দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন উদ্বোধন

7প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আন্তরিকতায় দেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে। শুধুমাত্র অজ্ঞতার কারণে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দেশকে পিছিয়ে দিয়েছিল বিএনপি। নইলে বহু আগেই ডিজিটাল দেশগুলোর কাতারে থাকত বাংলাদেশ। গত ১০ সেপ্টেম্বর গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্বল্প খরচে উন্নতমানের নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের কার্যক্রম উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৪ সালে সাংবিধানিক সরকারের ধারাবাহিকতা ছাড়া দেশকে বর্তমান উন্নয়নের পথে নিয়ে আসা সম্ভব হতো না।
দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনটি পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটায় স্থাপন করা হয়েছে। এই ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ের (আইআইজি) মাধ্যমে ১৫০০ গিগাবাইট পার সেকেন্ড ডাটা আদান-প্রদান সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী কুয়াকাটায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাবমেরিন ক্যাবল (এসএমডব্লিউ-৫) এবং এর ল্যান্ডিং স্টেশন উদ্বোধন করেন। দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে সংযুক্ত হতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে তার সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশকে ডিজিটালাইজড করার যে পদক্ষেপ শুরু করেছিলেন, এর মাধ্যমে তার একটি ধাপ পূর্ণ হলো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনা খরচে বাংলাদেশ আইআইজির সাথে যুক্ত হতে ১৯৯১ ও ১৯৯৪ দুবার সুযোগ পেয়েছিল। তবে বিএনপি সরকার দেশের ‘তথ্য ফাঁস’ হয়ে যাবে এই অজুহাতে এই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। তখন খালেদা জিয়া বলে দিয়েছিল এটা সংযোগ দেওয়া যাবে না। কারণ দেশের সকল তথ্য পাচার হয়ে যাবে। তখনকার বিএনপির সকল মন্ত্রী-এমপিদের মতামত এ রকম ছিল। একটি অদক্ষ সরকারের অধীনে দেশ কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এটি তার সেরা নিদর্শন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল উন্নত ও দ্রুততর ইন্টারনেট সংযোগ পেতে জনগণের জন্য সহায়ক হবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালী জেলায় এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন অনেকগুলো প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছেÑ কলাপাড়া সদর থেকে টিয়াখালী ঘাট বাজার ১৭৫ মিটার দীর্ঘ সেতু, রাঙাবালী উপজেলা কমপ্লেক্স এবং কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের সম্প্রসারণ। এলজিআরডি ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, চিফ হুইপ এএসএম ফিরোজ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম এবং ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা মাহবুবুর রহমান এমপি এবং শাহজাহান মিয়া, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান এবং সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগী অনেক মানুষ পটুয়াখালী থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন।

Category:

Leave a Reply