মীর কাসেমের মৃত্যু পরোয়ানা

Posted on by 0 comment

আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
07উত্তরণ প্রতিবেদন: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের অন্যতম আলবদর বাহিনীর কমান্ডার মীর কাসেম আলীর মৃত্যু পরোয়ানা গত ৬ জুন রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছানো হয়েছে। এবং ৭ জুন কাসিমপুর কারাগারে অবস্থানরত কাসেম আলীকে তা পড়ে শোনানো হয়। তার মৃত্যুদ- (ফাঁসি) বহাল রেখে আপিল আবেদনের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রকাশের পর বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে এই মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হয়। এর আগে গত ৬ জুন দুপুরে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায়ে স্বাক্ষর করেন। বিকেলে ২৪৪ পৃষ্ঠার রায়টি সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রধান বিচারপতি ছাড়াও স্বাক্ষর করেছেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান। যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দ-িতদের মধ্যে এ নিয়ে মোট সাতজনের আপিলের নিষ্পত্তি শেষে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলো।
গত ৮ মার্চ চট্টগ্রামের আলবদর বাহিনীর কমান্ডার মীর কাসেমের আপিলের সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেছিলেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমউদ্দিন আহমেদসহ ছয়জনকে অপহরণের পর চট্টগ্রাম শহরের আন্দারকিল্লায় ডালিম হোটেলে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যার দায়ে মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদ- বহাল রাখা হয়। বর্তমানে তিনি জামাতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও দলটির অর্থের অন্যতম জোগানদাতা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে জামাতে ইসলামীও একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত। প্রায় তিন মাস পর মীর কাসেমের আপিল আবেদনের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হলো। এর ফলে যুদ্ধাপরাধী আলবদর কমান্ডার মীর কাসেম এখন ফাঁসির মঞ্চের কাছাকাছি। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হওয়ায় রিভিউ আবেদন করতে পারবেন তিনি।
ট্রাইব্যুনাল থেকে কারাগারে : ৬ জুন বিকেল সাড়ে ৩টায় সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয় থেকে পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পুরনো হাইকোর্ট ভবনে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ সন্ধ্যা ৭টায় মীর কাসেমের মৃত্যু পরোয়ানায় স্বাক্ষর করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেনÑ বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী। মৃত্যুদ- কার্যকরের জন্য এরপর আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হয়।
জার্মানিতে ৯৪ বছরের নাৎসি রক্ষীর জেল
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বন্দিশিবিরের রক্ষী ৯৪ বছর বয়সী রাইনহোল্ড হ্যানিংকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে কারাদ- দিয়েছেন জার্মানির একটি আদালত। বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে আউশভিৎস ক্যাম্পে অন্তত ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে হত্যায় সহযোগিতার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে পাঁচ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়। গত বছরও ওই শিবিরের এক কর্মীকে কারাদ- দেওয়া হয়।
নাৎসি অধিকৃত পোল্যান্ডের আউশভিৎস-বারকেনাউ ক্যাম্পে ১৯৪০ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়, যাদের অধিকাংশই ইউরোপীয় ইহুদি। এ ছাড়া রোমা (জিপসি) প্রতিবন্ধী, সমকামী, ভিন্নমতাবলম্বীসহ পোলিশ এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের বন্দিদেরও হত্যা করা হয় এই ক্যাম্পে। আর ১৯৪২ থেকে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত এই বন্দিশিবিরে রক্ষীর দায়িত্বে ছিলেন হ্যানিং। সেখানে কী ঘটছিল তা জানতেন বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
জার্মানির উত্তরাঞ্চলীয় ডেটমোল্ড শহরে গত ফেব্রুয়ারিতে হ্যানিংয়ের বিচার শুরু হয়। আর রায় ঘোষণা করা হয় ১৭ জুন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাইনহোল্ড হ্যানিং ১৯৪০ সালে ১৮ বছর বয়সে স্বেচ্ছায় নাৎসিদের এসএস বাহিনীতে যোগ দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুর দিকে তিনি পূর্ব ইউরোপে লড়াইয়ে অংশ নেন। ১৯৪২ সালের জানুয়ারিতে তাকে আউশভিৎস বন্দিশিবিরে বদলি করা হয়। সেখানে ১৯৪৪ সালের জুন পর্যন্ত রক্ষী হিসেবে কাজ করেন তিনি। দখলকৃত পোল্যান্ড থেকে বন্দিদের নিয়ে আসার পর হ্যানিং তাদের গ্রহণ করতেন এবং অনেক বন্দিকে তিনি গ্যাস চেম্বারে পথ দেখিয়ে নিয়ে যান বলে। তবে হ্যানিংয়ের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, তাদের মক্কেল ব্যক্তিগতভাবে কখনও কাউকে হত্যা বা নির্যাতন করেন নি। এই যুদ্ধাপরাধের বিচারে কারও বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণের জন্য আগে জার্মান প্রসিকিউটরদের আসামির সরাসরি হত্যাকা-ে সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ আদালতে হাজির করতে হতো। তবে ২০১১ সালে জন ডেমিয়ানুকের বিরুদ্ধে রায়ে বিচারক বলেন, নাৎসি অধিকৃত পোল্যান্ডে বন্দিশিবিরের কর্মী হিসেবে তার তৎপরতাই গণহত্যায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ দেয়।

Category:

Leave a Reply