ভিশন-২০৪১-এর সহযোগী হতে আগ্রহী সিউল

Posted on by 0 comment

PMfউত্তরণ প্রতিবেদন: লি  নাক-ইয়োন বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নে সিউল সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। তিনি ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন। বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারার প্রশংসা করে লি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেয় এবং দেশটি বাংলাদেশের ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নে এর উন্নয়ন সহযোগী হতে চায়। সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন ব্রিফিংয়ে এ-কথা জানান। লি বলেন, যদিও কোরিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বস্ত্র খাতের মধ্য দিয়ে শুরু করেছে, এখন এ সম্পর্ক আরও বৈচিত্র্যময় হয়েছে। সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার বৈঠকের কথা তুলে ধরে বলেন, বৈঠক অনেক ফলপ্রসূ হয়েছে এবং আগামী দিনে এই সম্পর্ক আরও বেশি শক্তিশালী হবে। গত ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী                 শেখ হাসিনা দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে কোনো ব্যতিক্রম ছাড়া সকল বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য কোরিয়ার পক্ষে খুব বেশি ঝুঁকে আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই বাণিজ্য বৈষম্য কমাতে আমরা আপনাকে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে কোনো ব্যতিক্রম ছাড়া সকল বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার অনুরোধ জানাই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোরিয়া বাংলাদেশ থেকে ওভেন গার্মেন্টস, ওষুধ, নিটওয়্যার, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফ্রোজেন ফুড ও সিরামিক সামগ্রী আমদানি করতে পারে। জবাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি নাক-ইয়োন দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন। প্রেস সেক্রেটারি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী ব্যাপক বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে বাংলাদেশকে ‘সম্ভাবনাময় দেশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। লি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) হিসাবে বাংলাদেশের জন্য ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছে। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের ইপিজেডগুলোতে টেক্সটাইল, ট্যানারি ও পাদুকা কারখানাসমূহে কোরিয়ার যথেষ্ট বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা স্মরণ করি যে, ১৯৯৬-২০০১ সালে আমার প্রথম মেয়াদে কোরিয়ান কোম্পানিগুলো প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতে বিনিয়োগ করেছিল।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোরিয়া এখানে জিটুজি এবং পিপিপি মডেলের অধীনে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর’-এ বিনিয়োগ করতে পারে। ওটা বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ কেন্দ্র। তিনি বলেন, কোরিয়া ১.৬১৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের জিডিপি নিয়ে বিশ্বের ১২তম অর্থনীতি। তিনি আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য কোরিয়ার আগ্রহকে স্বাগত জানাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোরিয়া স্বাস্থ্য, আইসিটি, শিক্ষা, পানি বিশুদ্ধকরণ, জ্বালানি ও পরিবহন খাতে অর্থনৈতিক এবং কারিগরি সহযোগিতাসহ বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের অংশীদারদের মধ্যে অন্যতম। তিনি বলেন, ‘কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল                 কো-অপারেশন এজেন্সি-কোইকা আমাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণ খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।’ তিনি ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস)-এর জাতীয় মহাসড়কে করিডরগুলোর নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তার উন্নতির জন্য কোরিয়ান তহবিলের প্রশংসা করেন।
ঢাকা-সিউল ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত : বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ, কূটনীতি ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা ও সিউলের মধ্যে ৩টি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ১৪ জুলাই বিকেলে শেখ হাসিনা ও লি নাক-ইয়োনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে ইনস্ট্রুমেন্টগুলো স্বাক্ষর হয়। এগুলো হলোÑ এক. কোরিয়ার পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ডিপ্লোমেটিক একাডেমি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। দুই. বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ কোরিয়া মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষে কোরীয় ট্রেড ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সি এবং বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভলোপসেন্ট অথরিটির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। তিন. বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি সংক্রান্ত বিষয়ে দুদেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।

Category:

Leave a Reply