সারাদেশে উদযাপিত হবে মুজিব বর্ষ

Posted on by 0 comment

4-9-2019 6-39-28 PMআনিস আহামেদ: মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালির আত্মপরিচয়ের সঠিক ইতিহাস সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে তৃণমূল পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা উদযাপনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এর মাধ্যমেই দেশের মানুষ সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত যেন উদযাপিত হয় তারই উদ্যোগ আমরা নেব। মানুষ যেন সঠিক ইতিহাসটা জানতে পারে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয় এবং বাংলাদেশকে যেন আমরা সারাবিশ্বের কাছে মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে পারি। আমাদের যে অগ্রযাত্রা সেটা অব্যাহত রেখেই জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সেটাই হবে আমাদের প্রতিজ্ঞা।
গত ২০ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটি ও বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম যৌথসভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু ঢাকা শহর বা দেশের বড় বড় শহরে যেন এটা সীমাবদ্ধ না থাকে; আমরা সারাদেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত তার জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা ছড়িয়ে দিতে চাই। আসলে সত্যকে কেউ কখনও মুছে ফেলতে পারে না। সত্য কখনও না কখনও উদ্ভাসিত হবেই, আর তার স্থানটা সে করে নেবে। আজকে আমরা সেটার প্রমাণ পাচ্ছি।
সরকার জাতির মহান এই নেতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ইতোমধ্যেই ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে তা যথাযথভাবে উদযাপনে বিশিষ্টজনদের নিয়ে ১০২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি এবং বাস্তবায়নের জন্য ৬১ সদস্যবিশিষ্ট যে কমিটি করেছে, ২০ মার্চ ছিল তারই প্রথম যৌথ বৈঠক। মুজিব বর্ষের প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে সারাদেশের সকল জেলা, উপজেলা, থানা এবং ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানমালা চলবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার্চ মাসটা আমাদের জন্য খুবই অর্থবহ মাস। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ, ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন, আবার ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। কাজেই ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত বছরটাই আমরা মুজিব বর্ষ হিসেবে উদযাপন করব। উদযাপনের ক্ষেত্রে আমাদের কী কী করণীয়? আমাদের সমাজের বিশিষ্টজন যারা এখানে উপস্থিত আছেন এবং আমরা একটি ১০২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করে দিয়েছি। হয়তো আরও গুরুত্বপূর্ণ নাম আমাদের এই কমিটিতে থাকা দরকার, সেখানে থাকলে আমরা তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করব।
তিনি বলেন, এছাড়া ৬১ সদস্যবিশিষ্ট আলাদা একটি কমিটি করে দিয়েছি। আমরা যে সিদ্ধান্তগুলো নেব, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কাজ করবে। এছাড়া ভাগে ভাগে যে কমিটি করা প্রয়োজন সে-ব্যাপারেও আপনাদের পরামর্শ নেব। কারণ, এটা আমরা জাতীয়ভাবে পালন করার জন্য করেছি। এক্ষেত্রে আপনাদের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া দল হিসেবেও আওয়ামী লীগের একটা আলাদা কমিটি করেছি। দলের পক্ষ থেকেও আমরা কী কী করব, তা ঠিক করা হবে।
জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী যথাযথভাবে উদযাপন করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জীবনের সবকিছু ত্যাগ করে এদেশের মানুষের জন্যই কষ্ট স্বীকার করে গেছেন আমাদের জাতির পিতা। সেই কষ্টের ফসল হিসেবেই আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা, স্বাধীন জাতির মর্যাদা। কাজেই এটা আজকে আমাদের একটা জাতীয় কর্তব্য। আমি মনে করি, তার (বঙ্গবন্ধু) জন্মশতবার্ষিকী আমরা ভালোভাবে উদযাপন করব। আমাদের হাতেও সময় খুব বেশি নেই। কারণ, নির্বাচনসহ বিভিন্ন কর্মকা-ের জন্য আমাদের বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা তার জীবনের সব থেকে মূল্যবান সময় এদেশের মানুষের কথা চিন্তা করে ব্যয় করেছেন। মানুষের ওপর অত্যাচার, শোষণ, বঞ্চনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে দিনের পর দিন কারাবরণ করেছেন। তারা সন্তান হিসেবে পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কেননা, জীবনের মূল্যবান সময়গুলো কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠেই তিনি কাটিয়েছেন। বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে জাতির পিতা দেখেছেন দারিদ্র্যের হাহাকার। বুভুক্ষু নর-নারীর কষ্ট। মানুষ ওষুধ পায়নি, চিকিৎসা পায়নি, খাবার পায়নি, থাকার জায়গা নেই। মানুষের এই দুঃখ-কষ্ট তিনি সহ্য করতে পারেন নি। এসব তাকে ব্যথিত করেছে। জাতির পিতা আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে যে কষ্ট সহ্য করেছেন, এটা কাদের জন্য? এদেশের মানুষের জন্য, সাধারণ মানুষের জন্য।
যৌথসভায় সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, তোফায়েল আহমেদ এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি ও জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

Category:

Leave a Reply