভর ভবিষ্যৎ বাণী নয়। আমরা চর্মচোখেই দেখতে পাচ্ছি প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে। নিঃসন্দেহে এর ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের স্বপ্ন ও আশা-আকাক্সক্ষারই প্রতিফলন ঘটছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এক শ্রেণির রাজনৈতিক এবং বাংলাদেশ-বিরোধী শক্তি আছে, যারা বাংলাদেশের উন্নতি দেখতে চায় না। অতীতে দেশ চালাতে ব্যর্থ এবং বর্তমানে জনগণের আস্থা অর্জনে অক্ষম হতাশ রাজনৈতিক শক্তি, যে কোনো মূল্যে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি ঠেকাতে চায়। বাংলাদেশ এগিয়ে গেলে তাদের ‘রাজনৈতিক পুঁজি’ নিঃশেষিত হবে। শত চেষ্টা করেও তারা সাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসতে পারেনি। এখন তারাই মরিয়া হয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে।
সম্প্রতি ‘পদ্মাসেতু’তে শিশু বলি লাগবে বলে গুজব রটানো, ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনি, শিশু ও নারী ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যা প্রভৃতি ঘটনা দেশে একটা অস্থিরতার পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা বলে প্রতিভাত হয়। গুজব ছড়িয়ে উসকানি দিয়ে নানা জায়গায় নিজেদের হাতে আইন তুলে নেওয়া, আতঙ্ক সৃষ্টি এবং চরম অসহিষ্ণুতা সৃষ্টির একটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র সচেতন দেশবাসীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে না।
এ-কথা একজন দুগ্ধপোষ্য শিশুও বুঝতে পারে, পরাজিত শক্তিগুলো চুপচাপ বসে থাকবে না। তারা সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে শত চেষ্টা করেও মাঠে নামাতে পারেনি। মানুষ তাদের ডাকে সাড়া দেয়নি। আর সে কারণেই জনগণের শক্তিতে গণ-আন্দোলনে তাদের কোনো বিশ^াস নেই।
দেশবাসী ভুলে যায়নি, অতীতেও সামাজিক গণমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়, তাদের বাড়িঘরে আক্রমণ করা হয়েছে। এমন কী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে চাঁদে যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর মুখ দেখা গেছে বলে প্রচার এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘরে, থানায় আক্রমণ ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। সরকার কঠোর হাতে এসব অপশক্তিকে প্রতিরোধ করেছে। মানুষের জীবনে শান্তি ও স্বস্তি নিশ্চিত করেছে।
এবার ষড়যন্ত্রের আরও সুবিস্তৃত জাল বিছানো হয়েছে। তারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য মোক্ষম সময় বেছে নিয়েছে, যখন প্রধানমন্ত্রী বিদেশে রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় কাজ ছাড়াও চোখের চিকিৎসার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুই সপ্তাহের মতো লন্ডনে অবস্থান করবেন জেনেই, চক্রান্তকারী অপশক্তি তৎপর হয়ে ওঠে। তারা ভেবেছে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে, কোনো অপশক্তি অসাংবিধানিক পন্থায় হস্তক্ষেপ করার অজুহাত পাবে। তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে পারবে।
দৃশ্যত ছেলেধরা, অপহরণ, যৌন নিপীড়ন বা পদ্মাসেতুতে শিশু বলির গুজবে কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা চোখে পড়বে না। কিন্তু বাংলাদেশের তিক্ত অভিজ্ঞতা হচ্ছে, রাজনৈতিক মহলের পরিকল্পনা, অর্থ এবং সংগঠিত ক্যাডারদের লেলিয়ে দেওয়া ছাড়া এ-ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে না। বিচ্ছিন্ন ঘটনা দু-একটি হতে পারে। কিন্তু একইসঙ্গে বহুমুখী আক্রমণ এবং অপতৎপরতা স্বতঃস্ফূর্ত ও বিচ্ছিন্নভাবে সংঘটিত হওয়া সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকলেও শক্ত হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। ভয় বা আতঙ্কের কিছু নেই। পরাজিত শক্তির কোনো ষড়যন্ত্রই বাংলাদেশের মাটিতে বাস্তবায়িত হবে না। তবুও সাধু সাবধান! দেশের শত্রুদের খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। আমরা তাই গুজবে কান না দেওয়া, আইন হাতে তুলে না নেওয়ার পাশাপাশি যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সদাসতর্ক ও হুঁশিয়ার থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

Category:

Leave a Reply