ফের নৌকায় ভোট দিন

সিলেটে বিশাল জনসভায়: আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা

09উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রান্তিক জেলা সিলেটে জোয়ার উঠেছে। নৌকার নির্বাচনী জোয়ার। এই জোয়ার সারাদেশকে ভাসিয়ে নেবে। উপস্থিত জনতার এমন ধারণায় পরিবেষ্টিত গত ৩০ জানুয়ারি সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানের জনসমুদ্রে প্রধান অতিথির ভাষণে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার জন্য উপস্থিত জনতাকে হাত তুলে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর এমন আহ্বানে উপস্থিত সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাত তুলে সাড়া দিয়ে নৌকাকে বিজয়ী করার পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেন। ৩০ জানুয়ারি আলিয়া মাদ্রাসা ময়দান ছিল কানায় কানায় ভর্তি। মাঠ উপচে মানুষের ঢল ছিল বহু দূর পর্যন্ত। নির্বাচনী আমেজে ফুরফুরে মেজাজে শীতের বিকেলে মাদ্রাসা ময়দানে উপস্থিত মানুষের মধ্যে ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রচারণা আহ্বানের অপেক্ষা। সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.), হযরত শাহপরাণ (র.) ও সিলেটের প্রথম মুসলিম গাজী বুরহান উদ্দিনের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রথম প্রচার অভিযান শুরু করেন। সভা শুরুর পূর্বে ১৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৬টি প্রকল্পের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দিন। আওয়ামী লীগ সরকারে এলেই দেশের উন্নয়ন হয়। দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামী নির্বাচনেও নৌকা মার্কাকে নির্বাচিত করতে হবে। নৌকাকে নির্বাচিত করলে দেশ এগিয়ে যায়। কিন্তু বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় আসলে দেশে লুটপাট হয়, দেশ দুর্নীতিতে বারবার চ্যাম্পিয়ন হয়। তাই দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে আগামীতেও আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করতে হবে। তাই আপনারা হাত তুলে ওয়াদা করেন আগামীতেও নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে বিশ্ব দরবারে দেশ সম্মানের সাথে এগিয়ে যাবে। ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন। সেই নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করুন। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত মাদ্রাসা মাঠের সভার মঞ্চটি তৈরি করা হয় নৌকার আদলে। এই মঞ্চে বক্তব্যের মাধ্যমে সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন শেখ হাসিনা। নৌকার আদলে সভা মঞ্চ তৈরির ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা বলেন ‘নৌকা’ আওয়ামী লীগের প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক। তাই, নৌকার আদলে এ মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভ করে চার বছর পূর্ণ করে পাঁচ বছরে পদার্পণ করেছি। সামনে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনকে সামনে নিয়ে আমরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি। এবং সেটা শুরু করছি আমরা পুণ্যভূমি সিলেট থেকে। বিগত নির্বাচনে নৌকায় সবাই ভোট দিয়েছিলেন। তাই আজ বাংলার সর্বত্র উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের যৌথ পরিচালনায় জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ধ্বংসস্তূপ বাংলাদেশকে গড়ার কাজ শুরু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, জাতির জনককে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট নির্মমভবে হত্যা করা হয়। ১৯৭৫-এর পর বাংলার মানুষের উন্নয়নের চাকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সংবিধান লঙ্ঘন করা শুরু হয়েছিল। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশে উন্নয়ন শুরু হয়। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি সিলেটসহ সারাদেশে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। ২০০৪ সালে হযরত শাহজালালের মাজারে গ্রেনেড হামলা হয়। পরপর দুবার গ্রেনেড হামলায় ৯ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। ৭ আগস্ট আমাদের সাবেক মেয়র কামরানের ওপর আক্রমণ হয়। সে আক্রমণে আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহিম আলী মৃত্যুবরণ করেন। একাধিকবার কামরানের ওপর হামলা হয়েছে। মহিলা আওয়ামী লীগের সভা চলাকালীন সেখানে বোমা হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির হত্যাযজ্ঞ চলে সারাদেশে। তাদের হাত থেকে মা-বোনেরা রেহাই পায়নি। সারাদেশে অপারেশন ক্লিনহার্টের নামে আমাদের নেতা-কর্মীদের হত্যা করা হয়, গ্রেফতার করে নির্যাতন চালানো হয়, বহু নেতাকে গুম করা হয়। দীর্ঘ ৪০ মিনিটের বক্তৃতায় তিনি বলেন, বিগত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি-জামাত সে নির্বাচন ঠেকানোর নামে সন্ত্রাস-নাশকতা চালায়। সিলেটে শহীদ মিনারে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি দেশে ধ্বংসাত্মক কর্মকা- চালায়। আমরা গাছ লাগাই, তারা গাছ কাটে; আমরা রাস্তা বানাই, তারা রাস্তা কাটে। আমরা কঠোর হস্তে সেসব সন্ত্রাসী কর্মকা- প্রতিহত করি। বিএনপির সময় বাংলাভাই, আবদুর রহমান তৈরি হয়, সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা হয়। বিএনপি ঢাকায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালায়। এতে আমাদের নেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন নিহত হন। তারা ২৯টি রেলগাড়িতে আগুন দিয়েছে, ৯টি লঞ্চে আগুন দিয়েছে, ২৫২টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে, প্রায় ১ হাজার ৪০০ সরকারি অফিস তারা জ্বালিয়ে দিয়েছে। জ্বালাও-পোড়াও আর অগ্নিসংযোগ হচ্ছে তাদের আন্দোলন। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি ধ্বংস করতে জানে, সৃষ্টি করতে জানে না। মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করতে জানে। বিএনপি পেট্রলবোমায় মানুষ মেরেছে। তাদের আগুন, পেট্রলবোমায় বহু মানুষ জীবন দিয়েছে। তারা প্রায় ৫০০ মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। প্রায় ৩ হাজার মানুষ তাদের আগুন সন্ত্রাসের শিকার হয়ে এখন ধুঁকছেন। তাদের অগ্নিসন্ত্রাসের কারণে ৩ হাজার ৩৬ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। তারা হাজার হাজার গাড়ি, সরকারি অফিস জ্বালিয়ে দিয়েছে। এ রকম ধ্বংসাত্মক আন্দোলন আমরা দেখিনি। তিনি বলেন, আন্দোলন হবে মানুষের জন্য। কিন্তু বিএনপি-জামাতের আন্দোলন ধ্বংস করার জন্য। তারা পারে দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করতে। বিপরীতে আওয়ামী লীগ উন্নয়ন করে, উন্নয়নে বিশ্বাস করে, জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করে। আজ সিলেট থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সিলেট এসেছি আপনাদের উপকার করতে। আজ অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছি। সামনে আরও কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হবে, সেগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে চার-লেনে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার ছিল। ২০০৯ সালে আমরা ক্ষমতায় এসে পেয়েছিলাম মাত্র ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আজ আমরা দেশে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিচ্ছি। আমরা কম্পিউটারের ওপর থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহার করে তা সহজলভ্য করেছি। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা শিক্ষার হার ৬৫.৫ ভাগে উন্নীত করেছিলাম। বিএনপি ক্ষমতায় এসে সাক্ষরতার হার কমিয়ে ৪৫ ভাগে নিয়ে আসেন। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা এ হারকে ৭২ ভাগের উপরে নিয়ে গেছি। আমরা প্রতিটি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। বিভিন্ন বহুমুখী বিশ্ববিদ্যালয় করছি, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করে শিক্ষাকে বহুমুখী করে দিচ্ছি। আমরা বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়েছি। আমরা চলতি জানুয়ারি মাসে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিতরণ করেছি। যাতে আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতে পারে। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব তৈরি করে দিয়েছি। আমরা বেসরকারি অনেক কলেজকে সরকারি করে দিয়েছি। জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে দিচ্ছি। যাতে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে। প্রাইমারি লেভেলে ২ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছি। যাতে তারা উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী হয়ে ওঠে। একটি দেশকে উন্নত করতে হলে একটি জাতিকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। প্রযুক্তি খাতে সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে ১৪ কোটি সিম ব্যবহার করা হয়। অনেকে দুইটা-তিনটা করে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। দেশের ৮ কোটি মানুষ আজ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। আমরা আজ সব জায়গায় ইন্টারনেট পৌঁছাতে পেরেছি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন গবেষণা পদ্ধতি চালিয়ে যাচ্ছি। কৃষকদের ভর্তুকি প্রদান করছি। মাত্র ১০ টাকায় কৃষকদের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। যাতে কৃষকদের নিজ অ্যাকাউন্টে আমরা ভর্তুকির টাকা পৌঁছে দিতে পারি। ২ কোটির ওপর কৃষক এই সেবা পাচ্ছে। সিলেটের চা-শিল্পের উন্নয়নের কথা তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য, তাদের সন্তানের শিক্ষার উন্নয়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সিলেট থেকে যাতে চা’র নিলাম হতে পারে সেজন্য আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। সিলেটে যেসব পণ্য উৎপাদন হয় যেমনÑ ভুট্টা, আগর, কমলালেবুসহ অন্যান্য উৎপাদনের জন্য এখানে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সম্প্রসারণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। সে লক্ষ্যে প্রত্যেক অঞ্চলে আমরা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। সিলেটে আমরা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি যেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হবে। আমাদের প্রবাসী বাঙালিরা সেখানে অগ্রাধিকার পাবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বলেছিলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলব। আমরা তা করতে পেরেছি। ৮ হাজার ৫৪৫টি রিসার্চ সেন্টার গড়ে তুলেছি। আমরা ঘরে বসে সেবা পাওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, আজ দেশে ১৪ কোটি সিমকার্ড ব্যবহৃত হয়। ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করছি। মাত্র ১০ টাকায় কৃষক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। কোটির ওপর কৃষক উপকরণ কার্ড পাচ্ছে। ১ কোটির ওপর কৃষক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে ভর্তুকির টাকা পাচ্ছে। যেখানে বন্যায় আক্রান্ত, সেখানে বীজ, সারসহ অনান্য উপকরণ আমরা দিচ্ছি। কৃষকের ঋণ আদায় যেন স্থগিত থাকে তার ব্যবস্থা করছি। সিলেটের চা উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবস্থা করছি। চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, তাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সিলেট থেকে যাতে চায়ের নিলাম হয়, তার জন্য নিলাম কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। দেশের প্রত্যেক এলাকায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। সিলেটে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। ঘরে বসে প্রবাসে থাকা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার প্রযুক্তিগত সুযোগ আমরা দিয়েছি। ৮ হাজার ৫০০ পোস্ট অফিসকে আমরা ডিজিটাল সেন্টারে রূপান্তর করেছি। ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে বিনা পয়সায় স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছি, ওষুধ দিচ্ছি। সিলেটে আমরা একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য, গ্রামের জনগণের উন্নতি। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন দেশের প্রতিটি মানুষ পেট ভরে খাবার খাবে। একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। আমরা জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছি। আজ আমরা বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছি। যারা হতদরিদ্র, শ্রমিক শ্রেণি, সেসব মায়ের জন্য মাতৃত্বকালীন সময়ের জন্য ভাতা দিচ্ছি। ছেলেমেয়েরা যেন উচ্চশিক্ষা নিতে পারে, সেজন্য প্রাইমারি থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বৃত্তি দিচ্ছি। দেশকে উন্নত করতে হলে, জাতিকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে হলে জাতিকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। তিনি বলেন, প্রবাসীদের টাকায় আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পায়। প্রবাসীদের জন্য ৩টি ব্যাংক স্থাপনের অনুমতি হয়ে গেছে। আমরা চাই, দেশ এগিয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের সুনাম হয়। দেশ পুরস্কার পায়। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস হয়ে যায় তাদের মূল কাজ। এ দেশকে উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসলে দেশে এত উন্নয়ন হতো না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে দেশের উন্নয়ন হয় না। নৌকায় ভোট দিয়ে মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়ে দেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোলমডেল হয়েছে। আমরা কথা দিয়েছিলাম, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করব। তা করেছি। জাতির জনকের খুনিদের বিচার করেছি। বাংলার মাটিতে জঙ্গিবাদের স্থান হবে না। প্রত্যেক মা, বোন, শিক্ষক, সচেতন নাগরিক, সকল অভিভাবক সবাইকে নিজেদের ছেলে-মেয়েদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তারা কোথায় যায়, কার সাথে মিশে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী বেশিদিন অনুপস্থিত কি না, তা খেয়াল রাখতে হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। ইসলাম জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না। শেখ হাসিনা আরও বলেন, সিলেট আজ শান্তির নগরী। এই শান্তি যেন বজায় থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে একসঙ্গে মিলে কাজ করতে হবে, যাতে সিলেটের সকল পাড়া-মহল্লায় শান্তি বজায় থাকে। আমরা বীরের জাতি, বিজয়ী জাতি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এ দেশকে আমরা উন্নত করে গড়ে তুলব। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ জাতিতে পরিণত করব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্যের জন্য বাংলাদেশকে কারও কাছে ভিক্ষা চাইতে হবে না। আমরা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি। আপনারা শুনলে অবাক হবেন, বিএনপির খালেদা জিয়া, তাদের অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান বলেছিলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া ভালো না। তাতে বিদেশি সাহায্য পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমরা ভিক্ষা করতে চাই না। যারা নিজেদের ভিক্ষুক হিসেবে অন্যের কাছে পরিচিত করতে চায়, তারা কীভাবে দেশের উন্নয়ন করবে। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্ব দরবারে সম্মানের সাথে এগিয়ে যাবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী নিজের বক্তব্যে প্রয়াতমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদ, শাহ এএমএস কিবরিয়া, হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, দেওয়ান ফরিদ গাজীসহ প্রয়াত জাতীয় নেতাদের স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, ডা. দীপু মনি এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, আবদুর রহমান এমপি, যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক আতিক প্রমুখ। জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, তৌফিক-ই-এলাহী, আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, সংসদ সদস্য শেখ হেলাল এমপি, সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া, কেন্দ্রীয় সদস্য গোলাম কবির রব্বানী চিনু, আনোয়ার হোসেন, ইকবাল হোসেন অপু, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি সিলেটে জনসভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে, একই বছরের ২৩ নভেম্বর তিনি সিলেটে সেনাবাহিনীর ১৭-পদাতিক ডিভিশনের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। ঐ দিন জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা থাকলেও জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কারণে তা স্থগিত করা হয়েছিল।

Category:

Leave a Reply