শস্যবীমা : কৃষকদের নিশ্চয়তার রক্ষাকবচ

Posted on by 0 comment

15 PMরাজিয়া সুলতানা:  কৃষিপ্রধান বাংলাদেশ। শস্য-শ্যামলা এই দেশকে স্বনির্ভরতা এনে দিতে পারে কৃষি খাত। দূরদর্শী বর্তমান সরকারের লক্ষ্য আপামর কৃষক-সমাজকে ধাপে ধাপে বীমার আওতায় নিয়ে আসা। এতে কৃষিনির্ভর জনগণের জীবন, স্বাস্থ্য ও সম্পদের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমে আসবে। নিশ্চিত হবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। দেশের সম্পদ ও জীবনের ঝুঁকির শতভাগ বীমার আওতায় নিয়ে আসার একটি পাইলট প্রজেক্ট হলো শস্যবীমা। চলছে কৃষিমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে এই প্রজেক্ট বাস্তবায়নের ব্যাপক তোড়জোড়। এর সঙ্গে যুক্ত থাকছে বর্তমান সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। কাজ করবে আবহাওয়া অফিস। প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, অধিদফতর, কৃষি ব্যাংক ও এনজিও ডিস্ট্রিবিউশন অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।
যদিও শস্যবীমা বাংলাদেশে নতুন কোনো উপাত্ত নয়। এর শুরু হয়েছিল ১৯৭৭ সালে। চালু করেছিল সাধারণ বীমা কর্পোরেশন। তবে খরচ বেশি হওয়ায় ১৯৯৬ সালে এটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০১৪ সালে পাইলট প্রকল্প আকারে আবারও শস্যবীমা চালু করে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (এসবিসি)। 37 PMবর্তমান সরকারের নতুন সংযোজন আবহাওয়া সূচকভিত্তিক শস্যবীমা।
কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে প্রতিবছর অতিবৃষ্টি, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই আছে। এ-কারণে কৃষি-অর্থনীতিসহ বাংলাদেশের কৃষকরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের নেতিবাচক প্রভাব প্রশমনের লক্ষ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর অনুদানের ওপর ভিত্তি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (এসবিসি) ও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর (বিএমডি) আবহাওয়া সূচকভিত্তিক শস্যবীমা প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পটি চালু করা হয় খরাপ্রবণ রাজশাহী, বন্যাপ্রবণ সিরাজগঞ্জ ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ নোয়াখালী জেলায়, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি নতুন প্রায়োগিক ধারণা। আবহাওয়া কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত আবহাওয়াজনিত তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এই বীমা পলিসি প্রস্তুত করা হয়। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দাবিকৃত বীমা পরিশোধ করা হয়। ভারত, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মেক্সিকোসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়নশীল কৃষিপ্রধান দেশে ইতোমধ্যে এই বীমা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য আবহাওয়া সূচকভিত্তিক শস্যবীমার মাধ্যমে জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের আর্থিক ক্ষতি হ্রাস করা। প্রকল্পের আওতায় প্রকল্পভুক্ত জেলায় মোট ২০টি স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪টি পাইলটিংয়ের আওতায় ৬ হাজার ৭৭২ কৃষকের অনুকূলে অতিবৃষ্টিপাতজনিত বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও অতিবৃষ্টিজনিত ঝুঁকি আবরিত করে আবহাওয়া সূচকভিত্তিক পরীক্ষামূলক শস্যবীমা পলিসি ইস্যু করা হয়েছে। প্রথম ৩টি পাইলটিংয়ের আওতায় আমন ধান ও আলু ফসলের অনুকূলে ৫ হাজার ৩৯৯টি আবহাওয়া সূচকভিত্তিক শস্যবীমাপত্র ইস্যু করা হয়েছে। এই বীমা পলিসির বিপরীতে উত্থাপিত বীমা দাবি ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৪ টাকা। বীমাগ্রহীতা কৃষকের সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে তা পরিশোধ করা হয়েছে।
প্রকল্পটির চতুর্থ পাইলটিংয়ের আওতায় প্রকল্পভুক্ত ৩টি জেলায় বোরো ধানের বিপরীতে মোট ১ হাজার ৩৭৩টি পলিসি ইস্যু করেছে। ভ্যাটসহ ৮ লাখ ৪৮ হাজার ২৪০ টাকা প্রিমিয়াম অর্জিত হয়েছে। উক্ত পলিসিসমূহের বিপরীতে মোট ৩২ লাখ ৮৩ হাজার ১০০ টাকা বীমা-দাবি সাধারণ বীমা কর্পোরেশন পরিশোধ করা হচ্ছে। তন্মধ্যে নোয়াখালী জেলায় ৪২৬ বিঘা জমির অনুকূলে ৪০০টি আবহাওয়া সূচকভিত্তিক শস্যবীমা পলিসি ইস্যু করা হয়েছে। ইস্যুকৃত পলিসির বিপরীতে উত্থাপিত দাবিকৃত বীমা ৩ লাখ ৭০ হাজার ১০০ টাকা সাধারণ বীমা কর্পোরেশন পরিশোধের জন্য কার্যক্রম শুরু করেছে। বীমা পলিসির বিপরীতে কৃষকদের বিঘাপ্রতি ভ্যাটসহ মোট প্রিমিয়াম ছিল ৬৯০ টাকা। তন্মধ্যে সরকার বিঘাপ্রতি ভ্যাটসহ প্রিমিয়াম বাবদ ৩৯০ টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। অর্থাৎ বিঘাপ্রতি ৩০০ টাকা কৃষকের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সর্বমোট ৬ হাজার ৭৭২ কৃষকের অনুকূলে আবহাওয়া সূচকভিত্তিক শস্যবীমাপত্র ইস্যু করা হয়েছে। এফজিডি, ট্রেনিং এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১৩ হাজার ৫৪৪ কৃষককে ডব্লিউআইবিসিআই সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ট্রেনিং প্রোগ্রাম/ওয়ার্কশপ/সেমিনারের মাধ্যমে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠানের ৯০০ জনেরও অধিক কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে রাজশাহী জেলায় পঞ্চম পাইলটিংয়ের মাধ্যমে আমন ধানের অনুকূলে আবহাওয়া সূচকভিত্তিক শস্যবীমা পলিসি ইস্যুর কার্যক্রম চলছে।
কৃষি জাতির মেরুদ-। দেশের অর্থনীতি ঠিক রাখতে কৃষকের নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে অনেকেই মনে করেন, শস্যবীমা পারে এই নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করতে। কৃষিবান্ধব কৃষিমন্ত্রী কৃষিবিদ ড. মো. আবদুর রাজ্জাক এমপি কৃষকের উন্নতি তথা দেশের উন্নতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন। তার মতে, জনগণের জন্য পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে আমাদের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার জন্য কৃষির কোনো বিকল্প নেই। তবে দরকার কৃষকের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। আর এ জন্যই শুধু ৩টি জেলাই নয়Ñ মন্ত্রী উদ্যোগ নিচ্ছেন সারাদেশকে শস্যবীমার আওতায় নিয়ে আসতে। পাশাপাশি শস্যবীমা নিয়ে উল্টো মতও রয়েছে কৃষি গবেষকদের।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, আমাদের দেশে হাওর অঞ্চলে অতি বন্যার কারণে ফসল নষ্ট হয়। এতে কৃষকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েন। তাদের এই ক্ষতি কমিয়ে আনতে আগামী বাজেটে কৃষকদের ইন্স্যুরেন্সের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনারও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আরশেদ আলী জানিয়েছেন, প্রতিবছরই কৃষকরা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এজন্য কৃষকরা তেমন কোনো ক্ষতিপূরণ পান না। আবার সরকারিভাবে যে ক্ষতিপূরণ পান তাও পর্যাপ্ত না। শস্যবীমা চালু হলে কৃষকরা পরিপূর্ণ ক্ষতিপূরণ পাবেন। তাতে কৃষকরা লাভবান হবেন। এতে তাদের আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি দেশে শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। ফলে কৃষকের অবস্থার পরিবর্তনের সাথে সাথে দেশের উন্নয়ন ঘটবে।
সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের আবহাওয়া ও শস্যবীমা প্রকল্পের পরিচালক ওয়াসিফুল হক এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে প্রতিবছরই অতিবৃষ্টি, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। এতে কৃষি-অর্থনীতিসহ দেশে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তাই কৃষকদের রক্ষায় শস্যবীমার বিকল্প নেই।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফকির আজমল হুদা জানিয়েছেন, পৃথিবীর উন্নত বেশির ভাগ দেশে সরকার ও কৃষকদের সমন্বয়ে শস্যবীমা চালু আছে। আমাদের দেশেও তা চালু করা প্রয়োজন।
শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. এম সালাহ্ উদ্দিন চৌধুরীর মতে, বৈরী আবহাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে কৃষকদের জন্য শস্যবীমার কোনো বিকল্প নেই। পূর্ব এশিয়ায় অর্থাৎ আসিয়ান জোটভুক্ত কয়েকটি দেশের শস্যবীমা সংক্রান্ত গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদনের যে বিরাট হুমকি রয়েছে, তা একমাত্র শস্যবীমার মাধ্যমেই সমাধান করা যায়। শস্যবীমা চালু হলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান বাড়বে এবং আর্থিক ক্ষতি থেকে কৃষকরা বাঁচবেন, বলছে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি।
কৃষকরা জানায়, ফসল নিয়ে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় থাকে এক ফসলি জমির চাষিরা। এক ফসলি এলাকার কৃষকরা একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পুষিয়ে নেওয়া যায় না সহজে। এছাড়া ফসলের ক্ষতি হলে সরকার যে পরিমাণ সহায়তা দেয়, তাতে চলতে কষ্ট হয় কৃষকদের। তাই প্রতিবছর অনিশ্চয়তায় থাকেন এক ফসলি জমির কৃষকরা। এই অনিশ্চয়তা কাটাতে কৃষিতে শস্যবীমা চান তারা।
তবে সার্বিকভাবে কৃষকরা শস্যবীমা করতে ভয় পান। কারণ বীমা প্রতিষ্ঠান প্রথমে এসে বীমা চালু করার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সময় মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেন। কিন্তু দাবিকৃত বীমা পরিশোধে চরম মনোভাবের পরিচয় দেন। অনেক হাতুরে প্রতিষ্ঠান টাকা নিয়ে পালিয়েও যায়। থাকে নানা শঙ্কাÑ কষ্ট করে টাকা দিবে যদি ক্ষতি পূরণ না পায় ইত্যাদি। এ-কারণে অনেক কৃষকই বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। এ-কারণেই শস্যবীমা পলিসি ১৯৭৭-১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বন্ধই ছিল। শস্যবীমা পলিসি অনেকের গলার ফাঁসও হতে পারে। কারণ পলিসির সাফল্য তুলে আনতে হলে ঠিকঠাক প্রিমিয়াম জমা দিতে হবে। সময়মতো তা দিতে না পারা মানেই পলিসি কার্যকারিতা থাকে না। বীমাটিও বাতিল বা স্থগিত হয়ে যায়। চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে দাবিকৃত বীমা পলিসির সুফল ক্লায়েন্ট পায় না। এতে বাজারে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিশেষজ্ঞরা শস্যবীমা পলিসির নানা দিক নিয়ে নানা কথা বলেছেন।

* যথেষ্ট প্রস্তুতি গ্রহণের অভাবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ না দিয়েই তাড়াহুড়া করে প্রকল্প চালু করা;
* কৃষিঋণ প্রথার সঙ্গে এর কোনো সংযোগ না করা;
* এ উদ্যোগের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো সহায়তা না থাকা;
* বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন না করেই প্রকল্পের আকার বৃদ্ধি;
* আমলাতান্ত্রিক জটিলতা;
* শস্যবীমা কর্মসূচি ঐচ্ছিক ও ব্যক্তিভিত্তিক থাকার কারণে সুবিধাভোগী নির্বাচনে ভুলত্রুটি;
* দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে শস্যঋণ মওকুফের ক্ষেত্রে দলীয় এবং স্বজনপ্রীতির প্রবণতা এবং
* বীমার আওতাধীন বিষয় একাধিক ছিল বন্যা, শিলাবৃষ্টি, খরা, রোগবালাই ইত্যাদি।

বর্তমান সরকার অবশ্য শস্যবীমা কর্মসূচি ব্যবস্থাপনা জটিলতা নিরসনে কিছু সংশোধনী এনেছেÑ
* সরকার ও ঋণদানকারী সংস্থা বীমার প্রিমিয়ামের একাংশ বহন করবে;
* ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা ব্যয় তহবিল গঠিত হবে এবং
* ব্যক্তিভিত্তিক ক্ষতিপূরণের প্রথার পরিবর্তে অঞ্চলভিত্তিক ক্ষতিপূরণের প্রথা চালু হবে।

সর্বোপরি আবহাওয়া সূচক অঞ্চলভিত্তিক ক্ষতিপূরণের মডেল প্রথাই যথাযথভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাছাড়া আরও ফলপ্রসূ করার জন্য বীমা সার্ভেয়ারদের পেশাদারিত্ব মনোভাব তৈরির ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সরকার সার্ভেয়ারদের একটি আইনি কাঠামোয় আনার চেষ্টা করছে। এবং তারা তা মেনে চলতে বাধ্য। প্রাধান্য পাচ্ছে নথিপত্র, কাগজপত্র সঠিকভাবে উপস্থাপন করা। সময়মতো নথিপত্র সংগ্রহ করা ইত্যাদি।
বীমা প্রকল্প রূপায়ণের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নতুন করে কৃষকদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। স্মার্টফোন ব্যবহার করে ফসল তোলা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা এবং আপলোড করার পাশাপাশি সব খবরই এখন পেয়ে যাচ্ছেন। ফলে কৃষক ও বীমাকর্মীদের মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। শস্যবীমার অর্থ পেতে আর বিলম্ব হবে না। যেহেতু বীমা সম্পর্কে মানুষের মৌলিক ধারণা এই পলিসি অর্থের বিনিময়ে জীবন, সম্পদ বা মালামাল রক্ষা করে। আর শস্যবীমা হলো বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে কৃষকদের রক্ষা করে। তাই আমাদের কৃষিপ্রধান দেশে শস্যবীমা চালুর মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক নিশ্চয়তা প্রদান করা সম্ভব। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের কৃষকই হচ্ছে এ দেশের চালিকাশক্তি। তাই কৃষককে বাঁচাতে পারলেই  বাঁচবে দেশ। গড়ে উঠবে সোনার বাংলা। ঘটবে কৃষি বিপ্লব। আর কৃষক দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবেই পূরণ হবে বর্তমান সরকারের ভিশন ও মিশন।

লেখক : শিক্ষক; পিএইচডি গবেষক, প্ল্যান্ট প্যাথলজি, শেরে বাংলা কৃষি ইউনিভার্সিটি
raziasultana.sau52@gmail.com

Category:

Leave a Reply