প্রয়াতজনদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

Posted on by 0 comment

জননেতা এনামুল হক মোস্তফা শহীদ
63(a)  মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক মন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি মারা যান। একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এনামুল হক মোস্তফা শহীদ ১৯৭০-এর প্রাদেশিক নির্বাচন, ১৯৭৩, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-চুনারুঘাট আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
সাবেক এই মন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন।

সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম
63(b)সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল ইসলাম আর নেই। তিনি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন প্রথম আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহমুদুল ইসলাম। দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলা পরিচালনা করেন তিনি। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারে তিনি অংশ নেন। এ ছাড়া ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের পক্ষে তিনি জোরাল ভূমিকা রাখেন। মাহমুদুল ইসলাম প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদ ও এসআর পালের জুনিয়র ছিলেন। ১৯৩৬ সালে রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন মাহমুদুল ইসলাম। কারমাইকেল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ডিগ্রি অর্জন করেন। রংপুর জেলা বারে আইন পেশা শুরু করার পর তিনি হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৭২ সালে সহকারী অ্যার্টনি জেনারেল ছিলেন তিনি। মাহমুদুল ইসলামই বাংলাদেশের প্রথম আইনজীবী যিনি সাংবিধানিক গবেষণামূলক বই লেখেন; সংবিধান বিষয়ে তার লেখা বইটি হচ্ছে ‘কন্সটিটিউশনাল ল অব বাংলাদেশ’। এর বাইরে লিখেছেন ‘ল অব সিভিল প্রসিডিউর’ ও ‘ইন্টারপ্রিটেশন অব স্ট্যাটিউটস অ্যান্ড ডকুমেন্ট’।

বাংলার শেকড় সন্ধানী মোহাম্মদ যাকারিয়া
63(c)ইতিহাসবিদ, প্রতœতাত্ত্বিক, অনুবাদক, পুঁথিসাহিত্যের গবেষক, সাহিত্যিক, ক্রীড়া সংগঠক, প্রশাসক না-কি একজন ভালো বাবা। এসব অভিধাই আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার নামের আগে যোগ হতে পারে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ৯৭ বছরের কর্মময় জীবনের সমাপ্তি টেনে চলে গেলেন তিনি। রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ১৯২২ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া যাকারিয়া ১৯৪৬-৪৭ সালে অনুষ্ঠিত অবিভক্ত বাংলার শেষ বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে ডেপুটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ১৯৪৮ সালে চাকরি শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে সরকারের জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান, স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের যুগ্ম সচিব ও শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব, পরে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব পদ থেকে ১৯৭৬ সালে অবসর নেন। আ ক ম যাকারিয়ার মৃত্যুতে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক গভীর শোক প্রকাশ করেন। ২০১৫ সালে একুশে পদক পাওয়া যাকারিয়া মূলত প্রতœতাত্ত্বিক হিসেবে বেশি পরিচিত ছিলেন।

Category:

Leave a Reply