মিয়ানমারকে চাপ দিন : বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ান

Posted on by 0 comment
6-5-2018 5-30-40 PM

ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

উত্তরণ প্রতিবেদন: রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের প্রতি আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার জন্য ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওআইসি। গত ৫ মে ঢাকায় ওআইসির ৪৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে ওআইসির শীর্ষ নেতারা এই প্রতিশ্রুতি দেন।
দুদিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনে ৫৭টি ওআইসি সদস্য দেশের মধ্যে ৫২টি দেশের ৬০০ প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনে ৪০ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী অংশ নেন। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘টেকসই শান্তি, সংহতি ও উন্নয়নে ইসলামিক মূল্যবোধ।’ সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী পর্বে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড এবং ওআইসি মহাসচিব ইউসুফ এ আল ওথাইমিন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং ওআইসি সম্মেলনের সভাপতির প্রতিনিধি বেকির বোজড্যাগসহ এশিয়া, আরব এবং আফ্রিকার পক্ষে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ভাইস মিনিস্টার আবদুর রাহমান মোহাম্মাদ ফাসির, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল বিন আহমেদ আল জুবায়ের এবং সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিদকি কাবা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
ওআইসির উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাকে (ওআইসি) বিপন্ন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে ওআইসি-কে অবশ্যই নেপিডোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।
হযরত মুহম্মদ (স.)-এর বিপন্ন মানবতার পাশে দাঁড়ানোর অমোঘ বাণীর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (স.) নিপীড়িত মানবতার পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। কাজেই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যখন জাতিগত নির্মূলের মুখোমুখি ওআইসি তখন নিশ্চুপ থাকতে পারে না। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীও আমাদের সবার মতো মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার এবং জীবন-জীবিকার অধিকার রাখে।
শেখ হাসিনা বলেন, নিপীড়িত মানবতার জন্য আমরা আমাদের চিত্ত ও সীমান্ত দুই-ই উন্মুক্ত করে দিয়েছি। মিয়ানমারের প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে আমরা আশ্রয় দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের ব্যথায় ব্যথিত। কারণ আমার পিতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের ১৮ সদস্য নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর আমি ব্যক্তিগতভাবে ছয় বছর দেশে ফিরতে পারিনি, উদ্বাস্তু হিসেবে বিদেশের মাটিতে কাটিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজেই জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের মর্যাদা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমি ওআইসি-কে তাদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখনকার মতো মুসলিম বিশ্ব আগে কখনও এত বেশি পরিমাণ সংঘাত, অভ্যন্তরীণ গোলযোগ, বিভাজন ও অস্থিরতার মুখোমুখি হয়নি। লক্ষ্য করা যায়নি এত ব্যাপকহারে বাস্তুহারা জনগোষ্ঠীর দেশান্তর। আজকে মুসলমান পরিচয়কে ভুলভাবে সহিংসতা ও চরমপন্থার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন সময় এসেছে আমাদের চিন্তা-চেতনা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনার। সময় এসেছে টেকসই শান্তি, সংহতি ও সমৃদ্ধির আলোকে আমাদের ভবিষ্যৎকে নতুন আঙ্গিকে ঢেলে সাজানোর।

Category:

Leave a Reply