মীর কাশেম, রাজাকার খোকন ও মোবারকের ফাঁসির আদেশ

চূড়ান্ত রায়েও কামারুজ্জামানের ফাঁসি

74একাত্তরের গুপ্তঘাতক এবং আলবদর বাহিনীর প্রধান মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদ-াদেশ পাওয়া জামাতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের আপিলের চূড়ান্ত রায়েও ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ গত ৩ নভেম্বর সকাল ৯টা ৮ মিনিটে এই রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য তিন বিচারপতি হলেনÑ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
কামারুজ্জামানের মামলার অভিযোগে বলা হয়েছেÑ একাত্তরে কামারুজ্জামানের পরিকল্পনা ও পরামর্শে রাজাকার, আলবদরসহ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার সোহাগপুর গ্রাম ঘিরে ফেলে। এরপর তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১২০ পুরুষকে ধরে হত্যা করে। এ সময় ধর্ষণের শিকার হন গ্রামের নারীরা। অন্যদিকে গোলাম মোস্তফাকে হত্যার অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদ-াদেশ আপিলে কমিয়ে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে। চার বিচারপতি সর্বসম্মতিক্রমে এই দ- দেন। এ অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৩ আগস্ট মাগরিবের নামাজের সময় গোলাম মোস্তফা তালুকদারকে ধরে নিয়ে যায় আলবদর বাহিনীর সদস্যরা। কামারুজ্জামানের নির্দেশে তাকে সুরেন্দ্র্র মোহন সাহার বাড়িতে বসানো আলবদর ক্যাম্পে রাখা হয়। গত বছরের ৯ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদ- দেওয়ার রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ৬ জুন আপিল করেন কামারুজ্জামান। সুপ্রিম কোর্টে আপিল দাখিলের পর এ বছরের ৫ জুন শুনানি শুরু হয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর তা শেষ হয়।
কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টি প্রমাণিত হয়। দুটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পঞ্চম ও ষষ্ঠ অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় ও পঞ্চম অভিযোগে মৃত্যুদ-, প্রথম ও সপ্তম অভিযোগে যাবজ্জীবন এবং দ্বিতীয় অভিযোগে তাকে ১০ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালের ১৩ জুলাই কামারুজ্জামানকে হাইকোর্ট এলাকা থেকে একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়। একই বছর ২ আগস্ট তাকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।
এদিকে, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামাতের কর্মপরিষদ সদস্য ও দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আলবদর প্রধান মীর কাসেম আলীর ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত ২ নভেম্বর এই আদেশ দেন। তার বিরুদ্ধে আনীত ১৪ অভিযোগের মধ্যে ১০ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ১১ ও ১২ নম্বর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়।
মীর কাসেম : মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ১১তম রায় এটি। মীর কাসেমের বিরুদ্ধে আনীত ১১ নম্বর অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারপতি একমত হয়ে ফাঁসির আদেশ দেন। আর ১২ নম্বর অভিযোগে একমত না হতে পারলেও সংখ্যা গরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি ৮টি অভিযোগের মধ্যে ২ নম্বর অভিযোগে ২০ বছর, ৩, ৪, ৬, ৭, ৯ ও ১০ নম্বর অভিযোগের প্রত্যেকটিতে সাত বছর করে কারাদ- এবং ১৪ নম্বর অভিযোগে ১০ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলোÑ ১. মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে আলবদর বাহিনী ১৯৭১ সালের ৮ নভেম্বর ওমরুল ইসলাম চৌধুরীকে চাকতাই ঘাট থেকে অপহরণ করে। তাকে কয়েক দফায় চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লার একটি চামড়ার গুদামে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। ২. তার নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৯ নভেম্বর চট্টগ্রামের চাকতাই থেকে লুৎফর রহমান ফারুককে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন ও বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়। ৩. ২২ অথবা ২৩ নভেম্বর আসামির নেতৃত্বে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে তার কদমতলার বাসা থেকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে নির্যাতন করা হয়। ৪. ডবলমুরিং থানার সালাহউদ্দিন খানকে তার নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে আলবদর বাহিনী কর্তৃক নির্যাতন। ৫. ২৫ নভেম্বর আনোয়ারা থানার আবদুল জব্বারকে তার নিজ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে মীর কাসেম আলীর সামনে হাজির করা হয়। এরপর তাকে নির্যাতন করে ছেড়ে দেওয়া হয়। ৬. চট্টগ্রাম শহরের একটি চায়ের দোকান থেকে হারুনুর রশিদ নামে একজনকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেল ও সালমা মঞ্জিলে নির্যাতন করা হয়। ৭. মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে ৭-৮ জন যুবক ডবলমুরিং থানা থেকে সানাউল্লাহ চৌধুরীসহ দুজনকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে নির্যাতন করা হয়। ৮. ২৯ নভেম্বর রাতে নুরুল কুদ্দুসসহ চারজনকে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। ৯. ২৯ নভেম্বর  সৈয়দ মোহাম্মদ এমরানসহ ছয়জনকে অপহরণ ও নির্যাতন। ১০. আসামির নির্দেশে মোহাম্মদ যাকারিয়াসহ চারজনকে অপহরণ ও নির্যাতন। ১১. জসিম উদ্দিনসহ ছয়জনকে অপহণের পর নির্যাতন করা হয়। এতে জসিমসহ পাঁচজন নিহত হন এবং পরে লাশ গুম করা হয়। ১২. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ তিনজনকে অপহরণ করে নির্যাতন করা হয়। এতে দুজন নিহত হন এবং তাদের লাশ গুম করা হয়। ১৩. সুনীল কান্তিকে অপহরণ ও নির্যাতন এবং ১৪. নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে অপহরণ ও নির্যাতন। ২০১২ সালের ১৭ জুন একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মীর কাসেমকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
রাজাকার খোকন : মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র ও বিএনপি নেতা পলাতক জাহিদ হোসেন খোকনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। খোকনের বিরুদ্ধে আনা ১১টি অভিযোগের মধ্যে ১০টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল এই রায় দেন। এর মধ্যে ৬টি অভিযোগে মৃত্যুদ- ও ৪টি অভিযোগে ৪০ বছর কারাদ- প্রদান করা হয়। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গত ১৩ নভেম্বর দুপুরে এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেনÑ বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১৭ এপ্রিল মামলার রায় অপেক্ষমাণ রাখা হয়। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ১২তম রায়। জাহিদ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরিতকরণসহ ১১টি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ ও ১০ নম্বর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া ২নং অভিযোগে পাঁচ বছর কারাদ-, ৩নং অভিযোগে ১০ বছর, ৪নং অভিযোগে ২০ ও ১১নং অভিযোগে পাঁচ বছর কারাদ- প্রদান করা হয়। তার বিরুদ্ধে আনা ১নং অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর খোকনের বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। খোকনের বিরুদ্ধে ১৬ নারী ও শিশুসহ ৫০ জনকে হত্যা, তিনজনকে পুড়িয়ে হত্যা, ২ জনকে ধর্ষণ, ৯ জনকে ধর্মান্তরিত করা, দুটি মন্দিরসহ ১০টি গ্রামের বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, সাত গ্রামবাসীকে সপরিবারে দেশান্তরে বাধ্য করা ও ২৫ জনকে নির্যাতনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ আনা হয়। পালাতক খোকনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ২০১৩ সালের ২৩ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দখিল করার পর ১৮ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। ২০১২ সালের ১৬ এপ্রিল শুরু হয়ে ২০১৩ সালের ২৮ মে শেষ হয় তদন্ত কাজ। পরে ২৯ মে ১৩টি অভিযোগসহ তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। গত বছরের ৯ অক্টোবর ১১টি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করে খোকনের বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। বিচার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন তিনি।
মোবারক : মুক্তিযুদ্ধকালে ৩৩ জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মো. মোবারক হোসেনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত ২৪ নভেম্বর এই রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক।
গত ২ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-১। প্রায় ছয় মাস পর গত ২৪ নভেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। এটি হলো যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর ষষ্ঠ ও দুই ট্রাইব্যুনালের ত্রয়োদশ রায়। সবশেষ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ এর রায়ে ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র ও বিএনপি নেতা পলাতক এমএ জাহিদ হোসেন ওরফে খোকন রাজাকারের ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। বর্তমানে দুই ট্রাইব্যুনালে আরও দুটি মামলার রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রয়েছে। মোবারকের বিরুদ্ধে এক নম্বর অভিযোগে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের ২২ আগস্ট মোবারক ও অন্য রাজাকাররা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার টানমান্দাইল গ্রামের ২৬ জন ও জাঙ্গাইল গ্রামের সাতজনকে বাছাই করে তেরোঝুড়ি হাজতখানায় নিয়ে যান। ২৩ আগস্ট পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকাররা ওই ৩৩ জনকে নিয়ে গঙ্গাসাগর দীঘির পশ্চিম পাড়ে গুলি করে হত্যা করে মাটিচাপা দেয়। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য ও তথ্যে এ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল সর্বসম্মতিতে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকরের আদেশ দেন। তিন নম্বর অভিযোগে মোবারককে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের ১১ নভেম্বর রাত ৮-৯টায় মোবারক তার সশস্ত্র রাজাকার সহযোগীদের নিয়ে ছাতিয়ান গ্রামের আবদুল খালেককে গুলি ও বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়। এ অভিযোগও সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল সর্বসম্মতিতে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আনা ২, ৪ ও ৫ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মোবারককে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ২৩ এপ্রিল মোবারকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫টি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১২ জন সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে সাক্ষ্য দেন মোবারক ও তার ছেলে। পরে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে ২ জুন মামলার কার্যক্রম শেষ হয়।
Ñ অনিল সেন

Category:

Leave a Reply