নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় সব বাধা ভাঙব

Posted on by 0 comment

09উত্তরণ ডেস্ক: সমাজ ও রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে নারী-পুরুষের সমতা আনতে সব বাধা দূর করার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ১৮ মে বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় গ্লোবাল উইমেন লিডারস ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অঙ্গীকার করেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘ সংস্থা ইউনিসেফের মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে তার নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, নারী ও পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় যত প্রতিবন্ধকতা আছে, সব দূর করার অঙ্গীকার রয়েছে আমার। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশকে দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশই সম্ভবত একমাত্র দেশ যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও স্পিকার নারী। দেশের বর্তমান সংসদে ৭০ নারী সদস্যের উপস্থিতির কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই সংখ্যা মোট সংসদ সদস্যের ২০ শতাংশ। ২০২০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩০ শতাংশ নারী সদস্য থাকার বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আরোপের বিষয়টি বৈশ্বিক এই সম্মেলনে তুলে ধরেন তিনি।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নারী ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন, তৃণমূলে ইউনিয়ন পরিষদে নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের কথাও বলেন তিনি। নারী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় তার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছে, প্রাথমিক থেকে ¯œাতকোত্তর পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ শিক্ষার্থী বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি পাচ্ছে।
এ ছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে ৬০ শতাংশ নারী শিক্ষক এবং দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য বিনামূল্যে খাবার চালুও শিক্ষায় লৈঙ্গিক সমতা আনতে ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মায়ের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির দিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশজুড়ে হাসপাতালের পাশাপাশি সাড়ে ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সন্তান প্রসব নিরাপদ এবং মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবায় মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম চালু করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক খাতে নারীর ভূমিকা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান বিশ্বে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে, যেখানকার প্রায় ৪৫ লাখ শ্রমিকের ৮৫ শতাংশই নারী। তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, কূটনীতি, জঙ্গি বিমান পরিচালনা ও শীর্ষ উদ্যোক্তাদের মধ্যেও রয়েছেন নারী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে তারা। এভাবে বাংলাদেশে নারীরা সত্যিকার অর্থে বাধা ভাঙছে এবং জাতি গঠনে এখন সক্রিয় উন্নয়ন নিয়ামকে পরিণত হয়েছে। অনেক অর্জন সত্ত্বেও এখনও নারীর প্রতি সহিংসতা, বাল্যবিয়ে এবং নারী ও মেয়েশিশু পাচার প্রতিরোধে পুরোপুরি সাফল্য আসেনি বলে স্বীকার করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নারী ও মেয়েশিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ, তাদের যথাযথ শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন এবং সামাজিক পরিবর্তনের নিয়ামক হিসেবে গড়ে তুলতে ক্ষমতায়নের জন্য যেসব চ্যালেঞ্জ তা মোকাবিলায় একযোগে কাজ করার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ‘আমরা পারব’Ñ নিজের এই স্লোগানে সবাইকে কণ্ঠ মেলানোর আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট রোজেন প্লেভনেলিয়েভসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

Category:

Leave a Reply