বাংলাদেশের সুহৃদ রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির স্ত্রী শ্রীমতি শুভ্রা মুখার্জির জীবনাবসান

49উত্তরণ ডেস্ক: ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জি পরলোকগমন করেছেন। তিনি গত ১৮ আগস্ট ভারতের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫১ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। শুভ্রা মুখার্জি শ্বাসকষ্টজনিত অসুখে ভুগছিলেন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে নয়াদিল্লির আর্মি রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ। শুভ্রা মুখার্জির জন্ম ১৯৪০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের নড়াইলে। ১৯৫৭ সালের ১৩ জুলাই প্রণব মুখার্জির সাথে তার বিয়ে হয়। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে অভিজিৎ মুখার্জি, ইন্দ্রজিৎ মুখার্জি ও শর্মিষ্ঠা মুখার্জি। অভিজিৎ মুখার্জি পশ্চিমবঙ্গ থেকে কংগ্রেসের নির্বাচিত এমপি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন ¯œাতক ডিগ্রিধারী শুভ্রা মুখার্জি। রবীন্দ্রসংগীত ও কবিতা আবৃত্তিতেও পারদর্শী ছিলেন তিনি। চিত্রশিল্পী ও লেখক হিসেবেও পরিচিতি ছিল তার। ‘চোখের আলোয়’ এবং ‘চেনা অচেনায় চিন’ নামে তিনি দুটি বইও লিখেছেন। তিনি গীতাঞ্জলী সংগীতের দল প্রতিষ্ঠা করেন। নড়াইলে এখনো শুভ্রা মুখার্জির আত্মীয়-স্বজন আছেন। ২০১৩ সালে প্রণব মুখার্জির বাংলাদেশ সফরকালে শুভ্রা মুখার্জি স্বামীর সাথে নড়াইলে তার পৈতৃক বাড়িতে গিয়েছিলেন।
শুভ্রা মুখার্জির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার শ্রদ্ধাঞ্জলি
49bবংলাদেশ ও ভারত যদি অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারে হাতে হাত মেলায়, তা হলে বিশ্বের অন্য কোনো দেশের দিকে তাকানোর প্রয়োজন হবে না। গত ১৯ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এ কথা বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জির শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পর নরেন্দ্র মোদির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় শেখ হাসিনার।
শুভ্রা মুখার্জির শেষকৃত্যে যোগ দিতে শেখ হাসিনা ১৯ আগস্ট সকালে দিল্লি আসেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। সেখান থেকে শেখ হাসিনা প্রথমে রাষ্ট্রপতি ভবন ও সেখান থেকে প্রণব মুখার্জির আগের বাসভবন ১৩, তালকাটোরা রোডের বাংলোয় যান শুভ্রা মুখার্জিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। এরপর লোদি রোডের শ্মশানে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শেখ হাসিনা সাক্ষাৎ করেন নরেন্দ্র মোদির সাথে। বেলা পৌনে ১২টায় মোদির ৭ রেসকোর্স রোডের সরকারি বাসভবনে তার সাথে হাসিনার সাক্ষাৎ হয়।
বৈঠকে শেখ হাসিনার সাথে ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এমপি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, ভারতে নিযুক্ত হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, হাসিনার বোন শেখ রেহানা ও কন্যা সায়মা ওয়াজেদ। মোদির সাথে ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।
স্থলসীমান্ত চুক্তি ভারতীয় সংসদে বিনা আপত্তিতে পাস হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে যে নতুন গতি এসেছে, দুই প্রধানমন্ত্রীর সেদিনের সাক্ষাতে সে প্রসঙ্গ উঠে আসে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সংবাদমাধ্যমকে জানান, শোকের আবহে এ বৈঠক ছিল সৌজন্যমূলক। তিনি জানান, সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন নির্বিঘেœ হওয়ায় মোদি সন্তোষ প্রকাশ করার পাশাপাশি হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ভারতের সব দল একবাক্যে এই চুক্তিকে সমর্থন জানিয়েছে, যা বিস্ময়ের। মোদি বলেন, এই সহযোগিতা সারাবিশ্বের কাছে একটা নজির হয়ে থাকবে। মোদি এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপালের (বিবিআইএন) মধ্যে যান চলাচল চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, এ অঞ্চলের বাণিজ্যিক বিকাশে এই চুক্তি অত্যন্ত সহায়ক হবে। এ কথার পরিপ্রেক্ষিতেই হাসিনা বলেন, দুই দেশের বাজার এত বিশাল যে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র বিস্তৃত হলে অর্থনৈতিক দিক থেকে উভয় দেশ প্রভূত লাভবান হবে। অন্য কারও দিকে তাকাতে হবে না।

Category:

Leave a Reply