বিএনপি-জামাতের মদতেই গ্রেনেড হামলা

২১ আগস্টের আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা

২১ আগস্টের আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা

উত্তরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের প্রত্যক্ষ মদত ও পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা সম্ভব হতে পারে না। এটা আজ প্রমাণিত সত্য। আর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা বেগম খালেদা জিয়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায় কখনোই এড়াতে পারেন না। গত ২১ আগস্ট বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ভয়াল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই গ্রেনেড হামলা মামলায় খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়নি; কিন্তু এই হামলায় তার সহযোগিতা রয়েছে। ঐ সময় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন, তাই এই হামলার দায়-দায়িত্ব তিনি (খালেদা জিয়া) এড়াতে পারেন না। বোধহয় খালেদা জিয়া ঐ হামলার সময় শোকবার্তা তৈরি করেই রেখেছিলেন যে, আমি মরলে পরে একটা কন্ডোলেন্স (শোকবার্তা) জানাবেন। সেটাও না-কি তার প্রস্তুত করা ছিল; কিন্তু আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন, সেটাই বড় কথা। আর অনেক পরে মামলা করে আমরা একটা রায় পেয়েছি। হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্সের আপিলের শুনানির জন্য পেপারবুক তৈরি হচ্ছে। আশা করি, আমরা বিচার পাব; কিন্তু যাদের আমরা হারিয়েছি তাদের তো আর ফিরে পাব না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের ঐ গ্রেনেড হামলায় আমার বেঁচে থাকার কথা নয়। ওরা (বিএনপি-জামাত জোট) ভাবেনি যে বেঁচে থাকব। অনেক ছোট ছোট ঘটনা আমি জানি। যারা হামলা করেছে তারা এক জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। সেখান থেকে ফোন করেছে যে, আমি মারা গেছি কি না? শেখ হাসিনা বলেন, শুধু এটুকুই বলব, আমি বেঁচে আছি। মৃত্যুকে ভয় করি না, মৃত্যুভয়ে আমি কখনোই ভীত ছিলাম না, এখনও নই।

‘তারেক ১০ মাস শ্বশুরবাড়িতে কী করেছিল’
সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হামলার পর আপনারা অনেক তথ্য বের করেছেন। এই তথ্যটা বের করুন, খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ধানমন্ডির ৫ নম্বরে তার শ্বশুরবাড়িতে এসে ১০ মাস থাকল; কিন্তু পহেলা আগস্ট চলে গেল ক্যান্টনমেন্টের বাসায়। ঐ ১০ মাস ঐ বাড়িতে বসে সে কী করল? তার কাজটা কী ছিল? তিনি বলেন, গ্রেনেড হামলায় অজ্ঞাতনামা দুইজন যে মারা গেল তাদের খবর কেউ নেয়নি, লাশও কেউ নেয়নি। এখন আস্তে আস্তে সবই বের হচ্ছে।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, সাহারা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এসএম কামাল হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণ
বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় নিহতদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হয়েছে। এ সময় সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-সাম্প্রদায়িকতা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করার শপথ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রেনেড হামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবির মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে পালিত হয়েছে ভয়াল একুশে আগস্টের ১৫তম বার্ষিকী। আওয়ামী লীগসহ স্বাধীনতার পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা খুনিদের দ্রুত বিচারের কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গ্রেনেডের স্পিøন্টারবিদ্ধ জীবন্মৃতদের দাবি, ঘাতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি। গত ২২ আগস্ট সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গ্রেনেড হামলার স্থলে স্থাপিত অস্থায়ী শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি। প্রথমে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

Category:

Leave a Reply