নৌবহরে সাবমেরিন : বাংলাদেশের নতুন সক্ষমতা

Posted on by 0 comment

জয়যাত্রা ও নবযাত্রা সাবমেরিন দুটি টর্পেডো ও মাইনে সুসজ্জিত, শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন ধ্বংস করতে সক্ষম এই সাবমেরিন দুটি যুক্ত হওয়ার সাথে সাথে ত্রিমাত্রিকতার পথে যাত্রা করল বাংলাদেশের নৌবাহিনী

29মেজর জেনারেল মো. আব্দুর রশীদ (অব.): বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সমরসজ্জায় যুক্ত হয়েছে দুটি সাবমেরিনÑ বিএনএস নবযাত্রা ও বিএনএস জয়যাত্রা। বিশ্বের ৪১টি দেশের নৌবাহিনীর সাবমেরিন রয়েছে। বাংলাদেশও সাবমেরিন এলিট জাতিভুক্ত হয়ে গেল। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষায় বাড়তি সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি নাগরিকের আত্মমর্যাদাও যেন একধাপ এগিয়ে গেল এবং গর্বের জায়গাটা আরও প্রশস্ত হলো। বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন চট্টগ্রামের নৌঘাঁটিতে সাবমেরিন দুটোকে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন প্রদান করছিলেন তখন দেশজুড়ে মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে পড়েছিল। মানুষের মনে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র সাহস নতুন করে জায়গা নিয়ে জাতিকে নতুন আস্থা উপহার দিল।
বাংলাদেশের সাবমেরিন সংগ্রহ অনেকের মনে ঈর্ষার জন্ম না দিলেও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করতে পারে। স্বাধীন দেশ হিসেবে সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার প্রতিফলন দেখিয়েছেন শেখ হাসিনা। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দায় সরকারের। বিরাজমান প্রচলিত ও অপ্রচলিত ঝুঁকির ওজন ও মাত্রা প্রতিরক্ষা সক্ষমতার রূপকল্পের মূল নির্ণায়ক। সমুদ্রসীমা চিহ্নিত হওয়ার ফলে বাংলাদেশ এক বিশাল সমুদ্র এলাকার মালিক হয়েছে। সমুদ্রসম্পদের সুরক্ষা ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তার ভার বেড়েছে আগের থেকে অনেক বেশি। প্রতিরক্ষায় আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির সংযোজন ছাড়া সুরক্ষা নিশ্চিত করা দুষ্কর। মাছের মতো পানির নিচে বিচরণ ও যুদ্ধাস্ত্র ছোড়ার ক্ষমতা নিঃসন্দেহে অনাকাক্সিক্ষত উদ্বেগ ও ঝুঁকি ঠেকাতে বড় ভূমিকা রাখবে। আগ্রাসনের জন্য যুদ্ধাস্ত্র নয়; বরঞ্চ যুদ্ধ বা আগ্রাসনকে নিরুৎসাহিত বা রুখতে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অত্যাবশ্যকীয় বটে।
জয়যাত্রা ও নবযাত্রা সাবমেরিন দুটি টর্পেডো ও মাইনে সুসজ্জিত, শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন ধ্বংস করতে সক্ষম এই সাবমেরিন দুটি যুক্ত হওয়ার সাথে সাথে ত্রিমাত্রিকতার পথে যাত্রা করল বাংলাদেশের নৌবাহিনী। পানির ওপর দিয়ে ভেসে চলা যুদ্ধজাহাজ প্রথম মাত্রার সৃষ্টি করেছে অনেক আগেই। নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে হেলিকপ্টার বহন ও উড্ডয়নের সুবিধা এবং হেলিকপ্টার সংগ্রহের পর যোগ হয় দ্বিতীয় মাত্রা। পানির নিচে ডুবে চলা এবং ডুবন্ত অবস্থায় যুদ্ধ করতে সক্ষম সাবমেরিন যুক্ত হয়ে তিন নম্বর মাত্রা যোগ হলে নৌবাহিনী পূর্ণ ত্রিমাত্রিক রূপ ধারণ করল।
এই অনন্য সংযোজন বাংলাদেশের সামর্থ্য ও অধিক সক্ষমতারই পরিচয় বহন করে। শেখ হাসিনার নির্দেশ ও দিক-নির্দেশনায় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা অবয়বের রূপকল্প প্রথমবারের মতো ঘোষিত হয় ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর মাধ্যমে। সুদূরপ্রসারী দৃষ্টির ফলে সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে অনেকদূর এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। এ ঘটনা ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর বাস্তবায়ন ও বাংলাদেশের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে, পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সামর্থ্য সুস্পষ্ট হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও অনেকটাই সবল অবস্থানে উঠিয়ে দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পর মাত্র দুটি জাহাজ নিয়ে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কলেবর বেড়েছে।
নবযাত্রা ও জয়যাত্রা ডিজেলচালিত ইলেকট্রিক কনভেনশনাল সাবমেরিন। ৭৬ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৭ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থের সাবমেরিন দুটির প্রতিটির ওজন ১৬০৯ টন। সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৭ নটিক্যাল মাইল। প্রতিটি সাবমেরিনে থাকবেন ৫৭ কর্মকর্তা ও ক্রু। একটানা এক মাস পানির নিচে অবস্থানে সক্ষম সাবমেরিন দুটি। বাংলাদেশে আসার আগেই চীন ও বাংলাদেশের নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকদের মিলিত তত্ত্বাবধানে বাস্তব প্রশিক্ষণ ও সি ট্রায়ালও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই সংযোজনের ফলে বঙ্গোপসাগরের বিশাল এলাকা নিরবচ্ছিন্নভাবে নজরদারি করার ক্ষমতা অর্জিত হলো।
সাবমেরিন সংযোজনের ফলে আকাশে, পানির ওপরে ও নিচে সবখানেই সমানতালে কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। একটি আধুনিক ও শক্তিশালী নৌবাহিনী এখন আমাদের গর্বের ধন। সমুদ্র এলাকার বিশালতা ও ব্যপ্তির তুলনায় নৌশক্তির দিক থেকে খানিকটা পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। সেই ঘাটতি এখন অনেকটাই পূরণ করা হলো। যদিও আরও যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করার প্রয়োজন অনস্বীকার্য। এ অঞ্চলের অনেক দেশেরই সাবমেরিন না থাকার কারণে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকবে সামরিক শক্তির দিক থেকে। সাবমেরিন রয়েছে এমন দেশের সংখ্যা গোটাবিশ্বেই খুব অল্প, মাত্র ৪১টি দেশ সাবমেরিনের মালিক। সেই তালিকায় এখন যুক্ত হলো বাংলাদেশ। নিঃসন্দেহে এটি আমাদের দেশের জন্য একটি বড় অর্জন, আমাদের গর্বিত হওয়ার কারণ।
ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশের অধিকারে এসেছে বিরাট জলসীমা। এই জলসীমায় রয়েছে প্রচুর সামুদ্রিক সম্পদ। কাজেই জলসীমা বৃদ্ধির সাথে সাথে এর প্রহরা ও সুরক্ষার প্রয়োজনে বাংলাদেশের নৌবাহিনীর সক্ষমতাও বৃদ্ধির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। একটি ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী ছিল বাংলাদেশের জন্য সময়ের প্রয়োজন, এমন একটি নৌবাহিনী যা আকাশে, পানির ওপরে ও অতলে সমানভাবে বিচরণ করতে ও সুরক্ষা দিতে সক্ষম। দুটি সাবমেরিন যুক্ত হওয়ায় সেই প্রয়োজন মেটাতে আমাদের নৌবাহিনী এখন অনেকটাই সক্ষম হবে। প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার ৬৩১ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত হলো।
সাবমেরিন দুটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এগুলোকে শনাক্ত করা শত্রুপক্ষের জন্য কঠিন। দৃশ্যমান প্রতিপক্ষের চেয়ে অদৃশ্য প্রতিপক্ষের সাথে লড়াই করা স্বাভাবিকভাবেই দুরূহ। সাবমেরিন দুটি প্রতিপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতেও সক্ষম। টর্পেডো ও মাইন দ্বারা সুসজ্জিত থাকার কারণে পানির নিচ থেকে শত্রুকে আক্রমণও সম্ভব হবে। ফলে কৌশলগত দিক থেকে একটি বড় সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ঢুকে অবৈধভাবে মাছ ধরা কিংবা বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্পদ চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও এর ফলে অনেকটাই কমে আসবে। গোপনে বিষাক্ত বর্জ্য সমুদ্রে ফেলে আমাদের পরিবেশ বিপর্যয় রুখতে বেশ কার্যকরী অবদান রাখতে পারবে। সম্পদ আহরণের জন্য গভীর ও অগভীর সমুদ্রে ভবিষ্যতে স্থাপিত স্থাপনার নিরাপত্তা দেওয়ার সক্ষমতা নতুন বিনিয়োগকেও আকর্ষণ করবে।
‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’Ñ এটিই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি। সাবমেরিন ক্রয় করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের প্রতি হুমকি সৃষ্টি করা বাংলাদেশের উদ্দেশ্য নয়। তবে বর্তমান ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের জন্য জরুরি। যেচে কারও সাথে শত্রুতা না করলেও, বহিঃশত্রুর আক্রমণ যে কোনো সময়েই আসতে পারে। সেক্ষেত্রে আগে থেকেই সম্ভাব্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা শ্রেয়। বাংলাদেশও তাই করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, কারো সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার মানসিকতা আমাদের নেই, তবে কেউ আক্রমণ করলে তার সমুচিত জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে নৌসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বাংলাদেশ।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বহির্বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রধানত সমুদ্রপথেই সম্পাদিত হয়ে থাকে। সাবমেরিন থাকাতে একদিকে যেমন সমুদ্রপথে বাণিজ্যের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা যাবে, তেমনি নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে সৃষ্ট ব্যয়ও সংকুচিত হবে, অর্থাৎ অপ্রয়োজনীয় খরচ কমে আসায় মুনাফা বৃদ্ধি পাবে।
গভীর সমুদ্রে গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানের ক্ষেত্র ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধানের বিষয়টিও এখন আরও নিশ্চিত হলো। ফলে গভীর সমুদ্রে খনিজসম্পদ আহরণের সুযোগও প্রশস্ত হয়েছে। সুতরাং, ব্লু-ইকোনমিতে বাংলাদেশের আরও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠার দ্বার উন্মোচিত হলো।
উপকূলে জলদস্যুদের প্রকোপ বাংলাদেশের জন্য একটি দুশ্চিন্তার বিষয়। মাছ ধরা জেলেদের নিরাপত্তা ছিল ঝুঁকির মুখে। সেই ঝুঁকিও কমে আসবে। ফলে উপকূলের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের জীবিকা অর্জনের পথেও প্রতিবন্ধকতা কমবে।
উল্লেখ্য, যে বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর তৎপরতা রয়েই যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতে সমুদ্রপথে সন্ত্রাসের ঝুঁকি নিরসনে এই সাবমেরিন দুটির সংযুক্তি অত্যন্ত সহায়ক হবে। বাংলাদেশের ভূখ-কে ব্যবহার করে চলা সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রেও কার্যকরি ভূমিকা পালন করবে সাবমেরিন দুটি।
উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করার প্রয়োজন অনুভূত হয়। তার জন্য দরকার দক্ষ ও প্রশিক্ষিত নৌসেনা। তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের পথও সুগম হলো। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এর মাধ্যমে চীনের সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামরিক মেলবন্ধন আরও দৃঢ় হলো।
চীনে নির্মিত সাবমেরিন দুটি নব্বইয়ের দশকে তৈরি হলেও এগুলোর সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। কারণ দুটি সাবমেরিনই নবায়ন করা হয়েছে, ভিতরের যন্ত্রাংশগুলোর শক্তি ও দক্ষতাও পর্যাপ্ত রয়েছে। যুক্ত করা হয়েছে অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি।
২০৩০ সালের মধ্যে নৌবাহিনীকে একটি কার্যকরী ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে পরিণত করার ঘোষণা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। প্রথম পর্যায়ে ছিল নৌবাহিনীর জন্য আকাশসীমা উন্মোচন। সেই উদ্দেশে প্রথমে হেলিকপ্টার ও মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট নিয়ে গঠিত হয় নেভাল এভিয়েশন। শিগগিরই এতে আরও মেরিটাইম এয়ারক্রাফট ও অত্যাধুনিক সমর ক্ষমতাসম্পন্ন হেলিকপ্টার সংযোজিত হবে। ফলে বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্বল্প সময়ে বিশাল সমুদ্র এলাকায় টহল এবং পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা অর্জন করেছে, যা সমুদ্রসীমা ও সমুদ্রসম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, নৌবাহিনীতে সাবমেরিনের সংযুক্তি বাংলাদেশের নিরন্তর এগিয়ে চলারই প্রতীক। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরে যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থায় যাত্রা শুরু করে আজ বাংলাদেশ সারা পৃথিবীর কাছে একটি বিস্ময়ের ব্যাপার। আমাদের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও সামর্থ্যরেই উজ্জ্বল প্রমাণ এই সাবমেরিন। পৃথিবীর কোনো শক্তির কাছেই বাংলাদেশ মাথা নত করবে না।
উন্নয়নের গতিধারা অচিরেই বাংলাদেশকে মধ্যআয়ের দেশে নিয়ে যাবে। সম্পদের পরিমাণ বাড়ার সাথে পাল্লা দেবে অশুভ শক্তি থেকে উত্থিত প্রচলিত ও অপ্রচলিত ঝুঁকির মাত্রা ও বহুমুখিতা। সরাসরি সামরিক আগ্রাসনের ঝুঁকির মাত্রা কমলেও শক্তিহীন দেশের ওপর শক্তিশালী দেশগুলোর খবরদারি করার অবকাশ রয়ে গেছে। অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে সামরিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। ভারত মহাসাগরের উপকূলীয় দেশ ও দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সেতু হিসেবে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বিশ্ব রাজনীতিতে অধিকতর সম্পৃক্ত করবে। ফলে সমুদ্র এলাকায় সামরিক শক্তির অপ্রতুলতা দেশকে ভঙ্গুর ও অধিক ঝুঁকিপ্রবণ করে তুলতে পারে। দেশকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে যথাযথ ও বিশ্বাসযোগ্য সামরিক সামর্থ্য তৈরির বিকল্প নেই। বন্ধু-রাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক ও সহযোগিতা ঝুঁকি কমাতে ও প্রতিবন্ধক সৃষ্টিতে সহায়ক হলেও স্বকীয় শক্তি ও সক্ষমতার কোনো বিকল্প কৌশল ফলদায়ক হয়নি। অন্যদিকে স্বকীয় শক্তির সমাহার থেকে তৈরি সম্মিলিত সমর্থতা আঞ্চলিক সংহতি সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে বলে সাবমেরিনের সংযোজন নতুন দিগন্তের উন্মেষ ঘটাল।

Category:

Leave a Reply