ফেসবুকে নিষিদ্ধ মিয়ানমারের সেনাপ্রধান

উত্তরণ ডেস্ক: মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হদ্মায়িংসহ দেশটির সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ফেসবুকে।
রাখাইনে গণহত্যা ও রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো সহিংসতায় এসব সেনা কর্মকর্তার ভূমিকার বিষয়টি জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে আসার পর তাদের অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করে ফেসবুক। আর এটাই প্রথমবারের মতো ফেসবুক কোনো দেশের সামরিক বা রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নিষিদ্ধ করল।
গত ২৯ আগস্ট বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে ফেসবুকই সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, যার ব্যবহারকারী রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ। মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কিত ১৮টি অ্যাকাউন্ট ও ৫২টি পেজ সরিয়ে ফেলেছে ফেসবুক। অথচ এদের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ।
তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ ব্যবহারকারী মনে করেন ফেসবুক মানেই ইন্টারনেট। এটাই ঘৃণা ছড়ানোর একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সেখানে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ছয় সামরিক কর্মকর্তার নাম উঠে আসে আর এ ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হদ্মায়িংসহ। প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের কথা বলা হয়েছে।
রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে গত বছর বলা হয়েছিল, তারা অন্তত ১ হাজার পোস্ট, কমেন্টস ও ছবি পেয়েছে ফেসবুকে যেখানে রোহিঙ্গা ও মুসলিমদের আক্রমণ করা হয়েছে। এমনকি বিবিসির ফেসবুক পোস্টগুলোতেও অনেকে রোহিঙ্গাবিরোধী আপত্তিকর মন্তব্য করেছে।
সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হদ্মায়িংয়ের দুটি অ্যাকাউন্ট ছিল ফেসবুকে। এএফপি বলছে, একটি অ্যাকাউন্টে অনুসারী ছিল ১৩ লাখ আর অন্যটিতে ২৮ লাখ।
মিয়ানমারের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেনাপ্রধান খুবই প্রভাবশালী। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি রোহিঙ্গাদের, ‘বাঙালি’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন যে রোহিঙ্গা শব্দটি একটি বানানো শব্দ।
ফেসবুক বলছে নিষিদ্ধ অন্য পেজগুলোর মতো সেনাপ্রধানের পেজও জাতিগত ও ধর্মীয় উত্তেজনাকে উসকে দিয়েছে।
২০১৪ সালেই মিয়ানমারে ঘৃণা ছড়ানোর কাজে ফেসবুক ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই বছর মার্চেই জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তার মুখেও বিষয়টি উঠে আসে।
জাতিসংঘ প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘৃণা ছড়ানোর বিরুদ্ধে ফেসবুকের ব্যবস্থা নেয়ার গতি ধীর ও অকার্যকর। এতে বৈষম্য ও সহিংসতায় ফেসবুক পোস্ট ও ম্যাসেজ কীভাবে ভূমিকা রেখেছে তার স্বাধীন ও বিস্তারিত তদন্তের কথাও বলা হয়েছে।

Category:

Leave a Reply