বিজয়ের মাসে সাফল্যে অর্জনে মুখরিত ক্রীড়াঙ্গন

Posted on by 0 comment

57আরিফ সোহেল: জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামালের হাতে গড়া ঢাকা আবাহনী লিমিটেড তিন মৌসুম পর আবারও ঢাকা প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের শিরোপা জিতেছে। লিগভিত্তিক আসরে নীল-আকাশি শিরিবের এটা পঞ্চমবারের মতো শিরোপা জয়। ঢাকা আবাহনী লিমিটেড সর্বশেষ শিরোপা তুলেছিল ২০১১-১২ মৌসুমে। ২০০৬-০৭, ২০০৭-০৮ ও ২০০৮-০৯ মৌসুমে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ঢাকা আবাহনী। ঢাকা আবাহনীই একমাত্র দল যারা এই লিগে সবচেয়ে বেশি শিরোপা জিতেছে। ৯ আসরের মধ্যে এবারই প্রথম অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে প্রয়াত শেখ কামালের অনুসারীরা।
২২ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। ২৯ ডিসেম্বর নিজেদের শেষ খেলায় রহমতগঞ্জকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আবাহনী অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ম্যাচ শেষে বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদীসহ বাফুফের কর্মকর্তারা ট্রফি তুলে দিয়েছেন।
বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টুয়েন্টি ২০১৬ আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। ফাইনালে তারা রাজশাহী কিংসকে ৫৬ রানে পরাজিত করে। ১৬০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহী ১৭.৪ ওভারে ১২০ রান তুলে অলআউট হয়ে গেছে। ৯ ডিসেম্বর ২০১৬ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত। ম্যাচে প্রত্যাশিতভাবেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস। মালিকানার কারণে পরিবর্তিত নামে ঢাকার এটা তৃতীয় শিরোপা। ২০১২ এবং ২০১৩ সালে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস শিরোপা জিতেছিল। ওই দুবছরই ঢাকার নেতৃত্ব দিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। এবারও বিপিএলে উল্লেখ্যযোগ্য বিদেশি ক্রিকেটার অংশ নিয়েছেন।
এএইচএফ কাপ হকিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
58হংকংয়ে এএইচএফ কাপ হকিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। ২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ফাইনালে জিমি-আশরাফুলরা শ্রীলংকাকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে। এর আগে ২০০৮ সালে সিঙ্গাপুর ও ২০১২ সালে থাইল্যান্ডে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ফাইনালে হাসান জুবায়ের নিলয়, আশরাফুল ইসলাম ও কামরুজ্জামান রানা বাংলাদেশের পক্ষে গোল করেছেন। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশ ২০১৭ সালের এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে। এবারও আসরে টপ ফেভারিট ছিলেন জিমিরা। আসরে অংশ নেওয়ার আগে ইউরোপে বেশ কিছুদিন অনুশীলন করেছেন জিমি-আশরাফুলরা। ৩০ নভেম্বর আন্তর্জাতিক আঙিনায় সাফল্য এনে দেওয়া সূর্যসন্তানদের সংবর্ধিত করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। শিরোপা জয়ী দলের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এমপি, এয়ার ভাইস মার্শাল মাসিউজ্জামান সেরনিয়াবাত, বিওএ মহাসচিব শাহেদ রেজা, ইস্তেখাবুবুল হামিদ, খাজা রহমত উল্লাহ, শফিউল্লাহ আল মনির এবং ক্রীড়া পরিষদের সচিব (যুগ্ম সচিব) অশোক কুমার বিশ্বাস।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ভলিবলে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
কিরগিজস্তানকে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু সিনিয়র মেনস সেন্ট্রাল জোন আন্তর্জাতিক ভলিবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৬, বিজয়ের মাসে মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আসরের ফাইনালে কিরগিজস্তানকে ৩-০ সেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন জাবির-রাশেদরা। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথম সেটে ২৫-২২ এবং দ্বিতীয় সেটে ২৫-২৩ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়েছে প্রতিপক্ষ কিরগিজস্তানকে। পরের ম্যাচটি টেকনিক্যাল কারণে আর খেলতে পারেনি টুর্নামেন্টের টপ ফেভারিট কিরগিজস্তান। পাঁচ জাতির এই আসরের বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও তোফায়েল আহমেদ এমপি। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিন্ত্রী ড. শ্রী বীরেন শিকদার এমপি, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক সালমান এফ রহমান, ইলিয়াস মোল্লা এমপি, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা, ভলিবল ফেডারেশনের সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু।
মুস্তাফিজ আইসিসির বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটার
আইসিসি বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটার হয়েছেন বাংলাদেশ ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমান। গত ২২ ডিসেম্বর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দিয়েছে ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম কোনো ক্রিকেটার আইসিসির বর্ষসেরা কোনো বিভাগে পুরস্কার জিতলেন। তিনি বিশ্ব কাঁপানো পেসার মুস্তাফিজ।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত পারফরমেন্স বিবেচনায় মুস্তাফিজকে এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়। এই সময়ে তিন ওয়ানডেতে মুস্তাফিজ নিয়েছেন ৮ উইকেট। ১০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ১৯ উইকেট। এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচই খেলা হয়নি মুস্তাফিজের। তবে গত বছর উজ্জ্বলতা ছড়িয়েছেন। ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় লাগিয়ে দিয়েছেন।
গত বছর টি-টোয়েন্টি দিয়ে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ান। ১৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ২২ উইকেট শিকার করেন। ওয়ানডে ও টেস্টেও অভিষেক হয় একই বছর। ৯ ওয়ানডে খেলে ২৬ উইকেট নেন। আর দুই টেস্ট খেলে নেন ৪ উইকেট। এ বছর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচেই খেলা হয়নি মুস্তাফিজের। গত বছর এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও সব ম্যাচ খেলতে পারেন নি। ইনজুরিতে আক্রান্ত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর চ্যাম্পিয়ন দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে আইপিএল মাতিয়ে খানিক ইনজুরিতে পড়েন মুস্তাফিজ। এরপর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে ঠিক হয়ে আবার ইংল্যান্ডের ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে খেলে জুলাইয়ে ইনজুরিতে পড়েন। তারপর করা হয় কাঁধে অস্ত্রোপচার। সেই থেকে চলে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাস পর আবার কোনো ম্যাচে খেলেন। সেটি জাতীয় দলের হয়ে।
জাতীয় দলের হয়ে আবার খেলায় মুস্তাফিজ যেমন স্বস্তি পান। তেমনিভাবে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরাও মুস্তাফিজকে আবার বল হাতে দেখে আনন্দ পান। এমন আনন্দের দিনে সুখবর মিলে। দেশের হয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসি বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটার হন মুস্তাফিজ।

Category:

Leave a Reply