বিএনপি ভোট পাওয়ার সকল যোগ্যতা খুইয়েছে

uttaranমুহম্মদ শফিকুর রহমান: অল্পদিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন। আশা করা যায় ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে হবে। সবচে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। ১৯৯৬-২০০১ পাঁচ বছর এবং ২০০৯ থেকে অদ্যাবধি রাষ্ট্র পরিচালনাকালে সকল আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সূচকে দেশকে বদলে দিয়েছেন কেবল তা নয়, বঙ্গবন্ধুর মতো “সাত কোটি মানুষকে দাবায়া রাখতে পারবা না” এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে আগামী নির্বাচনেও তার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের নেতৃত্ব দেবেন। পক্ষান্তরে তার প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি দুর্নীতিপরায়ণ এবং সাজাপ্রাপ্ত নেতৃত্ব নিয়ে নির্বাচনে যাবে কি যাবে না এখনও বোঝা যাচ্ছে না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও মহাজোট নেত্রী বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা যেখানে বিশ্বের অল্প ক’জন সৎ সাহসী ও মেধাবী রাষ্ট্রনেতার অন্যতম, যিনি “Mother of Humanity”, “Champions of the Earth” এমনি অসংখ্য মর্যাদাপূর্ণ অভিধায় সিক্ত সেখানে বিএনপি তথা স্বাধীনতা-বিরোধী জামাত-শিবির-মুসলিম লীগের ২০-দলীয় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এতিমের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দ-িত হয়ে কারাভোগ করছেন। ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি (১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল) দেশটাকেই সন্ত্রাস ও লুটপাটের আখড়া বানিয়েছিলেন এবং সন্ত্রাসী কর্মকা-ের পতন কাশিমবাজার কুঠি ‘হাওয়া ভবনের’ প্রতিষ্ঠাতা জিয়া-খালেদার পুত্র তারেক রহমানও দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘ সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। শোনা যায়, লন্ডনের একটি অভিজাত এলাকায় সপরিবারে বসবাস করছেন। প্যালোসিয়াল বাড়ি, দামি গাড়ি, সিকিউরিটি, কর্মচারী নিয়ে ব্যয়বহুল জীবনযাপন তার। লেখাপড়ার দিক দিয়ে অর্ধশিক্ষিত, মায়ের মতো সশিক্ষিতের একটু ওপরে নয়, তারপরও মাঝেমধ্যে টিভি পর্দায় গলাবাজি করায় জাতিকে সবক দেবার চেষ্টা করেন, তাকেই খালেদা জিয়ার অলটারনেটিভ ভাবা হচ্ছে। তারেক রহমানের ব্যয়বহুল জীবনযাপনের অর্থ কোত্থেকে আসে তা একটি রহস্য। তবে তারা মাতাপুত্র দুজনই দুর্নীতির দায়ে সাজাভোগ করছেন। একবার শোনা গেছে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়া ১৪৮টি, মতান্তরে আরও অধিক, সুটকেস নিয়ে হজ করতে যান। সুটকেসগুলোতে কি ছিল তা আজও রহস্যাবৃত। অল্পদিনের জন্য গিয়েছে, নিশ্চয়ই কেবল পরিধেয় বস্ত্র ও অন্যায় প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য নিয়ে গেছেন। তাহলে কি ছিল সুটকেসগুলোতে। কাস্টমস কিংবা ইমিগ্রেশন জানেন কি না জানি না, তবে বাজারে অনেক মুখরোচক গল্প আছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার তাদের গণমুখী রাজনীতি ও অর্থনীতির অভূতপূর্ণ অগ্রগতি পুঁজি করে ভোট চাইতে নামবেন। সচেতন নাগরিকগণ মনে করেন শেখ হাসিনার প্রতিদ্বন্দ্বী বলে কিছু নেই, যা আছে তা হলো দুর্বল অসম প্রতিপক্ষ। শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনার কাল বিশ্লেষণ করলে যা উঠে আসে তা হলো :
১.    বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের ব্যবস্থা করেন;
২.    যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা করেন;
৩.    বিশ্বব্যাংককে চ্যালেঞ্জ করে নিজস্ব অর্থে দেশের সবচে’ বড় সেতু ‘পদ্মাসেতু’ নির্মাণ করে চলেছেন। এরই মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কাজ হয়েছে। কাজ এগিয়ে চলেছে;
৪.    ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ সার্থকভাবে সম্পন্ন করেছেন;
৫.    বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করে মহাকাশে বাংলাদেশের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন;
৬.    বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এর কাজও এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে;
৭.    নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লাট নির্মাণ করছেন;
৮.    এ মুহূর্তে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৮ হাজার মেগাওয়াট;
৯.    কর্ণফুলি টানেলের নির্মাণকাজ চলছে;
১০.    পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণ;
১১.    রাজধানী ঢাকায় একটার পর একটা ফ্লাইওভার নির্মাণ;
১২.    ঢাকার রাস্তায় মেট্রোরেল-এর নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে;
১৩.    পদ্মার ওপারে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছেন;
১৪.    জেলায় জেলায় গড়ে তোলা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল;
১৫.    হাইওয়েগুলো চার-লেন থেকে আট-লেনে উন্নীত করা হচ্ছে;
১৬.    আজ বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, বছরে উৎপাদন ৪ কোটি টন খাদ্য;
১৭.    মাছ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ তৃতীয়;
১৮.    ইলিশ উৎপাদনে প্রথম;
১৯.    সবজি উৎপাদন চতুর্থ;
২০.    এখন বাংলাদেশে সবরকম ফল উৎপাদন হচ্ছেÑ আমাদের কৃষিবিজ্ঞানীরা বিশ্বকে তাক লাগানোর মতো গবেষণা করে চলেছেন;
২১.    এখন শিক্ষার হার ৭২ শতাংশ;
২২.    গড় আয়ু ৭১ বছর;
২৩.    বছরে পাঁচ মাস পশ্চাদপদ এলাকাসমূহে ১০ টাকা সের দরে চাল বিক্রয়;
২৪.    এখন মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৭৬২ মার্কিন ডলার;
২৫.    বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার;
২৬.    জিডিপি ৭.৬৮ শতাংশ;
২৭.    মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশের নিচে;
২৮.    এর মধ্যে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও সবরকম সহযোগিতা দান;
২৯.    বাংলাদেশ নেভি’র জন্য যুদ্ধজাহাজ ক্রয়;
৩০.    বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন;
৩১.    বঙ্গোপসাগরে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা;
৩২.    ভারতের সাথে বর্তার এগ্রিমেন্ট বাস্তবায়ন;
৩৩. রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রশ্নে বিশ্বের সমর্থন আদায়Ñ

এর জন্যই শেখ হাসিনা বিশ্বের অল্প ক’জন সফল এবং প্রভাবশালী রাষ্ট্রনেতার অন্যতম এবং বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত অবস্থান থেকে উন্নয়নশীল পর্যায়ে বিশ্বের রোলমডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শেখ হাসিনার জীবনের ওপর ২০ বার আক্রমণ হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে রক্ষা করেছেন এবং জাতির নেতৃত্ব দেবার শক্তি দিয়েছেন।
বিশ্বের বড় বড় দেশের রাষ্ট্র ও প্রধান বাংলাদেশের অগ্রগতির দেখে প্রশ্ন করেনÑ
প্রশ্ন : আপনার ম্যাজিকটা কী?
শেখ হাসিনা : কোনো ম্যাজিক নেই। আমরা একটা আদর্শ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করি। সে আদর্শ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, যা আমাদের জাতির পিতা স্বাধীন জাতি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিয়ে গেছেন।
এ লেখা যখন লিখছি তখন প্রেসক্লাবে তাদের একটা সমাবেশ চলছিল। সমাবেশ না বলে টেবিল বৈঠক বলাই শ্রেয়। কানে এলো এক বড় নেতা বলছেন, আওয়ামী লীগ জানে নির্বাচন এলে তাদের ভরাডুবি হবে, তাই দলটি সরকারকে দিয়ে দেশব্যাপী নির্যাতন চালাচ্ছে। গণতন্ত্র মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। কথাটা যে মিথ্যা তা তারা নিজেরাও জানে, তবু বলছে। সেই কবে কোন এক মিথ্যুক বলেছিল, ‘একটা মিথ্যাকে বারবার বলতে থাকলে তা সত্য-এ পরিণত হয়।’ বিএনপি নেতারা জানেন না সময়টা অনেক আগে পার হয়ে গেছে এবং বেশ কয়েকটি জেনারেশন চলে গেছে এবং আমরা বাংলাদেশের নাগরিকরা প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্যাটেলাইট যুগে বসবাস করছি। হাঁটছি উন্নয়নশীল বাংলাদেশের মহাসড়কে। সামনে উন্নত বাংলাদেশ-এর সিঁড়ি। শিক্ষার হার এখন ৭২ শতাংশ। এখনকার জেনারেশনকে বোকা বানানো অত সহজ নয়। বানানো যাবে না। মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত ফটোব্যবসায়ী শহীদুল আলমকে নামানো হয়েছিল। সফল হয়নি।
দলটির জন্মই মিথ্যের ওপর। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে একজন আর্মি অফিসার হিসেবে জিয়াকে দিয়ে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করানো হয়। তৎকালীন চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ নেতা জহুর হোসেন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, এবিএম মহিউদ্দিন, আবদুল হান্নান প্রমুখ তাকে দিয়ে এ ঘোষণা পাঠ করান। অথচ জিয়াকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ বানিয়ে বিএনপি গঠন করা হলো। জন্মটাই মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
দ্বিতীয় মিথ্যাÑ যিনি মেট্রিক পাস করতে পারেন নি তাকে বানালেন দলের ‘চেয়ারপারসন’, ডাকছেন ‘ম্যাডাম’ বলে। কাকের গায়ে ময়ূরপুচ্ছ লাগানো হলো দুটি ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করে।
তৃতীয় মিথ্যাÑ কোনোরকমে মেট্রিক পাস তারেক রহমানকে বাঘা বাঘা নেতাদের ‘ভাইয়া’ ডাকা। নিশ্চয়ই ভয়ে।
চতুর্থ মিথ্যেÑ যত উন্নয়ন হয়েছে সব করেছে বিএনপি। যদি প্রশ্ন করা হয় একটি দৃশ্যমান উদাহরণ দিন। দিতে পারেন না।
পঞ্চম মিথ্যেÑ জন্ম মিলিটারি ছাতার নিচে। দাবি করে বহুমত পথ ও বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার।
ষষ্ঠ মিথ্যাÑ খালেদা জিয়ার একাধিক জন্ম তারিখ। এমনকি বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্টে তার বানোয়াট জন্ম তারিখ বানিয়ে কেক কাটেন।
নির্বাচন এলে বিএনপি অংশ নেয় না, গণতন্ত্রের কথা বলে/নির্বাচন প্রতিরোধ করতে আগুন সন্ত্রাসী রাজপথে নামায়/পেট্রলবোমা মেরে বাস-ট্রেনযাত্রী, রিকশা-ভ্যানযাত্রী হত্যা করে, কর্তব্যরত পুলিশ হত্যা করে, প্রিসাইডিং অফিসার হত্যা করে, নির্বাচন ঠেকানোর নামে শত শত প্রাথমিক বিদ্যালয় জ্বালিয়ে ছাই করে। পেট্রলবোমা মেরে গরু পুড়িয়ে ছাই করে/সংখ্যালঘুরা যাতে ভোট না দেয়, দেশত্যাগ করে, সেজন্য তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়/দেশ অচল করার টার্গেট নিয়ে গাছ কেটে রাস্তা কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি/মানুষ যাতে ভোটকেন্দ্রে না যায় ভোটদানে বিরত থাকে সে লক্ষ্যে ভয়ভীতি প্রচার-প্রচারণা চালায়/শাপলা চত্বরে বিরাট সমাবেশ ও গোটা মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, বিজয়নগর, জিরো পয়েন্ট, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছাই করা। এমনকি বায়তুল মোকাররম বই মার্কেট (বেশিরভাগই ধর্মীয় গ্রন্থাদি) পুড়িয়ে দেওয়া হয়/স্বপ্ন ছিল বঙ্গভবন দখলের উদ্দেশ্যে রাতভর শাপলা চত্বরে রাত কাটিয়ে কাকডাকা ভোরে অভিযান শুরু করবে/‘একই মায়ের পেটের দুই সহোদর ছাত্রদল-ছাত্রশিবির’ নামিয়ে উল্লিখিত নাশকতা চালানো হয়। খালেদা জিয়া রাজপথে না নামলেও জঙ্গিগোষ্ঠী ছাত্রদল-শিবিরের ছদ্মবেশে তারই নির্দেশে নাশকতা চালায়/বিদেশি কূটনীতিকদের ডেকে এনেও কান্নাকাটি করে।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দেশরতœ শেখ হাসিনার সমাবেশে লাগাতার গ্রেনেড গুলি হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের গোটা নেতৃত্বকে নিশ্চিন্ন করার চক্রান্ত, যাতে শেখ হাসিনা আল্লাহর রহমতে বেঁচে গেলেও তার এক কানের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কেন্দ্রীয় নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৩ জন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকশ। কেন্দ্রীয় নেতা ঢাকার প্রথম সরাসরি নির্বাচিত মেয়র মুহম্মদ হানিফ, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুর রাজ্জাক, শ্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত গ্রেনেডের স্পিøন্টার নিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সেদিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগ অফিস চত্বর ছিল রক্তের বন্যা। যাদের শরীর থেকে রক্ত ঝরেছিল এবং যারা এখনও বেঁচে আছেন, কী যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছেন সে কেবল তারাই জানেন। তখন ক্ষমতায় ছিল খালেদা জিয়া, বিচার করা তো দূরের কথা বরং পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটনা (?)’ এমনই মিথ্যের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ম্যাডাম।
২০০১-এর নির্বাচনে কারচুপি করে (১ কোটি ২৪ লাখ ভুয়া ভোট) নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে দেশব্যাপী অত্যাচার-নির্যাতন এমন মাত্রায় চালিয়েছিল যে, সংখ্যালঘুদের ওপর তো বটেই, নৌকায় ভোট দেওয়ায় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া, পুকুরের মাছÑ গোয়ালের গরুÑ বনের গাছ-গাছালি লুট, নারী নির্যাতন, কী অত্যাচার না করেছিল। যা বর্ণনারও অতীত। চোখ তুলে ফেলা হয়েছে, হাতের কবজি কেটে ফেলা হয়েছে, কী ভয়ঙ্কর ছিল সেগুলো। যা পাকিস্তানি বর্বরতাকে মনে করিয়ে দেয়। তারপরও বাংলার মানুষকে রাজপথে নামাতে পারেনি খালেদা জিয়া। বরং শেখ হাসিনার টার্গেট অনুযায়ী ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন হয়েছে এবং গত সাড়ে চার বছরের অধিককাল শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তথা জাতি-রাষ্ট্রের নেতা হিসেবে এমন এক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে চলেছেন, যা বিশ্বব্যাপী ঈষর্ণীয় এবং রোলমডেল। ১ মিলিয়ন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয়, বাসস্থান, অন্ন-বস্ত্র দিয়ে এক মানবিক বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী উপহার দিয়েছেন। তিনি আজ মা, Mother of Humanity, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত কিংবা সর্বজন শ্রদ্ধেয় কবি বেগম সুফিয়া কামালের উত্তরসূরি হিসেবে এক এবং অদ্বিতীয়। কেবল যে মেধাবী তা নয়, এখনও রাত জেগে পড়েন। পোশাক-আশাকে, কথাবার্তা, আচার-আচরণে, ধর্মাচারে একেবারেই বঙ্গনারী, ধার্মিক সেকুলার মুসলিম। তার প্রতিপক্ষ দাঁড় করানোর প্রচেষ্টা বিএনপির অলীক কল্পনা ছাড়া কিছু নয়। লেখাপড়া ছাড়া ব্যবসা করা যায়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়তে হলে অবশ্যই বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান থাকতে হবে। যে কারণে দেখা যায় খালেদা জিয়ার পরিবার ব্যবসা করতে গিয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নিলেন এবং আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হলো, দুর্নীতির দায়ে সাজাও হলো। লেখাপড়া জানলে তিনিও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে অন্তত একটা হলেও মনে রাখার মতো উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারতেন। কথাবার্তা বলতেও সাবধান হতে পারতেন। বস্তুত ভদ্রমহিলা জ্ঞানের দীনতার কারণেই অনেক সময় অসংলগ্ন কথা বলে ফেলেন, যেমনÑ ২০০১-এর ইলেকশনের আগে বললেন : আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে বাংলাদেশ ভারত হয়ে যাবে/মসজিদে আজান হবে না, উলুধ্বনি হবে/মসজিদে তালা ঝুলবে/আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে টুপি মাথায় দেওয়া যাবে না। এসব ডাহা মিথ্যা জনগণ ধরে ফেলেছে বলেই কাঁদলেও রাস্তায় নামে না।
খালেদা জিয়া আগে যেমন বহুবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, মানুষকে রাজপথে নামাতে পারেন নি, এবারও পারবেন না। হ্যাঁ, তবে একটা ব্যাপার ভালোই পারেন। এই তো ক’দিন আগে হাইকোর্টের পাশে প্রিজনভ্যান থেকে তাদের তিনজন আটক নেতাকর্মীকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল তার জঙ্গিকর্মীরা। যেভাবে ২০১৩-১৪ সালে পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছিল। এবারও দেখলাম একইভাবে ফ্লাইয়িং কিক মারতে। তবে কি তিনি জঙ্গিদের আবার মাঠে নামালেন? কিন্তু ২০১৩ আর ২০১৮ এক নয়। এরই মধ্যে জামাত-শিবির-জঙ্গি ও জঙ্গি সঙ্গীদের শক্তি অনেক কমেছে, গত চার-পাঁচ বছরে প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষমতা অনেক অনেক বেশি বেড়েছে। শিক্ষার দীনতার কারণে অনেক বেফাঁস কথা বলে ফেলেন। যেমনÑ
* জোড়াতালি দিয়ে পদ্মাসেতু নির্মাণ করা হচ্ছে, কেউ উঠবেন না, রিস্ক আছে। কিন্তু তিনি জানেন না নির্মাণশৈলীই হলো মেগা প্রজেক্টগুলো জোড়া দিয়েই হয়। একটা পার্টের সাথে আরেকটা পার্ট। কিন্তু তালি এলো কীভাবে? এটা হাস্যকর নয় কি? তবে পদ্মাসেতু দিয়ে চলাচল না করার তার আহ্বানের একটা পজিটিভ দিক আছে এবং তা হলো পদ্মাসেতু নির্মাণকাজ শেষ হতে হতে বিএনপি নামক দলটির মৃত্যু ঘটবে। তখন খালেদা জিয়া ‘নৌকা’য় চড়বেন।
সম্প্রতি তিনি আরেকটি কথা বলছেন, ‘শেখ হাসিনা দেশের অর্থ খরচ করে দুটি সাবমেরিন কিনে এনেছেন। উদ্বোধনের পর দুটিই ডুবে গেছে। তিনি জানেনই না, সাবমেরিন পানির নিচ দিয়ে চলে।
একটা ইংরেজি প্রবাদ শুনেছিলাম “You can be fool all the people for some time; some people for all time, but you can not be fool all the people for all the time” এই আলোকেই আজকের লেখার শিরোনাম করলাম। এর অর্থ মানুষকে বোকা বানানোর দিন শেষ। বিএনপি কতগুলো মিথ্যে বলে দেশের সব মানুষকে সব সময়ের জন্য বোকা বানাতে চেয়েছিল। কিছু সময়ের জন্য কিছু মানুষকে বোকা বানাতে পেরেছিলও। সব জেনারেশনকে পারেনি। যেমন সাম্প্রতিককালে দেশে দুটি উল্লেখ করার মতো আন্দোলন হয়েছে। আন্দোলনকারীরা যখন দেখল বিএনপি এবং তাদের বুদ্ধি-ফড়িয়ারা পেছন থেকে ‘ফুঁ’ দিতে শুরু করেছে তখন তারা রাজপথ ছেড়েছে। সংবেদনশীল প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান বিশ্বাস করেছে। কারও ‘ফুঁ’-তে নয়। একটি ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন’, আরেকটি ‘নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন’। আন্দোলন দুটির প্রথমটি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের এবং নিরাপদ সড়ক চাই একেবারেই শিশু-কিশোরদের আন্দোলন। প্রশ্ন হলো শিশু-কিশোররা যা বুঝতে পারে, পাকা চুল বা কালি মেরে ঢেকে রাখা বুড়ো-বুড়িরাও তা বুঝতে পারে না। কাজেই এটা পরিষ্কার যে, বিএনপি বা খালেদা ভোট চাইবার সকল যোগ্যতা খুইয়েছেন। একদিকে দুর্নীতির দায় অন্যদিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতা খালেদাকে বরং জনরোষে পড়তে হচ্ছে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে একটি মানুষও আজ না খেয়ে থাকে না, গ্রামে-শহরে প্রত্যেকটি মানুষ জুতো-স্যান্ডেল পরেন, হাতে হাতে মোবাইলÑ এই যন্ত্র দিয়ে শুধু যোগাযোগ নয়, ছাত্রবৃত্তির টাকাও মা’দের কাছে চলে যাচ্ছে, কেনাকাটা করছে, মানুষ এসব বিবেচনা করে, ভোট দেবার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
লেখক : সভাপতি, জাতীয় প্রেসক্লাব ও সিনেট সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
balisshafiq@gmail.com

Category:

Leave a Reply