সমঝোতা ও সংশয় দুই-ই আছে

36রাজীব পারভেজ: রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার যে প্র্যাগমেটিক পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা একদিকে যেমন বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত, তেমনি স্বার্থান্বেষী মহল, বিশেষ করে বিএনপি নানা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। সরকার বলেছে, এটা সূচনামাত্র। তবে আত্মপ্রসাদ লাভ করার কিছু নেই। মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠীর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রেখেই আমাদের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথে ধৈর্যের সাথে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপরোক্ত বক্তব্যের পর এ নিয়ে আর কোনো বিতর্কের অবকাশ থাকার কথা নয়। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে যেটুকু অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, এই প্রতিবেদনে আমরা এর কিছু বিস্তারিত তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরতে চেয়েছি।
রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে নেপিডোতে সম্প্রতি যে দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে সেটি এ সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে কতটা ভূমিকা রাখবে তা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ দলিল স্বাক্ষরের মাধ্যমে অন্তত একটি কাজ হয়েছে। সেটি হচ্ছে, রোহিঙ্গা ফেরত নেবার প্রক্রিয়া কাগজপত্রে চালু করা। সেটি ইতিবাচক। কিন্তু এ কাজ যে বেশ কঠিন হবে সেটি ইঙ্গিত এরই মধ্যে পাওয়া গেছে বলে করা হচ্ছে। ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে যে চুক্তি ছিল সেটিকে ভিত্তি করে কিছু হোক সেটি বাংলাদেশ চায়নি। বাংলাদেশ চেয়েছিল রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া কবে নাগাদ শেষ হবে সেটির উল্লেখ থাকুক নতুন স্বাক্ষরিত ইন্সট্রুমেন্টে। কিন্তু সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণও চেয়েছিল বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের সবাইকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। নতুন স্বাক্ষরিত দলিল অনুযায়ী সেটা কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
বাংলাদেশের বিরামহীন চেষ্টা ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সমঝোতা স্মারকে সই করেছে দুই দেশ। আগামী দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবেÑ এমন আশাবাদের মধ্যে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে দেশ দুটির মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চুক্তিটি হলো। বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও মিয়ানমারের পক্ষে স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি’র দফতরের মন্ত্রী কিয়া তিন্ত সোয়ে এতে সই করেন।
এ ছাড়া আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন ও এজন্য যত দ্রুত সম্ভব একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে সম্মতিপত্রে। তবে কতদিনের মধ্যে রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হবে সে বিষয়ে এতে কোনো সময়সীমার উল্লেখ নেই। তারপরও আশা করা হচ্ছে, এ চুক্তির ফলে নির্যাতিত-নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরার পথ কিছুটা সুগম হবে। সমঝোতা স্মারক সইয়ের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি’র কার্যালয়ে তার সাথে বৈঠক করেন। মিয়ানমারের শ্রম, অভিবাসন ও জনসংখ্যা বিষয়ক দফতরের পার্মানেন্ট সেক্রেটারি মিন্ট চিং জানান যে, বাংলাদেশ নিবন্ধন ফরম পূরণ করে মিয়ানমারকে ফেরত পাঠালে যত দ্রুত সম্ভব তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এ চুক্তির ফলে খুশি কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা। তবে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে মিয়ানমার সরকার তাদের কতটুকু নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ দেবে তা নিয়ে তারা সন্দিহান।
মিয়ানমার সরকারের বক্তব্য হলো বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ঘটবে তাদের পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করার পর। ১৯৯২ সালে দুদেশের মধ্যে যে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয় তার মধ্যে এ বিষয়ে দিক-নির্দেশনা ও নীতিমালা ছিল। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই দেশের মধ্যে সর্বশেষ সমঝোতাকে ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’ বা দুপক্ষের জন্য বিজয় বলে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রত্যাবাসন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এটি তৃতীয় উদ্যোগ। এর আগে ১৯৭৮ সালে দুই দেশ চুক্তি করে। যার অধীনে ২ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা ৬ মাসের মধ্যে ফেরত যায়। পরে ১৯৯২ সালে দুদেশের মধ্যে আরেকটি সমঝোতা হয়, যার অধীনে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ২ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যায়। এ ছাড়া আগে থেকেই ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে অবস্থান করছে। এতে মোট রোহিঙ্গা সংখ্যা সাড়ে ১১ লাখ ছাড়িয়েছে। রাখাইনে শত শত বছর ধরে বসবাস করে এলেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিজেদের নাগরিক মনে করে না মিয়ানমার। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি তার ভাষণে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়া প্রসঙ্গে ১৯৯২ সালে দুদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন। তবে মিয়ানমার নিজেই এ চুক্তি ভঙ্গ করেছে। ১৯৯২ সালের ওই চুক্তির একটি ধারায় বলা ছিল, ‘মিয়ানমারে বসবাসকারীরা যেন বাংলাদেশে পালিয়ে না আসে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়ে মিয়ানমার সরকার সম্মত হয়েছে।’ তবে মিয়ানমার বারবার এর লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। ১৯৯২ সালের চুক্তি অনুযায়ী ২০১৪ সালে দুদেশের যাচাইকৃত ২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে বললে মিয়ানমার সরকার সম্মত হয়। কিন্তু গত তিন বছরেও এই রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যেতে পারেনি।
উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে নে উইন সরকার মিয়ানমারে ক্ষমতায় এলে রোহিঙ্গা-বিরোধী অভিযান শুরু হয়। ১৯৭৮ সালে প্রথম রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে আসা শুরু করে। এরপর ১৯৯১-৯২ সালে তারা আবার দলে দলে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে শুরু করলে দুদেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে ওই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০০৫ সালে রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া মিয়ানমার এককভাবে বন্ধ করে দেয়। ২০১২ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার অজুহাতে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু করলে তারা আবার আসা শুরু করে। ২০১৬ সালে ৩টি পুলিশ চৌকিতে আক্রমণের অজুহাতে রোহিঙ্গাদের ওপর ফের নতুন করে নির্যাতন শুরু করে মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রায় এক বছর পরে গত ২৪ আগস্ট আবার ২৪ থেকে ৩০টি পুলিশ চৌকিতে হামলার অজুহাতে নতুন মাত্রায় রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়।
মিয়ানমারের সাথে ভারত-চীন উভয়েরই সীমান্ত রয়েছে। ভারতের নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ও মনিপুর রাজ্যের বেশ লম্বা সীমান্ত রয়েছে মিয়ানমারের সাথে। এই সীমান্তে বিদ্রোহী সংকটের অস্তিত্বের কথাও শোনা যায়। ফলে মিয়ানমারকে কিছুটা সমীহ করে চলতেই হয় ভারতের। অন্যদিকে রাখাইন রাজ্য ও বঙ্গোপসাগরীয় উপকূল ঘিরে চীনের যে বিশাল বাণিজ্যিক কর্ম পরিকল্পনা সেটিও আমলের বাইরে রাখার সুযোগ নেই ভারতের। ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মিয়ানমার এ মুহূর্তে ভারতের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতএব, বাংলাদেশের খুব কাছের বন্ধু হলেও ভারতকে রোহিঙ্গা সংকটে খুব হিসাব করে পা ফেলতে হচ্ছে, সন্দেহ নেই।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে দেওয়া বিবৃতিতে ভারত বেশ স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছে, রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধান করতে হবে এবং তা কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই। ঢাকায় এসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ দৃঢ়তার সাথেই বলেছেন, রাখাইন থেকে বল প্রয়োগে পালিয়ে আসা নাগরিকদের মিয়ানমারকে ফেরত নিতেই হবে। অনেকে মনে করেন, জাতিসংঘ রাখাইনে নির্যাতন বন্ধের আহ্বানে যতটা সোচ্চার, রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে ততটা উচ্চকণ্ঠ এখন পর্যন্ত নয়।
অন্যদিকে চীন সবাইকে হটিয়ে মিয়ানমারে তার একক আধিপত্য অনেকটাই বিস্তার করে রেখেছে। প্রকৃত অর্থে বলতে গেলে চীনই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল ও দীর্ঘদীন ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার নেপথ্যের শক্তি। মিয়ানমারে বিলাস, ব্যাসন ও বাণিজ্যে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে চীন। ফলে বিপুল সম্পদের অধিকারী হয়েও মিয়ানমার অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অনেক পিছেয়ে। রাখাইনে আজকের যে সংকট তার পেছনেও করুণ এবং দুর্বল আর্থ-সামাজিক অবস্থা অনেকটাই দায়ী। সে যাই হোক, চীন যদি ইতিবাচক হয় তাহলে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট রাতারাতিই বদলে যাবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতার প্রাপ্ত তথ্য সতর্ক ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণের পর এটা স্পষ্ট যে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন অভিযান চালানো হয়েছে। সেখানে যে ধরনের ভয়াবহ নৃশংসতা সংগঠিত হয়েছে তা কোনো উসকানির অজুহাত দিয়ে আড়াল করা যাবে না। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানোর জন্য সেনাবাহিনী ও স্থানীয় উগ্র পাহারাদার গোষ্ঠীকে দায়ী করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মার্কিন আইন প্রণেতারা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো আগে থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ ঘোষণা করতে আহ্বান জানিয়ে আসছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সাম্প্রতিক সুপারিশ অনুযায়ী টিলারসন সেই ঘোষণা দিয়েছেন। এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর মিয়ানমারের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে ট্রাম্প প্রশাসন ও কংগ্রেসের ওপর চাপ বাড়ছে। মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পর সম্প্রতি কয়েক বছরে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের জন্য আরও ৪৭ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। আগস্ট ২০১৭ থেকে শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াল মোট ৮৩ মিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বাংলাদেশের মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত আন্তর্জাতিক অংশীদার সংস্থাগুলোর কাছে পৌঁছায়। যার মধ্যে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম), ইউএন হাইকমিশনার ফর রিফিউজিস (ইউএনএইচসিআর), ইউএন চিলড্রেনস ফান্ড (ইউনিসেফ) এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি)। এসব সংস্থা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে উচ্ছেদ হওয়া ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার সুরক্ষা, জরুরি আশ্রয়, খাদ্য এবং পুষ্টি সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মানবিক ও সামাজিক সহায়তা দিচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ ও তাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী ও স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি’র ওপর চাপ প্রয়োগ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। কানাডার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া এবং জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে আন্তরিক ইচ্ছের কথাও সু চি’র কাছে ব্যক্ত করেছেন। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ম্যারি ক্লদ বিবেয়্যু। ঢাকা সফরকালে তিনি মিয়ানমার কর্তৃক বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেÑ যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত ৫-দফা বাস্তবায়নে কানাডা বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে জানানো হয়। বঞ্চিত রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের সার্বিক উন্নয়নে ইতোমধ্যে কানাডা সরকার ২৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে।
এছাড়া রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল ও সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারগট ওয়ালস্টার। তাদের সাথে ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান ফেদেরিকো মঘেরিনি।
কমনওয়েলথ দেশগুলোর পার্লামেন্ট সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার, যা গণহত্যার শামিল, নিন্দা জানাচ্ছে এবং অবিলম্বে মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায়। সিপিএ’র ৬৩তম সম্মেলনের সাধারণ অধিবেশনে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। নিরাপত্তা ও মর্যাদার সাথে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে পুনর্বাসন এবং এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য কফি আনান কমিশনের সুপারিশের আলোকে তাদের নাগরিকত্ব দিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় ওই প্রস্তাবে।
মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য আরও ১ কোটি ২০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য ১৩৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা) সহায়তা পাঠাতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। এর মধ্য দিয়ে গত আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাজ্যের দেওয়া সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে ৫৯ মিলিয়ন পাউন্ডে; বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৬৬৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা। নতুন করে পাঠাতে যাওয়া সহায়তাগুলো বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য, পয়ঃনিষ্কাশন, আশ্রয়, সাবান, রান্না, বাসন-কোসন ও পানির পাত্র বাবদ ব্যয় করা হবে। যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগ বলছে, যদি দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদে সহায়তা নিয়ে এগিয়ে না আসে তবে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় গঠিত তহবিলটি আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি নাগাদ শূন্য হয়ে পড়বে। যুক্তরাজ্য সরকারের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী পেনি মরডন্ট সম্প্রতি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে নতুন করে রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থ সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দেন। যুক্তরাজ্য এখনকার মতো ভবিষ্যতেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন মরডন্ট। অন্যান্য দেশের সাথে যুক্তরাজ্যও মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে, যাতে তারা রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন করে। বাংলাদেশ সফরকালে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী পেনি মর্ডান্ট এমপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎকালে জানান, যুক্তরাজ্যে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থাপিত ৫-দফা প্রস্তাবকে পুরোপুরি সমর্থন করে। লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে তিনি তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্য মিয়ানমারের ঠিকানাসহ পরিচয়পত্র ইস্যু করার বিষয়টি তুলে ধরেন।
রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরার পথ তৈরি করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি সম্মতিপত্র স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও ইউএনএইচসিআর মনে করে ফেরার মতো পরিস্থিতি এখনও হয়নি। তাদের ফেরার পথ তৈরি করতে নেপিদোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি এবং মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলরের দফতরের মন্ত্রী কিয়া তিন্ত সোয়ে একটি সম্মতিপত্রে (অ্যারেঞ্জমেন্ট) সই করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন করে দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করা এবং এজন্য যত দ্রুত সম্ভব একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে সম্মতিপত্রে। ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র আদ্রিয়ান এডওয়ার্ড ওই সম্মতিপত্রে কী আছেÑ তা এখনও তারা দেখেন নি বলে জানান। তবে সহিংসতার শিকার হওয়া মিয়ানমারের ওই জনগোষ্ঠীর রাখাইনে ফেরার বিষয়টি যেন স্বেচ্ছায় এবং নিরাপদে হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয় এ সংস্থা। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ইউএনএইচসিআর ।
এডিবির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মহাপরিচালক হুম কিম বলেছেন বাংলাদেশ সরকার চাইলে দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তা করতে প্রস্তুত আছে এডিবি। কিন্তু এডিবি যেহেতু ব্যাংক, তাই এডিবি সরাসরি অনুদান দিতে পারে না। তবে একটি পন্থা বের করে রোহিঙ্গাদের অনুদানই দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৮ বিলিয়ন ডলার বা ৮০০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেবে এডিবি।
রোহিঙ্গা নিপীড়ন বন্ধে রাখাইনে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিচারের দাবি জানিয়ে এক বাংলাদেশি-আমেরিকানের পাঠানো আবেদন ও তথ্য-উপাত্তের প্রাপ্তি স্বীকার করেছে হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে কার্যক্রম চালানো মানবাধিকার সংস্থা ‘সেইফ রাইজ ফাউন্ডেশনের’ প্রেসিডেন্ট ও চিফ কাউন্সিলর তারিকের কাছে ওই আবেদনের প্রাপ্তি স্বীকার করে একটি চিঠি পাঠিয়েছে ওই আদালতের প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য-উপাত্ত ইউনিট। গত ৬৫ বছরে মিয়ানমার বাহিনীর বর্বরতায় ১ কোটি রোহিঙ্গা নিহত এবং প্রায় ৩ কোটি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৫ আগস্ট থেকে শুরু নৃশংসতার কারণে আরও ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। যারা এখনও বসতভিটা আঁকড়ে রয়েছে, তাদের ওপর চলছে মিয়ানমার বাহিনীর পাশবিকতা। এসব তথ্য ও সাম্প্রতিক নৃশংতার কিছু তথ্য-উপাত্ত পাঠিয়ে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর বিচারের দাবি জানানো হয় আবেদনে।
জেনেভায় অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মোট ৩৪ কোটি ৪০ লাখ ডলারের তহবিল উত্থাপনে ইইউ এবং এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো ৫ শতাংশ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়। ইউরোপীয় কমিশনের মানবিক সাহায্য ও সমস্যা সমাধান বিষয়ক কমিশনার ক্রিস্টোস স্টাইলিয়ানিডেস বাংলাদেশ সফরে আসার পর জানান, রোহিঙ্গাদের সহায়তার বিষয়টি ইইউ জোরদার করছে। ইইউ বাংলাদেশ সরকারের রোহিঙ্গাদের প্রতি উদার মনোভাবের প্রশংসার পাশাপাশি সরকারের মানবিক উদ্যোগকেও সমর্থন করে বলে জানান।
মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধিতে জাপান কাজ করে যাচ্ছে বলে জানায় দেশটির রাষ্ট্রদূত হিরোয়াসিও ইজুমি। বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে জাপান। প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানের সিদ্ধান্ত মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে জানানো হয় জাপানের পক্ষ থেকে। রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় জাপান বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
রোহিঙ্গাদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে সরকার ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকার প্রকল্প পাস হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ঐশ্বরচর ইউনিয়নের ‘ভাসানচর’ দ্বীপে তাদের পুনর্বাসন করা হবে। এ অর্থ পুরোটাই সরকারের তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। এর আগে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তারা এ প্রকল্পে যোগ দেবে। কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় স্থানীয় অধিবাসী রয়েছে ৫ লাখ ৭০ হাজার। কিন্তু মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা নতুন ও পুরান সব মিলে বর্তমানে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। ফলে সামাজিক ও পরিবেশগত নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তাই প্রাথমিকভাবে অসহায় ১ লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পুনর্বাসন করা হবে। চলতি মাস নভেম্বর থেকে আগামী ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ চলবে; যা বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। বসবাসের জন্য প্রথমে ১২টি গুচ্ছগ্রাম করা হবে। যেখানে ১ হাজার ৪৪০টি ব্র্যাক হাউস ও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের কূটনীতিকদের সক্রিয় থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া কূটনৈতিক কাজকে নিছক চাকরি হিসেবে না দেখে দেশ ও জাতির স্বার্থ রক্ষার এক মহান দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিশ্বের ৫৮ দেশে নিয়োজিত বাংলাদেশ মিশনপ্রধানদের নিয়ে প্রথমবারের মতো ঢাকায় দূত সম্মেলনে রোহিঙ্গা সমস্যা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে সঠিক ধারণা দিতে রাষ্ট্রদূতদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হবে। বিশ্বে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরুন। তবে বর্তমানে আমরা একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। নির্যাতনের মুখে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশে অবস্থান নিয়েছে। আমরা যাতে দ্রুত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের ফেরাতে পারি সেজন্য সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। রোহিঙ্গা বিষয়ে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োজন আছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এরপরও প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় মিয়ানমারের সাথে সদ্ভাব বজায় রেখে আমরা এই সমস্যার সমাধান করতে চাই। ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’Ñ আমাদের এই নীতিতে সবার সাথে সুসম্পর্ক রাখতে হবে। রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের ব্যবস্থা করা হবে। মিয়ানমার থেকে যারা এসেছে এবং দেশের সাধারণ নাগরিকদের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে শীতবস্ত্র পাঠানো হবে। ৩৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে প্রায় ১৮ লাখ পিস কম্বল প্রদান করে। প্রধানমন্ত্রী এসব কম্বল দেশের উত্তর জনপদের শীতার্ত জনগণ, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং কক্সবাজার জেলার দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করেন।
সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বাংলাদেশের জন্য রোহিঙ্গারা একটা বার্ডেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু মানবিক দিক বিবেচনায় বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়ে সাধ্যমতো রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন চুক্তি হয়েছে। কেবল বাংলাদেশ না, সারা বিশ্ব রোহিঙ্গাদের পাশে আছে। রোহিঙ্গারা যাতে সম্মানের সাথে মিয়ানমারে ফেরত যেতে পারে এবং নিরাপত্তার সাথে নিজ দেশে বসবাস করতে পারে, তা নিশ্চিত করে ফেরত পাঠানো হবে বলে আশা পোষণ করেন তিনি।
মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন ৬ লাখ ছাড়িয়েছে। ৭টি মিয়ানমার ন্যাশনালস বায়োমেট্রিক ক্যাম্পে নিবন্ধনের কাজ চলছে। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয় গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে। রোহিঙ্গারা যেন সারাদেশে ছড়িয়ে না পড়ে সেই লক্ষ্যে এই ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেয় সরকার। সেনাবাহিনীর সদস্যরা এ কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করছেন। চলতি মাসের মধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হতে পারে। ছবিযুক্ত এই কার্ডের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের সঠিক পরিসংখ্যান রাখা যেমন সম্ভব, তেমনি বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ শনাক্তকরণ কার্ড তৈরিতে রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করা যাবে খুব সহজেই। এখনও প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা নিবন্ধিত হচ্ছে।

Category:

Leave a Reply