বিএনপির রাজনীতি : শুধুই বাকোয়াজ

Posted on by 0 comment

বিএনপির অপকর্ম দেশের সীমা ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বেও এর সমালোচনা হচ্ছে। তাদের কুকর্ম নিয়ে আদালত রায় দিচ্ছেন। সাম্প্রতিককালে কানাডার আদালত দলটিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে অভিহিত করেন।

44আশরাফ সিদ্দিকী বিটুঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ১০ বছর পেরুতে চলল ক্ষমতার বাইরে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হয়। এরপর থেকেই বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা বাড়তে থাকে। সেই সংসদে তাদের উপস্থিতিও ছিল সমালোচিত, খালেদা জিয়া মাত্র ১০ দিন সংসদে উপস্থিত ছিলেন। তখন বিএনপি রাজপথে তেমন সরব হতে পারেনি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের মতো অসাংবিধানিক দাবি নিয়ে কিছুদিন কথা বলে, উচ্চ আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনর্বহালের দাবিতেও সভা-সমাবেশ করে। কিন্তু যৌক্তিক কোনো আন্দোলন যাতে জনমানুষের সমর্থন আছে সেরকম কোনো কিছু করতে পারেনি। রহস্যজনক ব্যাপার হলো, ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকেই তারা বিরোধিতা শুরু করে। এই মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নানা অপচেষ্টা এবং বিদেশি লবিস্ট নিয়োগ করে। জামাতের সাথে তাদের সম্পর্ক অচ্ছেদ্য, যা ঐতিহাসিক ও স্বার্থসংশ্লিষ্টও। এজন্য বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা করেছে এবং তাদের দলের বড় নেতাও যুদ্ধাপরাধের অপরাধে আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ফাঁসির দ- পেয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে যখন জামাত নেতা কাদের মোল্লার বিচারের রায় দেন তখন থেকে জামাত সারাদেশে সহিংসতা শুরু করে, তারপর ফেব্রুয়ারি শেষে রাজাকার শিরোমণি দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর দ-াদেশ দেওয়ার পর সহিংসতা আরও বাড়ে। সারাদেশে অভাবনীয় তা-ব চালায়। সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে বলে পবিত্র মসজিদের মাইক দিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে রাতের অন্ধকারে মানুষ পুড়িয়ে মারে, রাস্তা কেটে যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়ে শাহবাগ আন্দোলনের বিরোধিতা করে খালেদা জিয়া বক্তৃতা দেন। বিএনপি আর জামাত মিলে হেফাজতকে সামনে আনে। হেফাজতের মাধ্যমে মে মাসে ঢাকার মতিঝিলে তা-ব চালায়, বায়তুল মোকাররমে হাজার হাজার কোরআন শরিফ পুড়িয়ে দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকাবাসী আরও সন্ত্রাস তা-ব থেকে রক্ষা পায়। তবে বছরজুড়ে সারাদেশে বিএনপি-জামাতের সহিংসতা চলতে থাকে, ৪০০-এর বেশি লোককে হত্যা করা হয়। বাসে-ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়। বিএনপির রাজনৈতিক কমর্সূচি জঙ্গিরূপ ধারণ করে। পাশাপাশি সংসদে বিরোধী দলে থাকার সময়ে পুরো সময়টায় জনগণের কাছে না গিয়ে, বিদেশি কূটনৈতিক যোগাযোগ বিএনপি খুব বাড়িয়ে দেয়। যদিও তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
দশম জাতীয় সংসদের প্রাক্কালে ২০১৩ সালের শেষে বিএনপি ও তাদের জোট অবরোধ দেয়, কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পরে শুধু ডিসেম্বরের শেষ ১৬ দিনে সহিংসতা চালিয়ে ৩৪ জনকে হত্যা করে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করার পরও বিএনপি নির্বাচনে আসেনি; বরং নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে পেট্রলবোমায় নিরীহ মানুষ, শিশু, বাসযাত্রী, নারী হত্যা করে। হাজার হাজার গাড়িতে আগুন দেয়। নির্বাচন কমিশনে দল হিসেবে জামাতের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাওয়ায় জামাতের সহিংসতা আরও বিধ্বংসী রূপ নেয়, যাতে পূর্ণ প্রত্যক্ষ সহযোগিতা দেয় বিএনপি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর জাতি এমন সহিংস তা-ব কখনও দেখেনি। রাতের অন্ধকারে মানুষ হত্যা, যানবাহনে আগুন দিতে গিয়ে বিএনপি-জামাতের কয়েকশ নেতাকর্মী হাতেনাতে ধরা পড়ে। নির্বাচনে না এসে বিএনপির এই সন্ত্রাস, পেট্রলবোমায় মানুষ হত্যা কোন গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করে চেয়েছিল, তার কোনো ব্যাখ্যা বিএনপি দিতে পারেনি। শুধু জামাত নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না বলে বিএনপিও নির্বাচনে এলো না। নির্বাচনের দিন হতে শুরু করে পরের কয়েক মাস আবারও সহিংসতা চালায়, সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করে। রাতের আঁধারে হামলা চালিয়েও কোনো ফল হলো না। আর বড় বড় নেতারা আল-কায়দার মতো লুকিয়ে ভিডিও বার্তা পাঠাতে থাকেন। মানুষের জীবন বিপন্ন এবং দেশের ক্ষতি করে নির্বাচনে না এসে বিএনপি দেশবাসীর কাছে ‘সন্ত্রাসী দল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। জনমানুষের জন্য কল্যাণকর কর্মসূচি বিএনপি দিতে পারেনি। বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা হতাশ হন, যদিও তাদের ঢাকা ও লন্ডনের নেতৃত্ব নিয়ে দোটানা দলকে আরও বির্পযস্ত করে। সঠিক নেতৃত্ব না থাকলে দলের ও দেশের দুটোরই ক্ষতি হয়, যার প্রমাণ আজকের বিএনপি।
২০১৪ সালের পরের মাসগুলো শুধু বাক্সবন্দি ব্রিফিং করে কাটিয়ে দিয়ে ২০১৫ সালের শুরু থেকেই আবার তা-ব সহিংসতা শুরু করে, যা ৯২ দিন ধরে চলে। খালেদা জিয়া লোকজন নিয়ে আরাম-আয়েশ করে অফিসে বসে থাকেন। মানুষ হত্যার হোলিখেলায় তিনি যেন আদিম সুখ পেলেন। ঘোষণা দিয়েছিলেন সরকার উৎখাত না করে ঘরে ফিরবেন না। কিন্তু আদালতে হাজিরা দিয়ে পরাজিত সৈনিকের বেশে ঘরে ফেরেন। শত শত মানুষ পুড়িয়ে মারল অথচ কোনো সমবেদনা নেই। উল্টো তাদের দলের কর্মী যারা বোমা হামলা করতে ও বানাতে গিয়ে নিহত হলো তাদের ক্ষতিপূরণ দিল। চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি, বিএনপির হলো সেই দশা। ধর্মের কথা তাদের কানে গেল না। জনগণ দেখল ক্ষমতার জন্য বিএনপির সন্ত্রাস ও হত্যার রাজনীতির নমুনা।
মুখে ইসলামের কথা বলে ফেনা তুললেও বিএনপি যে ক্ষমতার জন্য স্খলনের শেষ সীমায় নামতে পারে তার প্রমাণ হলো ইসরায়েল লিকুদ পার্টির নেতার সাথে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের বৈঠক, যা ইসরায়েলের নাগরিক নিজেই সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন এবং গণমাধ্যমে বিস্তারিত বলেছেন। আন্দোলনে ব্যর্থ হলেও আসলে তলে তলে তাদের ষড়যন্ত্র যে অব্যাহত ছিল তা আসলাম চৌধুরীর মাধ্যমে জাতির সামনে চলে আসে। সরকার হটানো ও যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। লন্ডনে বসে তারেক রহমান নানা ষড়যন্ত্র করেও ব্যর্থ হয়। অর্থপাচারের মামলায় তারেকের সাত বছর জেল ও ২০ কোটি টাকা জরিমানা হলে, আরও চুপসে যায় বিএনপি। কিন্তু গলাবাজি কমে না। মিথ্যার বেসাতিই তো তাদের রাজনীতি।
শুধু পার্টি অফিসে বসে হুমকি-ধমকি যে ‘বাকোয়াজ’ তা বুঝতে কারও অসুবিধা হয় না। সম্মেলন হলে দল চাঙ্গা হবে এমন ধোঁয়া তুলে সম্মেলন করে কয়েক মাস পর জাম্বু সাইজ কমিটি দিল, এতে যুদ্ধাপরাধীদের বংশধরদের জায়গা দিয়ে পুনর্বার মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করল। জিয়াউর রহমান যেমন যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন করেছিল, খালেদা জিয়াও যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রিত্ব দেওয়ার পর তাদের বংশধরদের পুনর্বাসন করেছে। বিএনপির রাজনীতি যে শুধু আওয়ামী লীগ-বিরোধীদের ক্লাব এটাও পুনরায় স্পষ্ট হলো। বুঝতে কারও বাকি রইল না যে বিএনপি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে কোনো বিশ্বাস নেই। আজ যখন সার্বভৌমত্ব নিয়ে তাদের আহাজারি চলে তখন সবাই বুঝে, এখানেও তাদের দূরভিসন্ধি রয়েছে।
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কদিন অযথা মাতামাতি করল। অথচ তাদের সুপারিশকৃত নাম থেকে কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে প্রধান কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হলে বিএনপির খেদোক্তির শেষ নেই। কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা বিএনপি-জামাতের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে নাÑ এটাই স্বাভাবিক। আমাদের স্মরণে আছে, যুদ্ধাপরাধীদের অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিকে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি বানিয়েছিলেন। স্বাধীনতাবিরোধীরাই তাদের আপনজন! এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় নির্বাচনে যাবে না বলে কদিন মাঠ গরম করার ব্যর্থচেষ্টা করল, একেক নেতা একেক কথা বললেন। ঠিকই আবার সম্প্রতি হয়ে যাওয়া উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিল। কয়েকজন নেতা বলা শুরু করলেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার চাই। সহায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানের কোথাও নেই। এ নিয়ে প্রস্তাব দিলেই কি বা না দিলেই কি যায় আসে। উদ্ভট এমন ভাবনা বিএনপির দ্বারাই সম্ভব। ২০৩০ নিয়ে রূপরেখা তো একটা দিয়েছিল, যা আওয়ামী লীগের রূপকল্পের অনুকরণেই করা। উদ্ভট-অবান্তর প্রস্তাবনা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার দিন গত হয়েছে।
বিএনপির নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এখন স্পষ্ট, সেক্রেটারি বা অন্য সিনিয়র নেতা এক কথা বলেন, আবার নয়াপল্টন থেকে আরেক কথা বলা হয়। মনে হয় নিজেদের মধ্যে বিশ্বাস নেই। দলের স্থায়ী কমিটির সভায় মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়, আবার নতুন কমিটির সভায় অনেকে উপস্থিতই থাকেন না। এমাজউদ্দীন যদি এক কথা বলেন, ফখরুল তা আবার ডিনাই করেন। পত্রিকায় খবর বের হয়, খালেদা জিয়া জেলে গেলে দল কি করে চলবে! আবার মওদুদ বলেন, খালেদা জিয়ার শাস্তি হলেও নির্বাচন করতে পারবে। অবস্থাদৃষ্টে কারও কাছে এটা মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে, বিএনপির ভেতরেই অনেকে খালেদা জিয়াকে আর চান না। আবার অনেকে তো তারেকের ঘোরতর বিরোধী।
বিএনপির অপকর্ম দেশের সীমা ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বেও এর সমালোচনা হচ্ছে। তাদের কুকর্ম নিয়ে আদালত রায় দিচ্ছেন। সাম্প্রতিককালে কানাডার আদালত দলটিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে অভিহিত করেন। আদালতের রায়ের বলা হয়, ‘বিএনপির ডাকা হরতাল বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। বিএনপি কর্মীদের হাতে মালামালের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। কিন্তু বিএনপির দাবি-দাওয়া সরকারকে মানতে বাধ্য করতে লাগাতার হরতালের কারণে সৃষ্ট সহিংসতা প্রমাণ করে এটি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের বাইরে চলে গেছে।’ সারাদিন সাধু সাজার ভান করলেও বিশ্বে ঠিকই প্রমাণিত হলো বিএনপি সন্ত্রাসী দল। বিএনপি হয়তো ভুলে গেছে, মানুষকে বোকা বানানোর দিন শেষ, মুখে মধু আর কর্মে অসাধু হয়ে রাজনীতি করা বড়ই কঠিন।
এদেশে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা যে বিএনপি-জামাত আর নতুন কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। জিয়ার সময় থেকে উগ্র-ইসলামপন্থি, স্বাধীনতাবিরোধী ধর্ম ব্যবসায়ীরা রাজনীতি করার সুযোগ পাওয়ার পর থেকে ইসলামিকরণের নামে জঙ্গিবাদের জন্ম হয়। আশির দশকে ও নব্বইয়ের শুরুতে অনেকে তালেবানিদের সাথে যোগ দিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে সেই ধরনের উগ্ররাষ্ট্র ব্যবস্থা চালুর নাম করে জঙ্গি কর্মকা- চালাতে শুরু করে। বিএনপি জামাতকে সাথে নিয়ে এসবকে আরও উসকে দেয়। ফলে দেশের জঙ্গিবাদের প্রবল উত্থান হয়। যদিও বিএনপি-জামাত জোট সরকার তা অস্বীকার করে, এখনও করে যাচ্ছে। ২০১৪ সালে ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ক্ষমতায় থাকার সময় খালেদা জিয়া জঙ্গিদের অস্তিত্বই স্বীকার করেননি। বীণা সিক্রি বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাসবাদের উৎখাতে শেখ হাসিনার সাফল্যের প্রশংসা করেছিলেন। বিএনপি যখন জঙ্গিদের জন্য কাঁদে তখন মনে হয়, সন্তান হারানোর ব্যথা তাদের অন্তরে। আর সরকারকে দোষারোপ করে আদতে তাদের জঙ্গি কানেশনকে ঢাকতে চায়। শাক দিয়ে কিন্তু মাছ ঢাকা যায় না।
এ সময়ে আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে গত কয়েক বছরে জনগণ তো আসেনি, তাদের নেতাকর্মীরাও হতাশ হয়েছে। মুখে বুলি আওড়ানো ছাড়া কোনো কিছুই করা সম্ভব নয়। কারণ আন্দোলন সফল করার মতো কোনো জনভিত্তি বিএনপির নেই। সরকার কাউকে আন্দোলনের নামে দেশের ক্ষতি করতে দিক তা দেশবাসীও চাইবে না। সুষ্ঠু আন্দোলন করে মানুষকে তাদের দিকে ধাবিত করার মতো সক্ষমতা বিএনপির আগেও ছিল না, এখনও নেই।
নানান বিষয়ে উল্টাপাল্টা বলে সময় কাটানোই বিএনপির বর্তমান রাজনীতি। কারণ আগামী নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া তাদের কিছু করণীয় নেই। কোনো ইস্যু নেই যা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, ইস্যুকে পুঁজি করার মতো সামর্থ্যও নেই। তবে যদি আবারও সহিংসতার চেষ্টা করে আর তাদের ফেরার পথ থাকবে না, জনগণকে সাথে পায়নি, পাবেও না। জামাতের সঙ্গ না ছাড়লে আরও জনবিচ্ছিন্ন হবে, আর জামাত বা অন্য প্রভুদের কথায় যদি আগামী নির্বাচনে না আসে, তাদের নিবন্ধন তো বাতিল হবেই, অগস্ত্য যাত্রাও কেউ ঠেকাতে পারবে না।

Category:

Leave a Reply