সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সাথে দায়িত্ব পালন করুন

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের শপথ গ্রহণ

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের শপথ গ্রহণ

উত্তরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সাথে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার জন্য নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি চাই সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতার সাথে আপনারা স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করবেন। যাতে সরকারের উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। আমি চাই আপনারা (জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান) অন্তত সেই দায়িত্বটা ভালোভাবে পালন করবেন।
তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্যটাই হবে জনগণের সেবা করা। তাই উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সচেষ্ট থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার শুধু নিজেদের ক্ষমতা ভোগ করতে আসে না সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত গড়ে তুলব। কিন্তু এ দেশের মানুষ যদি ক্ষুধার্ত ও অশিক্ষিত থাকে, তারা যদি রোগে ধুঁকে ধুঁকে মারা যায়, তা হলে সোনার বাংলাদেশ গড়া কখনোই সম্ভব না।
গত ১১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রথমবারের মতো নির্বাচিত ৫৯ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেশবাসীর দায়িত্ব পালনের শপথ গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি উপস্থিত ছিলেন। এলজিআরডি সচিব আবদুল মালেক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদসবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০০০ সালে সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদ আইনটি পাসের ১৬ বছর পর গত ২৮ ডিসেম্বর ৫৯টি জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আইনি জটিলতার কারণে কুষ্টিয়া ও বগুড়া জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রতি জেলায় একজন করে চেয়ারম্যান, ১৫ জন সাধারণ সদস্য ও পাঁচজন সংরক্ষিত সদস্য নির্বাচিত হন এই নির্বাচনে। জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান গত ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের শপথ বাক্য পাঠ করানোর পর প্রধানমন্ত্রী দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা তুলে ধরে আরও বলেন, প্রতিটি উন্নয়ন কাজ যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পঁচাত্তর-পরবর্তীতে এ দেশের মানুষের বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের মনে রাখতে হবেÑ এ দেশের মানুষ দীর্ঘদিন শোষিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত ছিল। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর থেকে এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছিল। কেবলমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পরই বাংলাদেশের জনগণ প্রথম জানতে পারে যে, সরকার জনগণের সেবা করে এবং জনগণ তার সুফল পায়। কাজেই আপনাদের ওপর এটাই দায়িত্ব থাকবে যে, প্রতিটি উন্নয়নের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং স্ব স্ব জেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং সমস্যাবলী খুঁজে বের করা। কি করলে জেলার আরও উন্নতি হতে পারে সেই দিকে দৃষ্টি দেওয়া এবং দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়েই আপনাদের কাজ করে যেতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রিকরণ করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তাই মানুষের সেবা নিশ্চিত করার জন্য তার সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে উদ্যোগ নেই এবং স্থানীয় সরকার আইন পাস করি। তিনি বলেন, জেলা পরিষদে নির্বাচন এবারই প্রথম হলো। আমরা ইলেকটোরাল কলেজের মাধ্যমে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইন পাস করি এবং সেভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বিধায় আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য জনসেবা করা। সে কারণেই আমরা সব সময় মনে করি ক্ষমতাটাকে যতটা সম্ভব বিকেন্দ্রিকরণ করতে পারব জনসেবাও তত নিশ্চিত হবে। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি।

Category:

Leave a Reply