পাহাড় ধস ও ঘূর্ণিঝড় প্রসঙ্গে

Posted on by 0 comment

জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা দুর্গত কোনো মানুষকে যেন এক বেলাও না খেয়ে থাকতে হয়। বাংলাদেশের কোথাও প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।

43সরদার মাহামুদ হাসান রুবেল: ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশে নতুন নয়। ইতিহাস বিবেচনা করলে বহুবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে দেশটি। প্রাণহানি হয়েছে তবে দুর্যোগ মোকাবিলা করে ঘুরেও দাঁড়িয়েছে মানুষ। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় গত ৩০ মে ২০১৭ সকাল পৌনে ৬টায় কক্সবাজারের টেকনাফে ১৩৫ কিমি বেগে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়। থাইল্যান্ডের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করা হয়েছে ‘মোরা’। ইংরেজি হচ্ছেÑ ‘স্টার অব দ্য সি’ বাংলায় ‘সাগরের নক্ষত্র’ বা ‘সাগরের তারা’। গত ১১ জুন থেকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নি¤œচাপের ফলে ধারাবাহিক বৃষ্টিতে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ৫টি জেলার অন্তত ১২টি স্থানে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। সেনাবাহিনীর দুই কর্মকর্তা, দুই সেনা সদস্যসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। যার মধ্যে শুধু রাঙ্গামাটিতেই মৃত্যু হয়েছে ১১০ জনের। নিহত সেনা সদস্যরা হলেনÑ মেজর মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, ক্যাপ্টেন মো. তানভীর সালাম শান্ত, কর্পোরাল মোহাম্মদ আজিজুল হক ও সৈনিক মো. শাহিন আলম। সব মিলে দেখা দিয়েছে পাহাড়ে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। এ সময়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে রাঙ্গামাটিতে ৩৪৩ মিলিমিটার এবং রাজধানীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ১৩৯ মিলিমিটার। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, গাছপালা কেটে ফেলার পাশাপাশি পাদদেশ কেটে বসতি স্থাপনের কারণেই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশের পাহাড় মূলত মাটির, পাথরের ভাগ খুবই কম। তাই কোনো অংশ কেটে নিলে দ্রুত অন্য অংশে চাপ পড়ে। পাহাড় ধসে হতাহতের ঘটনায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, রাশিয়া, কানাডা, ভারত এবং ব্রিটেন শোক জানিয়েছে। আইসিসি চেম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের বিপক্ষে কালো ব্যাজ পরে খেলতে নামে মাশরাফি-সাকিবরা। দুর্যোগ মোকাবেলায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একাধিক টিম দুর্গত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করে। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যাদের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। প্রত্যেকে যাতে ঘর বানাতে পারে সরকারের পক্ষ থেকে সে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড় মোরা উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজার উপকূলকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৮ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছিল। ‘মোরা’র প্রভাবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ঢাকা থেকে দূরপাল্লার সব নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সোমবার (২৯ মার্চ ২০১৭) মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৩০৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার থেকে ২৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়টি আরও ঘনীভূত ও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে মঙ্গলবার (৩০ মার্চ ২০১৭) সকালে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি এবং বজ্রবৃষ্টি বয়ে যায়। সরকার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের সাথে জেলা-উপজেলার সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছিল। উপকূলীয় এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালাতে পর্যাপ্ত নৌযান প্রস্তুত রাখতে জেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছিল। আবহাওয়া অধিদফতরের সংকেত অনুযায়ী সমুদ্রে অবস্থানরত সব জাহাজ ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছিল। উপকূলীয় জেলা-উপজেলা প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলা ও দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুত ছিল। রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিসসহ অন্য স্বেচ্ছাসেবকদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কক্সবাজারে আঘাত হানার সময় বাতাসে এর গতিবেগ শুরুতে কম থাকলেও পরে সেই গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১৪ কিলোমিটার। তবে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করার সময় পতেঙ্গায় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৬ কিলোমিটার। সেন্টমার্টিন্সে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৪ কিলোমিটার এবং টেকনাফে ঘণ্টায় ১১৫ কিলোমিটার রেকর্ড করেছে আবহাওয়া বিভাগ। কক্সবাজারে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। টেকনাফের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জমির ফসল এবং লবণ চাষিদের জমাকৃত লবণ নষ্ট হয়ে যায়। ঝড়ের সময় ঘরের দেয়াল, টিন ও গাছচাপা পড়ে এবং আতঙ্কে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে নারী ও শিশুসহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে; বিধ্বস্ত হয়েছে উপকূলীয় এলাকার প্রায় ২০ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি। শেষ হওয়া মাত্রই ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় চিকিৎসা ও ত্রাণ বিতরণ শুরু করে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘সমুদ্র অভিযান’ ও ‘সমুদ্র খাদেম’। ৬ ঘণ্টা তা-ব চালানোর পর উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে মোরা। সময়মতো প্রস্তুতি গ্রহণ, উপকূলীয় লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা এবং সাগরে ভাটার টান থাকায় জলোচ্ছ্বাস না হওয়ায় ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ‘মোরা’ সম্পর্কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা সব সময় সতর্ক। ঝড় আসলে কি কি করণীয়, এ ব্যাপারে একটি বই ছাপানো হয়েছে। বইটিতে স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয়ভাবে কি করণীয় এ ব্যাপারে সব ধরনের গাইড লাইন দেওয়া রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উপকূলীয় মানুষের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ১০০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ২২০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণকাজ চলছে। ভবিষ্যতে আরও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের এমন কোনো পাহাড় নেই যেখানে ফাটল ও ধস সৃষ্টি হয়নি। কেন এমন ঘটনা। পাহাড়ের ইতিহাসে এমন ঘটনা এই প্রথম। এমনও ঘটেছে যে, বড় একটি পাহাড় অপেক্ষাকৃত ছোট একটি পাহাড়ের ওপর দুমড়ে-মুচড়ে পড়েছে। ধস নেমে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এসব এলাকায় দীর্ঘ সময়জুড়ে বসবাসরত বাসিন্দারা এ ঘটনাকে কোনো দানবের আঘাত হিসেবেও অভিহিত করছে। যদিও বিষয়টি বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞায় পড়ে না। এরপরও একযোগে এমন ঘটনা ঘটতে পারে তা শিহরণমূলক। এখন আকাশে মেঘ দেখলেই মানুষের মনে বড় ধরনের আতঙ্কের জন্ম নিচ্ছে। প্রশাসনও হয়েছে অধিকতর সজাগ। বৃষ্টি হোক আর না হোক আবারও ধসের আশঙ্কায় দলে দলে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া জোরাল করা হয়েছে। ১৯৯৭ সালে জিআইএস পদ্ধতি ব্যবহার করে খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলায় ১৬০টি ভূমিধসপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়। ২০০৭ সালের পর প্রতিবছর বর্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নিতে পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বাসিন্দাদের অনাগ্রহের কারণে তা কঠিন হয়ে দাঁড়ায় বলে গত ১৩ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন মায়া মন্তব্য করেন।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারকে এখনই উদ্যোগী হতে হবে। বিশেষ করে ভূমিধস ঠেকাতে মহাপরিকল্পনা নেওয়ার সময় এসেছে। এক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতের পাশাপাশি পুনর্বাসনের ব্যবস্থার জন্য প্রকল্প নিতে হবে। ভালনারেবল স্লোপগুলোতে ইঞ্জিনিয়ারিং স্ট্রাকচার নিতে হবে। পানি দ্রুত সরে যাওয়ার জন্য বিশেষ ক্যানেল করতে হবে। পার্বত্য এলাকায় যত্রতত্র রাস্তা বানানো এভয়েড করতে হবে। ইতোমধ্যে যেসব এলাকা দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে তার সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন রাস্তা করার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিহার করতে হবে। ভূমিধস রোধে করণীয় সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, নির্বিচারে পাহাড় কাটা বন্ধ করা। নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ করা। জলাশয়, খাল ও নদী ভরাট বন্ধ করা। প্রাকৃতিক বনের গাছ কাটা বন্ধ করা। পাহাড়ের ঢালে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। ইতোমধ্যে সরকার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো চিহ্নিত করে পুনর্বাসনযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করেছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোতে উচ্ছেদ কার্যক্রম, দুর্যোগকালীন সময়ে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ, দুর্যোগপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে ঝুঁকি পরিহার এবং পুনর্বাসনযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা প্রণয়ন করে তাদের পুনর্বাসনের স্থান নির্ধারণ করেছে। এসব ব্যাপারে এ মাসের ভেতরেই তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশমালা জমাদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাহাড় কাটা বন্ধ করা এবং বিপজ্জনক পাহাড় কাটা অংশে বসতি স্থাপন নিষিদ্ধ করা হলেও এসব অবৈধ কাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে। ফলে মানুষের জীবনের নিরাপত্তাহীনতা বারে বারে এমন মর্মন্তুদ ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। দেশের মানুষের দাবি কঠোরভাবে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে এবং আইনকানুন উপেক্ষার বিরুদ্ধে, প্রশাসন দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিয়ে মানুষের প্রাণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
প্রকৃতিকে পরিমিত শাসন সভ্যতার ক্রমবিকাশের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু তা অতি শাসনে রূপ নিলেই ম্যালথাসের তত্ত্ব অনুযায়ী প্রকৃতি মানুষের ওপর প্রতিশোধ নেবেই নেবে। প্রকৃতিকে ক্ষত-বিক্ষত ও রিক্ত না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উন্নয়ন ঘটালে, আমাদের পরিবেশ হবে বাসযোগ্য এবং আমরা থাকব নিরাপদ ও সুরক্ষিত।
ত্রাণ কার্যক্রম : ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সক্ষমতা আজ বিশ্বব্যাপী নন্দিত। জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা দুর্গত কোনো মানুষকে যেন এক বেলাও না খেয়ে থাকতে হয়। বাংলাদেশের কোথাও প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। সরকারের পাশাপাশি গণমানুষের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগও সাথে সাথে ত্রাণ নিয়ে ছুটে যায় দুর্গত মানুষের পাশে।
গত ৩০ জুন সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপির নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজার শহরের কুতুবদিয়াপাড়ায় ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করে। এ সময় কক্সবাজার শহরের কুতুবদিয়াপাড়ায় ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬০০ পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি চাল ও নগদ ১ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়। এরপর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, চকরিয়া ও পেকুয়ায় ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ১৩২ মেট্রিক টন চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন। সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ কমিটি ২৯ জুন বিকেলে কক্সবাজার পৌঁছে। ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ঢাকসুর সাবেক ভিপি আকতারুজ্জামান, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুবির রায় নন্দী, আনোয়ার হোসেন, সেলিম রব্বানী চিনু উপস্থিত ছিলেন। টেকনাফে ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী, নগদ টাকা বিতরণ এবং দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। ৩০ জুন সকাল ১০টায় শাহ পরীর দ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ১ হাজার পরিবারের মধ্যে ২০ কেজি করে চাল, ২০০ পরিবারের মধ্যে নগদ ১ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এরপর জুমার নামাজের পর প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার পরিবারের মধ্যে ২০ কেজি করে চাল ও ২০০ পরিবারকে নগদ ১ হাজার টাকা হারে প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ১৪ জুন দুপুরে বান্দরবান শহর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। ১০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আশ্রয় নেওয়া ৫৩১ পরিবারের মাঝে ২ কেজি করে চাল, পাহাড় ধসে নিহত প্রত্যেক পরিবারের মাঝে নগদ ২০ হাজার টাকা ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ও আহতদের প্রত্যেককে নগদ ৫ হাজার টাকা করে প্রদান করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মন্ত্রী ওবায়দুর কাদের। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, জেলা পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, পৌর মেয়র ইসলাম বেবীসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে অতিবর্ষণে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৬১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা জিআর ক্যাশ এবং ৮৫১ টন জিআর চাল বরাদ্দ করা হয়। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন। এমনকি গত ২৬ জুন নিজে ঈদ উৎসবে অংশ না নিয়ে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গামাটি অঞ্চলে ছুটে যান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি।

Category:

Leave a Reply