মিয়ানমারকেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে হবে

Posted on by 0 comment
23

কক্সবাজারে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিনিধি দল

উত্তরণ প্রতিবেদন: জাতিসংঘের ক্ষমতাধর নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টির উৎস মিয়ানমারে। তাই মিয়ানমারকেই এ সংকটের দীর্ঘস্থায়ী ও সম্মানজনক সমাধান দিতে হবে। এজন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে মিয়ানমার সরকারকে কাজ করতে হবে। গত ২৯ এপ্রিল কক্সবাজারে বিশ্বের সর্ববৃহৎ উদ্বাস্তু শিবির উখিয়ার কুতুপালং-বালুখালী পরিদর্শন শেষে নিরাপত্তা পরিষদের সফররত প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এ কথা বলেছেন। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে দেখে প্রতিনিধি দল উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সেখানে প্রাকৃতিক বিপর্যয়েরও আশঙ্কা করছেন তারা।
কুতুপালং ২নং ক্যাম্পের ডি-৫ ব্লকের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ের শুরুতে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের চলতি এপ্রিল সেশনের জন্য নির্বাচিত সভাপতি পেরুর স্থায়ী রাষ্ট্রদূত গুস্তাভো মেজা কুয়াদ্রা। তিনি বলেন, আমরা নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের উপায় বের করতে একমত হয়েছি। এ সমস্যা সমাধানে রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় দানকারী বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টিকারী মিয়ানমার সফরে এসেছি। এত বড় মানবিক সংকটে বাংলাদেশের নানা সমস্যা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যে মানবিক উদারতা দেখিয়েছে তার জন্য বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রশংসা করেন তিনি। রোহিঙ্গাদের দুর্দশার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা এই শরণার্থী সংকট দেখে খুব উদ্বিগ্ন। আমরা এই পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সফরের অন্যতম আয়োজক জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের স্থায়ী প্রতিনিধি কারেন পিয়ার্স বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে আমরা কারও সাথে আপস করব না। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা রোহিঙ্গা সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের ব্যাপারে অনেকটা কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সমস্যা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে। আমরা এখান থেকে মিয়ানমারে যাব। সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কীভাবে তারা যুক্ত হতে পারে তা জানতে চাইব। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আমরা নিরাপত্তা পরিষদে সমর্থন দেওয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব ও রোহিঙ্গাদের উপকারে আসে এমন সিদ্ধান্ত নেব।
কুয়েতের স্থায়ী প্রতিনিধি মানসুর আল ওতাইবি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার মূল উৎস মিয়ানমারে। তাই এর সমাধান মিয়ানমারকে করতে হবে। তবে তা যাদুকরিভাবে রাতারাতি সম্ভব হবে না। এ ব্যাপারে সময় লাগবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কাছে সমস্যা সম্পর্কে অবগত হওয়া গেছে, এরপর মিয়ানমার সফরে আরও বেশি ভালো কিছু আশা করছি।
অন্যদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের চীন ও রাশিয়া প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট নিরসন করতে হবে এবং তারাও এ সমস্যার দ্রুত সমাধান চায়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেখানে উপস্থিত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি বলেন, বাংলাদেশকে রোহিঙ্গা সংকটের পক্ষ না হয়েও মানবিক কারণে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে ভুগতে হচ্ছে। এ সমস্যার দ্রুত স্থায়ী সমাধান চায় বাংলাদেশ।
২৯ এপ্রিল দুপুর ১টায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দল কুতুপালংয়ে পূর্ব নির্ধারিত প্রেস ব্রিফিং করার পূর্বে চার দলে বিভক্ত হয়ে ৪টি পৃথক স্থানে মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেন। সকাল সাড়ে ৯টায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তের তুমব্রু কোনারপাড়া জিরো পয়েন্টে অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয়স্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে অবস্থান নেওয়া প্রায় ৬ হাজার রোহিঙ্গাদের নানা ধরনের সমস্যার কথা শোনেন।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্সসহ অস্থায়ী ১০টি দেশের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রায় ৩০ জনের মতো সদস্য অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এ সময় প্রতিনিধি দলের সাথে ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব খোরশেদ আলম, অতিরিক্ত সচিব ও শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান, চট্টগ্রাম পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি মনিরুজ্জামান মনি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি’র কক্সবাজার রিজিওনাল কমান্ডার কর্নেল রকিবুল হক প্রমুখ।

Category:

Leave a Reply