প্রয়াতজন : শ্রদ্ধাঞ্জলি

Posted on by 0 comment

59a উত্তরণ প্রতিবেদন: শহীদ কামারুজ্জামানের স্ত্রী জাহানারা জামান
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হেনার সহধর্মিণী ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের মা জাহানারা জামান আর নেই। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রোববার রাত সাড়ে ১২টায় রাজধানী ঢাকার গুলশানের নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি দুই ছেলে ও চার মেয়ে রেখে গেছেন।
তার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মরহুমার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এদিকে জাহানারা জামানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়।
হাজার হাজার মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে স্বামী মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের কবরের পাশে সমাহিত হলেন তার সহধর্মিণী সমাজসেবী জাহানারা জামান। নগরীর শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে গত ৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সর্বস্তরের হাজারো মানুষের ঢল নামে। এরপর কাদিরগঞ্জ পারিবারিক গোরস্তানে স্বামীর কববের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শাহ হাদিউজ্জামান
59bযশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পীরজাদা আলহাজ শাহ হাদিউজ্জামান পরলোকগমন করেছেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নওয়াপাড়া পীরবাড়ি মাদ্রাসা মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করা হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।
’৭১-এর গণপরিষদ সদস্য, পাঁচবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য পীরজাদা আলহাজ শাহ হাদিউজ্জামানের মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শাহ হাদিউজ্জামান ছিলেন রাজনীতিপ্রাণ পুরুষ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একজন আদর্শবান রাজনীতিক। কিশোর বয়সে হাদী থেকে আজকের সত্তরোর্ধ্ব আদর্শিক রাজনীতিবিদ শাহ হাদিউজ্জামান ছিলেন একজন নির্লোভ নিরঙ্কারী সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার আন্দোলন-সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিত্ব, আদর্শ ও বলিষ্ঠ তেজদীপ্ত নেতৃত্বে মুগ্ধ হয়ে ১৯৬৬ সালে টগবগে যুবক শাহ হাদিউজ্জামান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে ৬-দফা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক প্রচারণা চালান শাহ হাদিউজ্জামান। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রদেশিক পরিষদের এমপি হিসেবে মনোনয়ন লাভ করেন। ওই প্রদেশিক পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ শাহ হাদিউজ্জামান বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে শাহ হাদিউজ্জামান মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বিএলএফ (বাংলাদেশ লেবারেশন ফোর্সে) যোগ দিয়ে ভারতের কালছি নদীর পাড়ে দেরাদুন পর্বতে গেরিলা ট্রেনিং নেন। ট্রেনিং শেষে তিনি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে  মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে কাজ করেন। এরপর তিনি যশোর-৪ আসন থেকে আরও চারবার বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা পাঁচবারের সংসদ সদস্য, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর শাহ হাদিউজ্জামানকে যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব অর্পণ করেন। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন শাহ হাদিউজ্জামান।

Category:

Leave a Reply