রোহিঙ্গা সমস্যা দ্রুত সমাধানে ঢাকা-বেইজিং মতৈক্য

Posted on by 0 comment

PfcMউত্তরণ ডেস্ক: ঢাকা ও বেইজিং দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সম্মত হয়েছে। গত ৫ জুলাই চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই মতৈক্য হয়। এদিন সন্ধ্যায় দিয়াওউয়াতি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেন, দুই নেতা প্রথমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সম্মত হয়ে বলেন, এটি অমীমাংসিত রাখা যাবে না। চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এ ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই বছর পেরিয়ে গেছে। কীভাবে এই সমস্যার সমাধান হবে এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। রোহিঙ্গারা অবশ্যই তাদের নিজ দেশে ফিরে যাবে।
শহীদুল হক বলেন, উভয় নেতা উল্লেখ করেন যে এ ব্যাপারে দুই দেশের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে কাজ করবেন এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে তারা মিয়ানমারের ওপর ‘গুডউইল’ কাজে লাগাবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিপিসি নেতার সাক্ষাৎ
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাবশালী নেতা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সং তাও নিশ্চিত করেছেন যে, তার দল কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না (সিপিসি) সমঝোতার ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। গত ৫ জুলাই চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের দিয়াওউনতাই রাষ্ট্রীয় গেস্ট হাউসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সিপিসি নেতা এ আশ্বাস দেন। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভায় যোগদান এবং চীনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য প্রধানমন্ত্রী গত ১ জুলাই চীন সফরে যান। সিপিসি নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য লেখক মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
সং তাও বলেন, সমঝোতার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে আমরা অং সান সু চি-সহ মিয়ানমারের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে ব্যাপক উন্নয়নের প্রশংসা করে তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে এবং বাংলাদেশে উন্নয়ন অভিযাত্রায় আমাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। সিপিসি নেতা বাংলাদেশের অত্যন্ত বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের উল্লেখ করে একে ‘বিশ্বে দুর্লভ’ বলে বর্ণনা করেন।
এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিগত অর্থবছরে ৮ দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরে ৮ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সিপিসি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মধ্যকার সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে সং তাও আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকের শুরুতেই সিপিসি নেতা চীন সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। চীনকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সিপিপির মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি ১৯৯৩ সালে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে চীনে তার প্রথম সফরকে স্মরণ করে বলেন, সফরের পর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত হয়। তিনি বলেন, আমরা সব সময় চেষ্টা করব যাতে আমাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক বজায় থাকে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীন উভয়ের লক্ষ্য একÑ দারিদ্র্য বিমোচন এবং জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। তিনি বলেন, আমাদের সরকার লক্ষ্য অর্জনে অপ্রত্যাশিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা, ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করেন।
সিপিপি নেতা এই বইটি চীনা ভাষাতে অনুবাদ করার আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, তারা প্রকাশ করার পর চীনা জনগণের মধ্যে বইটি বিতরণ করবে। প্রধানমন্ত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চীনা জনগণ ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টিকে তার আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এমপি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক ও চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম ফজলুল করিম অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ জুলাই তিয়েনআনমেন স্কয়ারে চীনা বিপ্লবের বীরদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
চীন সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি চীনের দালিয়ান শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) অ্যানুয়াল মিটিংয়ে যোগদান করেন এবং ‘কো-অপারেশন ইন দি প্যাসিফিক রিম’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. ফজলুল করিম ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা লেখক মো. নজরুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে, যা দেশের জন্য পরিবেশ ও নিরাপত্তার দিকে থেকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারে সেজন্য বাংলাদেশ চীনের ‘গুড উইল’ কামনা করে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দেশ এর আগেও রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
পররাষ্ট্র সচিব চীনের প্রেসিডেন্টকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আমরা চাই রোহিঙ্গারা ফেরত যাক।’
জিনপিং বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমারে যেসব মন্ত্রী কাজ করেন তারা আবারও বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন। আশা করা যায়, এতে এ সংকট নিরসনের আরেকটি সুযোগ সৃষ্টি হবে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্টকে এ সংকটের বিষয়টি সুন্দরভাবে অবহিত করেন। ভোজ সভায়ও এ আলোচনা উঠে আসে।
শহীদুল হক বলেন, চীনের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে কিছু প্রশ্ন ছিল। আর প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্টকে তাদের ‘গুড উইল’ ব্যবহারের অনুরোধ জানান।
জিনপিং বলেন, যেহেতু এটি আন্তর্জাতিক দৃষ্টির সামনে উঠছে সেহেতু এর পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা খুবই কম।
তিনি বলেন, ‘আমরা এ সংকট সমাধানে যতটা সম্ভব চেষ্টা করব। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুদেশই আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমাদের কাছে দুদেশই সমান, কেউ কম বা বেশি নয়।’
চীনের প্রেসিডেন্ট আশ্বাস দেন যে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুটিই যেহেতু উন্নয়নশীল দেশ, সেহেতু তারা (চীন) দুদেশের স্বার্থই দেখবেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, দুই নেতার মধ্যে বৈঠকটি খুবই সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা ছিল খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ ও উন্মুক্ত, যা বিভিন্ন সমীকরণ ও রসায়নের বহিঃপ্রকাশ।
বৈঠক চলাকালে দুই নেতার অঙ্গভঙ্গি উৎসাহব্যঞ্জক ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীকে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা পরস্পরের সত্যিকারের বন্ধু হয়ে থাকব।’ তিনি বলেন, ‘অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে দুই নেতার মধ্যকার সম্পর্ক প্রকাশিত হয়েছে।’
শহীদুল হক বলেন, ‘একই সঙ্গে আমরা দেখতে পাই যে দুদেশের সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে একটি পরিণত আখ্যান এসেছে।’
চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশকে চীনের বন্ধপ্রতিম প্রতিবেশী উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা দুই প্রতিবেশী দেশ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছি।’
জিনপিং বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করে বলেন, দুদেশ পরস্পরের উন্নয়ন থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, দুই নেতা গুরুত্বারোপ করে বলেন যে তাদের গন্তব্য হলো জনগণের উন্নয়ন।
তিনি বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট জাতীয় নীতি ও আন্তর্জাতিক উভয় পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন বোঝাপড়া রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
জিনপিং দুদেশ পরস্পরের চ্যালেঞ্জ ও অগ্রাধিকারসমূহ বুঝতে পারে উল্লেখ করে বলেন, ‘এটি সম্পর্কের পরিপক্বতার বহিঃপ্রকাশ।’
চীনের প্রেসিডেন্ট তার দেশ সব সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টার পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা আশা করি এটি ভবিষ্যতে আরও গভীর ও জোরদার হবে।’
দুই নেতা বলেন, তারা দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।

ঢাকা-বেজিং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ৯ চুক্তি স্বাক্ষর
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গত ৫ জুলাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে ৯টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তার জন্য এলওসি (লেটার অব এক্সচেঞ্জ) এবং অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ, সংস্কৃতি, পর্যটন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক।
বেজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ওই ৫টি চুক্তির পাশাপাশি ৩টি সমঝোতা স্মারক এবং একটি লেটার অব এক্সচেঞ্জ বিনিময় হয়। বৈঠক শেষে দুই নেতার উপস্থিতিতে উভয় দেশের মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এতে স্বাক্ষর করেন। পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এ-কথা জানান। তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফেরাতে মিয়ানমারকে বলবে চীন। যেসব বিষয়ে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক হয়েছে সেগুলো হলোÑ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য সাহায্য বিষয়ক এলওসি (এর আওতায় মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য চীন ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করবে বলে পররাষ্ট্র সচিব জানান), স্বাক্ষরিত অপর চুক্তিগুলো হচ্ছেÑ সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পর্যটন কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা স্মারক, ইয়ালু ঝাংবো ও ব্রহ্মপুত্র নদের তথ্য বিনিময় সমঝোতা স্মারক ও তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ নিয়ে ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট, বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে অর্থনীতি ও কারিগরি সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি, ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা নিয়ে সমঝোতা স্মারক, পিজিসিবি ঢাকা-বেজিং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ৯ চুক্তি স্বাক্ষর প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎ গ্রিড নেটওয়ার্ক জোরদার প্রকল্পের জন্য ফ্রেমওয়ার্ক এ্যাগ্রিমেন্ট, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ নিয়ে গভর্নমেন্ট কনসেশনাল লোন এ্যাগ্রিমেন্ট, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ নিয়ে প্রিফারেন্সিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট লোন এ্যাগ্রিমেন্ট।
বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা বাড়াতে চীনের সঙ্গে ৫টি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৪টি চুক্তির আওতায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) ১৪০ কোটি ডলার পাবে। একটি চুক্তির আওতায় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) পাবে ২৮ কোটি ৪ লাখ ডলার। এছাড়া অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার পাবে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে ডিপিডিসির ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নির্বাহী পরিচালক রমিজ উদ্দিন সরকার বলেন, ১৬৫ কোটি ডলার ব্যয়ে ডিপিডিসির একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ওই ঋণ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ২৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং চীন সরকার ৩৮ কোটি ১০ লাখ ডলার দেবে। বাকি ১০২ কোটি ডলার চীনের এক্সিম ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ হিসাবে পাওয়া যাবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের আওতায়, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ১৪টি ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড সাব-স্টেশন নির্মাণ এবং ৪০টি ৩৩/১১ কেভি সাব-স্টেশন নির্মাণ করা হবে।
এছাড়া ডিপিডিসির জন্য কিছু উঁচু ভবন নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে হাতিরপুল এলাকায় একটি টুইন টাওয়ার এবং হাতিরঝিলে ২০ তলা একটি ভবন রয়েছে বলে জানান তিনি। আর পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি চীনের কাছ থেকে পাওয়া ঋণে সঞ্চালন লাইনের সম্প্রসারণসহ ১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে পিজিসিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ওই পাঁচ চুক্তি ছাড়াও ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা এবং ইয়ালু ঝাংবো ও ব্রহ্মপুত্র নদের তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে। সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পর্যটন খাতে সহযোগিতার বিষয়ে হয়েছে আরও একটি সমঝোতা স্মারক। বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য আড়াই হাজার মেট্রিক টন চাল কিনতে একটি লেটার অব একচেঞ্জ বিনিময় হয়েছে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে।
চীন সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪ জুলাই বেলা পৌনে ১১টার দিকে বেজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং তাকে স্বাগত জানান। অভ্যর্থনার আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। বৈঠকের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত ভোজসভাতেও অংশ নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার মেয়ে বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন এমপি, প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এমপি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

Category:

Leave a Reply