মহাকাশে বাংলাদেশ

Posted on by 0 comment

6-5-2018 5-42-46 PMউত্তরণ প্রতিবেদন: ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার, বাঙালির বিশ্বজয়ের স্বপ্ন-সারথি, সফল রাষ্ট্রনায়ক দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে অর্জিত সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হয়েছে নতুন পালক। নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে বাংলাদেশের সামনে উন্মোচিত হয়েছে অপার সম্ভাবনার স্বর্ণ-দুয়ার। বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অভিযাত্রায় ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেতবুনিয়ায় দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে যে স্বপ্নের বীজ বপন করেছিলেন আজ তার পথ ধরেই বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান এবং দিক-নির্দেশনায় নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। অনন্য সাধারণ এই সাফল্য বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার উজ্জ্বল সোপান।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১  
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর ডিজাইন এবং নির্মাণ করেছে ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস। আর যে রকেটের মাধ্যমে এটিকে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে তা বানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশে বহনকারী রকেটের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘স্পেস এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজিস করপোরেশন (স্পেস-এক্স)’।
বাংলাদেশ সময় ১১ মে ২০১৮, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মহাকাশ কেন্দ্র ‘স্পেস-এক্স’ থেকে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ বহনকারী রকেটটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিকানা অর্জন করেছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে জল-স্থল-পাতাল-অন্তরিক্ষে।
‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১)’ কৃত্রিম উপগ্রহটি একটি জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট। এটি ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। ৩ হাজার ৫০০ কেজি ওজনের এই স্যাটেলাইটে রয়েছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার। স্যাটেলাইটটির ৪০টি ট্রান্সপন্ডার ক্যাপাসিটি থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকিগুলো বাণিজ্যিকভিত্তিতে ভাড়া দেওয়া হবে। প্রতিটি ট্রান্সপন্ডার থেকে ৪০ মেগাহার্টজ হারে তরঙ্গ-বরাদ্দ (ফ্রিকোয়েন্সি) সরবরাহ পাওয়া সম্ভব। এ হিসাবে ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মোট ফ্রিকোয়েন্সি ক্ষমতা হলো ১ হাজার ৬০০ মেগাহার্টজ।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয় ফ্যালকন-৯ রকেটের সর্বাধুনিক সংস্করণের ব্লুস্টার ব্লক-৫। মহাকাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে যেতে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’কে ৩৬ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। উৎক্ষেপণের পর নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছে রকেটের স্টেজ-১ খুলে যায়। এ সময় চালু হয় স্টেজ-২-এর ইঞ্জিন। স্টেজ-১ ফিরে আসে আটলান্টিকে ভাসমান ড্রোন শিপে। আর স্টেজ-২ স্যাটেলাইটকে নিয়ে যায় নির্দিষ্ট কক্ষপথের দিকে।
স্যাটেলাইটটি কার্যকর হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ যাবে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং কোরিয়ায় অবস্থিত ৩টি গ্রাউন্ড স্টেশনে। এই ৩টি স্টেশনের মাধ্যমে স্যাটেলাইটটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস এটি পর্যবেক্ষণ করবে। প্রথম তিন বছর থ্যালাস অ্যালেনিয়ার সহায়তায় স্যাটেলাইটটি নিয়ন্ত্রণ করবে বাংলাদেশ। এরপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেবে বাংলাদেশ। এজন্য মহাকাশে কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে স্যাটেলাইটটি নিয়ন্ত্রণের জন্য দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। যার মধ্যে জয়দেবপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনটি স্যাটেলাইটটি নিয়ন্ত্রণের মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে আর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হবে রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া গ্রাউন্ড স্টেশন। উৎক্ষেপণের নির্দিষ্ট সময় পর  গ্রাউন্ড স্টেশনে সংকেত পাঠানো শুরু করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। ইতোমধ্যে উৎক্ষেপণের প্রথম ধাপ ‘লঞ্চ অ্যান্ড আরলি অরবিট ফেইজ (এলইওপি)’ সফলতার সাথে শেষ করে কক্ষপথে নিজের অবস্থানে পৌঁছেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিশ্চিত করবে যেসব সেবা   
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর ন্যূনতম আয়ুষ্কাল ১৫ বছর। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ পরবর্তী সময় ট্রান্সপন্ডার ভাড়া দেওয়া, বিপণন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে গঠন করা হয়েছে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন্স স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল)। ইতোমধ্যে গ্রাউন্ড স্টেশন পরিচালনার জন্য ১৮ বাংলাদেশি তরুণকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থ্যালেস। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান, নেপাল, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানের মতো এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে উন্নত কমিউনিকেশন্স এবং ব্রডকাস্টিং সার্ভিস দেওয়া যাবে।
টিভি চ্যানেলগুলোর স্যাটেলাইট সেবা নিশ্চিত করাই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের প্রধান কাজ। এর সাহায্যে ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস), ঝঅঞ, ব্রন্ডব্যান্ড ইন্টারনেট ইত্যাদি সেবার মাধ্যমে ব্যাপক বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। এছাড়া যেসব জায়গায় অপটিক ক্যাবল বা সাবমেরিন ক্যাবল পৌঁছায় নি সেসব জায়গায় নিশ্চিত করা যাবে ইন্টারনেট সংযোগ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবার পাশাপাশি টেলিমেডিসিন, ই-অ্যাডুকেশন এবং প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হবে।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ব্যবহারে একদিকে যেমন তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে কমবে আমাদের পরনির্ভরশীলতা। দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে বিদেশি স্যাটেলাইট কোম্পানিকে আর বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে সম্প্রচার কার্যক্রম চালাতে হবে না; বরং আরও সাশ্রয়ী মূল্যে নিজ দেশের স্যাটেলাইট ব্যবহার করতে পারবে। সাশ্রয় হবে বছরে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে স্যাটেলাইটের অব্যবহৃত তরঙ্গ বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব হবে। স্যাটেলাইট টেকনোলজি সেবার মান প্রসারের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সামনে আজ মহাকাশ গবেষণার যে উন্মুক্ত সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে এবং একটি বিজ্ঞানমনস্ক দক্ষ জাতি গঠনে নতুন প্রজন্মের মাঝে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ যে স্বপ্নের সিঁড়ি সাজিয়েছে তা হিসাবের খাতায় মেলানো অসম্ভব।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের ইতিকথা
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদূরপ্রসারী চিন্তার কারণে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশনস ইউনিয়নের (আইটিইউ) সদস্যপদ লাভ করে। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে তিনি বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নত টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার সূচনা করেন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর উৎক্ষেপণের মাধ্যমে জাতির পিতার সেই যাত্রাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর স্বার্থক উত্তরসূরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ‘দিনবদলের সনদ, রূপকল্প-২০২১’-এর প্রধান সেøাগান ছিল ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে ২০০৮-এর নির্বাচনে বিজয় লাভ করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ শুধু কথার কথা নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা। বাংলাদেশে আজ প্রতিটি ক্ষেত্রেই ডিজিটাল বিপ্লব ঘটেছে। প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা বিস্তৃত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এবং ব্যবসার সুযোগ বৃদ্ধির জন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে হাইটেক পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে ফ্রিল্যান্স পেশায় বিশ্বে বাংলাদেশের  অবস্থান এখন তৃতীয়। ২০২১ সালের মধ্যে ২০ লাখ তরুণ-তরুণী তথ্যপ্রযুক্তি পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার জন্য বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সহজ ও সুলভ মূল্যে ইন্টারনেট সেবা পাওয়ার জন্য দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে বাংলাদেশ সংযুক্ত হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিকমানের তথ্য ভা-ার। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ‘ফোর-জি’ সেবা চালু হয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের আরেকটি উজ্জ্বল স্মারক ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’।
আওয়ামী লীগের সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহাকাশে স্যাটেলাইট প্রেরণের জন্য ২০০৯ সালের মে মাসে বিটিআরসি’র একজন কমিশনারকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়। ২০১০ সালে প্রকল্পের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সম্প্রচারধর্মী একটি স্যাটেলাইট নির্মাণে প্রকল্প রূপরেখা তৈরির পর ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রকল্প’ শীর্ষক কার্যক্রমের অনুমোদন হয়। এরপর মহাকাশে অরবিটাল সøটের জন্য আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন্স ইউনিয়নে (আইটিইউ) আবেদন করা হয়। ধারাবাহিকভাবে চলে একের পর এক কার্যক্রম। অনুমোদন পর্যায়ে দেশের প্রথম স্যাটেলাইটের নাম রাখা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। প্রকল্পটি পরিচিতি পায় ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ নামে। প্রকল্প অনুমোদনের পর শুরু হয় মহাকাশে কক্ষপথ বরাদ্দ পাওয়ার জোর প্রচেষ্টা।
২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান ইন্টার স্পুটনিকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)। এরপরই শুরু হয় ‘কমিউনিকেশন এবং ব্রডকাস্টিং’ ক্যাটাগরিতে এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক দরপত্রে অংশ নেয় ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস, চীনের গ্রেটওয়াল করপোরেশন, কানাডার এমডিএ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অরবিটাল কেটিএ। সার্বিক মূল্যায়নে চূড়ান্ত করা হয় ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসকে। ২০১৬ সালের ৭ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস-এক্সের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমেই কার্যত স্যাটেলাইট নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের উদ্দেশ্যে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। এই স্যাটেলাইট নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৯৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। নির্মাণে সময় লেগেছে প্রায় দুই বছর।

Category:

Leave a Reply