বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কয়েকজন প্রবীণ নেতার অভিব্যক্তি

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক:

june2018আব্দুল ওয়াহিদ বিএসসি
জাতীয় পরিষদ সদস্য
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের একটি প্রাচীন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক সংগঠন। ষাটের দশকের প্রথমার্ধ্বে সিলেট মুরারীচাঁদ (এমসি) কলেজে অধ্যয়নকালীন বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ হয়েছে। একসময় ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন নিজের মধ্যে লালন করেছি। বাংলাদেশের ইতিহাসের মোড়ে মোড়ে এ দলটি এক একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপন করেছে, যা বাঙালি জাতি ও জনগোষ্ঠীর জন্য বিশাল পাওয়া। এসব প্রাপ্তির পেছনে যার রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রজ্ঞা ও অসাধারণ নেতৃত্ব কাজ করেছে তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তারই আদর্শে ও বিপ্লবী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ধীরে ধীরে নিজেকে এ সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে নেওয়ার স্বপ্ন আরও পল্লবিত হয়, এক সময় জড়িয়েও যাই।
পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে সরকারি চাকরির দিকে না ঝুঁকে ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে বেসরকারি মনুমুখ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিএসসি শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। ’৬৬-এর ৬-দফা আন্দোলন ও ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের পথ ধরেই বলা যায় আমার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে পড়া। ১৯৬৯-এর উত্থাল সময়টাতে সম্মেলনের মাধ্যমে মনুমুখ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। এ সময় সভাপতি ছিলেন জগদীশ চন্দ্র দাম। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে মৌলভীবাজার সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের সুযোগ আসে। তখন সভাপতি ছিলেন প্রদ্যুন্ন কুমার রায়। এ বছরই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদের চরম উত্থান ও নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একচেটিয়া বিজয়ে পশ্চিম পাকিস্তানিরা দিশেহারা হয়ে আমাদের যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা দিলেনÑ ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, তার ঘোষিত ও নির্দেশিত একাত্তরের এই মুক্তি ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালি সর্বশক্তি নিয়োগ করে। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয় আমাদের বহু কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। এর উষালগ্নেই ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় নেতৃবৃন্দ আবদুস সামাদ আজাদ, জিল্লুর রহমান, আবদুর রাজ্জাক প্রমুখের উপস্থিতিতে মৌলভীবাজার মহকুমা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার দুর্লভ সুযোগ হয়। ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে মহকুমা জেলায় রূপান্তরিত হলে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছি। ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের সৌভাগ্য আমার হয়েছে। পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জাতীয় পরিষদ সদস্য হিসেবে কাজ করেছি।
প্রায় চার-পাঁচ বছর মনুমুখ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিএসসি শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার ফলে অনেকটা নামের অংশ হিসেবে বিএসসি শব্দটা যুক্ত হয় এবং একসময় তা মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। শিক্ষকতার মতো সম্মানজনক পেশায় নিয়োজিত থাকার কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছাত্র-অভিভাবক-শিক্ষক এবং সমাজের ও অপরাপর মানুষের যথেষ্ট সহযোগিতা পেয়েছি। পাশাপাশি আওয়ামী রাজনীতির কারণেও অধিক সংখ্যক মানুষের সান্নিধ্যে আসার, তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা পাওয়ার সুযোগও আমার হয়েছে। এসবের কারণেই হয়তো দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যেমন মনুমুখ ইউনিয়নের প্রশাসক হিসেবে মনোনীত হওয়ার সুযোগ হয়েছে তেমনি ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে প্রথমবারের মতো মনুমুখ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩, ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ হয়েছে। একসময় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সংগঠনেরও সভাপতি ছিলাম।
’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনে এক গৌরবময় ঘটনা। সীমাবদ্ধতার কারণে সরাসরি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে না পারলেও দেশের ভেতরে মুক্তিযুদ্ধের সহায়ক শক্তি হিসেবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা অনেকেই দায়িত্ব পালন করেছি। সে সময়কার একটি ঘটনার কথা মনে পড়ছে। মৌলভীবাজারের শেরপুর যুদ্ধে খলিলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মনীন্দ্র লাল পোদ্দার এবং তখনকার সময়ের আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন মিয়া, ইয়াওর মিয়া গং অনেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৫০০ পরোটা, মাংস ইত্যাদি নিয়ে সেখানে যাই। হঠাৎ সশব্দে গোলাগুলি ও বিমান আক্রমণ শুরু হলো। আত্মরক্ষার জন্য আমরা শেরপুর আপ্তাবউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে একটি গর্তে আশ্রয় নেই। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সাংগঠনিক কর্মকা- পরিচালনা করতে গিয়ে সঞ্চিত অভিজ্ঞতা অনেক। তবে এ ক্ষুদ্র পরিসরে তা বর্ণনা করার সুযোগ কম। পারিবারিকভাবে আমরা আওয়ামী ঘরানার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে আওয়ামী লীগ যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে তখন আমার স্ত্রী বেগম হুসনে আরা ওয়াহিদ মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ নির্বাচনী এলাকার সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
আওয়ামী লীগের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে প্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রে সফলতাও রয়েছে প্রচুর। বলতে দ্বিধা নেই, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ এখন সোনালি যুগ অতিক্রম করছে। তারই নেতৃত্বে অতীতের মতো আগামীতেও আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদহীন একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন, দারিদ্র্য, শোষণ ও দুর্নীতিমুক্ত জনকল্যাণমুখী সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, দল হিসেবে আওয়ামী লীগ আরও ঐক্যবদ্ধ সুসংহত শক্তিশালী হয়ে উঠবে। ৬৯তম বর্ষপূর্তিতে এটাই আমার চাওয়া।
june2018আ. ন. ম. শফিকুল হক
জাতীয় পরিষদ সদস্য
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
রাজনৈতিক কর্মকা- : ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিলেট জেলা শাখার অধীনে ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে কর্মকা- শুরু করি। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ৬-দফা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করি। ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করি। এ বছর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করে সিলেট জেলার বিশ্বনাথ থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ি। ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণায় অংশগ্রহণ করি। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে কাজ করি। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার সহোদর ছোট ভাই নিখোঁজ হন এবং আমার খালাতো ভাই ও মামাতো ভাই শাহাদাতবরণ করেন।
স্বাধীনতা-উত্তর : ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করি। আমাকে বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়।
১৯৭৫ সালের পটভূমি পরবর্তী : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সপরিবারে হত্যাকা-ের পর কিছু সংখ্যক নেতার বিশ্বাসঘাতকতা ও দলত্যাগের কারণে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন করা হয়। আমাকে সেই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। উক্ত কমিটির নেতৃত্বে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করি। এ সময় পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে এবং নির্যাতন করার পর ছেড়ে দেয়।
১৯৮৪ সালে আমাকে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন ২০০২ সালে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হই। ২০১৩ সালে বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দান করেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের প্রতিটি কর্মকা-ের সাথে জড়িত।
কারাবরণ : ১৯৭৫ সালে কালরাত্রির পর পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে নির্যাতন করে এবং পরে ছেড়ে দেয়। ১৯৮৭ সালে স্বৈরাচার এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনের কারণে দীর্ঘদিন কারাবরণ করি।
আন্দোলন সংগ্রাম : ১৯৭৫ সালের পর প্রতিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করি। খন্দকার মোশতাক, জেনারেল জিয়াউর রহমান, জেনারেল এরশাদ ও খালেদা জিয়ার অপশাসন-বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। ২০০৬ সালের এক-এগারোর সময় সেনাসমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে জনমত ও আন্দোলন সংগঠিত করার চেষ্টা করি।
সাংবাদিকতা : ষাটের দশকে সাপ্তাহিক বাংলার বাণী’র ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ করি। ’৭৫-পরবর্তী সময়ে সাপ্তাহিক খবর ও দৈনিক খবর’র সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করি। এছাড়া অন্যান্য পত্রিকার সাথে সংযুক্ত ছিলাম।

june2018মো. আব্দুল লতিফ অ্যাডভোকেট
জাতীয় পরিষদ সদস্য
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
আমি ১৯৫৩ সালে ছাত্রলীগ সংগঠনের সাথে জড়িত হই। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে ছাত্র হিসেবে নির্বাচনের প্রচার কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ করি। সেই সময় গ্রামাঞ্চলে মাইকের প্রচলন না থাকায় টিনের চোঙ্গার মাধ্যমে হাটে-বাজারে প্রচার কাজ চালাই। ১৯৫৫ সালে কলেজ জীবন শুরু হয়, সে মুহূর্তে আওয়ামী লীগ মেনিফেস্টো এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দিনাজপুর গোড়-এ শহীদ মড় ময়দানে জনসভায় ভাষণ শুনে তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ি এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শেষ করে আওয়ামী লীগে যোগদান করি। আমি ১৯৬৪ সালে দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যকরী পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হই।
বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন : আমি ১৯৬৪ সালে দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচিত হই। এরপর ১৯৬৭ সালে প্রচার সম্পাদক পদে নির্বাচিত হই। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বালুরঘাট কুঠি কাচারী অফিস ভাড়া নিয়ে ৭নং জোনের অধীনে মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ গঠিত এবং উক্ত কমিটিতে আমি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। ১৯৭২-৭৫ সাল পর্যন্ত দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করি। এরপর হতে আমি দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করি। ২০১২ সালের ২৩ ডিসেম্বর দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হই।
রাজনৈতিক জীবনে স্মরণীয় ঘটনা : আমি বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হই। আমি এবং মরহুম শাহ মাহতাব আহমেদ এমপি ও মরহুম আমজাদ হোসেন এমপি-সহ ১৯৭৫ সালের জুলাইয়ের শেষের কোনো একদিন বিকেলে গণভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে দেখা করতে যাই। গিয়ে দেখি তিনি গণভবনের পূর্ব দিকে লেকের ধারে দাঁড়িয়ে আছেন। আমরা সেখানে গেলাম, সালাম দিলাম এবং কুশলবিনিময় হয়। দেখি যে লেকের কিছু মাছ সিঁড়ির কাছে এসেছে মরহুম শাহ্ মাহতাব ভাই সিঁড়ির দিকে যেতে শুরু করলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, মাহতাব মাছকে ভয় দেখাস না, দেখবি কিছুদিন পর মাছগুলো আমার হাত থেকে খাবার নেবে। তারপর আমরা বঙ্গবন্ধুর সাথে গণভবনের ড্রইংরুমে এসে বসি এবং আমি বঙ্গন্ধুর পাশের সোফায় বসেছিলাম। হঠাৎ বঙ্গবন্ধু ড্রইংরুম হতে বের হয়ে যান এবং একজন ভদ্রলোককে জড়িয়ে ধরে ড্রইংরুমে এলে আমি আমার সোফা ছেড়ে পরের সোফায় বসি এবং বঙ্গবন্ধু ভদ্রলোকটিকে তার পাশের সোফায় বসতে দেন। তারপর বঙ্গবন্ধু আমাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি যখন ১৯৫০ সালে রংপুরে আওয়ামী লীগের সংগঠন করার জন্য যাই তখন এই ভদ্রলোক আমার সঙ্গে বাইসাইকেলে বিভিন্ন গ্রাম গঞ্জে ঘোরেন।’ তখন আমার কাছে মনে হয়েছে, ১৯৫০ সালের ঘটনা আর আজ ১৯৭৫ সালে এর মধ্যে বহু ঘটনা ঘটে গেছে। দীর্ঘদিন পর বঙ্গবন্ধু যে তাকে মনে রেখেছেন এটি একজন মহা নেতার পক্ষেই সম্ভব। কম্পিউটার ফেল করতে পারে; কিন্তু বঙ্গবন্ধুর স্মরণশক্তি কখনও ফেল করেনি।
আগামীর প্রত্যাশা : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা মানবতার নেত্রী এবং গণতন্ত্রের নেত্রী। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতু নির্মাণের টাকা দেবে না মর্মে ঘোষণা দিলে জননেত্রী শেখ হাসিনা বিদেশি সহায়তা না নিয়ে পদ্মাসেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। বর্তমানে পদ্মাসেতু আর স্বপ্ন নয়; বরং দৃশ্যমান বাস্তব। একমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনাই এমন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারেন। বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন করার ক্ষেত্রে জননেত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা অকল্পনীয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে সফলভাবে উৎক্ষেপণ হয়েছে এবং তার সুফল বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশও সুফল ভোগ করবে।

Category:

Leave a Reply