নেপাল থেকে বিদ্যুৎ : জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সমঝোতা

উত্তরণ ডেস্ক: দেশের সীমানা পেরিয়ে এবার প্রতিবেশী দেশ নেপালে বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। দেশটির জলরাশিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দীর্ঘ আলোচনার পর গত ১০ আগস্ট কাঠমান্ডুতে দুই দেশ এ-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী খাদগা প্রসাদ অলি বলছেন, এই সহযোগিতা বাংলাদেশ নেপালের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে।
দেশের বাইরে নেপাল এবং ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন। জলবিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদন হওয়ায় এক্ষেত্রে ঋণ প্রাপ্তিও সহজ। বাংলাদেশ বিগত কয়েক বছর ধরেই নেপালের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করে আসছে। প্রতিবেশী দেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ শুরু থেকেই বিভিন্ন দেশের জ্বালানি শক্তিকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেয়। আঞ্চলিক সহযোগিতার বড় ক্ষেত্র সার্কে বিষয়টি উত্থাপন এবং একটি ফ্রেমওয়ার্ক সৃষ্টি করে বাংলাদেশ জ্বালানি সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা চালিয়ে সফল হয়।
সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি এবং নেপালের পক্ষে দেশটির জ্বালানি, পানিসম্পদ ও সেচবিষয়ক মন্ত্রী বর্ষমন পণ অনন্ত স্বাক্ষর করেন।
বলা হচ্ছে, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে। এ সমঝোতার মূল লক্ষ্য বিনিয়োগ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্পের উন্নয়নসহ বিদ্যুৎ খাতে উভয়পক্ষের সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
এর আগে প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার জন্য সমঝোতা হয়। এই সমঝোতার ভিত্তিতে উভয় দেশ এর মধ্যে আন্তঃবিদ্যুৎ সংযোগ, বিদ্যুৎ আমদানি ছাড়াও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। এছাড়া ভারতে বাংলাদেশ যৌথ মালিকানায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ভারত তার দেশের ভূ-খ- ব্যবহার এর প্রতিবেশী দেশে বিদ্যুৎ আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে প্রকল্পে দেশটির (ভারত) অংশীদারিত্ব থাকার কথা উল্লেখ করে নীতিমালা করেছে। এক্ষেত্রে ভারতের সহায়তা ছাড়া নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি সম্ভব নয়। এই জটিলতা নিরসনে নেপাল এবং বাংলাদেশ মিলে ভারতকে অনুরোধ করা হবে। এই অনুরোধে ভারতের ভূ-খ- ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হবে। সেক্ষেত্রে ভারতের সংশ্লিষ্ট কোম্পানি শুধুমাত্র বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য হুইলিং চার্জ (সঞ্চালনের অর্থ) পেতে পারে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী এমওইউ সই করার পরও ভারতের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক আলোচনার কথাই জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে ভারত সরকার তাদের নীতিতে পরিবর্তন আনলে বাংলাদেশ এবং নেপালের মধ্যে সহযোগিতা ফলপ্রসূ হবে। অন্যথায় ভারতের সরকারি বা বেসরকারি কোনো কোম্পানিকে প্রকল্পের অংশীদারিত্ব দিতে হবে।
এমওইউ সই হওয়ার পর ভারতের মতো নেপালের সঙ্গে যৌথ স্টিয়ারিং কমিটি ও ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। ফলে দেশটির বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।
নেপালে জিএমআর নামে ভারতীয় একটি কোম্পানি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। তারা বাংলাদেশে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির প্রস্তাবও দিয়েছে সরকারকে। এজন্য বাংলাদেশ সরকার অথবা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ বিক্রয় চুক্তি সইয়ের প্রস্তাব দিয়েছে।

Category:

Leave a Reply