বঙ্গবন্ধুর লেখা বইগুলো পড়তে হবে

ছাত্রলীগের শোক সভায় প্রধানমন্ত্রী

উত্তরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নীতি ও আদর্শ না থাকলে নেতা হওয়া যায় না। হলেও সাময়িক নেতা হওয়া যায়; কিন্তু সেই নেতৃত্ব দেশকে কিছুই দিতে পারে না। নীতি-আদর্শ নিয়ে চললে দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করা যায়। যা একজন রাজনীতিবিদের কাছে অমূল্য সম্পদ। তাই ত্যাগের মহিমায় বঙ্গবন্ধুর নীতি-আদর্শ নিয়ে এদেশের মানুষের জন্য কিছু করে যেতে পারলেই জাতির পিতার আত্মা শান্তি পাবে। তিনি চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে উঠে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগের জন্য ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ গৃহীত মাসব্যাপী কর্মসূচির সমাপনী দিনে গত ৩১ আগস্ট গণভবনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে বাকশাল গঠনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর বাকশাল কার্যকর করা গেলে বাংলাদেশ অনেক আগেই বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে থাকত। এ কারণে ষড়যন্ত্রকারীরা বাকশালের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানোর পাশাপাশি শুধু বঙ্গবন্ধুকে নয়, বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকারী একজনও যেন বেঁচে না থাকেন, সেজন্য নির্বিচারে সবাইকে হত্যা করে। এজন্য খুনিরা শিশু শেখ রাসেলকে পর্যন্ত ছাড়েনি। তিনি বলেন, বাকশাল বলে অনেকে গালি দেয়! কিন্তু বাকশাল বাস্তবায়ন হলে বিশ্বসভায় বাংলাদেশ ওই সময়ই মাথা উঁচু করে দাঁড়াত।
শেখ হাসিনা বলেন, সারাজীবন বঙ্গবন্ধু বাংলার মানুষকে শুধু দিয়েই গেছেন, কোনো কিছুই নিয়ে যাননি। শেষে বুকের রক্ত পর্যন্ত দিয়ে গেছেন। তার সন্তান হিসেবে আমার ব্যক্তিগত কোনো কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই। সন্তানদের জন্য কি করে গেলাম সেটিও চিন্তা করি না। শুধুমাত্র দেশের মানুষকে কী দিতে পারলাম, তাদের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি সেটিই আমার প্রধান লক্ষ্য, বিবেচ্য বিষয়। সেই লক্ষ্য নিয়ে ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে দিনরাত পরিশ্রম করেছি বলেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়ক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
আবেগজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশের মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধু আজীবন লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। বুকের রক্তও দিয়ে গেছেন, কিন্তু কিছুই নিয়ে যাননি। আমার মা-ভাইসহ নিহতদের সবাইকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়, কাফনের কাপড়টুকুও দেওয়া হয়নি। আর রেডক্রসের রিলিফের কাপড়ের পাড় ছিঁড়ে জাতির পিতাকে টুঙ্গিপাড়ায় দাফন করা হয়। এ সময় স্বজন হারানোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পুরো অনুষ্ঠানস্থলে পিনপতন নীরবতার সৃষ্টি হয়।
মাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের অবদান বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার (বঙ্গবন্ধু) পাশে আমার মা সবসময় ছিলেন। প্রকাশ্যে রাজনীতিতে আসেন নি, ছবি তোলে নি, নাম ছাপেন নি। কিন্তু বাবার সঙ্গে থেকে প্রতিটা কাজে সহায়তা করেছেন। নিজের সাধ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়েছেন। এমনকি ছদ্মবেশে ছাত্রনেতাদের কাছে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ পৌঁছে দিতেন, নির্দেশনাও দিতেন। তিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় গেরিলা।
জাতির পিতার আদর্শ সম্পর্কে জানতে তাকে নিয়ে লেখাপড়া করার জন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, বঙ্গবন্ধুর ডায়েরি নিয়ে লেখা ‘কারাগারের রোজনামচা’ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার লেখা রিপোর্ট নিয়ে বই প্রকাশিত হয়েছে। স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ সংগ্রাম-আন্দোলন, আত্মত্যাগ এবং তার আদর্শ সম্পর্কে জানতে হলে বঙ্গবন্ধুর লেখা বইগুলো পড়তে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রলীগের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। যদি নিজেকে বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তাহলে তার মতো ত্যাগী কর্মী হিসেবে দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।
ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীর পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীব দাস, সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন, ঢাকা উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের আহমেদ। অনুষ্ঠানে সুদীর্ঘ ৫১ বছরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঐতিহ্য, সংগ্রাম নিয়ে তৈরি একটি প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। দেখানো হয় ছাত্রলীগের কর্মীদের বানানো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক মোবাইল গেম প্রোমো। ছাত্রলীগের বার্ষিক প্রকাশনা ‘মাতৃভূমি’ এবং মাসিক প্রকাশনা ‘জয় বাংলা’র মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল এবং কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলকে নিয়ে আঁকা চিত্রকর্ম প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেওয়া হয়।

Category:

Leave a Reply