প্রয়াতজন : শ্রদ্ধাঞ্জলি

Posted on by 0 comment

উত্তরণ প্রতিবেদন

PMগাজী শাহাবুদ্দিন
নতুন যুগের সূচনা করা ‘সচিত্র সন্ধানী’র সম্পাদক গাজী শাহাবুদ্দিন ছেড়ে গেছেন শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতার প্রিয় অঙ্গন। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত রোগভোগের পর গত ৯ জুন বিকেল সাড়ে ৩টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যাসহ আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
গাজী শাহাবুদ্দিন ১৯৩৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই পত্র-পত্রিকা পড়ার নেশা ছিল। সেই নেশা থেকেই ‘সচিত্র সন্ধানী’র আত্মপ্রকাশ।
১৯৫৬ সালের ২৩ জুন প্রকাশিত হয় সচিত্র সন্ধানীর প্রথম সংখ্যা। ডিমাই ওয়ান সিক্সটিন সাইজ পত্রিকা। পৃষ্ঠা সংখ্যা আনুমানিক ৩২ থেকে ৪৮। ১ হাজার কপি ছাপা হয়। এবং সকাল ১০টার মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যায় সব কপি। এই সাফল্যের ওপর ভর করে পত্রিকাটি নিয়মিত করার চিন্তা করেন সম্পাদক গাজী শাহাবুদ্দিন। কিন্তু কাজ যত বাড়ছিল লেখাপড়ার সময় তত কমে আসছিল। এমনকি পরীক্ষার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে সোজা প্রেসে চলে যেতেন। পরদিন বাসায় ফিরে বলতেন, বন্ধুর বাসায় পড়তে গিয়েছিলাম। নটর ডেম কলেজে খুব কড়াকড়ি। সময় বের করা যায় না। এ জন্য সেখান থেকে বের হয়ে জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন তিনি। এভাবে পত্রিকার কাজ এগিয়ে নিয়ে যান। পঞ্চাশের দশকে প্রকাশনার শুরু। শুরুতে সচিত্র সন্ধানী ছিল কিছুটা রম্য ও কিছুটা কার্টুননির্ভর পত্রিকা। তারপর ধীরে ধীরে এই পত্রিকা বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতির দর্পণ হয়ে ওঠে।

সংগীতজ্ঞ করুণাময় গোস্বামী
PM3একুশে পদকে ভূষিত সংগীতবিষয়ক লেখক ও নজরুল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. করুণাময় গোস্বামী গত ৩০ জুন রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোকগমন করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি এক পুত্র ও এক কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
ড. করুণাময় গোস্বামী একজন সফল শিক্ষক, লেখক এবং সৃজনশীল প্রতিভার মানুষ ছিলেন। তিনি নজরুল বিশেষজ্ঞ হিসেবে এবং সংগীতবিষয়ক লেখক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। গবেষণা ও সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি বাংলাদেশের মননশীল সাহিত্য চর্চার জগতে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
অধ্যাপক ড. করুণাময় গোস্বামী ১৯৪৩ সালের ১১ মার্চ ময়মনসিংহের গোসাইন চান্দুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে ১৯৬৪ সালে এমএ এবং ১৯৮৮ সালে ‘বাংলা কাব্যগীতির ধারায় কাজী নজরুল ইসলামের স্থান’ শীর্ষক গবেষণাকর্মের জন্য পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৬৪ সালে তিনি সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতায় যোগদান করেন এবং ২০০১ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি ২০০৮ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল হক মামা
PM2দেশে ও প্রবাসে জনপ্রিয় সুইডেন প্রবাসী অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ২ নম্বর সেক্টরের মেলাঘর ইউনিটের প্রধান সৈয়দ শহীদুল হক মামা দীর্ঘ তিন মাস জীবনের সাথে লড়াই করার পর গত ৩০ জুন দুপুরে কাতারের রাজধানী দোহার আল ওয়াকার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট, উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিস ও কিডনির জটিল সমস্যায় ভুগতে থাকা শহীদুল হক মামা ২৮ এপ্রিল কাতার এয়ারওয়েজে ঢাকা থেকে স্টকহোম আসার পথে বিমানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত কাতারের আল ওয়াকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুদিন পর তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে দুসপ্তাহ আগে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
’৭১-এর কুখ্যাত কসাই যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে দেওয়া দ্বিতীয় রাজসাক্ষী, মিরপুর-মোহাম্মদপুর এলাকায় বীরত্বপূর্ণ সফল অপারেশন পরিচালনাকারী দুর্ধর্ষ গেরিলা কমান্ডার ও মামা বাহিনীর প্রধান।
তার জন্ম পুরনো ঢাকার নাজিরাবাজারে। বাবা ছিলেন একজন খ্যাতিমান আইনজীবী। তিনি ছিলেন প্রত্যক্ষ ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র এবং বঙ্গবন্ধুর ছেলে শেখ কামালের ঘনিষ্ঠ সহচর।

সংগীতজ্ঞ সুধীন দাস
PM4উপমহাদেশের বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ ও নজরুল গবেষক সুধীন দাস গত ২৭ জুন রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ৮৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিল্পী রাত ৮টা ২০ মিনিটে অ্যাপোলো হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সুধীন দাস ১৯৩০ সালে কুমিল্লা শহরের তাল পুকুরায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন সংগীত জগতের অন্যতম অভিভাবক। তিনি ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান রেডিওতে নজরুল সংগীতশিল্পী হিসেবে যোগ দেন।
সুধীন দাস জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের মৃত্যুর পর গ্রামোফোন রেকর্ড থেকে নজরুলের গানের মূল স্বরলিপি যোজনা শুরু করেন। এই প্রয়াসে তাকে সহায়তা করেন তার স্ত্রী ও নজরুল সংগীতশিল্পী নীলিমা দাস।

Category:

Leave a Reply