শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

Posted on by 0 comment

উত্তরণ প্রতিবেদন: অবশেষে রাজধানীর চাঁনখারপুলে স্থাপিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ ‘শেখ হাসিনা ন্যাশনাল বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে’র সেবা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক চালু হয়েছে। গত ৪ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় ১৮ তলাবিশিষ্ট এই বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটের সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন এমপি। তিনি ইনস্টিটিউটের লবিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম ও বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। গত বছর ২৪ অক্টোবর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়া এই ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখানে একসঙ্গে পাঁচ শতাধিক পোড়া রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার সুবিধার পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিষয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে।
এই ইনস্টিটিউটের সেবাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ, ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম, জাতীয় সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসিরুদ্দিন আহমেদ। এরপর হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম ও বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি। পরিদর্শন শেষে একটি উদ্বোধনী আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। আলোচনায় দেশের মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগুনে পোড়া চিকিৎসার লক্ষ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী ‘শেখ হাসিনা ন্যাশনাল বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’ থেকে রোগীদের সর্বোত্তম সেবা দেওয়া হবে। এই ইনস্টিটিউটে আরও পোড়া রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ হবে বলে তিনি জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল ইনস্টিটিউটটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং মূল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ২৭ এপ্রিল। ১৮ তলাবিশিষ্ট ইনস্টিটিউটের মাটির নিচে তিনতলা বেজমেন্ট। সেখানে গাড়ি পার্কিং ও রেডিওলজিসহ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিভাগ রাখা হচ্ছে। ইনস্টিটিউটটিতে ৫০০টি শয্যা, ৫০টি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট, ১২টি অপারেশন থিয়েটার ও অত্যাধুনিক পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড রয়েছে। ভবনটিকে ৩টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। একদিকে থাকছে বার্ন ইউনিট, অন্যদিকে প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট আর অন্য ব্লকটিতে একাডেমিক ভবন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে রোগী নিয়ে আসার জন্য ভবনের ছাদে হেলিপ্যাড সুবিধা রাখা হয়েছে। হাসপাতালের পার্কিংয়ে একসঙ্গে ১৮০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকছে।

Category:

Leave a Reply