রেকর্ড গড়ল বইমেলা : বিক্রি ৬৫ কোটি টাকার

Posted on by 0 comment

এবারের মেলায় ৩ হাজার ৬৪৬টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫৮টি মানসম্পন্ন বই নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। গতবার বই প্রকাশ হয়েছিল মোট ৩ হাজার ৪৪৪টি।

41মাসুদ পথিক: এবারের অমর একুশে মেলায় মোট বই বিক্রি হয়েছে ৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার। বিক্রিতে অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে বইমেলা। গতবার মোট বিক্রি ছিল ৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকার। বইমেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।
অন্যবারের মতো বইমেলায় বাংলা একাডেমির বই ৩০ শতাংশ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বই ২৫ শতাংশ কমিশনে বিক্রি হয়েছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলা একাডেমি মোট ১ কোটি ৫৪ লাখ ৫৪ হাজার ৩০৬ টাকার বই বিক্রি করেছে। ২০১৬ সালের তুলনায় এই বিক্রি ২২ লাখ টাকা বেশি।
জালাল আহমেদ বলেন, গতবার পুরো মেলায় ৪০ কোটি ৫০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। এবার ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্টল মালিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং আজকের সম্ভাব্য বিক্রি যুক্ত করলে বলা যায়, এবার বইমেলায় মোট ৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে।
বাংলা একাডেমির স্টলে দেড় কোটি টাকার বই বিক্রি
এ বছর অমর একুশে বইমেলায় বাংলা একাডেমির স্টলে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেলার ২৭ দিনে এসব বই বিক্রি হয়। ২০১৬ সালে বিক্রিত বইয়ের তুলনায় যা ২২ লাখ টাকা বেশি।
২৮ ফেব্রুয়ারি মেলার শেষ দিনের বিক্রি নিয়ে বাংলা একাডেমির বই বিক্রিতে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭-এর সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ।
মেলার শেষ দিনে এক অনুষ্ঠানে কবি শামীম আজাদ ও লেখক অনুবাদক নাজমুন নেসা পিয়ারিকে বাংলা একাডেমি পরিচালিত সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ পুরস্কার ২০১৬ প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের হাতে পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার টাকার চেক, পুষ্পস্তবক, সনদ এবং ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ২০১৬ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০১৭, ২০১৬ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য ৩টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০১৭, ২০১৬ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য রোকনুুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০১৭ এবং ২০১৭ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে থেকে নান্দনিক স্টল/প্যাভেলিয়ন সজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ৩টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৭ প্রদান হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্ত সব প্রকাশককে ২৫ হাজার টাকার চেক, সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
বইমেলায় ৩,৬৪৬টি নতুন বই
এবারের মেলায় ৩ হাজার ৬৪৬টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫৮টি মানসম্পন্ন বই নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। গতবার বই প্রকাশ হয়েছিল মোট ৩ হাজার ৪৪৪টি। মেলা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়। তিনি বলেন, এটা নিশ্চিত যে, এর চেয়ে বেশিসংখ্যক বই বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে। অনেক প্রকাশক তাদের নতুন সব বইয়ের তথ্য না দেওয়ায় প্রকৃতপক্ষে কত নতুন বই এসেছে এই তথ্য পাওয়া যায় না। তবে এবার নতুন বইয়ের স্টলে নতুন বই প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকায় প্রকাশকদের পক্ষ থেকে তাদের ভালো ও মানসম্মত বই তথ্যকেন্দ্রে বেশি দিয়েছেন। এ ছাড়া এবার আমরা বাংলা একাডেমির একটি কমিটিকে দিয়ে প্রাপ্ত সব বইয়ের মান প্রাথমিকভাবে নিরূপণের চেষ্টা করেছি। তিনি বলেন, নতুন ৩ হাজার ৬৪৬টি বইয়ের মধ্যে ৮৫৮টি মানসম্পন্ন। এটি নিঃসন্দেহে আশার কথা। এক বছরের গ্রন্থমেলাকে কেন্দ্র করে ৮৫৮টি মানসম্পন্ন বইয়ের প্রকাশ সহজ কথা নয়। এবার মোড়ক উন্মোচনের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘মোড়ক উন্মোচন’ মঞ্চ স্থাপন করা হয়। প্রত্যেক বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের জন্য এবার ১০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি ধার্য করা হয়। এবার মোট ৮৬৭টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
মেলায় কবিতার জয় এবারও
পর্দা নামলো অমর একুশে গ্রন্থমেলার। গত ২৮ দিনে এবারের মেলায় সবচেয়ে বেশি বই প্রকাশ হয়েছে কবিতার। বিগত বছরগুলোতেও এ চিত্র দেখা গেছে।
বাংলা একাডেমির পরিচালক (জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ) অপরেশ কুমার ব্যানার্জী জানিয়েছেন, ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া বইমেলায় এ পর্যন্ত মোট বই প্রকাশ হয়েছে ৩ হাজার ৬৪৬টি।
এগুলোর মধ্যে কবিতার বই ১ হাজার ১২২টি। তার প্রায় অর্ধেকে রয়েছে, গল্পের বই ৫২০টি, উপন্যাস ৫৭৬টি, প্রবন্ধ ১৬৮টি, গবেষণাধর্মী ৮৭টি, ছড়ার ১১৭টি, শিশুতোষ ১১৮টি, জীবনী ৭১টি, রচনাবলী ৭টি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ৯৭টি।
এ ছাড়া নাটকের ১৭টি, বিজ্ঞান ৩৮টি, ভ্রমণ ৬৯টি, ইতিহাস ৪১টি, রাজনীতি ১৭টি, চিকিৎসা/স্বাস্থ্যবিষয়ক ২৮টি, কম্পিউটার বিষয়ক ৬টি, রম্য/ধাঁধার বই ১৭টি, ধর্মীয় ১০টি, অনুবাদ ১৮টি, অভিধান ২টি, সায়েন্স ফিকশন/গোয়েন্দা ৩৪টি ও অন্যান্য ৪৬৬টি বই বেরিয়েছে।
বাঙালি তবলাবাদক সন্দীপ দাস গ্র্যামি জিতলেন
ছয়বার বিভিন্ন বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন। কিন্তু এবারও গ্র্যামির মঞ্চে শিকে ছিড়ল না সেতারবাদক অনুষ্কা শঙ্করের। ভারতীয় হিসেবে বিশ্বসেরা সংগীতের মঞ্চে একমাত্র গ্র্যামিটি পেলেন তবলাবাদক সন্দীপ দাস। চিনা-আমেরিকান বেহালাবাদক ইয়ো-ইয়ো মা’র ‘সিং মি হোম’ অ্যালবামে যৌথভাবে কাজ করে এই পুরস্কার পেলেন সন্দীপ।
ওয়ার্ল্ড মিউজিক ক্যাটগরিতে এলো এই পুরস্কার। একই ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয়েছিল অনুষ্কা শঙ্করের ‘ল্যান্ড অফ গোল্ড’ও। কিন্তু বিচারকদের মন জয় করে সেরার তকমা ছিনিয়ে নেয় ‘সিং মি হোম’ই।
ঘরে ফেরার বিভিন্ন রূপ সংগীতের মাধ্যমে এই অ্যালবামে তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে সন্দীপ ছাড়াও আছে সারাবিশ্বের বহু জাঁদরেল সংগীতশিল্পীদের সুর।
পুরস্কার পেয়ে খুশি সন্দীপ বলেন, এমন ঘটনা ঘটলে তা আমাদের ভীষণভাবে প্রভাবিত করে। কারণ প্রত্যেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে মিলিত হয়েছে। এভাবেই আমরা সংগীত তৈরি করতে থাকব আর ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে থাকব।
জ্ঞানালোক পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান
জ্ঞানী-গুণী মানুষের সম্মিলনীতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ২০১৫ এবং ২০১৬ সালের জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া হলো জ্ঞানালোক পুরস্কার।
জাতি গঠন ও একটি ইতিহাস সচেতন আলোকিত সমাজ গড়ে তোলায় যারা নানাভাবে অবদান রেখে চলেছেন; কিন্তু নিভৃতচারী ও প্রচারবিমুখ এমন তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন ‘জ্ঞানালোক’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে।
২০১৫ সালের জন্য যুগ্মভাবে এই পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয় বিশিষ্ট কথাশিল্পী ও বিজ্ঞানী ড. পূরবী বসু এবং বিশিষ্ট প্রতœতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমানকে। ২০১৬ সালের জন্য জ্ঞানালোক পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয় গবেষক সংগ্রাহক মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠানকে।
জ্ঞানালোক পুরস্কারে ভূষিত প্রত্যেককে ১ লাখ টাকার চেক এবং সম্মাননাসূচক ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলাম। গুণীজনদের অভিজ্ঞানপত্র পাঠ করেনÑ অধ্যাপক ডা. রশীদ ই মাহবুব, অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া, লায়লা হাসান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। সভাপতিত্ব করেন অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. নূহ-উল-আলম লেনিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ।
বাংলা ভাষা চর্চার মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ‘বাংলা বি’
সেপ্লিং বি-এর আদলে বাংলা ভাষায় নির্মিত প্রথম অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে ‘বাংলা বি’ যাত্রা শুরু করেছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে গুগল প্লে স্টোরে এটি আত্মপ্রকাশ করে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক আনুষ্ঠানিকভাবে এটির উদ্বোধন করেন। উপাচার্য দফতর সংলগ্ন লাউঞ্জে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘বাংলা বি’-এর চার নির্মাতা শরীফ সিরাজ, রেজওয়ানুল ইসলাম, মাশরুর অনিক, অম্লান ঐতিহ্য প্রমুখ।

Category:

Leave a Reply