নববর্ষ ও বাঙালি-জীবন

Posted on by 0 comment

aড. এম আবদুল আলীম: ০১
বাঙালির সবচেয়ে বড় সার্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক উৎসব বাংলা নববর্ষ। এই উৎসবের মাধ্যমে বাঙালি তার নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে মেলবন্ধন স্থাপন করে এবং জাতিসত্তার পরিচয়কে নতুন তাৎপর্যে উপলব্ধি করে। মূলত, বাংলা নববর্ষ বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনাকে শানিত করে স্বাধিকার সংগ্রাম বেগবান করেছে এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনে শক্তি-সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে। নববর্ষ কেবল বাহ্যিক অনুষ্ঠানাদির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর মাধ্যমে বাঙালি তার জাতীয়তাবাদী চেতনায় শক্তি সঞ্চিত করে এবং নিজেদের আত্মপরিচয় ও শেকড়ের সন্ধানে ব্রতী হয়। শুধু তাই নয়, এর মাধ্যমে বাঙালির আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেও আসে প্রবল গতিবেগ।
নববর্ষ পুরনো বছরের ‘গ্লানি’ মুছে দিয়ে বাঙালি-জীবনে ওড়ায় ‘নূতনের কেতন’, চেতনায় বাজায় মহামিলনের সুর। ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী এবং সম্প্রদায়গত ভেদাভেদ দূর করে সকল বাঙালিকে মিলিত করে এক সম্প্রীতির মোহনায়। নববর্ষ এলে উৎসবের আমেজ আর নতুনের আবাহনে পুরো জাতি জেগে ওঠে। কী পল্লি, কী শহর সর্বত্রই প্রবাহিত হয় আনন্দের ফল্গুধারা। গ্রামে-গঞ্জে-নগরে বসে বৈশাখী মেলা; চলে উন্মুক্ত কনসার্ট, পানাহার, লাঠিখেলা, সার্কাস, পুতুলনাচ, হালখাতা; বসে পুঁথিপাঠ, বাউল-জারি-সারি-মুর্শিদী এবং কবিগানের আসর। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র রমনার বটমূলে ছায়ানটের হাজারো শিল্পী নেচে-গেয়ে বরণ করে নতুন বছরকে। প্রচার-মাধ্যমগুলো প্রচার করে বিচিত্র অনুষ্ঠান। জাতীয় দৈনিকগুলো প্রকাশ করে ক্রোড়পত্র। অশুভ শক্তির বিনাশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও চারুকলার ছাত্র-ছাত্রীরা বের করে মঙ্গল শোভাযাত্রা। নানা সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করে বিস্তারিত কর্মসূচি। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকেরা নিজেদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরে নব-উদ্দীপনায়। রাস্তাঘাট এবং বাড়ির আঙিনা সাজানো হয় আলপনার বর্ণিল রঙে। নতুন পোশাকে আর বিচিত্র সাজে রাস্তায় নেমে আসে অজস্র নর-নারী, যুবা-কিশোর-শিশু। পান্তা-ইলিশ, মুড়ি-মুড়কির ভোজে এবং বাউলের একতারার সুরে সৃষ্টি হয় মন মাতানো পরিবেশ।

০২
বাংলা নববর্ষ কীভাবে প্রবর্তিত হলো? এ সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের চোখ মেলতে হয় ইতিহাসের ঝরোকায়। ভারত-তত্ত্ববিদ আলবেরুনি ‘কিতাব উল হিন্দ’-এ (রচনাকাল আনুমানিক ১০৩০ খ্রিস্টাব্দ) ভারতবর্ষে প্রচলিত যেসব অব্দের (শ্রীহর্ষাব্দ, বিক্রমাব্দ, শকাব্দ, বলভাব্দ ও গুপ্তাব্দ) নাম উল্লেখ করেছেন, তাতে বঙ্গাব্দ নেই। বঙ্গাব্দ চালু হয় অনেক পরে, ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে, সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে। ‘আইন-ই-আকবরী’তে আছে : “আকবর বেশ কিছুদিন ধরে হিন্দুস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে দিন গণনার সমস্যাকে সহজ করে তোলার জন্য একটি নতুন বৎসর ও মাস গণনা পদ্ধতি প্রবর্তন করতে ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছিলেন।… আমীর ফতই উল্লাহ শিরাজির প্রচেষ্টায় এই নতুন অব্দের প্রচলন হলো।… সিংহাসনে আরোহণের ২৫ দিন গত হলে, অর্থাৎ বুধবার, ২৮শে রবি-উস-সানি (১১ই মার্চ ১৫৫৬) তারিখে ভুবন আলোককারী ‘নতুন বর্ষের’ শুরু হয়েছিলো। এদিনটি ছিলো পারসিক বছরের নওরোজÑ ১লা ফরওরদিন, বিশ্বাস অনুযায়ী ঐদিন (অর্থাৎ ১১ই মার্চ) সূর্য মেষ রাশিতে প্রবেশ করতো।”
সম্রাট আকবর হিজরি সন অনুযায়ী খাজনা তুলতে গিয়ে দেখেন ফসল তোলার সময়ের সঙ্গে মিল রাখা কষ্টকর হচ্ছে। এজন্য তিনি হিজরি সনকে ভিত্তিমূল ধরে সৌরনিয়মে বছর গণনা শুরু করেন, প্রবর্তন করেন বাংলা সনের। চন্দ্রমাসগুলোকে পরিণত করেন সৌরমাসে। আকবর প্রবর্তিত এই সনের (তারিখ-ই-ইলাহি) আদর্শে বাংলা বিহার, উড়িষ্যা, দাক্ষিণাত্য ও বোম্বাই প্রদেশে আমলি, বিলায়তি ও বিভিন্ন ফসলি সন প্রচলিত হয়েছিল। অনেকে শশাঙ্ক ও হোসেন শাহের আমলে বঙ্গাব্দ প্রচলনের কথা বললেও, অধিকাংশ ঐতিহাসিক এবং গবেষক এ কৃতিত্বের মুকুট সম্রাট আকবরের শিরেই পরিয়েছেন।
সময়ের বিবর্তনে বাংলা সন-তারিখের হিসাবে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। ১৯৫২ সালে জ্যোতিপদার্থবিদ ড. মেঘনাদ সাহা আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভিত্তিতে বাংলাসহ বিভিন্ন বর্ষপঞ্জির আমূল সংস্কারের প্রস্তাব দেন। তার সুপারিশকে মূলভিত্তি ধরে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ১৯৬৪ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র নেতৃত্বে বাংলা বর্ষপঞ্জি সংস্কারের ব্যবস্থা করে। স্বাধীনতার পর প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ বাংলায় নোট লেখা এবং বাংলা স্বাক্ষর ও তারিখ প্রদান প্রথা প্রচলন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই রীতি অব্যাহত রাখেন। ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ সরকার শহীদুল্লাহ্ কমিটির সুপারিশের আলোকে সকল কাজকর্মে ইংরেজি সন-তারিখের পাশাপাশি বাংলা সন-তারিখ লেখার নির্দেশ দেন। পরে লিপইয়ারসহ কিছু জটিলতা দূরীকরণে বাংলা একাডেমি ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কিছু সংস্কার সাধিত হয়। এই কমিটি ১৯৯৫ সালের ১৯ আগস্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, প্রতিবছর ১ বৈশাখ হবে ১৪ এপ্রিল আর তারিখ পরিবর্তনের সময় হবে আন্তর্জাতিক রীতি অনুসারে রাত ১২.০০টায়। ১৪ এপ্রিল তথা ১ বৈশাখ এলেই বাঙালির প্রাণ বর্ষবরণের আনন্দে আপনা-আপনি নেচে ওঠে।

০৩
বাংলা নববর্ষ প্রসঙ্গে বলতে গেলে আসে দেশে দেশে কীভাবে নববর্ষ পালিত হয় সে-প্রসঙ্গ। ইতিহাস-পাঠে দেখা যায়, বহু প্রাচীনকাল থেকেই নববর্ষ বিভিন্ন জাতির সভ্যতা ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে। সর্বপ্রথম নববর্ষ পালিত হয় মেসোপটোমিয়ায়, খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে; তখন মার্চ, সেপ্টেম্বর কিংবা ডিসেম্বর মাস থেকে নববর্ষ গণনা করা হতো। খ্রিস্টীয় নববর্ষ চালু হয় ৪৬ খ্রিস্টপূর্ব অব্দে, জুলিয়াস সিজার যখন বাৎসরিক ক্যালেন্ডার পরিবর্তন করেন এবং জানুয়ারি মাসকেই প্রথম মাস হিসেবে ধার্য করেন। রাশিয়া, চীন, স্পেন ও ইরানে ঘটা করে নববর্ষ পালিত হতো। ইরানের নওরোজ মুসলিম শাসকদের হাত ধরে চলে আসে ভারতবর্ষে।
সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন প্রজাদের কাছ থেকে বছর শেষে নির্দিষ্ট সময়ে খাজনা আদায় করার জন্য। ফসল তুলে আনন্দের সাথে খাজনা দেওয়ার রীতির সঙ্গে কালে কালে যুক্ত হয় নানা ঐহিক, দৈহিক এবং পারলৌকিক বিষয়। আগেকার দিনে চৈত্র মাসের শেষ দিন পর্যন্ত জমিদার-তালুকদারগণ ভূ-স্বামীর খাজনা শোধ করতেন। বছরের প্রথম দিন ভূ-স্বামীরা তাদের মিষ্টিমুখ করাতেন এবং আয়োজন করতেন নানা অনুষ্ঠানের। পরে এসব অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয় ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক নানা আচার-বিশ্বাস, রীতি-নীতি ও আনন্দ-বিনোদনের উপাদান। কালক্রমে দিনটি হয়ে ওঠে শুভচিন্তা ও অনুভূতির পরিপূরক। লোকমেলা, পুণ্যাহ, হালখাতা, গাজনের গান, লাঠিখেলা, ঘোড়দৌড়, গানের আসর এসব যুক্ত হতে হতে নববর্ষ আজ বাঙালির অস্তিত্বের শক্তিদায়িনী উৎসবে পরিণত হয়েছে। নববর্ষ কেবল বাঙালির জীবনেই নয়, বাংলার প্রকৃতিতেও আনে নবসাজ। মৈমনসিংহ-গীতিকার কবি নববর্ষের প্রকৃতির নবরূপ দেখে উচ্চারণ করেছিলেন : ‘আইল নতুন বছর লইয়া নবসাজ,/কুঞ্জে ডাকে কোকিল-কেকা বনে গন্ধরাজ।’
বাংলা নববর্ষ বাঙালির সার্বজনীন জাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসব হলেও এর সঙ্গে অর্থনীতির গভীর যোগসূত্র রয়েছে। কৃষিভিত্তিক সমাজে খাজনা প্রদানের সুবিধার্থে এর প্রচলন ঘটলেও, ধীরে ধীরে ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রসারের ফলে এতে যুক্ত হয় নতুন নতুন রীতি। পুরনো বছরের বকেয়া আদায় করতে গিয়ে হালখাতার প্রচলন হয়। হালখাতার বাইরে সামাজিক উৎসব হিসেবে নবববর্ষ পালনের শুরু উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত এখানে সুখ-দুঃখের ভাগাভাগিটা বড় হয়ে দেখা দেয়। পুণ্যাহ এবং লোকমেলার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। নিত্যব্যবহার্য পণ্যের পসার সাজাতে গিয়ে মেলায় যুক্ত হয়েছে পুতুলনাচ, জারি-সারি-বাউল গান, সার্কাস প্রভৃতি। বর্তমানে নববর্ষকে কেন্দ্র করে রাজধানীর শপিংমল এবং মফঃস্বল শহরের বিপণি-বিতানগুলোতে কেনাকাটার ধুম লেগে যায়। অর্থনীতির যোগসূত্রটা মুখ্য হলেও নববর্ষের সাংস্কৃতিক আবেদন সুদূরপ্রসারী, যা একসময় বাঙালি জাতিকে মুক্তির মোহনায় পৌঁছে দেয়। ১৯৪৭-এর দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নিজেদের শাসন পাকাপোক্ত করার হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে যতই বাঙালির ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির টুটি চেপে ধরেছে ততই নববর্ষ এসেছে শক্তি-সাহস ও উদ্দীপনার মূলমন্ত্র হয়ে।

০৪
বর্তমানে যতটা জাঁকজমপূর্ণ ও ব্যাপক পরিসরে নববর্ষ পালন করা হয় পঞ্চাশের দশকে সেটা তেমন ছিল না। তখন লেখক-শিল্পী মজলিস ও পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ নববর্ষ উপলক্ষ্যে আবৃত্তি, সংগীতানুষ্ঠান ও সাহিত্যসভা আয়োজন করত। সে আয়োজন ছিল ঘরোয়া পরিবেশে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ দিয়ে সকালে নবববর্ষ আবাহন প্রথম শুরু হয় ছায়ানটের উদ্যোগে; এবং তার শুরুটা হয়েছিল রমনার অশ্বত্থ তলায়। সন্জীদা খাতুন লিখেছেন : ‘ইংরেজি পঁয়ষট্টি সালের এপ্রিল অর্থাৎ তেরোশ’ বাহাত্তরের পয়লা বৈশাখে রমনার অশ্বত্থ গাছটির তলায় প্রথম খোলামেলা হলো বাংলা নবববর্ষের উৎসব।’ এরপর বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার পালে যতই হাওয়া লাগে ততই উৎসবমুখর হয় নববর্ষের আয়োজন। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে যে চেতনার উন্মেষ, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ ও বাঙালির চিরায়ত সাহিত্য-সংস্কৃতির ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ফলে তা ক্রমশ বেগবান হয়। আমাদের স্বাধীনতা অর্জনে জাতির মর্মমূলে শক্তি জুগিয়েছে বাংলা নববর্ষ। দেশ স্বাধীন হলে নববর্ষ উদযাপন আরও ব্যাপক পরিসরে শুরু হয়। ১৯৭২ সালে ‘পহেলা বৈশাখ’ জাতীয় পার্বণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তীকালে রমনার ছায়ানটের অনুষ্ঠান ছাড়াও রাজধানীতে ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলা একাডেমি, চারুকলা ইনস্টিটিউট, নজরুল ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন নববর্ষকে পরিণত করেছে মহাউৎসবে। পল্লির নিভৃত কুটির থেকে গ্রাম-গঞ্জ, জেলা শহর, বিভাগীয় শহর ছাপিয়ে রাজধানীর সর্বত্র উপচে পড়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আনন্দ। বর্তমান সরকার নববর্ষ ভাতা চালু করে এ উৎসবে আরও প্রাণসঞ্চার করেছেন।
নববর্ষের উৎসব বেগবান হয়ে জাতীয় উৎসবে পরিণত দেখে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠী এর ওপর আঘাত হেনেছে বারবার। পাকিস্তান আমলে রাষ্ট্রযন্ত্র নানা ফন্দি-ফিকির করে নববর্ষ পালনে বাধা সৃষ্টি করলেও একুশ শতকের শুরুতে এসে মৌলবাদী শক্তি ছদ্মবেশে আঘাত হেনেছে। ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা চালিয়ে ১০ জনকে হত্যা করা হয়, আহত হয় অগণিত মানুষ। কিন্তু তাতেও থামেনি বাঙালির প্রাণের উৎসব নববর্ষ পালন। বরং তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন গ্রাম থেকে শহর, শহর থেকে প্রবাস, যেখানেই বাঙালি আছে, সেখানেই সাড়ম্বরে পালিত হয় বাংলা নবববর্ষ। তবে এটাও বাস্তব যে, পহেলা বৈশাখের পর বাকি ৩৬৪ দিন আমরা বাংলা সন-তারিখ খুব একটা স্মরণে রাখি না।
কিন্তু তাতে কী? নববর্ষের সুদূরপ্রসারী আবেদন তো অস্বীকার করা যাবে না। আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে বাংলা নববর্ষ আনে নব-উদ্দীপনা। উৎসবে-আনন্দে নববর্ষ বাঙালি-জীবনে যে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করেছে, তাতে বাঙালির জাতীয়তাবোধ ও সাংস্কৃতিক-সৌধের ভিত মজবুত হয়েছে। নববর্ষ আবারও এসেছে আমাদের মাঝে। নববর্ষের উষার আলো ও মঙ্গলবার্তায় জাতির ভাগ্যাকাশের সকল অন্ধকার দূরীভূত হবে। মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদী শক্তির চিরবিনাশ ঘটবে। উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব।
লেখক : গবেষক-প্রাবন্ধিক; সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

Category:

Leave a Reply