প্রয়াতজনের প্রতি শ্রদ্ধা

উত্তরণ প্রতিবেদন

গোলাম আকবর চৌধুরী পরলোকে
54  জাতীয় সংসদে উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর স্বামী বিশিষ্ট ভাষাসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক গোলাম আকবর চৌধুরী (৮৬) আর নেই। গত ২৩ নভেম্বর সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে … রাজেউন)। তিনি স্ত্রী, তিন পুত্র আইমান আকবর, শাহাদাত আকবর, সাজিদ আকবর এবং এক কন্যা সামা রহমানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ওই দিন বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে মরহুমের জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এদিকে মরহুমের পরিবারের সদস্যদের সহানুভূতি জানাতে বিকেলে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর গুলশানের বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গোলাম আকবর চৌধুরীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথকভাবে শোক প্রকাশ করেছেন। তারা শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। প্রচারবিমুখ গোলাম আকবর চৌধুরী মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা সেলেরও সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগদান করে রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করেন। ১৯৪৮ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সদস্যপদ লাভ করেন এবং ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। তিনি ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনে এবং শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচন ও ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার প্রেক্ষাপট সৃষ্টিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

চিত্রশিল্পী আসমা কিবরিয়া আর নেই
bbদেশের নারী চিত্রশিল্পীদের মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন আসমা কিবরিয়া। আধুনিক ভাবনার সাথে স্বতন্ত্র শৈলীর অঙ্কনে উদ্ভাসিত হতো তার ক্যানভাস। সেই চিত্রপট সহজেই মুগ্ধ করত শিল্পানুরাগীদের। শিল্পী পরিচয়ের বাইরে তার আরেক পরিচয় ছিল সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এএমএস কিবরিয়ার স্ত্রী। গত ৯ নভেম্বর সকালে থেমে গেল জ্যেষ্ঠ এই নারী শিল্পীর জীবনের পথচলা। ওই দিন সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। বাদ আসর তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় গুলশান আজাদ মসজিদে। এরপর বাদ মাগরিব বনানী কবরস্থানে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে সেখানেই স্বামীর কবরে তাকে দাফন করা হয়। আসমা কিবরিয়ার মৃত্যুর সংবাদে শিল্প ও সংস্কৃতি ভুবনে নেমে আসে শোকের ছায়া। বিশেষ করে চিত্রশিল্পীরা যেন হারালেন তাদের আপনজনকে। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার মৃত্যুতে দেশ একজন সমাজসেবী ও গুণী শিল্পীকে হারাল। ১৯৩৭ সালে জন্ম নেওয়া আসমা চিত্রকলা নিয়ে পড়াশোনা করেন নিউইয়র্কের উন আর্ট স্কুল ও ওয়াশিংটনের কোরকোরান স্কুলে। ওয়াশিংটনে সমসাময়িক মার্কিন শিল্পীদের সাথে কাজের সূত্র ধরে বিমূর্ত ধারার চিত্রকলায় প্রভাবিত হন তিনি। তার কাজ নিয়ে ব্যাংককসহ বিভিন্ন শহরে এ পর্যন্ত ১০টি একক প্রদর্শনী হয়েছে। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে এক জনসভা শেষে ফেরার সময় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এএমএস কিবরিয়া। কিবরিয়া ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। স্বামী হত্যার বিচারের দাবিতে ‘শান্তির জন্য নীলিমা’ শীর্ষক এক প্রতিবাদ কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন। ২০০৭-০৮ সালে সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ওই কর্মসূচি চালিয়ে নিতে বাধা দেওয়া হয় বলেও তার অভিযোগ ছিল। শাহ এএমএস কিবরিয়া ও আসমা কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া একজন অর্থনীতিবিদ আর মেয়ে নাজলী কিবরিয়া বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক।

সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম আবুল কাশেমের ইন্তেকাল
aaসীতাকু-ু আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সভাপতি এবিএম আবুল কাশেম আর নেই। গত ২৪ নভেম্বর দুপুর ২.৩৫ মিনিটে ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। (ইন্নানিল্লাহি … রাজেউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন গুণগ্রাহী রেখে যান। তার মৃত্যুতে সীতাকু-ুর সর্বস্তরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ শোক প্রকাশ করেন।
২৫ নভেম্বর সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ জোহর সীতাকু-ু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা এবং বাদে আসর নিজ বাড়িতে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কফিনে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
১৯৪০ সালে জন্ম নেওয়া এই গুণী ব্যক্তির জন্ম সীতাকু-ুর দক্ষিণ ছলিমপুর গ্রামে। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬৬-এর ৬-দফা আন্দোলনসহ ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের ঘোষণাপত্রটি ছলিমপুর ওয়ারলেস সেন্টারে এলে অপারেটর আবদুর গাফ্ফারের সহযোগিতায় সাবেক মন্ত্রী এমআর সিদ্দিকী ও জহুর আহম্মদ চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করেন। ১৯৭৫ সালে সীতাকু-ু আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে তিনি হাল ধরেন।
১৯৮৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে চারবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেন। ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দুবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদের প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই সময় স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সফলভাবে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ সালে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্ণাঢ্য এই রাজনৈতিক ব্যক্তির সীতাকু-ুর ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন।

Category:

Leave a Reply