রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন আশ্বস্ত করেছে

Posted on by 0 comment

উত্তরণ প্রতিবেদন: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যকে বাংলাদেশের মানচিত্রের সঙ্গে জুড়ে দেয়ার মার্কিন কংগ্রেসম্যান শ্যারনের প্রস্তাবকে ‘অত্যন্ত গর্হিত ও অন্যায় কাজ’ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার (বাংলাদেশ) যে সীমানা আছে, আমার যে দেশটা আমরা তাতেই খুশি। অন্যের জমি নিয়ে আসা বা অন্যের কোনো প্রদেশ আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, এটা আমরা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করি। এটা আমরা কখনই নেব না। প্রত্যেক দেশ তার সার্বভৌমত্ব নিয়ে থাকবে। সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে রাখাইন স্টেট জুড়ে দিতে চায় কেন? এ ধরনের কথা বলা অত্যন্ত গর্হিত ও অন্যায় বলে আমি মনে করি।
সম্প্রতি নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তার সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সব দেশেই হয়। কিন্তু একটা ভালো দিক যে এখন নির্যাতিত মেয়েরা সাহসের সঙ্গে সবকিছু বলছে, অতীতে মান-সম্মানের কারণে বলত না। তবে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। এসব ঘটানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ ধরনের জঘন্য কাজ যারা করছে তারা মানুষ নয়। এদের বিরুদ্ধে যা যা ব্যবস্থা গ্রহণের দরকার, তা নেব এবং নিচ্ছি। তিনি এ ব্যাপারে দেশের পুরুষ সমাজকে নারী-শিশু নির্যাতনকারী ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের পুরুষ সমাজকেও বলব ধর্ষণটা তো পুরুষ সমাজ করে যাচ্ছে। তাই পুরুষ সমাজেরও বোধ হয় একটা আওয়াজ তোলা উচিত। যারা এ ধরনের জঘন্য কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে তাদেরও কিছু করা উচিত। খালি নারীরাই চিৎকার করে যাবে না-কি? নির্যাতনকারী ও তাদের স্বজাতীয় যারা আছে তাদের ব্যাপারে সবারই সোচ্চার হওয়া উচিত।
গত ৮ জুলাই বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সদ্য সমাপ্ত চীন সফর নিয়ে আয়োজিত জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চীন সফরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আমরা জোরালোভাবে তুলে ধরেছি। চীনের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন এবং এই সমস্যা সমাধানে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। এটি একটি সুখবর।
জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে বসেছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এমপি। এ সময় সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রোহিঙ্গা সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা (চীন) বলেছেন, বিষয়টা তারা বিবেচনা করবেন, দেখবেন। এটা কী সুখবর মনে হচ্ছে না? না দুঃখের খবর মনে হচ্ছে? এটা ঠিক যে চীন মিয়ানমারের সঙ্গে সব সময় আছে। এই যে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আছে, এটা যে বাংলাদেশের জন্য বিরাট সমস্যাÑ এই কথাটা তো তারা নিজেরাও উপলব্ধি করতে পারছে। সে জন্যই চীনও মনে করছে এই বিষয়টার দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত। এজন্য তারা যতটুকু করার প্রয়োজন ততটুকু করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে সম্মত করতে চেষ্টা করবেন বলে দেশটির রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। তিনি উল্লেখ করেন, চীন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুবার মিয়ানমারে পাঠিয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনে তারা আবারও মন্ত্রীকে মিয়ানমারে পাঠাবে। তিনি বলেন, আমি উন্নয়নের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করি। রোহিঙ্গা সংকটের কারণে এই শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘিœত হতে পারে বলে আমি উল্লেখ করি।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে হরতাল এবং ১৪ দলের কিছু নেতার সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ইস্যুতে বাম আর ডান (বিএনপি) মিলে গেছে। এক সুরে কথা বলছে, এটা তো খুব ভালো কথা। তবে আমার প্রশ্ন, আমাদের কি গ্যাসের প্রয়োজন আছে কি নেই? দেশের যদি আমরা উন্নয়ন করতে চাই, তবে এনার্জি একটা বিষয়। এলএনজির জন্য খরচ যথেষ্ট বেশি পড়ে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি বলেন, দাম বাড়ানোর পরও বছরে সরকারকে ১০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। তাহলে আমি এক কাজ করি, যে দামে কিনব সে দামে বিক্রি করি?
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে আন্দোলন করছে আবার বলেছে, ভারতে দাম কমিয়েছে। এ সময় ভারত ও বাংলাদেশে গ্যাসের দামের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এলএনজি আমদানিতে খরচ বাড়ায় ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৪-০৫ সালে মিয়ানমারের গ্যাস নিতে চীন ও জাপান বিনিয়োগ করেছিল। ভারত সেই গ্যাস বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পাইপ লাইনে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া সেটা হতে দেয়নি। আমি হলে ভারতে গ্যাস নিতে তো দিতাম, আমার ভাগটাও রেখে দিতাম। সেই গ্যাসটা যদি পেতাম, তাহলে আজ এলএনজি আমদানি করতে হতো না।
বিশ্বের বড় বড় পরাশক্তির মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রনীতিই হচ্ছেÑ সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। কার সঙ্গে কার কী সমস্যা, কার সঙ্গে কার কী যুদ্ধÑ সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। এক সময় চীন আমেরিকার বড় বন্ধু ছিল। এখন আবার তাদের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ। আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে যাই না। আমরা কারোর ঘরে আগুন লাগলে আলু পোড়া দিয়ে খাব, এটা চিন্তা করি না। বরং কোন্ দেশের সঙ্গে আমরা কতটুকু অর্থনৈতিক সহযোগিতা পাব, সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে পারবÑ সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা চলি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে আমরা খুব সতর্ক ও সচেতন। আমাদের বাজেটে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ তত বেশি নয়। জিডিপির মাত্র ১৪ ভাগ বৈদেশিক ঋণ। আমরা ঋণ নিয়ে আবার সময়মতো পরিশোধ করি। বাজেটের ৯৯ ভাগ নিজস্ব অর্থায়নে আমরা বাস্তবায়ন করছি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করছে। সকল ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানে থেকে কাজ করছি বলেই আমরা দেশকে সবদিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি। নিজের দেশের ভালো কাজগুলো বিশ্ববাসীর সামনে ভালোভাবে তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের এবারের প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১ ভাগে উন্নীত হয়েছে। যা বিশ্বের মধ্যে অনেকটাই রেকর্ড। নিজ দেশের এমন ভালো কাজগুলো ভালোভাবে তুলে ধরা উচিত। বাস্তবে দেশের কিছু মানুষ আছে তাদের কোনো কিছুই ভালো লাগে না, তাদের চোখে কোনো কিছুই ধরা পড়ে না।

‘মুসলমান মুসলমানদের রক্ত নিচ্ছে এটা বন্ধ করতে হবে’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের দ্রুত অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয় এবং জঙ্গিবাদ নির্মূলে দলমত নির্বিশেষে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাটা অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের জনগণকে সম্পৃক্ত করেই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করতে চান তিনি। তাই জনগণকে আরও সচেতন হতে হবে, সজাগ থাকতে হবে। আজ দেশ সব ধরনের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের সম্মিলিত শক্তিতেই এই উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে।
দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ও লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাকে ফিরিয়ে আনতে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আজ হোক, কাল হোক এক সময় তার শাস্তি কার্যকর হবেই। মিয়ানমারের আপত্তি ও অসহযোগিতার কারণেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই চায় রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যাক। কিন্তু মিয়ানমারের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এ-বিষয়ে তারাই আগ্রহী নয়। গত ৯ জুন বিকেলে গণভবনে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সম্প্রতি টানা ১২ দিনের জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড সফরের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হলে প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের সবশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা ইস্যু, কূটনৈতিক সম্পর্ক, জঙ্গি-সন্ত্রাসী তৎপরতাসহ নানা ইস্যুতে সাংবাদিকদের অসংখ্য প্রশ্নের সাবলীল উত্তর হাসিমুখে দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় মঞ্চে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন এমপি উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমানের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দেখি আমাদের অনেকের দরদ একেবারে উথলে ওঠে। কিন্তু আপনারা এটা ভুলে যান কীভাবে? ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার কথা। কীভাবে আমরা বেঁচে গেছি। বাঁচারই কথা নয়। এতগুলো মানুষের জীবন তারা নিল ক্ষমতায় থাকতে। একবার না, বারবার এইভাবে বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে বা বাইরে থাকতে হামলা করে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে যারা হত্যা করেছে, তাদের নিয়ে এত মায়াকান্না কেন?
তিনি বলেন, সেই হত্যাকারী তারপর আবার এতিমের হক আত্মসাৎকারী। দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি এদের জন্য অনেকের মায়াকান্না দেখলে তাহলে আর এদেশের অপরাধীর বিচার হবে কীভাবে? সেটাই আমার প্রশ্ন। আমরা আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছি ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে। এত বেশি টাকা-পয়সা বানিয়ে ফেলেছে তারা, সেখানে খুব বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে। আর যখনই যাই তখনই একটা সমস্যা সৃষ্টির চেষ্টা করে। তবে আজ হোক, কাল হোকÑ এক সময় শাস্তি কার্যকর হবেই। সেটুকু বলতে পারি।
ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত ইস্যু প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, নরেন্দ্র মোদি আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তাকে অভিনন্দন জানাই। আমরা আশা করি আমাদের সমস্যাগুলো একে একে সমাধান হবে। শুধু তিস্তা, তিস্তা করে না। আপনারা একটা জিনিস ভুলে যাচ্ছেন, আমাদের মেরিটাইম বাউন্ডারির মতো কঠিন একটা সমস্যা আমরা সমাধান করেছি। আমরা আমাদের যে ছিটমহল বিনিময় করেছি। পৃথিবীর বহু দেশে যুদ্ধ বেঁধে যাচ্ছে এই ছিটমহল নিয়ে। আমরা একটা উৎসবমুখর পরিবেশে ছিটমহল বিনিময় করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা অনেক কঠিন সমস্যা সমাধান করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারও কাছে পানির জন্য মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। কারণ আমাদের এটা হচ্ছে ডেল্টা। হিমালয় থেকে নদীগুলো যদি আসে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যেতেই হবে। পানিটা আমরা কতটা ধরে রাখতে পারব সেই ব্যবস্থা যদি আমরা করি তাহলে পানি পানি করে আমাদের চাইতে হবে না। আমরা নিজেরাই ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে পারব। আমরা তাই করব।
এবারের ঈদেও জঙ্গি হামলার হুমকি ছিল : এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার ঈদ জামাতের সময় জঙ্গি হামলার হুমকি ছিল। গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিক চেষ্টায় কোনো অঘটন ছাড়াই সব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার পর থেকেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ও পুলিশ কড়া নজরদারি শুরু করে। কোথাও কোনো ধরনের তথ্য পেলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, সবাই জানেন যে, নানা নামে নানাভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নানা ধরনের থ্রেট কিন্তু দিতেই থাকে। সারাক্ষণ কিন্তু এগুলো আসছে। সবটা আমি বলে মানুষকে ভীত করতে চাই না। কিন্তু যতদূর পারি, এগুলোর পেছনে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করে এবং তাদের বিরুদ্ধে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার, তা আমরা নিয়ে থাকি।
এবার ঈদের আগেও তেমন হুমকি ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদের জামাতের সময় আমি সত্যিই খুব চিন্তিত ছিলাম। কারণ এমন এমন ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, তা যেন কোনোমতে না ঘটে। তিনি বলেন, তিনি দেশে বা দেশের বাইরে যেখানেই থাকুন না কেন, দেশে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সব সময় তার যোগাযোগ থাকে। এবারও বিভিন্ন ঈদ জামাত সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার কাছে ‘মেসেজ’ চলে গেছে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা, আমাদের পুলিশ বাহিনী, আমাদের র‌্যাব থেকে শুরু করে সকলেই খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। সেজন্য খুব সুষ্ঠুভাবে ঈদের জামাতগুলো সম্পন্ন হয়েছে।
দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণের কাছে সব সময় আমার আবেদন থাকবে, তারা যেন এ ব্যাপারে সজাগ থাকেন, সচেতন থাকেন। কারণ এসব ঘটনা আমাদের উন্নয়নের গতিধারাটা ব্যাহত করবে। দেশের দ্রুত অগ্রযাত্রা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয় সেজন্য সবার সহযোগিতা চাই। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, কোথাও কোনো তথ্য পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
খুন করে কেউ কি বেহেশত থেকে মেসেজ দিয়েছে : সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মানুষ খুন করার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় ধারণা করা হতো কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা জঙ্গি হয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ইংরেজি মিডিয়ামের ছাত্রদেরও হঠাৎ মনে হলো, বেহেশতে যেতে হবে, মানুষ খুন করতে হবে। কোথায় লেখা আছে মানুষ খুন করলে বেহেশতে পাঠানো হবে? কেউ কি মানুষ খুন করে বেহেশতে পৌঁছে মেসেজ দিয়েছে?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওআইসি সম্মেলনে আমার লিখিত বক্তব্যে অনেক কিছু ছিল না। আমি লিখিত বক্তব্যের বাইরেও অনেক কথা বলেছি। আমি বলেছি, ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যদি কোনো দ্বন্দ্ব থাকে, কেন আমরা আলোচনা করে এসবের সমাধান করতে পারছি না? ওআইসির এ ব্যাপারে আরও উদ্যোগ নেওয়া দরকার। আমাদের সমস্যাগুলো যদি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারি, তাহলে আত্মঘাতী সংঘাত আর রক্তপাত হয় না।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশেও মানুষ খুন করে খুনিরা বলে, এই তো আমরা বেহেশতের কাছে পৌঁছলাম। বেহেশতে কে পৌঁছতে পেরেছে? যারা মানুষ খুন করেছে, তারা কি একজনও বেহেশতে পৌঁছতে পেরেছে? এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তো বহু মেসেজ দেয়, কেউ কি পাঠিয়েছে যে, আমি মানুষ খুন করে এখন বেহেশতে বসে আঙ্গুর ফল খাচ্ছি? দেখা যাচ্ছে, মুসলমানই মুসলমানদের হত্যা করছে। শেষ বিচার আল্লাহ করবেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কে ভালো মুসলমান, কে ভালো মুসলমান না, কে সঠিক, কে সঠিক না, কে ভালো কাজ করছে, কে করছে নাÑ তার বিচার করার দায়িত্ব আল্লাহ ও রাসূল আমাদের দেননি। কেন মানুষ আল্লাহর ক্ষমতা কেড়ে নেবে? পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, শেষ বিচার তিনি করবেন। সেখানে নিরীহ মানুষ মারলে বেহেশত পাওয়া যাবে, সেটা তো কোথাও লেখা নেই। আল্লাহ কি কাউকে মানুষ মারার ক্ষমতা দিয়েছেন?
মুসলমান দেশগুলোর মধ্যেই খুনোখুনি হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আত্মঘাতী হচ্ছি। লাভবান কে হচ্ছে? যারা অস্ত্র বানাচ্ছে, তারা। যারা অস্ত্র দিচ্ছে, তারা। ওআইসি’কে বলেছি, মুসলমান মুসলমানের রক্ত নিচ্ছে। এটা ওআইসি’কে বন্ধ করতে হবে। আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে আমার বাবাও মাথানত করেন নি, আমিও করব না। যা সত্য তা-ই বলে যাব।

Category:

Leave a Reply