পদ্মাসেতুর নতুন নকশা অনুমোদন

2-6-2019 8-47-17 PMউত্তরণ প্রতিবেদন: জটিলতা কাটিয়ে বহুল আলোচিত পদ্মাসেতুর ৬ ও ৭ নম্বর পিয়ারের (পিলার) নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পিলার দুটির চূড়ান্ত নকশা গত ১৫ জানুয়ারি অনুমোদন পেয়েছে। শিগগির শুরু হবে এ দুই পিলারের নির্মাণকাজ। মূল সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল কাদের সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
নির্মাণাধীন ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মাসেতুতে পিলারের সংখ্যা ৪২। দুটি পিলার নদীর দুই প্রান্তে নির্মাণ করা হয়েছে। বাকি ৪০ পিলার নির্মাণ করা হচ্ছে নদীগর্ভে। এর অধিকাংশের নির্মাণকাজ শেষের পথে। কিন্তু ৬ ও ৭ নম্বরসহ কয়েকটি পিলারের নকশা চূড়ান্ত করা যায়নি পানির তলদেশে দুর্বল মাটির স্তরের কারণে। এসব পিলার যেসব স্থানে নির্মাণ করা হবে, সেখানে মাটির তলদেশে কাদার স্তর রয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ২৬, ২৭, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২ ও ৩৫ নম্বর পিলারের ক্ষেত্রে এ সমস্যা ছিল। পদ্মাসেতুর নদীগর্ভের এ পিলারগুলো নির্মাণের কথা ছিল ৯৬ থেকে ১২৮ মিটার গভীর পাইলের ওপর। কিন্তু পানির তলদেশে মাটির স্তর দুর্বল হওয়ায় সংশোধন করা ৬ ও ৭ নম্বর পিলারের পাইল নির্মাণের সময় তা দেবে যায়। আটকে যায় ১৪টি পিলারের কাজ।
সংশোধিত নকশা অনুযায়ী, ৬ ও ৭ নম্বরের দেবে যাওয়া পাইলের ওপরই পিলার নির্মাণ করা হবে। তবে বাড়বে একটি পাইল। অন্যান্য পিলার ৬টি পাইলের ওপর নির্মাণ করা হলেও দুর্বল মাটির স্তর রয়েছেÑ এমন স্থানে নির্মাণাধীন ১৪টি পিলারে থাকবে ৭টি করে পাইল।
পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘স্কিন গ্রাফটিং’ পদ্ধতি থাকবে এই ১৪টি পিলারে। পাইলের বাইরের অংশে দেওয়া হবে খাঁজকাটা। ব্রিটিশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাউই ইউকে লিমিটেড সংশোধিত নকশা অনুমোদন করেছে। এসব পিলারে খাঁজকাটা পাইল বসিয়ে বিশেষ ধরনের সিমেন্টের মিশ্রণ ব্যবহার করে পানির তলদেশের কাদামাটি শক্ত করা হবে।
পদ্মাসেতুর বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী জানান, সংশোধিত নকশা অনুযায়ী ৬টি পাইলের মাঝে অতিরিক্ত আরেকটি পাইল বসানো হবে। এর মধ্য দিয়ে পদ্মাসেতুতে সব ধরনের কারিগরি জটিলতার অবসান হলো।

Category:

Leave a Reply