ফের ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি

Posted on by 0 comment

সাইদ আহমেদ বাবু: সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ফের ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলেন নরেন্দ্র মোদি। পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও মোদির পক্ষে যে এতটা সমর্থন থাকবে, তা ভারতের বিরোধী দলগুলোর ভাবনার অতীত ছিল। আগেরবারের চেয়েও বেশি আসন নিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করছে বিজেপি তথা এনডিএ। মূলত, ভোটের এ লড়াইটা হয়েছে মোদির সঙ্গে ভারতের সম্মিলিত বিরোধী দলগুলোর। এই লড়াইয়ে শুধু মোদি জেতেন নি, তিনি ছুঁয়ে গেছেন ভারতের সবচেয়ে সফল প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর রেকর্ড। দেশটির নির্বাচনী ইতিহাসে ১৯৬৭ এবং ১৯৭২ সালে পরপর দুবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। এ দুবারেও একাই ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে গিয়েছিল কংগ্রেস। এর আগে জওহরলাল নেহেরু পরপর তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন কংগ্রেসের হয়ে। ২০১৯ সালে যা দেখা যাচ্ছে, জওহরলাল নেহরুর কংগ্রেসের মতোই মোদির বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে। ভারতজুড়ে বিজেপির ভোট শেয়ারে ঢেউ উঠেছে, যা প্রায় অবিশ্বাস্য।
গত ২৩ মে ভোট গণনায় দেখা যায়, দেশের ইতিহাসে মোদিই হতে চলেছেন তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী, যিনি পরপর দুবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী হলেন। অর্থাৎ কোনো জোট বা শরিক দলের সাহায্য ছাড়াই সরকার গঠনের জন্য ম্যাজিক ফিগার ছাড়িয়ে গেল কোনো দল। অকংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদিই প্রথম, যিনি পরপর দুবার পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় আসছেন। ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এটা রেকর্ড। পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় পর্বে শাসক দলের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াও রেকর্ড। ঐতিহ্যবাহী কংগ্রেস পরিবারের প্রতিনিধি অভিজাত রাহুল গান্ধীর পরিবর্তে ‘চৌকিদার’ মোদিতেই ভরসা খুঁজেছেন ভারতের প্রায় ৯০ কোটি ভোটার। ভারতের লোকসভা নির্বাচনে আরও বিপুল বিক্রম নিয়ে জয়ী হলো নরেন্দ্র মোদির বিজেপি জোট। বলা যায়, এককভাবে মোদি ম্যাজিকে আস্থা রেখেছেন ৯০ কোটি ভোটারের ভারত। আবারও তার কাঁধেই থাকবে দেশের ভার। তার হিন্দুত্ববাদ ও উগ্র জাতীয়তাবাদের মিশেলে ক্যারিশম্যাটিক মোদি ঝড়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে কংগ্রেসসহ বিরোধী শিবির। সাত-দফায় ৩৮ দিনের নির্বাচন শেষে গত ১৯ মে বুথফেরত জরিপেই আভাস মিলেছিল নিরঙ্কুশ জয় পাচ্ছে গেরুয়া শিবির মানে এনডিএ জোট। কিন্তু বাস্তবিক ফলাফল সেই আভাসকেও হার মানাল। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরে তিনি বলেছেন, এটা তার বা তাদের দলের জয়ই শুধু নয়, দেশের জয়, গণতন্ত্রের জয়। এবার লোকসভা নির্বাচনে বিরোধীদের টার্গেট ছিলেন তিনিই। কিন্তু তার উত্থান আটকাতে পারেন নি কেউই। উনিশের নির্বাচন নিঃসন্দেহে একটা বড় পরীক্ষা ছিল নরেন্দ্র মোদির। সেই পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উতরে গিয়ে মোদি আরও একবার প্রমাণ করলেন, তার বিজয়রথের চাকা থামেনি; বরং তা দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। দুটো সেøাগান বিজেপি এবার জোরের সঙ্গে উচ্চারণ করেছে। ‘ফির একবার, মোদি সরকার’ এবং ‘আব কি বার, তিন শ পার’। দেশের মানুষ বিনা বাক্যে সেই দুই সেøাগানকে সত্য করে তুলেছে। বিশ্বাস রেখেছে নরেন্দ্র মোদির ওপর। রচনা করেছে নতুন ইতিহাস।
বিতর্কিত নানা অধ্যায় ছাপিয়ে নিজেকে ‘চায়েওয়ালা’ পরিচয় দিয়ে পাঁচ বছর আগে ভোটের লড়াইয়ে জিতে দিল্লির মসনদে বসেছিলেন মোদি; এবার ভোটের আগে শাসক পরিচয়ের পরিবর্তে নিজেকে ‘চৌকিদার’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন তিনি। আগামী পাঁচ বছর মোদির বিজেপি সরকার ভারতের ভাগ্য বিধাতা, আর মমতার দুর্গ দখল করতে না পারলেও বড় ফাটল ধরিয়েছে বিজেপির গৈরিক বাহিনী।
ভূমিধস জয় পেয়েই সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে উচ্ছ্বসিত নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত আবারও জিতে গেল। এক টুইটে তিনি বলেন, ‘আমরা বেড়ে উঠেছি একসঙ্গে, সমৃদ্ধি এনেছি একসঙ্গে, একসঙ্গে থেকেই আমরা শক্তিশালী ভারত গড়ব, যা হবে সবার জন্য। ভারত আবারও জিতে গেল।’ মূলত, জাতীয়তাবাদের এই ট্রাম্পকার্ডই মোদির রাজনৈতিক মন্ত্র।
৯০ কোটি ভোটারের দেশ ভারতে বিশ্বের বৃহত্তম নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে গত ১৯ মে। ১১ এপ্রিল থেকে ১৯ মে পর্যন্ত মোট ৭টি ধাপে ভোটগ্রহণ হয়েছে। ৫৭০ আসনের লোকসভায় ১ হাজার ৮৪১টি রাজনৈতিক দলের ৮ হাজারেরও বেশি প্রার্থী এ নির্বাচনে অংশ নেন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৭২০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী চারজন। প্রসংগত, ১৯৫১-৫২ সালে ভারতের প্রথম লোকসভা নির্বাচন সম্পন্ন হতে সময় লাগে তিন মাস।
ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে এনডিএ জোট পেয়েছে ৩২১টি আসন। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ইউপিএ পেয়েছে ১১০টি আসন। আর বিজেপি এককভাবে পেয়েছে ২৮৮টি আসন। এদিকে, কংগ্রেস এককভাবে পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যান্য দল পেয়েছে ১১১টি আসন। পশ্চিমবঙ্গে বরাবরের মতো দখলে রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারা পেয়েছে ২৩টি আসন। বিজেপি পেয়েছে ১৮টি আসন আর কংগ্রেস পেয়েছে ১টি আসন। বাম দলের আসন শূন্যের কোঠায়।
মনে রাখতে হবে, নির্বাচনে জয়-পরাজয় ভারতের মতো বৃহত্তম গণতন্ত্রে কোনো একটা কারণে হয় না। জয়ের পিছনে অনেক কারণ থাকে। হিন্দুত্ববাদের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে জাতীয়তাবাদের প্রচারণা চালিয়ে গেছেন মোদি। ভোটের প্রচারে বিজেপি যেভাবে অত্যন্ত কৌশলীভাবে জাতীয়তাবাদ, উন্নয়ন এবং ধর্মীয় মেরুকরণ নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেছে, তার বিপরীতে বিরোধী দলগুলো কার্যকর বক্তব্য হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে। একেবারে শুরু থেকেই মানুষের মনে বিজেপি যে প্রশ্ন তুলে ধরেছিল, তা ছিল নেতৃত্বের। ‘মোদি বনাম কে?’ এই প্রশ্ন তারা জনতার সামনে রেখেছিল। বিরোধীরা এই প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি। মোদি প্রধানমন্ত্রী থাকবেন কী থাকবেন না, সেটা নিয়েই গোটা দেশে ভোট হয়ে গেল। বিরোধী শিবিরে মোদির কোনো একজন বিকল্প খুঁজে পাওয়া গেল না। বিজেপি তার প্রচারাভিযানে প্রকৃত সমস্যা আড়াল করতে মোদিকে ‘শক্তিশালী নেতা’ হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি পুলওয়ামা-উত্তর পরিস্থিতি ও বালাকোট অভিযানের ঘটনায় জারিত জাতীয়তাবাদকে সাফল্যের সঙ্গে ব্যবহার করেছে। এবার মোদি ছাড়া আর কাউকেই মানুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাবতে পারেনি। তার কঠোর নেতৃত্ব, দৃঢ়চেতা মনোভাব, ঠিক সময়ে ঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং দেশের শত্রুদের শায়েস্থা করার হিম্মত অন্য কেউ দেখাতে পারেন, মানুষ তা বিশ্বাস করতে চায়নি। আর তা হয়নি বলেই সত্য হয়ে উঠেছে দ্বিতীয় সেøাগানটিও। বিজেপি তিনশ’ পার করেছে। ২০১৪ সালের তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার পর মোদির বিরুদ্ধে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল; কিন্তু মোদি এবং অমিত শাহ এমন এক কৌশল রচনা করলেন যে এই অসন্তোষ নির্মূল হয়ে গেল। পুলওয়ামা হামলার জবাবে পাকিস্তানের বালাকোটে হামলার নির্দেশ দিয়ে তিনি জনগণের মাঝে জাতীয়তাবাদের আবেগকে আরও উসকে দিয়েছেন বলেই মনে করছে গণমাধ্যম। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বালাকোট আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও বদলে দিল। মোদির ‘ব্র্যান্ড ইকুইটি’র সঙ্গে মিশে গেল হিন্দু রাষ্ট্রবাদ। মানুষ এক শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন। বিপরীতে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নটি ভারতজুড়েই বিজেপির প্রতি মানুষকে আস্থা রাখতে সহায়তা করেছে। জোট গঠনেও প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন মোদি। যাদের জোটে নিয়েছেন তারা মোদির মতোই কট্টর ডানপন্থি। ভারতের পূর্বাঞ্চলে বিজেপিকে দৃঢ় করার কাজে মনোযোগ দেওয়াকেও জয়ের নিয়ামক হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্যারিশমা এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে অটুট রইল। তিনিই বিজেপির পক্ষে তিনিই যে ভোট টানেন সেটা আবারও প্রমাণ হলো। বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানেই তাকে ভোট দেওয়াÑ মোদির এই মন্তব্য কার্যকর হয়েছে, তা ভোটের ফলাফলেই প্রমাণিত। সাংগঠনিক দক্ষতা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহার, সব ধরনের আধুনিক প্রক্রিয়া ব্যবহারসহ বিভিন্নভাবে বিজেপি দল হিসেবে শক্তি অর্জন করেছে, তা এখন বিরোধীদের অতিক্রম করা যে খুবই কঠিন, যার প্রমাণ ভোটের প্রচারে মিলেছে।
বিরোধী দল যেভাবে ‘মোদি হটাও’ অভিযানে নামে, তাতে পুরো নির্বাচনটা মোদিকেন্দ্রিক হয়ে যায়। এবারের নির্বাচনে ভারতের সেকুলার গণতান্ত্রিক বামপন্থি এবং আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে মুখে মোদি হটাও সেøাগান থাকলেও তারা মোদি ও এনডিএ’র বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর জাতীয় ঐক্য বা কোয়ালিশন গড়ে তুলতে পারেনি। বরং বিভিন্নভাবে ভোটযুদ্ধে পরস্পর প্রতিযোগিতা করে মোদি ও বিজিপির জয়ের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে। শুধু মোদি হটাও সেøাগান তোলা হলো, আর সব বিরোধী নেতাই ভাবতে লাগলেন যে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন; কিন্তু কোনো বিকল্প কর্মসূচি নেই। এভাবে মোদি মোকাবিলা হয়? বিপরীতে মোদি সুকৌশলে ‘মোদি হটাও’কেই ভোটের প্রচারের হাতিয়ার করে দিলেন। কর্মহীনতা, কৃষকদের সমস্যা, রাহুল গান্ধীর তোলা ‘ন্যায়’-এর বিষয়, সব গুরুত্ব হারাল। দেখা যাচ্ছে, যেসব রাজ্যে মোদিকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, সেসব রাজ্যেই মোদি ভোট পেয়েছেন বেশি। এবার মোদির জয়যাত্রার পেছনে তাই একদিকে যেমন আছে ‘মোদি’ নামক ব্যক্তির ‘ব্র্যান্ড ইকুইটি’, অন্যদিকে তেমনি আছে রাহুল গান্ধীর জোট না করার মানসিকতা।
ভারতের লোকসভা ভোটে জিতে প্রথমবার নিজের কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের ধন্যবাদ জানালেন নরেন্দ্র মোদি। বারানসিতে মোদি বললেন, এবারের ভোটে অঙ্ক নয়, জিতেছে রসায়ন। কী সেই রসায়ন। প্রথম রসায়ন, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ-সহ দলের কর্মীদের সম্পর্ক এবং পরিশ্রম। তাদের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পর্কের রসায়ন। জাতীয়তাবাদ আর মেরুকরণের রসায়নেই সাফল্য এসেছে বলতে চেয়েছেন মোদি। এর পাশাপাশি মোদি এ দিন প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের। তার মতে, এই জয় বিজেপি, এনডিএ বা মোদি-অমিত শাহের জয় নয়, এটা আসলে সারাদেশের লাখ লাখ বিজেপি কর্মীর কঠিন পরিশ্রমের জয়। তিনি আরও বলেন, দেশবাসী তথা বারানসির মানুষ আমাকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন ঠিকই; কিন্তু আমি একজন সাধারণ বিজেপি কর্মী হিসেবেই নিজেকে দেখতে চাই। কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে পূজা দেন তিনি। তারপর একটি জনসভায় যোগ দেন। সঙ্গে ছিলেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এবং উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। দুজনই বারানসির ভোটারদের ধন্যবাদ জানান।
২০০২ সালের হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার সময়টা ছিল মোদির উত্থানের সবচেয়ে বড় অনুঘটক। সে-সময়ে হিন্দু দাঙ্গাবাজদের উসকে দিয়ে ৩ হাজার মুসলমানকে হত্যা ষড়যন্ত্রে মোদিকে জড়িয়ে অভিযোগ থাকলেও তাকে বাঁচিয়ে দেন আদভানি। তবু বিভিন্ন মহল থেকে মোদির পদত্যাগের দাবি ওঠে। কিন্তু ২০০২ সালে গুজরাটের নির্বাচনে মোদির জয় তাকে আবারও আলোচনায় আনে। মোদির রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘোরে তখন থেকেই। বর্তমানে সেই মোদিই উন্নয়ন ও সুশাসনে দলীয় সামর্থ্যরে প্রতীক বনেছেন। বিপুল মধ্যবিত্ত তাকে সমর্থন জোগাচ্ছে। তার ‘আমিও পারি’ নীতি অনেকের মধ্যেই আশার সঞ্চার করেছে। হয়তো মোদির ওপর ভর করেই ভারত শাসনের স্বপ্ন দেখছে দলটি। নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি কর্মীদের শুভেচ্ছা জানালেন পূর্ব উত্তর প্রদেশের কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। প্রিয়াঙ্কা বলেন, মানুষের রায় আমরা মেনে নিয়েছি।
মোদি ও বিজেপি কর্মীদের অভিনন্দন। দ্বিতীয়বার সরকার গড়ছে মোদি বাহিনী, শুভেচ্ছা জানালেন সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। টুইট করে সাবেক রাষ্ট্রপতি লিখেছেন, ‘অভূতপূর্ব জয়ের জন্য মোদিকে অভিনন্দন।’
২০১৪ সালের তুলনায় যেসব রাজ্যে বিজেপি বেশি ভোট পেয়েছে, তার মধ্যে রয়েছেÑ গুজরাট, হরিয়ানা, ঝাড়খন্ড, হিমাচল প্রদেশ, কর্নাটক, মধ্য প্রদেশ, দিল্লি, ওড়িশা, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখন্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ। দেশের অন্যত্র বিজেপি বিরোধীরা আর দাবি করতে পারবে না যে বিজেপি শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোট পেয়েছে। ১০টিরও বেশি রাজ্যে বিজেপি ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের হিসেবানুসারে, হিমাচল প্রদেশে ৬৯ শতাংশ, অরুণাচল প্রদেশে ৬৩ শতাংশ, গুজরাটে ৬২ শতাংশ, উত্তরাখন্ডে ৬১ শতাংশ, রাজস্থানে ৫৯ শতাংশ, মধ্য প্রদেশে ৫৮ শতাংশ, দিল্লিতে ৫৭ শতাংশ, হরিয়ানায় ৫৭ শতাংশ, কর্নাটকে ৫২ শতাংশ, উত্তর প্রদেশে ৫০ শতাংশ এবং ছত্তিসগড়ে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে বিজেপি।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ভোট শেয়ার বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি, ২০১৪ সালে তারা এ রাজ্যে পেয়েছিল ১৮ শতাংশ ভোট, এবার তারা পেয়েছে ৩৯ শতাংশ ভোট। গত লোকসভা ভোটে এ রাজ্যে দুটি আসন পেয়েছিল বিজেপি, এবার তারা ১৮টি আসনে পেয়েছে। এ রাজ্য থেকে মুছে যেতে চলেছে বামেরা।
কংগ্রেসের একমাত্র সুসংবাদ পাঞ্জাব এবং কেরালা। কেরালায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ ২০টির মধ্যে ১৯টি আসনে এগিয়ে। একমাত্র এ রাজ্যেই দলীয় নেতৃত্বের হিসাব মিলেছে। ভোটের পুরোটা সময় কংগ্রেস এবং আঞ্চলিক দলগুলো মোদি-বিরোধী জোয়ার তৈরির চেষ্টা করলেও সেটি যে কাজে আসেনি তা দেখা যায় ফলাফলে। ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে তামিলনাড়–র একটি বাদে সবকটি আসনে এবার নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে সরকার গঠনের জন্য কোনো দল বা জোটকে পেতে হবে ২৭২টি আসন। সারাদেশে জয়ের বিপরীতে দক্ষিণের ৫টি রাজ্যের ৪টিÑ অন্ধ্র প্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়– ও কেরালায় হারতে হচ্ছে বিজেপির। এসব রাজ্যের ৯১টি আসনের মধ্যে শেষ খবর পর্যন্ত বিজেপি জোটের অর্জন ৮টি আসন।
কংগ্রেসের জন্য আরেকটি বড় দুঃসংবাদ হলো, এবারের লোকসভা ভোটের ফলাফলের হিসাব অনুযায়ী ভারতের সংসদে বিরোধী দলের মর্যাদা হারাতে হচ্ছে কংগ্রেসকে। এবারের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে আরও একবার ব্যর্থ হলো কংগ্রেস। ২০১৪ সালে কংগ্রেস পেয়েছিল মাত্র ৪৪টি আসন। যার ফলে গত লোকসভাতে সংসদের নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলের মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল কংগ্রেস।এবারও সংসদে বিরোধী দলের মর্যাদা ধরে রাখতে ব্যর্থ হলো কংগ্রেস।
ছোটখাটো ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলেও ভারতের নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত এমন একটি নির্বাচন উপহার দিয়েছে, যা সকল পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশটির ৯০ কোটি ভোটারের ভোটের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। কোন দল জয়ী হয়েছে বা কোন দল পরাজিত হয়েছে, এ বিবেচনার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সেখানে গণতন্ত্র জয়ী হয়েছে।

Category:

Leave a Reply