সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তি থেকে ছাত্রসমাজকে দূরে থাকতে হবে

Posted on by 0 comment
6-5-2018 5-26-05 PM

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কাউন্সিলে প্রধানমন্ত্রী

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকার জন্য দেশের ছাত্রসমাজের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকা- বা ভাঙচুরের ঘটনা বরদাশত করা হবে না। কোনো বিষয়েই বেশি বাড়াবাড়ি করা ভালো না। এসব কর্মকা-ের সঙ্গে যারা জড়িত, সে যত বড় দলের বড় নেতা হোক না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গত ১১ মে বিকেলে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় কাউন্সিল উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের চলমান উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারের ধারাবাহিকতার প্রয়োজনের কথা পুনরুল্লেখ করে আরও বলেন, একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই দেশের উন্নয়ন হয় আমরা তা প্রমাণ করেছি। ওরা (বিএনপি-জামাত) ক্ষমতায় এলে দেশে আবারও সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হবে, স্বাধীনতা-বিরোধী, যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মদদদাতারা ক্ষমতায় এসে দেশকে আবার ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। এরা দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে চায়। আগেও তারা সে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু জনগণ তা হতে দেয়নি। দেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। কেউই তা রুখতে পারবে না। তবে এক্ষেত্রে সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষার দিকে দেশের জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।
জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনের পরিচালনায় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ওবায়দুল কাদের এমপি, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কাজী এনায়েত, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান কমিশনার আরিফুর রহমান লিমন ও অভ্যর্থনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ বাপ্পি।
সম্মেলনের শুরুতেই সংগঠনের সংগীত ‘ছাত্রলীগ, জয় জয় ছাত্রলীগ’ পরিবেশন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তালি দিয়ে গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। এরপর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। ছাত্রলীগ সম্মাদিত বইয়ের উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী এবং তাকে সম্মেলনের ব্যাজ পরিয়ে দেয়া হয়। এরপর ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির সদস্যদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় ‘ধন্য বাংলাদেশ ধন্য… শেখ মুজিবের জন্য’, ‘এ মাটি নয় জঙ্গিবাদের, এ মাটি মানবতার’ শীর্ষক গীতিনৃত্য প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। ছাত্রলীগের সাংগঠনিক রিপোর্ট তুলে ধরেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দফতর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা।
উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দেশের ছাত্রসমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, সততার সঙ্গে রাজনীতি করেছি বলেই আজকে পদ্মাসেতু আমরা নিজেদের অর্থায়নে করতে সক্ষম হয়েছি। তাই আমি আমাদের ছাত্রদের বলতে চাই, কোনো ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম (ভ্যান্ডালিজম) চলবে না। ছাত্ররা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করবেÑ এটা আমি বরদাশত করব না। কারণ পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়গুলো যদিও স্বায়ত্তশাসিত। কিন্তু প্রত্যেকটি খরচ দেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নির্দেশ দেয়া আছে, ভাঙচুরকারীরা যে দলের হোক, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকার জন্য ছাত্রসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তি থেকে দূর থাকতে হবে। এ ধরনের কাজে কেউ যদি জড়িত থাকে তাকে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার করতে হবে। ইতোমধ্যে আমি র‌্যাবসহ সকলকে বলে রেখেছি, মাদক ব্যবসায়ী এবং জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। আমি ছাত্রলীগের ছেলেদের বলব, রাস্তা কীভাবে পার হতে হয়, কীভাবে রাস্তায় চলতে হয় সেটাও জানতে হবে। নিয়মটা মানতে হবে সবাইকে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আরেকটি জিনিস হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। নিজের ক্যাম্পাস এবং নিজের জায়গায় একটা ফুলের গাছ লাগাবে, একটু বৃক্ষরোপণ করবে। পাশাপাশি ছুটিতে নিজের এলাকায় গেলে ছেলে-মেয়েদের অক্ষরজ্ঞান দেয়া নিজেদের দায়িত্ব। নিজ নিজ এলাকায় গেলে এটা করতে হবে। কমিউনিটি ক্লিনিকে মানুষ কী সেবা পাচ্ছে। দরকার হলে সেখানে ভলান্টিয়ার সার্ভিস দিতে হবে।
সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে কোথাও দুর্নীতি হচ্ছে কি নাÑ সেটাও দেখতে হবে। নেতা কেউ বানিয়ে দিলেই হবে নাÑ নিজের কাজের মধ্য দিয়ে জনগণের আস্থা-বিশ^াস অর্জন করেই নেতৃত্ব অর্জন করতে হয়। আর দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ আর পিছিয়ে যাবে না।
বিএনপি-জামাতের কঠোর সমালোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র ৯ বছরেই বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশের এত স্বল্পতম সময়ে এত অগ্রগতি দেখে বিশ্ব নেতারাও হতবাক হয়ে প্রশ্ন করছেন। মাত্র ৯ বছরে আমরা এত উন্নয়ন করেছি; কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ারা পারলেন না কেন? আসলে এরা ক্ষমতায় থেকে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন, বিদেশে অর্থপাচার, লুট-দুর্নীতিতে ব্যস্ত ছিল। জনগণের দিকে তাকায় নি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ আমাকে বারবার হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সততার পথে যে পথ চলবে, আর মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যাকে যেটুকু কাজ দিয়েছে তা শেষ না করা পর্যন্ত কেউ তার ক্ষতি করতে পারবে না। আর আমি নিজের ভাগ্য নয়, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন, মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। মৃত্যুকে আমি ভয় পাই না। যতদিন বেঁচে আছি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করে যাব।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ছাত্রলীগের যারা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছে তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তবে দুর্ভাগ্য কিছু আছে, কিছু কিছু নেতারা বিপথে চলে গেছে। এখনও বিএনপিতে দু-চারজন খুঁজে পাবেন। এরা বেইমান, মোনাফেক, এরা আদর্শে বিশ^াস করে না। আদর্শহীন রাজনীতি কোনো রাজনীতি নয়। আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করলে জনগণকে কিছু দেয়া যায়। আমি কথা দিয়েছিলাম, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করব, সেই বিচার আমরা করেছি। এই যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে খালেদা জিয়া আমার লাখো শহিদের রক্তে রঞ্জিত জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিল। আপনারা জানেন, অনেক উচ্চ পর্যায় থেকে ফোন এসেছিল, কিন্তু সেই বিচার আমরা করেছি। যুদ্ধাপরাধী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের বিচার করে আমরা দেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছি।

Category:

Leave a Reply