বন্যায় কৃষি : পাট আউশ আখ

Posted on by 0 comment

8-6-2018 7-08-22 PMরাজিয়া সুলতানা: প্রকৃতির সৌন্দর্যের খেলায় ফিরে আসে বর্ষা। নয়নাভিরাম দৃশ্য। চারদিকে পানি থই থই করে। কদম, পলাশ থেকে যেন চোখ ফিরানো যায় না। কিছুটা দুঃখ না থাকলে সুখ খুঁজে পাওয়া যায় না। তেমনই একটি দুঃখের নাম বন্যা। বন্যা একটি দুর্যোগের নাম, যে দুর্যোগ মানুষকে বিপন্ন করে দেয়। সেই দুর্যোগ নিয়ম করে প্রায় প্রতিবছরই দেশে হানা দেয় বর্ষায়। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বেশ কিছু জেলায় ভয়াবহ বন্যা হয়। বন্যায় সব ধরনের ফসলেরই ক্ষতি হয়। তবে পাট, আউশ ও আখের ক্ষতি অবর্ণনীয়। ঘরবাড়ি ডুবে যায়। রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ঝরে যায় অসংখ্য তাজা প্রাণ। বন্যার কারণে নদীভাঙনের সৃষ্টি হয় এবং অসংখ্য ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফসলি জমি, নষ্ট ফসলে দিশেহারা হয়ে পড়ে কৃষক।
বন্যায় কৃষকের ক্ষতিই যে বেশি হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ফসল নষ্ট হওয়ায় যেমন তাদের ক্ষতি, তেমনি এতে খাদ্য উৎপাদনে ভীষণ ঘাটতি হয়, যা দেশের বিরাট ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিদেশ থেকে খাদ্যসামগ্রী আমদানি করে কত দিনই বা চালানো যায়। তাই দেশের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষক ও সরকারকে গুরুত্বর্পূণ ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় দেশের কৃষি ও কৃষকের সুফল আসবে না। চলমান বিশ্বায়নের যুগে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বসতবাড়ি, কল-কারখানা, ফ্রিজ, এয়ারকন্ডিশন, গাড়ি ইত্যাদি, অন্যদিকে বনায়ন কাটা হচ্ছে। বেড়ে যাচ্ছে সিএফসি গ্যাস আর এর ফলে বাড়ছে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা। আগামী ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বর্তমানের চেয়ে প্রায় ৩.৭-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। এতে গ্রীষ্মকালে উচ্চ তাপমাত্রার দিনের পরিমাণ বাড়বে এবং শীতকালের দিনের পরিমাণ কমবে। ফলে দিনপ্রতি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে যাবে এবং বৃষ্টির দিনের সংখ্যা কমে যাবে। অর্থাৎ বর্ষাকালে দিনপ্রতি বৃষ্টিপাতের মাত্রা বেড়ে যায় এবং বছরের অন্য সময়ে বৃষ্টিপাতের দিনের সংখ্যা কমে যাবে। ফলে বাংলাদেশে বর্ষাকালে বন্যার প্রকোপ বাড়তেই থাকে। নদীবিধৌত বাংলাদেশে ছড়িয়ে আছে জালের মতো অসংখ্য নদী। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা এবং এদের প্রায় ৫০০ শাখা-প্রশাখার নদীর পানি উপচে বন্যার সৃষ্টি হয়। এর সাথে যুক্ত হয় হিমালয়ের প্রবাহ।
তাছাড়া বন্যার সময় পানির সঙ্গে প্রতিবছর প্রায় ২.৫ বিলিয়ন টন মাটিকণা প্রবাহিত হয়। নিয়মিত এই পলি ড্রেজিং করা অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ, যার সংকুলান করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কঠিন। তাই নদীর বুকে এই মাটিকণা জমা হয়ে নদীর গভীরতা কমে যাচ্ছে। হিমালয় থেকে প্রবাহিত মাটির মধ্যে থাকে বালুকণা, পলিকণা ও কাদামাটিকণা। বালুকণা আকারে বড় ও ভারী বিধায় প্রথমেই দেশের উত্তরাঞ্চলে তা জমা হয়, পলিকণা বালুকণার চেয়ে ছোট ও হালকা; কিন্তু কাদাকণা এর চেয়ে বড় এবং ভারী বিধায় দেশের মধ্যাঞ্চলে তা জমা হয় এবং পলিকণা সবচেয়ে ছোট ও হালকা বিধায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জমা হয়। ফলে দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের পানির ধারণ ক্ষমতা কম হয়। ভূ-প্রাকৃতিক কারণেই প্রতিবছর বন্যা দেখা দেয়। তবে যে এলাকায় প্রধান নদীর সঙ্গে বেশি সংখ্যক শাখা-প্রশাখা নদী যুক্ত হয়েছে সেসব এলাকায় বন্যার প্রকোপ বেশি হয়। প্রতিবছর বন্যা হলেও বন্যার সময় এর ব্যাপকতার ওপর নির্ভর করে কৃষকের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। আবার বন্যার সময়ও এর মাত্রা নির্ভর করে হিমালয়ে বৃষ্টির সময় ও পরিমাণের ওপর। অর্থাৎ জলবায়ুর পরিবর্তনের ছোঁয়া বাংলাদেশের বন্যার গতি-প্রকৃতির ওপর দৃশ্যমান প্রভাব ফেলছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও কৃষির জন্য করণীয়

পাট
পাট একটি বর্ষাকালীন ফসল, যা বাংলাদেশের সোনাফল আঁশ হিসেবে খ্যাত এবং জিআই পণ্য। বাংলাদেশে পাট সাধারণত দুই ধরনের দেখতে পাওয়া যায়। সাদা পাট ও তোষা পাট। এটি ঞরষরধপবধব পরিবারের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ। মনে করা হয় সংস্কৃত শব্দ ‘পট্ট’ থেকে ‘পাট’ শব্দের উদ্ভব হয়েছে। পাটের ইংরেজি নাম জুট (ঔঁঃব)। ১৬ জুন ২০১০ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে পাটের জিনোম অণুক্রম (জীবন-রহস্য) আবিষ্কারের ঘোষণা দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ডেটাসফ্ট সিস্টেম্স বাংলাদেশ লি. বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বিজ্ঞান-পত্রিকায় জিনোম আবিষ্কারের কথা প্রকাশ হয়েছিল। এতে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয় ও মালয়েশিয়া বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়। পাটের ব্যবহার বহুমুখী, যেমনÑ পাট পরিবেশবান্ধব ও এর ব্যবহার বহুমুখী, যেমনÑ পাটকাঠি জ্বালানি হিসেবে, বস্তা, পাট হতে তৈরি সুতা, পাকানো সুতা, চট, কার্পেট ব্যাকিং, পর্দার কাপড়, কুশন কভার, কার্পেট, ইত্যাদি পাট থেকে তৈরি হয়। গরম কাপড় তৈরির জন্য উলের সঙ্গে মিশ্রণ করা হয়, যা ভিসকস নামে পরিচিত। মোড়কÑ কৃষি পণ্য এবং অন্যান্য দ্রব্যাদি বস্তাবন্দি ও প্যাকিং করার জন্য ব্যাপকভাবে পাট ব্যবহার করা হয়। পাটখড়ি পাট চাষের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ। পাট আঁশের দ্বিগুণ পরিমাণ খড়ি উৎপাদিত হয়। ঘরের বেড়া, ছাউনি এবং জ্বালানি হিসেবে খড়ির ব্যবহার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। পাটের আঁশের বহুমুখী ব্যবহারের মধ্যে রয়েছেÑ প্রসাধনী, ওষুধ, রং ইত্যাদি। পাটখড়িÑ জ্বালানি, ঘরের বেড়া, ঘরের চালের ছাউনিতে ব্যবহার হয়। বাঁশ এবং কাঠের বিকল্প হিসেবে পার্টিকেল বোর্ড, কাগজের ম- ও কাগজ তৈরিতেও পাটখড়ি ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া পাট পাতা সবজি হিসেবে এবং চা হিসেবে পান করা হয়। এত গুণ যার, তাকে তো আর বন্যায় নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। তাহলে বন্যায় আমরা যা করবÑ
বন্যায় তোষা পাটের বেশ ক্ষতি হয়। এতে ফলন যেমন কমে তেমনি বীজ উৎপাদনেও সমস্যা সৃষ্টি হয়। পরবর্তী মৌসুমে বীজ সংকট দেখা দেয়। এ সমস্যা সমাধানে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরে বিশেষ যতেœ ভাদ্রের শেষ পর্যন্ত দেশি পাট এবং আশ্বিনের মাঝামাঝি পর্যন্ত তোষা পাটের বীজ বোনা যায়। তাছাড়া বন্যার পানি ওঠে না এমন সুনিষ্কাশিত উঁচু জমিতে জো বুঝে প্রতি শতাংশে লাইনে বুনলে ১০ গ্রাম আর ছিটিয়ে বুনলে ১৬ গ্রাম বীজের বপন হয়। জমি তৈরির সময় শেষ চাষে শতকপ্রতি ৩০০ গ্রাম ইউরিয়া, ৬৫০ গ্রাম টিএসপি, ৮০ গ্রাম এমওপি সার দিতে হবে। পরবর্তীতে শতাংশপ্রতি ইউরিয়া ৩০০ গ্রাম করে দুই কিস্তিতে বীজ গজানোর ১৫-২০ দিন পরপর জমিতে দিতে হবে। তাছাড়া পাট গাছ ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে জরুরিভিত্তিতে পাট কেটে নিতে হবে। এটাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে পাট গাছের ডগা কেটে মাটিতে পুঁতে দিতে হবে। পরে এগুলো থেকে নতুন ডালপালা বের হবে, তা থেকে মানসম্মত বীজ উৎপাদন করা যাবে।

আউশ
আউশ ধানের একটি মৌসুমের নাম, যা বাংলাদেশেই প্রধানত উৎপাদিত হয়। এছাড়া এই ধান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও আসাম রাজ্যেও চাষাবাদ করা হয়ে থাকে। এই ধান বেশ পরিবেশবান্ধব ও কৃষকবান্ধবও বটে। এই ধান সাধারণত জন্মে বর্ষাকালের আষাঢ় মাসে। এ কারণে এর অন্য নাম আষাঢ়ে ধান। তবে এই ধান বছরের যে কোনো সময়ই চাষ করা যায়। প্রাচীন কাল থেকে বাংলাদেশে ৩টি ধানের মৌসুম চলে আসছেÑ আউশ, আমন এবং বোরো। বিংশ শতকের ষাটের দশকে সেচনির্ভর ইরি-বোরো ধান প্রবর্তনের আগ পর্যন্ত আমন এবং আউশ ছিল ধানের প্রধান ফসল। এই ধান সমতল, জলাভূমি ছাড়াও পাহাড়ি অঞ্চলেও আবাদ হয়। জুম চাষের এক অন্যতম ফসল হলো এই আউশ ধান। বাংলা ‘আশু’ শব্দ থেকে ‘আউশ’ শব্দের উৎপত্তি। ‘আউশ’ শব্দের অর্থ ‘আগাম’। ৮০ থেকে ১২০ দিনের ভেতর এই ধান পেকে যায় বলে একে এই নামে ডাকা হয়। আউশ বৃষ্টিনির্ভর। জাতভেদে আউশ ধানের জীবনকালে খানিকটা ভিন্নতা থাকলেও বছরের নির্দিষ্ট সময় এর আবাদ করতে হয়। মে-জুনের বৃষ্টিকে অবলম্বন করে আউশের বীজ সরাসরি মাঠে বুনে দেওয়া হয়। নয়তো রোপণ করতে হয় এদের চারা। আউশ ধান চৈত্র-বৈশাখে আর বুনে আষাঢ়-শ্রাবণে কাটা যায়। কিন্তু আউশ মৌসুমে বন্যা হলে ধান প্রায় সম্পূর্ণই বিনষ্ট হয়। তবে ধানের ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে বন্যার স্থায়িত্ব, বন্যার পানির গভীরতা, ধানের জাত ও গাছের বৃদ্ধির পর্যায়ের ওপর। চারা রোপণের ২০ দিনের মধ্যে ধানের চারা সম্পূর্ণ ডুবে গেলে এবং বন্যার স্থায়িত্ব যদি দুই সপ্তাহের, তাহলে ধান রক্ষা করা সম্ভব হবে না। কিন্তু যদি কুশি গজানোর মধ্য পর্যায়ে বন্যা দেখা দেয়, তাহলে বন্যার স্থায়িত্ব দুই সপ্তাহের বেশি হলেও কৃষক আশানুরূপ ফলন পাবে। পানিতে ডুবে যাওয়ার পর যেসব ক্ষেতে ধানের চারা বেঁচে থাকবে সেসব ক্ষেতের পানি নামার সাথে সাথে হালকা ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করে লাগাতে হবে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত জমির এক পাশের চারা তুলে নিয়ে অন্য পাশে ফাঁকা জায়গাগুলো পূরণ করতে হবে। তাছাড়া খালি জায়গায় পুনরায় ধানের চারা লাগাতে হবে। প্রয়োজনবোধে আউশ ধান ৮০ শতাংশ পাকলেই সংগ্রহ করা যায়। বন্যামুক্ত উঁচু জায়গায় বা কলার ভেলায় বীজতলা তৈরি করে চারা তৈরি করে রাখতে হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চারার পাতায় পলিমাটি লেগে থাকলে পানি ছিটিয়ে তা ধুয়ে দিতে হবে। বন্যার পর বেঁচে যাওয়া চারার দ্রুত বাড়বাড়তির জন্য পানি নেমে যাওয়ার সাত দিন পর বিঘাপ্রতি ৭-৮ কেজি ইউরিয়া ও ৫-৬ কেজি পটাশ সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। জমির ভালো জায়গার সুস্থ চারা থেকে কিছু চারা তুলে নিয়ে ফাঁকা জায়গা পূরণ করা। বন্যার পানি সরে যাওয়ার পরপরই চারার পাতা ৮ থেকে ১০ সেন্টিমিটার বা ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি পরিমাণ আগা কেটে দেওয়া এবং অনুমোদিত মাত্রায় বালাইনাশক স্প্রে করতে হবে।

আখ
আখ হলো বাঁশ ও ঘাসের জাতভাই। এর রস চিনি ও গুড় তৈরির জন্য ব্যবহার হয়। ‘আখ’ শব্দের উৎপত্তি ‘ইক্ষু’ থেকে। আখ একটি বর্ষজীবী উদ্ভিদ। প্রথাগতভাবে আখের কা-ের একটি টুকরা দুই-তৃতীয়াংশ মাটিতে পুঁতে দিতে হয়। তবে ইদানীং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গবেষণাগারে টিস্যু কালচারের মাধ্যমেও আখের ব্যাপক চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশে গড়ে প্রতিবছর ০.৪৩ মিলিয়ন একর জমিতে ৭.৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন আখ উৎপন্ন হয়। নদীমাতৃক বাংলাদেশে কোনো-না-কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ অবশ্যম্ভাবী, তার মধ্যে বন্যা একটি। বন্যায় আখের জমি বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আগেই গোড়ায় মাটি দিয়ে ভালোভাবে বেঁধে দিতে হবে। পানির স্রোতে আখের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে যথাসময়ে জমির আইলে ধৈঞ্চার বীজ বুনে দিতে হবে। পুরাতন পাতা ঝেড়ে ৫ থেকে ৬টি সুস্থ কুশি রেখে অতিরিক্ত কুশি কেটে দিতে হবে। বন্যার পানি নেমে যাবার পর আখ গাছ ঢলে পড়তে দেখা যায়। ঢলে পড়া থেকে আখ গাছকে রক্ষার জন্য গাছের ঝাড় মুঠি করে বেঁধে দিতে হবে। তাছাড়া এ সময় আখ ফসলে লালপচা রোগ দেখা দিতে পারে। এক ধরনের ছত্রাকের আক্রমণে এই রোগ হয়। লালপচা রোগের আক্রমণ হলে আখের কা- পচে যায় এবং হলদে হয়ে শুকিয়ে যেতে থাকে। এজন্য আক্রান্ত আখ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে এবং জমিতে যাতে পানি না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া রোগমুক্ত বীজ বা শোধন করা বীজ ব্যবহার করলে অথবা রোগ প্রতিরোধী জাত চাষ করলে লালপচা রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
উল্লেখ্য, যে-বছর বন্যার প্রকোপ বেশি হয় সে-বছর রবি মৌসুমের (শীতকালীন) ফসলের ফলন ভালো হয়। এর কারণ হলো বন্যার মাত্রা বেশি হলে হিমালয় থেকে আসা পলির পরিমাণও বৃদ্ধি পাওয়া যায়। এসব পলিতে গাছের বিভিন্ন প্রকার খাদ্য উপাদন থাকে। তাছাড়া বর্ষায় যেসব জমির আমন ধান বিনষ্ট হয় সেসব জমিতে কৃষক সঠিক সময়ে অর্থাৎ অক্টোবরের শেষে বা নভেম্বরের প্রথমেই রবিশস্য যেমনÑ গম, ডাল ও তেল জাতীয় ফসল ইত্যাদির চাষ করতে পারে। ফলে ফলনের পরিমাণ হয় আশানুরূপ।

    লেখক : পিএইচডি গবেষক, উদ্ভিদ রোগবিদ্যা, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
    raziasultana.sau52@gmail.com

Category:

Leave a Reply