প্রয়াতজনদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

Posted on by 0 comment

উত্তরণ প্রতিবেদনঃ

47 প্রেম ও দ্রোহের কবির চির বিদায়
মানুষের হৃদয়ের কথা যার কবিতার প্রতিটি পঙ্ক্তিতে মূর্ত হয়ে উঠেছে তিনি কবি রফিক আজাদ। প্রেম-বিরহে, আনন্দে-বিষাদে, বিদ্রোহে, বিপ্লবে যার কবিতা বারবার মানুষকে প্রবল আন্দোলিত করেন, তিনি কবি রফিক আজাদ। তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। চলে গেছেন শূন্যতার ওপারে। গত ১২ মার্চ দুপুর ২টা ১৩ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন।
বাংলাদেশের রাজনীতি, দেশের মানুষের দুঃখ-সুখ যেন তার কবিতায় মূর্ত হয়ে উঠেছে। সময়, সাম্প্রতিক বঞ্চনা, কষ্ট ও দ্রোহ রফিক আজাদের কবিতার আশ্রয়ে মানুষের মুখে মুখে মন্ত্রের মতো উচ্চারিত হয়েছে।
রফিক আজাদের মৃত্যুশোকে কাতর অগ্রজ কবি সৈয়দ শামসুল হক বললেন, রফিক ষাটের দশকের উজ্জ্বলতম কবি। দেশের প্রধান কবিদের মধ্যে অন্যতম, অগ্রগণ্য। এই শূন্যতা কোনোভাবে পূরণীয় নয়। তিনি কবিতায় বলেছিলেন, ‘চলে যাব সুতোর ওপারে’। আজ তিনি সুতোর ওপারে চলে গিয়েছেন। তার পেছনে রেখে গেলেন আমাদের অশ্রু আর অশ্রুমাখা তার অমর পঙ্ক্তিগুলো। তার এই কবিতাগুলো আমাদের বাংলা সাহিত্যের সম্পদ হয়ে থাকবে।
গত জানুয়ারিতে ব্রেইন স্ট্রোকের পর রফিক আজাদকে বারডেম হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে আরেকটি বেসরকারি হাসপাতাল হয়ে তাকে আনা হয় বিএসএমএমইউ’তে। এরপর এই হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন তিনি। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ১৪ মার্চ সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত কবির মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়। এরপর বাংলা একাডেমিতে নেওয়া হয় কবির মরদেহ। সেখানে বেলা ১টা পর্যন্ত শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
47(b)নিউরোসার্জন রশিদ উদ্দিন
দেশের প্রথম নিউরোসার্জন রশিদ উদ্দিন আহমদ ইন্তেকাল করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। মহাখালীর মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৯ মার্চ রাত ৮টায় তার মৃত্যু হয়। ৯ ফেব্রুয়ারি এমেরিটাস অধ্যাপক রশিদ উদ্দিনের ‘বড় ধরনের’ স্ট্রোক হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি কোমায় ছিলেন। ২০ মার্চ সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে জানাজা এবং নরসিংদীর গ্রামের বাড়িতে তার বাবাকে দাফন করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক রশিদ উদ্দিন সেখানে নিউরো সার্জারি বিভাগ চালু করেন। এই চিকিৎসক কয়েক দশক ধরে রোগীদের আস্থায় ছিলেন। সত্তরে তিনিই ছিলেন একমাত্র নিউরোসার্জন। সে সময় গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দিতেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করার বিষয়টি পাকিস্তানি সেনারা জেনে যাওয়ার পর সেপ্টেম্বরে তাকে দেশ ছাড়ার আহ্বান জানান কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা। তখন তিনি আগরতলা যান। স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে রশিদ উদ্দিন বিএসএমএমইউয়ে (তৎকালীন আইপিজিএমআর) নিউরো সার্জারি বিভাগ চালু করেন। তার উৎসাহেই ঢাকা মেডিকেল কলেজেও নিউরো সার্জারি বিভাগ খোলা হয়।

অনিল সেনের মাতৃবিয়োগ
‘উত্তরণ’-এর প্রতিবেদক অনিল সেনের মাতা কুসুমবালা সেন গত ২৮ মার্চ সকাল ১০টায় নিজ গৃহ কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার ভবেরভিটা গ্রামে পরলোক  গমন করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০৫ বছর। সাত সন্তানের মাতা কুসুমবালা সেনের দাহ ওইদিন রাতেই সম্পন্ন হয়। অনিল সেনের মাতার মৃত্যুতে উত্তরণ সম্পাদক নূহ-উল-আলম লেনিন ও উত্তরণ-এর সকল কর্মী গভীরভাবে শোকাহত। আমরা স্বগীয় কুসুমবালার পারলৌকিক শান্তি কামনা করছি।

Category:

Leave a Reply